Super User

Super User

Page 3 of 29

একজন

রফিকুল আলম

 

শৈশব
আমার ছোটবেলা খুব সাদামাটাভাবে কেটেছে। আমি পরিবারে তৃতীয় ছেলে আর চতুর্থ সন্তান। মায়ের কাছে শুনেছি, কোনোদিনই তাকে বিরক্ত করিনি। খেলাধুলা খুব একটা করতাম না। একটাই পাগলামি ছিল, গ্রামোফোনের গা ঘেঁষে বসে গান শোনা। তবে কিশোর বয়সে একবার ফুটবল খেলতে গিয়ে একটি দুঃর্ঘটনায় আমার ডান কাঁধের কলারবোন ভেঙে যায়। এরপর আর খেলার মাঠে যাইনি। হ্যাঁ, কলেজে ওঠার পর ক্রিকেট খেলেছিলাম। রাজশাহী গভর্নমেন্ট কলেজ টিমের ব্যাটসম্যান হিসেবে সর্বোচ্চ রানও করেছিলাম। কিন্তু আমার গুরু প-িত হরিপদ দাশের নির্দেশে খেলা ছেড়ে দিয়েছিলাম।

কখন কবে থেকে গানের চর্চা শুরু
এই প্রশ্নের উত্তর কখনোই দিতে পারি না। কারণ আমার মনে পড়ে না গানের প্রতি আমার আগ্রহ কখন থেকে শুরু হয়। বাড়িতে গানের পরিবেশ থাকায় বোধহয় এ রকম হয়েছিল। বাড়িতে রেডিও এবং গ্রামোফোনÑ দুটিই ছিল। কিন্তু গ্রামোফোন ছিল আমার সব চেয়ে প্রিয়। তবে এটা ঠিক, আমার বড় ভাই সারোয়ার জাহান অত্যন্ত গুণী শিল্পী হওয়ায় প্রথাগত শিক্ষা বা চর্চাটি খুব সহজেই পেয়েছিলাম। রাজশাহী শহর পঞ্চাশ-ষাটের দশকে সঙ্গীত ও সংস্কৃতির জন্য একটি ঈর্ষণীয় জায়গা ছিল। অনেক সঙ্গীতপ্রেমী ও প-িত ছিলেন। তাদের প্রভাবে একটি বিষয় আমাকে সচেতন করেছিল যে, যতো ভালো গান গাই না কেন, তা একটি শিক্ষার বিষয়। অনেক বড় একটি শাস্ত্র। এরপর একটি বড় সুযোগ এলো। রাজশাহী রেডিওর ‘স্টুডেন্টস ফোরাম’ অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য বললেন তখনকার
ছাত্রনেতা আকরাম হোসেন। নির্ভয়ে একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘যায় নিয়ে যায় আমার নিয়ে যায়’ গানটি গেয়ে বেশ নাম হলো। মেজভাই সারোয়ার জাহান গম্ভীর হয়ে বললেন, রেওয়াজ ছাড়া শিল্পী হওয়া যায় না। এরপরই শুরু হলো চর্চা আর সাধনা।

যুদ্ধ করার স্মৃতি
স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি অল্প কথায় বলা যাবে না। তবু বলছি, ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অংশে যখন পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী বোমা ফেললো ও বহু নিরস্ত্র নিরীহ মানুষ মারা গেল তখন এক মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিই (আমরা সবাই) যুদ্ধ করতে হবে। স্বাভাবিকভাবে ধরে নিলাম সীমান্তের ওপরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ হয়ে বালুঘাটে প্রশিক্ষণের জন্য যখন যাই তখন রাজশাহীর নেতৃস্থানীয় কয়েকজন তথা এমএ জলিল, গোলাম আরিফ টিপুরা বললেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তোমাদের প্রয়োজন, কলকাতায় যোগাযোগ করো। জুলাইয়ের মাঝামাঝি বালিগঞ্জে ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’-এর স্টুডিওতে যাই। সেখানে বড় বড় সঙ্গীতজ্ঞ আমাকে গান গাওয়ার সুযোগ দিলেন। আমার প্রযোজনায় ছয়টি গান রেকর্ড হয়। তা হলো ‘যায় যদি যাক প্রাণ’, ‘সাত কোটি আজ প্রহরী প্রদীপ’ ইত্যাদি। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান এই বেতার কেন্দ্রে অংশ নিই।

এখানে এসেই বুঝেছিলাম যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়েই হয় না। সুর, সঙ্গীত ও কণ্ঠ দিয়েও মুক্তিযুদ্ধ অনেক এগিয়ে নেওয়া যায়।

সংসার এবং একজন রফিকুল ইসলাম
আমি খুব সুখী মানুষ। আমার একটি ছেলে ফারশীদ আলম। কোনো মেয়ে নেই। স্ত্রী আবিদা সুলতানা। তিনিও একজন প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত শিল্পী। ছেলেও গানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ‘চ্যানেলে ৭১’-এ চাকরি ছাড়া তার কাজিন আলীফের সঙ্গে গান বিষয়ে খুব আধুনিক উপস্থাপনায় একটি অনুষ্ঠান ‘মিউজিক বাজ’ (গটঝওঈ ইটতত) প্রচার করে। দু’জনই হোস্টিং করে। আমার সারা সংসারেই গান ও সুর ছড়িয়ে থাকে। সম্প্রতি আমার পুত্রবধূ ‘লামিয়া’ এসেছে। সে অবশ্য গান করে না। তবে সঙ্গীত অনুরাগী।

শিল্পী রফিকুল আলমের অর্জন
সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে আমার পুরস্কারের ঝুলি খুবই ছোট। আশির দশকে ‘দি সেইলার’ উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘গাঙচিল’ ছায়াছবিতে শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার পাই। ওই সময় জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার ‘বাচসাস’ পুরস্কার পাই। বাংলাদেশ সরকারের দেয়া যুব মন্ত্রণালয়ের শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার পেয়েছি। বিজ্ঞানী সত্যেন বসুর নামে জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার পেয়েছি। ইংল্যান্ডের কার্ডিফের মেয়রের দেয়া একটি সম্মাননাও পেয়েছি।

দাম্পত্যে শিল্পী সত্তা
স্বামী-স্ত্রী এক মঞ্চে গান করলেই জুটি শিল্পী বা সঙ্গীত জুটি হয় না। দু’জনই আলাদা পরিচয় নিয়ে উঠে এসেছি, শিল্পী-দম্পতি হিসেবে নয়। আর দু’জন একসঙ্গে গান করলে কোনো অসুবিধা হয় বলে মনে করি না। কারণ তার জনপ্রিয়তা নিজের যোগ্যতার কারণেই। আর আমার স্বীকৃতি নিজের কোয়ালিটির কারণেই। একসঙ্গে গান গাওয়ার সুবিধাটিই বরং বেশি। ভুল-ভ্রান্তি দু’জনই আলাপের মাধ্যমে সুধরানো যায়। এতে লাভও হয়।

পরিকল্পনা
সঙ্গীত নিয়ে কখনো পরিকল্পনা করে চলিনি। যখন যে রকম চাহিদা বা পরিবর্তন হয়েছে এর সঙ্গে নিজেকে আপডেট করে নিয়েছি। তবে ইচ্ছা আছে কিছু অপ্রচলিত গান নিয়ে কাজ করার। আর কিছু হারিয়ে যাওয়ার মতো গান নতুন আঙ্গিকে গেয়ে রেকর্ড করবো ভাবছি। একটি বড় আকারের ডেমনেস্ট্রেটিভ কনসার্টও করতে চাই।

প্রত্যাশা
প্রত্যাশা তো অনেক। তবে প্রত্যাশা ও উপদেশ একই ভাষায় বলতে চাই। সঙ্গীত হচ্ছে অনেক বড় শাস্ত্র। চর্চা ও অধ্যাবসায় ছাড়া কারোরই এ কাজে আসা উচিত নয়।
চাই বাংলাদেশের সঙ্গীতের একটি আর্ন্তজাতিক পরিচিতি আসুকÑ বাংলাদেশের সঙ্গীতকে সেভাবেই দেখতে চাই এবং তা সম্ভব। বিশেষত আমাদের লোকগান বা লোকজ সুর, পৃথিবীর অন্যান্য গান যেমনÑ হিসপ্যানিক, আফ্রো-আমেরিকান, ক্যারিবিয়ানদের গান আমাদের সঙ্গীত থেকে উপরে নয়। তারা যে আন্তর্জাতিকতা পাচ্ছে এর কারণ অন্য। আমাদের গানের দুর্বলতা নয়। বিদেশে যখন আমাদের প্রবাসীরা অর্থনৈতিকভাবে আরো সবল হবেন তখন আমাদের সঙ্গীত কর্মীরা ভালো কাজ করতে পারবেন। আর সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তিগুলোর সঙ্গে তারা পরিচিত হবেন।
গান নিয়ে আমার অনেক আশা। গানের চর্চা আরো বাড়লে বিপথগামী অনেক ছেলেমেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে এবং আসছেও। শুধু সরকার নয়Ñ এর জন্য সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আর অবদান তো মাপা যায় না! তবু গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, আমার কিছু উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পর এসেছি তাদের বহুমুখী ও শক্ত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে আসতে হয়েছে। এক সময় মানুষ ভারতীয়, পাকিস্তানি ও পাশ্চাত্যের গান ছাড়া আমাদের কারো গানই শুনতে চাইতো না। পশ্চিমবঙ্গ শিল্পীর গান ছাড়া ‘আর কোনো গান গানই নয়’Ñ এ রকম মনোভাব ছিল তাদের। সেটি কাটিয়ে উঠতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে আমাকে। বেশকিছু মৌলিক আধুনিক গান স্থায়ীভাবে জনপ্রিয় রয়েছে। এ কারণেই অন্তত ‘গুণী শিল্পী’র খেতাবটি পেয়েছি। আমার অনেক গান দিয়েই আমাকে চিহ্নিত করা যায় যে, এটি রফিকুল আলমের গায়কী বা স্টাইল। এতে আমাদের গানের একঘেয়েমি কেটে গেছে। এই পরিবর্তনগুলোয় আমার ভূমিকা অনেক। এরপর অসংখ্য জনসেবামূলক গানও করেছি। ফলে সমাজের কিছু না কিছু উপকার হয়েছে। শুধু ‘পিতার একজন সন্তান’ বলে পরিচিত হয়ে থাকতে চাই না। নিজের সক্রিয়তা আমার গানের মধ্যে আছে। সঙ্গীত একটি অনেক বড় অস্ত্র যা সমাজ থেকে কলুষতা দূর করতে পারে।

বিশাখাপত্তনম

মাসুদ আলী

 

 

প্রেয়সীকে আমরা নানান নামেই ডাকি। আদুরে শিশুটিকে কত নামেই না ডাকে মা-বাবা। মানুষ তার বসবাসের স্থান, ঠিকানার নামেও পরিচিতি পায়। তবে মানুষ কিংবা স্থানের বহুবিধ নাম থাকাটা যেমন মজার ঠিক তেমনি বিপত্তিও কম নয়। বিশাখাপত্তনম কিংবা ভাইজ্যাগ যে নামেই ডাকুন এই অপরূপ শহর কিন্তু একটিই। দেবসেনাপতি কার্তিকের আরেক নাম বিশাখাস্বামী। একাদশ শতকে অন্ধ্রের রাজা যুদ্ধে জয়লাভের জন্য এখানে মন্দির গড়ে বিশাখাস্বামীর পূজা করেন। সেই থেকেই ধারণা করা হয় বিশাখাপত্তনম। তবে এ শহরের নামকরণ নিয়ে একাধিক গল্প শোনা যায়। অন্ধ্রপ্রদেশের মহারাজা, বারাণসী যাত্রার সময় এখানে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি কার্তিকের (বিশাখা) মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা করেন। সেই থেকেই জায়গার নাম বিশাখাপত্তনম। ইতিহাস সাক্ষী বিশাখাপত্তনম ১৭৬৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হস্তগত হয়ে নাম বদলে হয় ভাইজ্যাগ।

যাই হোক, অনেক নামের ভিড়েও বিশাখাপত্তনমের প্রধান আর্কষণ শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে রামকৃষ্ণ বিচ। পাহাড়ের গা ঘেঁষে উথালপাথাল সমুদ্র আর সৈকতে রয়েছে একটি কালী মন্দির। পেছনে রামকৃষ্ণ মিশন। শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে ঋষিকোন্ডা বিচ। ঝাউবন, পাহাড় আর সোনালি বালুকাবেলা। রয়েছে সাবমেরিন মিউজিয়াম। ভারতের প্রথম সাবমেরিনের কলাকৌশল দেখতে হলে এখানে আসতে হয়। বিশাখা মিউজিয়ামে ঢুকলে অন্ধ্রের অতীত ইতিহাস প্রত্যক্ষ করা যায়। একে একে দেখে নেয়া যায় রোজ হিলে রোমান ক্যাথলিক গির্জা, দুর্গকোন্ডায় মসজিদ, ভেঙ্কটেশকোন্ডায় ভেঙ্কটেশ্বরের মন্দির। পাশাপাশি এই মিশ্র ধর্ম সংস্কৃতির সহাবস্থান যেন ভারতবর্ষেরই প্রকৃত চিত্র। ডলফিন নোজ পয়েন্ট লাইট হাউসের চূড়া থেকে নীল সাগরের অপরূপ রূপ অনুভব করাও দারুণ অভিজ্ঞতা। ঠিক তেমনি আরেক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা কৈলাসগিরি বা মাউন্ট কৈলাসের শিখর থেকে সাগরের রূপমালা দর্শন।

 

বিশাখাপত্তনম আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি নির্মিত পার্কটি ছোট-বড় সবার কাছেই দারুণ আকর্ষণীয়। বিশাখাপত্তনমের আরেক বেলাভূমি
ভিমানিপতনম বা ভিমিলি ঋষিকোন্ডা ছাড়িয়ে। শহর থেকে দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। লাইট হাউস, ডাচদুর্গের ভগ্নাবশেষ, নৃসিংহ মন্দির, সীতাকু- পায়ে পায়ে বেড়ানো যায়। ভিমিলি যাওয়ার পথে বভিকোন্ডা ও থোতলাকোন্ডায় বৌদ্ধবিহার, চৈত্য ও স্তূপের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে। পাখি দেখতে যেতে হবে শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে কোন্ডাকারলায়। বিশাখাপত্তনম থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে নৃসিংহ দেবের মন্দিরের জন্য খ্যাত সীমাচলম। চতুষ্কোণ আকারের কারুকার্যময় ও মন্দিরটি চোল স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন।


আরাকু ভ্যালি
সমুদ্র ও পাহাড়ের সহাবস্থান বিশাখাপত্তনম দেখতে এক ছুটির দিনে এখানে এসে পৌঁছালাম। সাথে একটা ছোট্ট দল। বঙ্গোপসাগরের তীরে বন্দর শহর নয়নাভিরাম বিশাখাপটনম বা বিশাখাপত্তনম। তখন ভোর ৪টা। নামলাম বিশাখাপত্তনম বেল স্টেশনে। নির্ধারিত হোটেলে গিয়ে উঠলাম। তারপরই তৈরি হয়ে নিলাম চটপট। ভাড়া গাড়িতে চেপে সকাল ৭টার মধ্যেই বেরিয়ে পড়লাম আরাকু ভ্যালির উদ্দেশে। বিশাখাপত্তনম থেকে ৯০ কিলোমিটার পথ। পাহাড়ের পর পাহাড় ডিঙিয়ে আমাদের গাড়ি যখন বোরা কেভএ পৌঁছলো, তখন বুঝলাম কেন দলে দলে মানুষ এখানে আসে। লক্ষাধিক বছরের পুরনো চুনাপাথরের এই গুহায় অদ্ভুত সব প্রাকৃতিক ভাস্কর্য। স্ট্যালাগমাইট ও স্ট্যালাগটাইট পাথরের প্রাকৃতিক স্থাপত্যে এই গুহার যে কী অপরূপ সৌন্দর্য তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।
বোরা থেকে বরে দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। কফি বাগান দেখতে যাওয়া যাবে পূর্বঘাট পর্বতমালার এই সুন্দর উপত্যকায়। এরপর রয়েছে আদিবাসী মিউজিয়াম। আদিবাসী গ্রাম দেখে সাপরাইল নামের একটি পাহাড়ি নদী দেখলাম কেমন চালাকি করে পাহাড়ের পাশ দিয়ে নেমে যাচ্ছে। ওই নদীর জলে খেলা করছে পর্যটকরা। আরাকুর পার্ক দেখে পাহাড়ি পথ বেয়ে আমরা হোটেলে ফিরলাম রাত ৮টায়।

 

সীমাচলম মন্দির
এরপর আমাদের ভাইজ্যাগ ভ্রমণ শুরু হলো সীমাচলম মন্দির দর্শনের মাধ্যমে। সীমাচলম মন্দিরটি ভাইজ্যাগ থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের ওপর ১১ শতকে তৈরি। মন্দিরে আছে বিষ্ণুর নৃসিংহ অবতারের মূর্তি যাতে সব সময় চন্দনের প্রলেপ লাগানো থাকে। অসংখ্য ভক্ত এই মন্দিরে পূজা দিতে আসে। শোনা যায়, শ্রী চৈতন্যদেবও এই মন্দিরে এসেছিলেন। ঘণ্টাতিনেক যাত্রার পর গাড়ি এসে দাঁড়ালো সীমাচলম পাহাড়ের পাদদেশে। এবার উপরে ওঠার পালা। গাড়ি না থাকলে পাহাড়ে ওঠার জন্য আলাদা বাসও পাওয়া যায়। পাকদ-ী বেয়ে গাড়ি উঠে চললো। নিচের বাড়িঘর, গাছপালা মন্দির ছোট থেকে আরো ছোট হতে লাগলো। মিনিট ১৫ পর গাড়ি এসে থামলো হাজার ফুট উঁচুঁ পাহাড়ের ওপর অবস্থিত সীমাচলম মন্দিরে। দ্রুত মন্দিরে প্রবেশ করতে হলে টিকিট কাটতে হয়। টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়ালাম। বেশ ভিড়, প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় লাগলো দেবদর্শনে। টিকিট কেটেই এই অবস্থা, ফ্রি দর্শন লাইনে ভিড়টা তো বলাই বাহুল্য। প্রাচীন এ মন্দির। মন্দিরের গায়ে অপূর্ব সব কারুƒকার্য। ডিম্বাকৃতি পাথরের গায়ে নৃসিংহ দেবের ছোট্ট মূর্তি ভালো করে বোঝা যায় না হলুদ, চন্দন আর ফুলমালার আধিক্যের জন্য। ঠেলা আর গুঁতো খেয়ে কোনো রকমে দেব দর্শন সেরে এসে দাঁড়ালাম প্রসাদ কাউন্টারের সামনে। দুটি বড় সাইজের লাড্ডু প্রসাদ হিসেবে পাওয়া গেল। মন্দিরের নিচের ছোট দোকানগুলো থেকে কিছু কেনাকাটা করে গাড়ি ছুটলাম হোটেলের উদ্দেশে।

ঋষিকোন্ডা বিচ
সোনালি বালিতে মোড়া ঋষিকোন্ডা বিচটি ছবির মতো সুন্দর। সমুদ্র, পাহাড়ও ছোট ছোট কটেজ মিলিয়ে এক অপূর্ব দৃশ্য। এখানে ওয়াটার স্পোর্টসেরও বন্দোবস্ত আছে। বিচ থেকে উঠে গেছে উঁচু পাহাড়, পাহাড়ের কোলে ছবির মতো সুন্দর অন্ধ্রপ্রদেশের সরকারের পর্যটন বিভাগের রিসোর্ট-হারিতার কটেজের সারি। ঋষিকোন্ডা বিচের ডান দিকে বেশ বড় বড় পাথর। এখানে স্নান করতে নামা বিপদজ্জনক। তবু জলে নেমে পড়েছে অনেক উৎসাহী মানুষ। ঋষিকোন্ডা বিচে আসার পথে পড়ল লাল মাটির পাহাড়। পাহাড়ের মাথায় রামা নাইডু ফিল্ম স্টুডিও। ছবির মতো সুন্দর সাজানো এই ছোট্ট ফিল্ম সিটিতে সিনেমার শুটিং হয়। খানিকক্ষণ ঘুরে দেখতে মন্দ লাগবে না। এখান থেকেও নিচে সমুদ্রের অসাধারণ রূপ দেখলে প্রাণভরে যায়।

 

আলো ও আলেয়া

 

ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা ডেকোরেশন অথবা গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ব্যাপারটি বর্তমানে বিশ^জুড়ে সম্প্রসারিত হলেও এটি আদৌও নতুন কিছু নয়। সাধের সঙ্গে সাধ্যের সমন্বয়টাই ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার মূল প্রতিপাদ্য। তাই উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত যে কেউই ইন্টেরিয়রের কথা ভাবতে পারেন। কোনো ইঞ্জিনিয়ার আপনার বাড়ির নকশাটি করে দেবেন, গৃহে রুমগুলোর নির্দেশনা দেবেন। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা আলো-ছায়া ও সবুজায়নসহ অনেক দিক বিবেচনা করে কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আপনার ঘরের দরজা-জানালা, ভেন্টিলেটর ও আলোর উৎসসহ অন্য দিকগুলো দেখিয়ে দেবেন। কোনো ডিজাইনার ঘরের সাধারণ সিলিংটি বিভিন্ন আঙ্গিকে সাজিয়ে তা করে তোলেন দর্শনীয়। সিলিংয়ে বসানো যায় লাইটের সাহায্যে হাজার তারার আসর ও নানান বর্ণের বর্ণালী আলোর মেলা। তাই গৃহসজ্জায় চার দেয়াল এবং সিলিংয়ে রঙ ও লাইটিং প্ল্যান খুব জরুরি। বর্তমানে এলইডি বাতির কল্যাণে বিদ্যুতের খরচ খুব কমে এসেছে। এ কারণে ঘরের বিভিন্ন স্থানে প্ল্যান অনুযায়ী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসানো যায় কম আলোর রকমারি বাতি। বাসগৃহে বসবাসকারীরা যাতে মনোটোনাস হয়ে না পড়েন বা মনমরা ভাব না আসে, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আনন্দের উৎস, ভালো লাগার বিষয়গুলো ইন্টেরিয়র পরিকল্পনার সঙ্গে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। এ জন্য আলো এবং রঙ ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যা থেকে আলো প্রতিফলিত হয় এবং ভীতিকর ছায়া

না থাকে। হালকা ধরনের রঙ ব্যবহার করাই ভালো। যেমন- হোয়াইট, অফহোয়াইট, লাইট লেমন, লাইট ওয়ার্ম। স্টাডিরুম, কিচেন ও শিশুদের ঘরগুলোয় স্পট লাইট বা উজ্জ্বল বাতি ব্যবহার করলে ঘর ফুটে ওঠে। সর্বতভাবে খেয়াল রাখতে হবে, আপনার ইন্টেরিয়র ডিজাইন যেন নিজের ও পরিবারের সবাইকে স্বস্তি দেয়, ফ্রেশ রাখে এবং ঘুমের কোনো ব্যাঘাত না ঘটায়। আপনার রুচির সচেনতায় নিজের ইন্টেরিয়র যেন হয়ে ওঠে অন্যদের আলোচনার বিষয়।


দিনে সূর্যের আলো থাকে। তাই আলো নিয়ে এতো চিন্তা করার কিছু নেই। দিনশেষে রাতের আঁধারে আমাদের আবাস-চারপাশ ঢাকা পড়ে যায়। তাই রাতে কৃত্রিম আলো অনিবার্য। চলমান সভ্যতা আলোর অরণ্য থেকে বেছে নিতে হয় আলোর সঠিক উৎসটিকে। শুধুমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী লাইটিংই পারে আপনার ইন্টেরিয়রের লুক পরিবর্তন করতে। সামান্য আলোর ব্যবহারে বৈচিত্র্য আসতে পারে ঘরে। উপযুক্ত আলোর নিক্ষেপণ চমকে দিতে পারে হাজারো মানুষের চোখ। এ কারণে ইন্টেরিয়রে আলোর ব্যবহারে হতে হবে চৌকস ও সৃজনশীল।


ঘরে যদি প্রাকৃতির আলো প্রবেশ করে তাহলে দিনে বাড়তি আলো না জ¦ালানোই ভালো। রাতে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করে ঘরের প্রতিটি বস্তুর ওপর নানানভাবে স্পটের মতো ওই আলো বিন্যস্ত করলে তা হয় নান্দনিক ও দর্শনীয়। এতে সৃষ্টি হয় সৌন্দর্যের নতুন এক মাত্রা। তবে বেশি উজ্জ্বল আলো ব্যবহারে ঘর গরম হয়ে ওঠে এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলে সেটির কার্যকারিতাও কমে যায়। আধুনিক কিছু ঘরে আলো রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে কমানো বা বাড়ানো যায়। ইন্টিরিয়রে এ ধরনের বাতি বেশ ভালো কাজ করে। ড্রয়িংরুমে ঝাড়বাতি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এটি যার যেমন সাধ্য ওই অনুযায়ী সংস্থাপন করে নিলেই হবে। পরে এটি প্রতিস্থাপন করা তেমন ঝামেলার ব্যাপার নয়। ঘর সাজানোর জন্য বাজারে এখন নানান টেবিল ল্যাম্প পাওয়া যায়। এগুলোয় থাকে বিচিত্র কারুকাজ। একটি টেবিল ল্যাম্প একদিকে সুন্দর একটি শোপিস, অন্যদিকে তা মিষ্টি রঙিন আলোও প্রদান করে। টেবিল বা স্টান্ড ল্যাম্পের ডিজাইনের অভাব নেই। ইচ্ছা করলে হাতেও নিজের ডিজাইন মতো সহজেই টেবিল ল্যাম্প বানিয়ে নেয়া য়ায়। এখন বাজারে নানান ধরনের ফ্লাওয়ার ল্যাম্প পাওয়া যায়। এটি হাতেও বানানো যায়। তা একদিকে প্লান্টের কাজ করে, অন্যদিকে রাতে বাহারি ফুলের মতো উজ্জ্বল ফুল হয়ে ফুটে ওঠে। সুন্দর একটি নান্দনিক ইন্টেরিয়রে মোম ও মোমদানির ভূমিকাও কম নয়। ডিজাইনারের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরে সাজানো যায় আপনার রুচি বহনকারী অ্যান্টিক ও দুষ্পাপ্য আলোক সামগ্রী।

 


লেখা : রাশেদ মামুন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : সোহানী ইন্টেরিয়রস

রাতাতুলে সন্ধ্যা

 

নান রুটি


উপকরণ

২ কাপ ময়দা, ২ চা-চামচ ইষ্ট কুসুম গরম পানিতে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে, ২ চা-চামচ চিনি, ২ টেবিল চামচ খাঁটি সরিষার তেল বা ঘি এবং লবণ ও পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি
একটি পাত্রে গরম পানি দিন এবং কাই বা খামির বানানো পাত্রে দুই কাপ ময়দা নিন। এক চা-চামচ ইষ্ট নিন। তবে এর আগে ময়দায় পরিমাণমতো লবণ ও এক চা-চামচ চিনি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। পানিতে ইষ্ট গুলিয়ে নিয়ে ময়দায় দিয়ে মাখাতে থাকুন এবং গরম পানি দিয়ে দিয়ে খামির বানান। ধীরে ধীরে অল্প অল্প পানি দিয়ে মাখাতে থাকুন। লক্ষ্য রাখবেন, খামির যাতে বেশি নরম না হয়ে যায়। খামির হয়ে গেলে এবার তেল (অল্প অল্প করে) দিয়ে আবারও খামির মলে মলে আরো নরম করে নিন। খামির একটা ধাতব বা প্লাস্টিকের পাত্রে কিছুক্ষণ রেখে গরম করা পানি পাত্রের ওপর দিয়ে দিন। মিনিট বিশেক পর খামির তুলে দেখুন, কী সুন্দর হয়েছে! ফুলে বড় হয়েছে এবং ভালো ঘ্রাণ বের হচ্ছে। তাওয়া গরম করে সাধারণ রুটির মতো করে সেঁকে নিন। তবে ভালো একটা পাতলা কাপড় (পাফ বানিয়ে নিন) দিয়ে চাপ দিয়ে দিয়ে সেঁকে নিন যাতে রুটির প্রতি অংশে আগুনের আঁচ লাগে। ব্যস, হয়ে গেল ‘নান রুটি’!

 

চিকেন পাহাড়ি কাবাব


উপকরণ
আধা কেজি হাড়ছাড়া মুরগির মাংস ১+১টি, ২ কাপ ধনিয়ার পাতা, আধা কাপ পুদিনা পাতা, ৬ থেকে ৮টি পুঁই পাতা, ৪টি কাঁচামরিচ, ৪টি রসুনের কোয়া, আধা ইঞ্চি টুকরা আদা, ১ চা-চামচ জিরার গুঁডা, ১ চা-চামচ ধনিয়ার গুঁডা, ১ চা-চামচ লবণ বা স্বাদমতো, কোয়ার্টার কাপ লেবুর রস, আধা কাপ টক দই, ২ টেবিল চামচ ময়দা ও ২ টেবিল চামচ জলপাই তেল বা ঘি।

প্রণালি
এক সঙ্গে ধনিয়ার পাতা, পুঁই পাতা, কাঁচামরিচ, রসুন, আদা, জলপাই তেল ও লেবুর রস মিশিয়ে নিন। দইয়ের মধ্যে গ্রীন সস ঢেলে লবণ, ময়দা ও শুকনো মশলাগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। কমপক্ষে ৩০ মিনিট দই ও সসের মধ্যে মুরগি মেরিনেট করে রাখুন। মেরিনেট হয়ে গেলে মাংসের টুকরোগুলো শিকে গেঁথে কাঠকয়লার আগুনে ভালোভাবে ঝলসে নিন। ঝলসানো হয়ে গেলে কাবাব তেঁতুল চাটনি ও তাজা সালাদে নান রুটির সঙ্গে পরিবেশন করুন।

 

 

ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : রাতাতুল রেস্তোরাঁ, উত্তরা, ঢাকা।

ফিরে আসা

 

ফিরে আসার গল্প বলার দৃঢ় সংকল্প নিয়েই এগিয়েছিলাম দুরূহ পথ ধরে। পেছন ফিরে তাকালে যেন এখনো দেখতে পাই সময়গুলো, যে সময়গুলো নিজেই দীর্ঘ হয়ে যায় বেদনার ভার বুকে করে। দিনগুলো চলতে থাকে একটি ছন্দ নিয়ে। নিজের একটি নকশা তুলতে তুলতে অনেক পাওয়া আর না পাওয়ার ভাবনা জমে। আবার সময় হঠাৎ করে অন্য আরেক ছন্দে ঢুকে পড়ে যখন ইচ্ছা আর লক্ষ্যগুলো একদম আলাদা হয়ে যায়। যা অনায়াসে পাওয়া হয়ে আসে তা নিয়েই গতানুগতিক ছন্দপ্রবাহে আবারও যুক্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা চলতে থাকে।


আমার স্তন ক্যানসার পার হয়ে আসার গল্প বলি। নিজে নিজে পরীক্ষা করতাম। কিন্তু একদম হঠাৎ করেই ধরা পড়ল। খানিকটা চিৎ হয়ে শুয়ে ছিলাম। একটা গোটার মতো টের পেলাম। আমার এক কাছের ডাক্তার বড় আপাকে বললাম। তার বলে দেয়া ডাক্তারের পরামর্শমতো মেমোগ্রাম, এফএনএসি, কোর বায়োপসিতে বোঝা গেল টিউমার আছে। আর তা ক্যানসার হয়ে বসে আছে। ঈদের লম্বা ছুটির মধ্যে যথাসম্ভব খোঁজ-খবর করে সার্জারিকে দেখানোর সময় ও ক্লিনিক ঠিক করা হলো। ছুটি শেষ হতেই সার্জারি। এরপর বায়োপসির রিপোর্ট অনুযায়ী কেমোথেরাপি। অনেক সময় ধরে চিকিৎসা নিয়ে, বহুপথ পেড়িয়ে ক্যানসারমুক্ত হওয়া।


বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করিনি। আমার অবস্থানুযায়ী এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আমার জন্য বেশ ভালো। সিদ্ধান্তগুলো আমি আর আমার স্বামী মিলে নিতাম। অনেকে বুদ্ধি আবার অতিরিক্ত পরামর্শও দিতেন। কিন্তু আমরা বুঝে নিতাম কোনটি আমাদের জন্য উপযুক্ত। অবস্থাটি আমরা একেবারে আমাদের করে নিলাম। সার্জারি, কেমোথেরাপি, ডাক্তার দেখানো, রক্ত পরীক্ষা করে আমরা কথা বলতাম, চিন্তা করতাম। এতোদিনের ভালোবাসা, প্রেম, ছেলে মানুষ করা, এক সঙ্গে বুড়ো হতে থাকার মধ্যে আমরা যতো কাছে ছিলাম এর চেয়ে অনেক বেশি কাছে চলে এলাম। ডাক্তারের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছিলাম। তাই দুঃখজনক কিছু চিন্তা করতাম না। আর আমার স্বামী সব সময় সাহস জোগাতেন। আমাদের প্রচ- বিশ্বাস ছিল, আমরা এটি পার হয়ে আসব।
আমার ছেলের বয়স তখন ১২ বছর। ব্যাপারটি নিজে থেকে খানিকটা বুঝত আর নেট ঘেঁটে বাকিটা বুঝে নেয়ার চেষ্টা করতো। আমাকে অনেক সাহস দিতো। মন তবুও খারাপ হতো। এক আপার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। আমরা একজন অন্যজনকে আগে চিনতাম না। তাকে কখনোই দেখিনি। তিনিও এক সময় এসবের মধ্য দিয়ে গেছেন। তাই তার নম্বর জোগাড় করি। অনেক সময় ঘণ্টা পার হয়ে যেতো কথা বলে। সবকিছু শুনতেন। মাঝে মধ্যে তার ওই সময়টার কথাও বলতেন। কতো কষ্ট হতো, কতো চেষ্টা চলতো। ওই সময় তার অফিসের কাজের কথা, বাসা সামলানো, মনের অবস্থা- সব। সারাক্ষণ সাহস দিতেন। খাওয়া, বিশ্রাম আর দুশ্চিন্তা না করার ব্যাপারে জোর দিতেন।

সার্জারির আগের দিন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট এলেন। অভয় দিলেন। হাঁপানি আমার পুরনো রোগ জেনে গেলেন। সার্জারির পর ক্লিনিকে কিছুদিন থেকে বাসায় ফিরে যাওয়ার পর শুরু হলো কেমোথেরাপির চিন্তা। আরেক হাসপাতাল, আরেক ডাক্তার। সার্জারির আগে পেট স্ক্যান করার সুযোগ হয়নি। তাই পরে করা হলো। ঠিক ওই সময়ই ভয় হলো যদি আবারও কিছু ধরা পড়ে! হাসপাতালের অ্যাটেনডেন্ট মেশিনের কাছে নিয়ে গেলেন। এরপর কেমোথেরাপিস্ট পরবর্তী চিকিৎসা বুঝিয়ে বললেন। কেমোথেরাপি লাগবে কেন, কয়টা, কতোদিন পর পর, কী ওষুধ দেবেন, কী কী অসুবিধা হতে পারে- সব। অনেকটা দিন লাগবে আর শরীর-মন ভালো রাখতে হবে- সবই সুন্দর করে বললেন। মনে হলো, খুব লেগে থেকে সবটুকু পার হয়ে যাব।
প্রথম কেমোথেরাপির পর পরই খাওয়ার রুচি হারিয়ে ফেললাম। তবুও যে ধৈর্য ধরে খেতে হবে তা বুঝিনি। কারণ পুষ্টি তো আসবে খাবার থেকেই। আর ওই সময়টায় সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি ক্যালরি দরকার। মনে করলাম, রুচি আবার ফিরে আসবে। কিন্তু খাওয়ার অনিচ্ছা আরো বাড়লো। ভাত খেতে ঘণ্টা পার হয়ে যেতো। অল্প করে কিছুক্ষণ পর পর খেতাম। এক প্রস্থ খাওয়া শেষ হলে নিজেকে বাহবা দিতাম। ডাক্তার বলতেন প্রোটিন বেশি খেতে, স্টার্চ কম খেতে এবং চিনি, তেল-চর্বি, মশলা এড়িয়ে যেতে। বেশকিছু মৌসুমি ফল খেতে বলতেন। ফল খেতে ভালোও লাগতো। রান্না খাবারে লবণের স্বাদ সঠিক হলেও পরিমাণে তা বেশি লাগতো। অল্প মশলাতেও অনেক সময় মুখ জ্বলত। টোস্ট, বিস্কুট খাওয়ার জন্য লোভ হতো। কিন্তু টোস্ট, পাউরুটি খেলেই মুখের তালু ছুলে যেতো আর বিস্কুট তো দুরস্ত। খুব খেয়াল রাখতাম যেন যথেষ্ট পানি খাওয়া হয়। বলে দেয়া হয়েছিল, কেমোথেরাপির সময় পানি স্বল্পতায় নানান জটিলতা হতে পারে।
প্রথম কেমোর দ্বিতীয় সপ্তাহেই জ্বর এলো। তাড়াতাড়ি রক্ত পরীক্ষা করে দেখা গেল, রক্তের শ্বেতকণিকা ভয়ানক রকম কমে গেছে। তখনই হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তার জানালেন, কেমোথেরাপির পর অনেকেরই ওই অসুবিধা হয়। তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বলে পর্যবেক্ষণে থাকার জন্য হাসপাতালে থাকতে হয়। কারণ ওই সময়টায় ইনফেকশন হলে তা মারাত্মক হয়ে যেতে পারে। ওষুধ-পথ্য আর শুশ্রƒষায় ঠিক হয়ে সপ্তাহখানেক পর বাসায় ফিরি। ততোদিনে দ্বিতীয় কেমোথেরাপির সময় হয়ে গেছে। এভাবে পুরো সময়টায় মোট তিনবার এমন অবস্থায় পড়লাম। আর প্রতিবারই হাসপাতালে থাকা হয়। পরের দিকে সেরে উঠতে আরো সময় লাগতো। শরীর তো বার বার যুদ্ধ করছিল, তাই। একবার তো অণুচক্রিকাও কমে গেল। চারটি কেমোথেরাপি পার করার পর বেঁকে বসলাম, আর নেব না। আমার স্বামী তখন বোঝালেন, আমরা তো ঠিক করেছিলাম সব পার করবো। আবার মনে জোর আনলাম, বাকিগুলোও পার করবো।
তৃতীয় সপ্তাহ থেকে চুল পড়া শুরু। অল্প করে শুরু হয়ে একেবারে ঝুরঝুর করে পড়তে লাগলো। তৃতীয় কেমোথেরাপির পর রাতে বমি হলো। সামান্য যা চুল ছিল তা মুখের সামনে এসে অসুবিধা করছিল। আমার স্বামী তখন বাকিটুকু চুল খুব ছোট করিয়ে ট্রিম করে দিলেন। বোঝা যাচ্ছিল, সব চুল ফেলে দিতে তার মনে কতো কষ্ট হচ্ছে!


পাশের বেডে এক আপা কেমোথেরাপি নিতেন। তার সঙ্গে বেশ কিছুদিনের শেডিউল মিলে যেতো। আবার আমরা অসুস্থ হলেও একই সময় হাসপাতালে থাকতাম। শ্বেতকণিকা কম থাকার কারণেও ওই সময়টায় মেলামেশা এড়িয়ে যেতাম। তার মনের জোর দেখে অবাক হতাম! অন্য রোগীদের প্রাণশক্তিটা যে কী প্রখর হয়ে আছে তা তাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যেতো। তখন আমাদের চেহারা পাল্টে একেবারেই অন্য রকম হতো। কিন্তু চোখ দেখে ধারণা করা যেতো, কতো বড় বড় বাধা পার হয়ে আসছি আমরা। এ রকম এক সময় ওই অ্যাটেনডেন্ট ভাইয়ার সঙ্গে আবার দেখা। তখন চুল, ভ্রƒহীন অবস্থায় চেহারা ফুলে একেবারে চাঁদের মতো। কেমন আছি জিজ্ঞাসা করায় অবাক হলাম। আমাকে চিনলেন কীভাবে! তিনি বললেন, মানুষের চোখ তো একই রকম থাকে। তাই চেনা যায়। তার কথাটি পোশাকি ছিল না, আন্তরিকই ছিল। নার্সরা অনেক যতœ নিতেন। তাদের নিঃশব্দে হাঁটাটা খুব মজা লাগতো। কীভাবে যে বুঝে যেতেন, কখন তাদের কাউকে আমার দরকার লাগবে! ওই সময় তাদের সাজপোশাক বেশ খেয়াল করতাম। ইনফেকশনের ভয়ে দুল পরতাম না। দেখতাম, তারা খুব ছোট্ট দুল পরেন, খুব হালকা কাজল দেন আর চুল তো নেটের ভেতর বাঁধা থাকে। এমন প্রমিত সাজ ভালো লাগতো। নিজের জন্য মায়া লাগতো যে, আহারে, আমার চুল কবে হবে!

বাসায় আমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিল আমার কুকুরটি। এরা হলো অন্য প্রাণীর শরীরে ভর করে আসা মহাপ্রাণ। ওই প্রাণীটি ছিল বলেই আমাকে বাসায় কখনো একা থাকতে হয়নি, একাকীত্বেও ভুগিনি। কী করে যে মনের অবস্থা বুঝতে পারতো! আর যখন হাসপাতাল থেকে ফিরতাম, অল্প দূরত্ব বজায় রেখে কাছে থাকতো। যখন আমাকে কেমোথেরাপির সুবিধার জন্য পোর্ট করতে বলা হলো তখন ওই কুকুরের কথা চিন্তা করে করলাম না। ইনফেকশন হয়ে গেলে সব দোষ ওই প্রাণীটির ঘাড়ে পড়তো। আর খরচের ব্যাপারটিও ছিল। পোর্ট অবশ্য আমার ভালো সাহায্যে আসতো। ধীরে ধীরে সব কেমোথেরাপি ভালোভাবে পার করা হলো। সেরে উঠলাম। কিছু জিনিস আগের মতো থাকলো না। কিছু জিনিস ভালোর জন্য পাল্টালো। পরীক্ষায় ছেলে বেশ খারাপ করলো। তাকে স্কুল পরের ক্লাসে বিশেষ বিবেচনায় নয়, এমনিই তুলে দিল। তার টিচার জানতেন। বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অনেক বেড়ে গেল। কেউ কেউ স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হলো। যে কোনো কঠিন সময়ের মতো ওই অভিজ্ঞতাতেও টের পেলাম কারা আমাদের পরম আপনজন আর কারা আবর্জনা।

ক্যানসার একটি মহাচোর। মানুষের অনেক কিছু নিয়ে নেয়। তবু মানুষ তো অমৃতের সন্তান। তাই লড়াই করেই যায়। এর মধ্যেও যারা থেমে যান না। তারাই শ্রদ্ধার পাত্র। আর যারা পরম মমতা ও পরিশ্রমে তাদের পাশে থাকেন তারাও সমানভাবে শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের ছাড়া ওই লড়াইয়ে উত্তীর্ণ সম্ভবই নয়। ক্যানসার নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা আছে। এখন চিন্তা করে দেখি, আমার দিকের পরিবারে বড় পরিসরে হৃদরোগ আর স্তন ক্যানসারের হার প্রায় সমান। তাই হয়তো এটি ধরা পড়ার পর এতোটা ঘাবড়াইনি। তবু আমাদের কেউ যখন পরিবারের ক্যানসারভোগীদের রোগের যোগসূত্র বৈবাহিকভাবে অন্যপক্ষের আত্মীয়র কাছ থেকে খোঁজেন তখন বেশ অবাক লাগে! ক্যানসার নিয়ে মানুষের মনে এত সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমি ফিরে আসতে পেরেছি, আপনিও পারবেন। যারা এমন দুঃসহ যন্ত্রণার মাঝ দিয়ে পার হবেন কিংবা যারা এখন সুস্থ আছেন তাদের সচেতনতার জন্য কিছু বিষয় জানানো হলো:- সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তাই এতোদিন এ ব্যাপারে নারীদের সচেতন করাই ছিল মুখ্য। কিন্তু এখন পুরুষদেরও সচেতন করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যানসার দেখা দিতে পারে। অবশ্য তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। এক হিসাবে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন ৪১ হাজার নারী। ওই তুলনায় মাত্র ৩০০ পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। স্তন ক্যানসার হওয়ার কারণগুলো এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।


স্তন ক্যানসার হয়েছে কী করে বুঝবেন
- স্তনে একটি পি-ের মতো অনুভব হয়।
- স্তনের বোঁটা থেকে রক্ত বের হয়।
- স্তনের আকার ও আকৃতির পরিবর্তন হয়।
- স্তনের ত্বকে পরিবর্তন দেখা দেয়। যেমন- টোল পড়া।
- স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যায়।
- স্তনের বোঁটার চামড়া উঠতে থাকে।
- স্তনের ত্বক লালচে তথা কমলার খোসার মতো এবং গর্ত গর্ত হয়ে যায়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন
- স্তনে নতুন ও অস্বাভাবিক পি- অনুভব করলে।
- পরবর্তী মাসিক পার হয়ে গেলেও পি- না গেলে।
- স্তনের পি- আরো বড় ও শক্ত হলে।
- স্তনের বোঁটা থেকে অনবরত রক্ত নির্গত হলে।
- স্তনের ত্বকে পরিবর্তন দেখা দিলে।
- স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে।

কোথায় চিকিৎসা করাবেন
- জেলা সদর হাসপাতালে।
- মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- বিশেষায়িত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে।

কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে
- মেমোগ্রাম (Mammogram) বা স্তনের এক্স-রে।
- ব্রেস্ট আলট্রাসাউন্ড (Breast Ultrasound)।
- ব্রেস্ট ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমাজিং {Breast magnetic resonance imaging (MRI)}।
- বায়োপসি (Biopsy)।
- রক্তের পরীক্ষা।
- বুকের এক্স-রে।
- কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফি স্ক্যান {Computerized tomography (CT) Scan }
- পজিট্রন ইমিশন টমোগ্রাফি স্ক্যান {Positron emission tomography (PET) Scan}

কী ধরনের চিকিৎসা আছে
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন, পর্যায়, ক্যানসারের কোষগুলো হরমন সংবেদনশীল কি না এসবের ওপর। অধিকাংশ নারীই স্তন অপারেশনের পাশাপাশি অন্যান্য বাড়তি চিকিৎসাও গ্রহণ করে থাকেন।
যেমন- কেমোথেরাপি, হরমনথেরাপি অথবা রশ্মিথেরাপি।

 

লেখা : তাহমিনা রহমান

শীতে ত্বকের যত্ন 

 

‘এখন শীতকাল। এই শীতের সঙ্গে আছে শুষ্কতার নিবিড় সম্পর্ক। আর এ শুষ্কতার কারণেই ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন’- এ কথাগুলো বললেন হারমোনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতা।

শীতে অ্যালার্জির উপদ্রবও দেখা যায়। তখন ত্বকে র‌্যাশের সমস্যা দেখা যায়। শুষ্কতার কারণে ত্বক উজ্জ্বলতা হারায়। একটু যত্ন নিলেই শীতে ত্ব¡ক ভালো রাখা যায়। যেহেতু শীতে বাতাসের আর্দ্রতা ক্রমেই কমতে থাকে সেহেতু ধুলো-ময়লা জমে ত্বকে নানান সমস্যা দেখা দেয়। এ থেকে রক্ষা পেতে সবার আগে ভালো করে ত্বক পরিষ্কার রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। শীতে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা যায় যেভাবে-


তৈলাক্ত ত্বকের জন্য : লেবুর রস দুই টেবিল চামচ, গ্লিসারিন এক চা-চামচ, গোলাপ জল তিন টেবিল চামচ একত্রে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।


বেশি শুষ্ক ত্বকের জন্য : আধা চা-চামচ দুধ ও মধু একত্রে মিশিয়ে দুই মিনিট মাসাজ করে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। এতে ত্বকের শুষ্কতা কমবে। এরপর একটি ডিম, মধু দুই চামচ, গুঁড়া দুধ এক চামচ, কাঁচাহলুদ এক টেবিল চামচ, লেবুর রস আধা চামচ একত্রে পেস্ট করে ত্বকে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।


স্বাভাবিক ত্বকের জন্য : এক চামচ গাজরের পেস্টের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া শসার কুচি দুই টেবিল চামচ, গোলাপ জল ছয় টেবিল চামচ, ময়দা এক টেবিল চামচ, গ্লিসারিন দুই টেবিল চামচ, মধু এক চামচ একত্রে ব্লেন্ড করে ত্বকে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।


খসখসে ত্বকের জন্য : খসখসে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও পরিষ্কার রাখতে দিনে অন্তত দু’বার ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে লোটাস ফেয়ারনেস জেল বিশেষ করে রাতে শোয়ার আগে মুখ, গলা ও বুকের খোলা অংশে মাখলে উপকার পাওয়া যাবে।


মেকআপের জন্য : এক চা-চামচ শসার রস ও মধু এবং সামান্য তেঁতুল মিশিয়ে মেকআপের আগে ত্বক টোনিং করে নিলে মেকআপ ভালো বসে। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত তিনবার কোন ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের উপকার নিশ্চিত।

শীতকালে হাত ও পায়ের যত্ন
- আঙুল নরম ও মসৃণ রাখতে সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে হাতের আঙুলে লাগাতে হবে।
- হাতের ত্বক খসখসে হলে লেবুর রসে এক চামচ মধু বা চিনি দিয়ে হাতে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- কনুইয়ে কালো দাগ দেখা দিলে চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট মাসাজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- লেবুর রস ৪ চা-চামচ, মধু এক চা-চামচ, অলিভ অয়েল এক চা-চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে মাসাজ করতে হবে ভালোভাবে।
- রাতে শোয়ার আগে পানিতে এক চামচ লবণ, এক চামচ শ্যাম্পু, এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, যে কোন ঋতুতেই শরীরের বাইরের সৌন্দর্যের পাশাপাশি মনের সৌন্দর্যের বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরি। নিয়মিত মেডিটেশন ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো করার মতো বিষয়গুলোতেও
মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।

 

মডেল : নওরিন
ছবি : ফারহান ফয়সাল

 

 

 

 

 

Page 3 of 29

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…