Super User

Super User

Page 8 of 29

রাতারগুল থেকে বিছানাকান্দি

হাসান তারেক চৌধুরী

 


রাতারগুল আর বিছানাকান্দি- দুটিই আজ ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খুবই জনপ্রিয় নাম। তাই নতুন করে আর এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কোনো অর্থ হয় না। তবুও আজ লিখছি। এর একটি কারণ হলো সামনেই আসছে বর্ষা। এখন ওই দুটি স্থানে ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। অন্য কারণটি হলো ভ্রমণপিপাসুদের আরো একটি নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া। সাধারণত যাতায়াত ও থাকার সমস্যার কথা বিবেচনা করে আমাদের ভ্রমণপিপাসুরা ওই দুটি গন্তব্য আলাদাভাবে পরিকল্পনা করেন। ফলে তারা অসম্ভব সুন্দর আরো একটি অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হন।
রাতারগুলের সৌন্দর্য বর্ণনা হয়তো অনেকেই পড়ে থাকবেন ভ্রমণ কাহিনীতে এবং পড়েছেন অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত বিছানাকান্দির কথাও। কিন্তু রাতারগুল ও বিছানাকান্দি আপাতদৃষ্টিতে দুটি আলাদা অবস্থানে থাকলেও অনেকেই হয়তো জানেন না, রাতারগুল থেকে গোয়াইন নদী ধরে নৌপথেই আপনি পৌঁছে যেতে পারেন বিছানাকান্দি। আর এ পথে যেতে যেতে আপনি উপভোগ করতে পারেন গোয়াইন নদীর দু’ধারের অপরূপ সৌন্দর্য। তাই আজ আমরা আর রাতারগুল কিংবা বিছানাকান্দি নয়, রাতারগুল থেকে বিছানাকান্দি যাওয়ার ওই পথ ধরে আপনাদের নিয়ে যাবো প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে। চলুন ঘুরে আসি গোয়াইন নদী হয়ে বিছানাকান্দি। এরপর আবার ফিরে আসবো রাতারগুলে চেঙ্গি খালের শেষ পর্যন্ত।


আমরা জানতে পারলাম রাতারগুলের খুব কাছে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যেই সোয়াম্প ফরেস্ট রোডের ওপরই ফতেহপুরে নাকি একটি রিসোর্ট হয়েছে ‘রাতারগুল হলিডে হোম’। শুনলাম, ফ্যামিলি নিয়ে থাকার জন্য জায়গাটি দারুণ। এ কথা শোনা মাত্রই বেশ কিছুদিন ধরে ভেবে রাখা ওই চিন্তাটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। এর সঙ্গে জুটলো ভ্রমণপিপাসু আরো দুটি ফ্যামিলি। যে কথা সেই কাজ।


আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই সদলবলে হাজির হলাম রাতারগুল হলিডে হোমে। দেখালাম ভুল শুনিনি। থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা এখানে আসলেই খুব ভালো। আমরা জানতে পারলাম, রাতারগুল থেকে নৌকায় করে সরাসরি বিছানাকান্দি যেতে লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। আবার ফিরতেও একই সময় লাগবে। তাই পরদিন সকাল ৭টার মধ্যেই আমরা রেডি হয়ে সদলবলে রওনা হলাম। পরিকল্পনা হলো, যেহেতু রাতারগুল ঘরের কাছেই সেহেতু আমরা প্রথমে রওনা হবো বিছানাকান্দির উদ্দেশে। তারপর ফেরার পথে দেখবো রাতারগুল। রাতারগুল বিট অফিসের কাছে চেঙ্গি খালের কাছেই আমরা পেয়ে গেলাম ইঞ্জিনচালিত বোট। শুরু হলো আমাদের যাত্রা।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের নৌকা খাল পেরিয়ে গোয়াইন নদীতে এসে পড়লো। স্বচ্ছ পানির ভেতর দিয়ে নদীর নিচ পর্যন্ত অনেকটাই দেখা যায়। আশপাশে সারি সারি নৌকা। কোনোটি ছোট আবার কোনো কোনোটি বিশাল। মাঝে মধ্যে দেখা যাচ্ছিল পাথর বহনকারী নৌকা। এগুলো আবার অনেকটাই সরু। ধীরে ধীরে আমাদের পার হয়ে যায় পাহাড় থেকে কেটে আনা সারি সারি বাঁশের ভেলা। কিছুক্ষণের মধ্যেই নদী কিছুটা সরু হয়ে ওঠে। দু’পাড়ই চলে আসে সহজ দৃষ্টিসীমায়। কোথাও দু’পাড়ে শিশুরা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কোথাও বা লাল-নীল পোশাক পরে শিশুরা স্কুলের পথে। আবার কোথাও নদীর ধার দিয়ে হেঁটে যায় গরু-মহিষের পাল। বাঁকে বাঁকে জেলেরা জাল পেতে, কোঁচ ফেলে মাছ ধরছেন। এভাবে যেতে যেতেই হঠাৎ আকাশজুড়ে কালো মেঘ। আর তখনই মনে পড়লো আমাদের সঙ্গে ছাতা নেই। ঝমঝম বৃষ্টি নামলো কিছুক্ষণের মধ্যেই। নদীতে স্রোতের তোড়ে আমরা ঢুকলাম এক খালে। আর তা এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। দু’পাশে সারি সারি বাঁশের ঝাড় যেন খালের ওপর নুইয়ে পড়ে মাইলের পর মাইল গেইট তৈরি করে রেখেছে! এ দৃশ্য না দেখলে বোঝানো খুব কঠিন। কোথাও আবার খালের পাড় একেবারেই সমতল- মানুষ, গরু-মহিষ প্রায় হেঁটে পার হচ্ছে।


যাহোক, ভিজতে ভিজতে এক সময় আবার আমরা চলে এলাম মূল নদীতে। তা এক অসাধারণ দৃশ্য। দূরে পাহাড় আর আকাশ মিলিয়ে তৈরি করেছে এক অপরূপ শোভা! কিছুদূর পর পর পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসেছে সরু সরু কিছু। ভালো করে চোখ পেতে দেখলাম, ওগুলো আসলে পাহাড় বেয়ে নামা ঝরনা। কোথাও আবার নদীর পাড় ঘেঁষে বৃক্ষের বিশাল সারি। কিছুটা এগোতেই দেখলাম, সারি সারি সরু নৌকা একটির সঙ্গে অন্যটি বাঁধা। সামনের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা তা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ঠিক যেন পানিতে চলছে নৌকার রেলগাড়ি।


আরো কিছুটা এগোতেই আমরা পড়লাম পিয়াইন নদীতে। মাঝে মধ্যে দু’পাড়ে যেন পাথরের পাহাড় করে রেখেছেন পাথর ব্যবসায়ীরা। এছাড়া দূরে দেখা যাচ্ছে মেঘালয় রাজ্যের সাতটি সুউচ্চ পর্বতের সঙ্গমস্থল।
সেখানে বহু ঝরনাধারার পানি একত্র হয়ে প্রবল বেগে আছড়ে পড়ছে পিয়াইন নদীতে। পাহাড় থেকে নেমে আসা স্রোতের সঙ্গে গড়িয়ে আসছে বড় বড় পাথর। এটিই আমাদের প্রথম গন্তব্য বিছানাকান্দি। বর্ষার দিনে বিছানাকান্দির পূর্ণ যৌবন লাভ করে। ভরাট জলে মেলে ধরে এর আসল রূপের বিস্তৃত মায়াজাল। শীতল ওই স্রোতধারার স্বর্গীয় বিছানায় আপনি পেতে পারেন প্রকৃতির মনোরম লাবণ্যের স্পর্শ।  নগর জীবনের যাবতীয় ক্লান্তি বিসর্জন দিয়ে মনের তৃষ্ণা মেটানোর সুযোগ করে দিতে পারে দু’পাশে আকাশচুম্বী পাহাড়। এর মধ্যে বয়ে চলে ঝরনার স্রোত। মনে হচ্ছিল যেন পরিষ্কার, টলটলে স্বচ্ছ পানিতে অর্ধডুবন্ত পাথরে মাথা রেখে হারিয়ে যাই ঘুমের রাজ্যে। বেশ কিছুক্ষণ ঝরনার পানিতে ঝাঁপাঝাঁপির পর পেট-পূজায় বসলাম নদীর পাড়েই ড্রাম ভেলার ওপর ‘জলপরী’ রেস্টুরেন্টে। এখানে খাবার ছিল খিচুড়ি আর ডিম ভাজি। খেতে খেতেই দেখলাম পাহাড়ে মেঘ আর সুর্যের লুকোচুরি খেলা।

এবার ফেরার পালা। ফিরলাম একই পথে। প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে এবার গন্তব্য রাতারগুল। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য একটা গা ছমছমে অনুভূতির নাম রাতারগুল। সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত এ বনটিকে বলা যায় বাংলাদেশের আমাজন। আমাজনের মতোই গাছগাছালির বেশির ভাগ অংশই বছরের অধিকাংশ সময় ডুবে থাকে ভারতের মেঘালয় থেকে আসা জলধারায়। গোয়াইন নদী হয়ে এই জলধারা এসে প্লাবিত করে পুরো রাতারগুল জলাবনটিকে। শীতকালে পানি অনেকটা কমে যায় বলে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী (জুন থেকে অক্টোবর) রাতারগুল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। বর্ষায় এই বন অপরূপ রূপ ধারণ করে। এ সময় পানি এতোটাই স্বচ্ছ হয় যে, পানিতে বনের প্রতিবিম্ব দেখে মনে হয় যেন বনের নিচে আরেকটি বন। দেখতে পেলাম, ওই পানিতেই মাছরাঙা এবং নানান প্রজাতির বক খাবার খোঁজার চেষ্টা করছে। আরো আছে বালিহাঁস ও পানকৌড়ি। বানর ও কাঠবিড়ালি ছুটছে এ-ডাল থেকে ও-ডালে। ঘন জঙ্গলের আলো-আধারিতে গাছগুলো সব ডুবে আছে পানিতে। কোনোটি কোমর পানিতে, কোনোটির অর্ধেকই পানিতে। এতোই ঘন জঙ্গল যে, ভেতরের দিকটায় সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে পৌঁছাতে পারে না। সব মিলিয়ে কেমন একটা ভুতুড়ে পরিবেশ! ডালপালা ছড়ানো গাছগুলো পথ রোধ করে ধরে। দু’হাত দিয়ে ডালপালা সরিয়ে এগোতে হয় সরুপথে সরু নৌকায় দুলতে দুলতে। এর উপর রাতারগুল হলো সাপের আখড়া।


পানি বেড়ে যাওয়ায় এ সময় সাপগুলো ঠাঁই নেয় গাছের ওপর। আমরা হঠাৎ দেখলাম এমনই একটি সবুজ রঙের সাপ যেন পোজ দিয়ে আছে অপরূপ ভঙ্গিমায়। বনের মধ্যেই রয়েছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। এর ওপর থেকে দেখলাম প্রায় পুরোটা বনভূমি। সন্ধ্যা হওয়ার কিছু আগেই রিসোর্টে ফেরার পথ ধরলাম। কারণ রাতে রয়েছে বারবিকিউ চিকেনের সঙ্গে ভাজা মাছের এক মজাদার আয়োজন।

ঈদে সাজাই ঘর

লেখা : শায়মা হক

 


ঈদ- তা হোক না ঈদুল ফিতর কিংবা ঈদুল আজহা। ঈদ মানেই ওই ছোট্টবেলা। আর ছোটবেলার আনন্দের স্মৃতিতে কিছুটা হলেও হারিয়ে যাওয়া।
ঈদের দু’একদিন আগে ঘরবাড়ি ঝেড়ে-মুছে ঝকঝকে তকতকে করে তোলার নানান প্রস্তুতি। বিছানার চাদর, টেবিল ক্লথ ইস্ত্রি করে ধোপাবাড়ি থেকে ফিরে আসা বা ঈদ উপলক্ষে শত ব্যস্ততার মধ্যেও একটু সময় করে একগোছা ফুল কেনার দৃশ্যগুলো কারই না মনে পড়ে!


শত শত বছর ধরেই ঈদ এলে অন্দর মহলে পড়ে যায় সাজ সাজ রব। অতিথি আপ্যায়নে সেমাই, ফিরনি, জর্দা, কাবাব- নানান সুস্বাদু খাদ্যদ্রব্যের সঙ্গে সঙ্গে ঘরের সাজের দিকেও থাকে যে যার সাধ্যমতো নজর। দিন বদলেছে, বদলেছে নানান আকাক্সক্ষা বা চাহিদাও। এখন শুধু ধোপাবাড়ি থেকে চাদর, পর্দা কাচিয়ে আনাতেই রুচি বা আকাক্সক্ষা সীমাবদ্ধ নয়। এখন নতুন পোশাকের পাশাপাশি উৎসবগুলোয় নতুন কুশন, পর্দা কেনাতেও অনেকেই কার্পণ্য করেন না। তাই তো ঈদের আগের রাতে ফুলের দোকানগুলোতেও দেখা যায় অনেক ভিড়। সবাই চান উৎসবের দিনে একটু তাজা ফুলের সুবাসে সুবাসিত করে তুলতে ছোট্ট গৃহকোণ। কেউ কেউ পুরো বাড়িতে নতুন করে রঙ বা আসবাবপত্র বার্নিশ করে পুরনো জিনিসে নতুনের বৈচিত্র্য এনে ফেলে।


সে যাই হোক। লিখতে বসেছিলাম ঈদের বিশেষ দিনটির বিশেষ গৃহসজ্জা নিয়ে। ঈদের বিশেষ গৃহসজ্জার শুরুটা ভাবতে হবে মূল প্রবেশপথ থেকে। এরপর বসার ঘর, খাবার ঘর, এমনকি শোয়ার ঘর থেকে টয়লেট বা বারান্দা হয়ে কিচেন পর্যন্ত কোনো অংশই অবহেলার যোগ্য নয়। প্রথমেই মূল প্রবেশপথটি সাজানোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে এমনই ভাবে যেন সেটি অতিথিকে বাড়িতে স্বাগত জানাতে সহায়তা করে। এখানে বড় বা মাঝারি কারুকার্যময় মাটির পটারি, সবুজ-সতেজ গাছপালা, পাথর, ইদানীংয়ের টেরারিয়াম, ল্যাম্প- এসব ছাড়াও মাটির পাত্রে পানি দিয়ে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে ফ্লোটিং মোমবাতি জ্বালিয়ে দেয়া যেতে পারে। প্রবেশপথের দেয়াল আয়না ও ছোট কাজ করা টেবিল এবং এতে কিছু শোপিস, ক্যাক্টাস জাতীয় গাছ বা ফোটোফ্রেম সাজিয়ে দেয়া যায়।


এরপরই আসে বসার ঘর বা ড্রয়িং রুমটি। প্রায় সবাই সাধ ও সাধ্যের সমন্বয়ে সাজান ওই ঘর। কেউ কেউ ওই ঘরটি আধুনিক সাজে সাজাতে ভালোবাসেন, কেউ বা দেশীয় উপাদান দিয়ে দেশীয় আঙ্গিকে সাজাতে ভালোবাসেন। সাজের ধরনটি যাই হোক না কেন, উৎসবে প্রতিটি সাজই হওয়া চাই স্নিগ্ধ, উজ্জ্বল, আনন্দময় ও মন ভালো করে দেয়ার মতো।
দেশীয় আঙ্গিকে সাজানো বসার ঘর : এমন একটি ঘরে কাঠ, বেত বা বাঁশের সোফা কিংবা অন্য আরামদায়ক ডিজাইনে বসার ব্যবস্থা করলে ভালো দেখাবে। সোফার কভার, কুশন কভার হতে পারে হালকা বা উজ্জ্বল রঙের। আবার সোফা ও কুশনের কালার কনট্রাস্ট হতে পারে। এখানে পর্দার রঙেরও সামঞ্জস্য থাকতে হবে। পর্দার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে মেঝেতে শতরঞ্জি বা শীতলপাটি বিছানো যেতে পারে। দেশীয় ঢঙে সাজানো বসার ঘরে মাটি, কাঠ, বেত বা পাটের তৈরি শোপিস বেশি মানাবে। দেয়ালেও ঝোলানো যেতে পারে কাঠ, পাট বা পেপার ম্যাশের মুখোশ। পটারি ও ল্যাম্পের ব্যবহারও এ ঘরটিকে আলাদা মাত্রা দেবে। আবার ফ্লোরেও বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ফ্লোরে নকশিকাঁথার ম্যাট বিছিয়ে বা শতরঞ্জি পেতে বসার আয়োজন করা যেতে পারে। এর ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা যেতে পারে কিছু রঙিন কুশন ও তাকিয়া। মাটির ফুলদানি বা সিরামিকের বড় জার দিয়ে সাজানো যেতে পারে বসার ঘরের একটা পাশ। দেয়ালে ঝোলানো যায় দৃষ্টিনন্দন আর্ট বা পারিবারিক স্মৃতির ফটোগ্রাফস। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সামনের দোকানগুলোয় ভিন্ন ধরনের কৃত্রিম ফুল, ঝাড়বাতি, ফুলদানি, টেবিল ল্যাম্প, মাটি দিয়ে তৈরি চিত্রকর্ম ও বাঁশের তৈরি নানান সামগ্রী পাওয়া যায় যা দিয়ে দেশীয় ঢঙে ঘর সাজানো মনোরম হয়ে উঠতে পারে।


আধুনিক ঢঙে সাজানো বসার ঘর : আধুনিক ঢঙে সাজানো বসার ঘরে ঈদের সাজের ক্ষেত্রে সোফা ও কুশন কভারের রঙ ব্ল্যাক, অফহোয়াইট, চকলেট, কফি, মেরুন ইত্যাদি হতে পারে। একই সঙ্গে পর্দার রঙটিও হতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে পর্দার কাপড়ের ক্ষেত্রে একটু ভারী সিল্ক, নেট বা সিল্কের সঙ্গে লেসের ভারী ডিজাইন ভালো লাগবে। সোফা ও পর্দার রঙের সঙ্গে মিল রেখে মেঝেতে বিছিয়ে দেয়া যায় পুরু কার্পেট। সেন্টার টেবিলটি চৌকোনো, ওভাল বা সার্কেল শেইপের হতে পারে। সার্কেল শেইপের সেন্টার টেবিলের মাঝে ক্রিস্টাল বোলে বেশকিছু রঙিন মার্বেল বা আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শোপিস রাখা যেতে পারে। এছাড়া চৌকোণা বা ওভাল টেবিলে মোম, ছোট গাছ বা শোপিস দিয়ে সাজানো যেতে পারে। ওই সঙ্গে সিলিংয়ে ঝোলানো যেতে পারে ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি। ঘরের কোণায় কোণায় সবুজ ইনডোর প্লান্টস ঘরটি সজীব ও প্রাণবন্ত করে তুলবে।


খাবার ঘর : ঈদের সাজে বসার ঘরের পরই ভাবতে হবে খাবার ঘরের সাজসজ্জা নিয়ে। কারণ ঈদের দিনে ওই ঘরেই অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। ঈদের উৎসব পূর্ণতা পায় খাবার ঘিরে। তাই সুন্দর পরিবেশনার সঙ্গে সঙ্গে খাবার টেবিল ও ঘরটিকেও দিতে হবে পরিপাট্য রূপ। লম্বাটে আকৃতির টেবিলের মাঝে সুদৃশ্য রানার বিছিয়ে দেয়া যায়। একই সঙ্গে রঙিন ম্যাট বিছিয়ে দেয়া যায় আবার রানারের ঠিক মাঝখানে রাখা যেতে পারে ছোট ফুলদানিতে সতেজ ফুল বা সুদৃশ্য রঙিন মোমসহ মোমদানি। উৎসবে তো শোকেস থেকে নামিয়েই উঠিয়ে রাখা হয় সুদৃশ্য ক্রোকারিজ। খাবার টেবিলের কাছাকাছি ছোট একটা টেবিল বা র‌্যাকে প্রয়োজনীয় প্লেট, গ্লাস, চামচ রাখা যায়। টেবিলের ঠিক ওপর রঙিন ল্যাম্পশেড খাবার ঘরটিতে মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করবে।


শোয়ার ঘর : ঈদের দিন সকাল বেলাটিতেই বিছানাটি চাদর বা বেড কভারে ঢাকুন টান টান করে। সাইড টেবিলে ফুলদানিতে সাজিয়ে দেয়া যায় সুগন্ধি ফুল। বেড কভারের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পর্দার রঙ ও কাপড় নির্বাচন করা উচিত। বেড সাইড টেবিল ল্যাম্প বা ঘরের কোণে কর্নার ল্যাম্পও ঘরটিকে মায়াময় করে তুলতে পারে। মেঝেতে কার্পেট ও দেয়ালে পেইন্টিং শোবার ঘরটি করে তুলবে আরো আকর্ষণীয় এবং মনমুগ্ধকর। শিশুদের শোবার ঘরটিকে সাজানো যায় কার্টুন বেড কভার, কুশন বা মজাদার পোস্টারে। দেয়ালে কার্টুন একে দেয়া যেতে পারে। ঈদ উপলক্ষে শিশুদের ঘরের দরজা বা কর্নার নিরাপদ দূরত্বে ইলেকট্রিক সুদৃশ্য রঙিন টুনি বাল্ব দিয়ে সাজানো যেতে পারে।
রান্নাঘর : ঈদের অন্যতম আকর্ষণ খাওয়া-দাওয়া। রান্নাঘরে যেন সবকিছু হাতের নাগালেই পাওয়া যায় এদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। রান্নার প্রয়োজনীয় সব জিনিস জায়গামতো গুছিয়ে রাখতে হবে। এক কোণায় রাখা যেতে পারে ছোট টব বা ফুলদানি। গান শোনার ব্যবস্থা থাকলেও রান্না করা বেশ আনন্দময় হয়। কিচেন ডোরে ঝুলিয়ে দেয়া যেতে পারে টুংটাং চাইম। চাইমের মিঠে সুর রান্নার ক্লান্তি বা পরিশ্রান্তি দূর করে দেবে।
বারান্দা ও সিড়ি বা ছাদ : বারান্দা, সিঁড়ি কিংবা ঘরের দরজার পাশে জীবন্ত গাছ সাজিয়ে দেয়া যায় কিংবা ঝুলন্ত টবে পাটের শিকায় ঝুলিয়ে দেয়া যায় লতার গাছ। টবগুলোর পাশে মাটির শোপিস কিংবা মাটির ল্যাম্প বারান্দায় আলাদা সৌন্দর্য দেবে। এছাড়া বারান্দা বা ছাদের কোণায় মাটির বড় পাত্র বা টবে নানান শোপিস ও প্লান্টস দিয়ে সাজানো যায় ফেইরি গার্ডেন। বারান্দায় সুসজ্জিত জলদেশের কাব্যে অ্যাকুরিয়াম সাজিয়ে দেয়া যায়।

সব ঘরের ঝুল ঝেড়ে ফেলতে হবে। ফ্যান, টিউব লাইট সুন্দর করে মুছে ফেলতে হবে। বসার ঘরের সোফাগুলো পরিষ্কার করে রাখতে হবে। যেসব সোফার কভার ধোয়া যায় সেগুলো ধুয়ে ফেলতে হবে। আর যেসব ধোয়া সম্ভব নয় সেসব ফার্নিচার স্প্রে দিয়ে মুছে ফেলতে হবে।  সপ্তাহখানেক অগেই বিছানার চাদর, কুশন কভার, বালিশের কভার, টেবিল ক্লথ ধুয়ে ইস্ত্রি করে রাখতে হবে। টাইলসের মেঝে পানিতে স্যাভলন বা ডিটারজেন্ট মিশিয়ে কিংবা লিকুইড ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলতে হবে। ঘরের আনাচে-কানাচে ও ছাদে ঝুল ঝেড়ে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। ফ্যান, লাইট, কিচেন ক্যাবিনেট, জানালা-বারান্দার গ্রিল, দরজার কারুকাজ, সিঁড়ি ইত্যাদি আগেই পরিষ্কার করে রাখতে হবে। ঈদের দু’তিন দিন আগে বাড়ির প্রতিটি টয়লেটের মেঝে ভালো করে ঘষে রাখতে হবে। টয়লেটে টয়লেট পেপার, লিকুইড সোপ- এসব প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে রাখতে হবে। তাজা ফুল বা ইনডোর প্লান্ট টয়লেটের বেসিন কিংবা শেলফে রেখে দেয়া যেতে পারে। বারান্দার টবগুলো ধুয়ে-মুছে পারলে রঙ করিয়ে নিলে ভালো হয়। ঈদের আগের দিনই গ্লাস ও প্লেটগুলো নামিয়ে ধুয়ে-মুছে রেখে দিলে ঈদের দিন তাড়াহুড়া থাকবে না। টিশ্যু বক্স, এয়ার ফ্রেশনার, হ্যান্ড ওয়াশ, জরুরি ওষুধ আগেই মজুদ করে রাখা উচিত। এতে কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ঈদের ছুটিতে আশপাশের মেডিসিন শপ বন্ধ থাকলেও কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।


বাড়ির অন্দর গৃহকর্ত্রীর রুচিশীলতার পরিচয় দেয়। তাই এর প্রায় পুরো কৃতিত্বই দিয়ে দেয়া যেতে পারে গৃহকর্ত্রীকেই।
যাহোক, উৎসবের আনন্দে নান্দনিক গৃহসজ্জা এবং মুখরোচক খানা-খাদ্যের সমাহারে ভরে উঠুক প্রতিটি অন্তর ও হৃদয়। সবাই যে যেখানে আছেন- আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাবেন উৎসবের এদিনটি আনন্দ-উচ্ছলতায়। নিরাপদে ও সুস্থ থাকুন সবাই। সবার প্রতি রইলো ঈদের অনাবিল শুভেচ্ছা। 

জাফরানি পোলাও

 

 

জাফরানি পোলাও
উপকরণ : পোলাওয়ের চাল এক কেজি, তেল আধা কাপ, ঘি আধা কাপ, দারুচিনি ও এলাচ দুটি করে, তেজপাতা একটি, ঘন দুধ আধা কাপ, জাফরান এক চিমটি, লবণ একমুঠ ও গরম পানি পরিমাণমতো।
প্রণালি : পোলাওয়ের চাল ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরাতে দিন। এবার একটা হাঁড়িতে তেল-ঘি দিয়ে এতে দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতার ফোড়ন দিন। এবার চাল দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। লবণ দিন। পেয়াজ বেরেস্তা ছিটিয়ে দিন। ভাজা হলে পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে ফুটে উঠলে দুটো ভেজা জাফরান দিয়ে দমে দিয়ে ঢেকে দিন। নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন
জাফরানি পোলাও।


বাদশাহী মোরগ মোসাল্লাম
উপকরণ : মুরগি দেড় কেজি, আদা-রসুন বাটা তিন টেবিল চামচ, টক দই ১০০ গ্রাম, কাঁচামরিচ বাটা দুই চা-চামচ, লাল মরিচ গুঁড়া দুই টেবিল চামচ, চাট মশলা চার ভাগের এক চা চামচ, কমলা রঙ চার ভাগের এক চা-চামচ, ধনিয়া এক টেবিল চামচ, জিরা এক চা-চামচ, দারুচিনি একটা, এলাচ ছোট চারটা, বড় এলাচ একটা, তেজপাতা একটা, গোল মরিচ আধা চা-চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, তেল এক কাপ, ঘি আধা কাপ, কাঠবাদাম আধা কাপ, ডিম সিদ্ধ দুটি, জায়ফল-জয়ত্রী দুই চা-চামচ ও কেওড়া জল এক টেবিল চামচ।
প্রণালি : প্রথমে টক দই, কাঁচামরিচ বাটা, লাল মরিচ গুঁড়া, আদা-রসুন বাটা, চাট মশলা, কমলা রঙ এক সঙ্গে একটি বাটিতে মিক্স করতে হবে। এবার গোটা মুরগি ভালোভাবে ধুয়ে বুকের দু’পাশ ছুরি দিয়ে চিরে দিয়ে নিতে হবে। রানগুলো চিড়ে দিতে হবে। এবার দই মিক্সার দিয়ে মুরগিটাকে ভালোভাবে মেরিনেট করে রাখতে হবে চার-পাঁচ ঘণ্টা। এবার একটা প্যানে ধনিয়া, জিরা, গরম মশলা, জায়ফল, জয়ত্রী, শুকনা মরিচ গুঁড়া করে নিতে হবে। চুলায় তেল গরম হলে মশলা থেকে ঝেড়ে মুরগি সবদিকে লাল করে ভেজে নিতে হবে। ভাজার আগে মুরগির বুকের ভেতর ডিম সিদ্ধ ঢুকিয়ে দিতে হবে। এবার ওই ভাজা তেলে মেরিনেটের মশলা ও ব্লেন্ডার করা মশলা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। সাজানোর মতো একটা প্লেটের মাঝখানে ভাজা গোটা মুরগি দিয়ে এর চারদিকে কষানো মশলা দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

শাহী খাসির কোরমা
উপকরণ : খাসির মাংস এক কেজি, আদা-রসুন বাটা তিন টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বাটা এক টেবিল চামচ, বাদাম বাটা এক টেবিল চামচ, টক দই দুই কাপ, জায়ফল-জয়ত্রী গুঁড়া এক চা-চামচ, আলুবোখারা দু’তিনটি, লাল মরিচ গুঁড়া এক চা-চামচ, ধনিয়ার গুঁড়া দুই টেবিল চামচ, জিরার গুঁড়া এক চা-চামচ, দারুচিনি-এলাচ-লবঙ্গ দুই টেবিল চামচ, পেঁয়াজ বেরেস্তা এক কাপ, জাফরান এক চিমটি, কেওড়াজল এক চিমটি, তেল-ঘি পরিমাণমতো, চিনি এক টেবিল চামচ ও দুধ এক কাপ।
প্রণালি : প্রথমে খাসির মাংস ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে এতে আদা-রসুন বাটা, টক দই, বাদাম বাটা, পেঁয়াজ বাটা, জায়ফল-জয়ত্রী, আলুবোখারা, লবণ, লাল মরিচ গুঁড়া দিয়ে মেরিনেট করতে হবে এক ঘণ্টা। এবার একটি হাঁড়িতে তেল-ঘি দিয়ে এতে গরম মশলা ফোড়ন দিয়ে মাখানো মাংস ঢেকে দিতে হবে। চুলায় ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। এবার ব্লেন্ডারে ধনিয়ার গুঁড়া, গরম মশলা, জিরার গুঁড়া, পেঁয়াজ বেরেস্তা ও একটু পানি দিয়ে পেস্ট করে নিতে হবে। কষানোর সময় ওই পেস্টটি দিয়ে আরো কিছুক্ষণ কষিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। যখন প্রায় সিদ্ধ হয়ে আসবে তখন দুটি ভেজানো জাফরান দিয়ে আরো চার-পাঁচ মিনিট ঢেকে রেখে তেলের ওপর উঠলে কেওড়াজল দিয়ে কাঁচামরিচ গোটা ছেড়ে দিয়ে নামাতে হবে।



শাহী চিকেন কোফতাকারি
উপকরণ : মুরগির বুকের পিস একটা, আদা-রসুন বাটা এক টেবিল চামচ, বাদাম বাটা এক চা-চামচ, জায়ফল-জয়ত্রী এক চা-চামচ, আলু বোখারা এক-দুটি, পোস্ত বাটা এক চা-চামচ, বেরেস্তা আধা কাপ, কাঁচামরিচ কুচি এক চা-চামচ, ধনিয়াপাতা এক চা-চামচ, পুদিনাপাতা এক টেবিল চামচ, লেবুর রস দুই-তিন ফোঁটা, পাউরুটি দুই গ্লাস, তেল-ঘি আন্দাজমতো, লবণ স্বাদমতো, গরম মশলা গুঁড়া এক চা-চামচ, কেওড়াজল এক টেবিল চামচ ও ক্রিম এক টেবিল চামচ।
প্রণালি : প্রথমে একটি হাঁড়িতে মুরগির পিসের সঙ্গে আদা-রসুন বাটা, জায়ফল-জয়ত্রী, আলুবোখারা, বাদাম বাটা একটু পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবো। এবার বুকের পিসগুলো হাত দিয়ে চিরে নিতে হবে। একটা বাটিতে পাউরুটির পিসগুলো পানিতে ভিজিয়ে চিপে মুরগিতে দিতে হবে। এতে পেঁয়াজ বেরেস্তা, কাঁচামরিচ কুচি, ধনিয়াপাতা-পুদিনাপাতা কুচি, একটা ডিমের কুসুম, গরম মশলা গুঁড়া ও লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিক্স করে নিতে হবে। এবার গোল গোল বল তৈরি করে ডিমের সাদা অংশে চুবিয়ে ডুবোতেলে ভেজে নিতে হবে। এবার বাটা পেঁয়াজ, বাদাম বাটা, আদা-রসুন বাটা, গরম মশলা, টক দই এক সঙ্গে কষিয়ে বলগুলো ছেড়ে দিয়ে তেলের ওপর উঠলে কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে বেরেস্তা ছিটিয়ে ও ক্রিম দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

 

____________________
 রেসিপি : সানজিদা জামান
 ছবি : ফারহান ফয়সাল

ঈদে নানান পদ ...

 

 

মেরি ক্রিম ডিলাইট

উপকরণ : ডানো ক্রিম এক টিন, কনডেন্সড মিল্ক আধা টিন, টক দই কোয়ার্টার কাপ, ঘন দুধ কোয়ার্টার কাপ, মেরি বিস্কুট এক প্যাকেট ও সøাইস করে কাটা লাল চেরি আধা কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি : উপরের সব উপকরণ এক সঙ্গে মিলিয়ে ভালোমতো নেড়ে ফোমের মতো করে নিন। এবার বাটিতে ওই ক্রিমের মিশ্রনটি অল্প করে নিয়ে প্রলেপ দিন। এরপর মেরি বিস্কুট একের পর এক সাজান। আবার ওপরে ক্রিম ও বিস্কুট দিন। এবার বাকি ক্রিমটুকু দিন। এরপর সবার ওপরে চেরি সøাইস দিয়ে ডেকোরেশন করে দিন। রেফ্রিজারেটরে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন। জমে গেলে ডেজার্ট টি চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

আনারসের জর্দা

উপকরণ : ডানো ক্রিম এক টিন, কনডেন্সড মিল্ক আধা টিন, টক দই কোয়ার্টার কাপ, ঘন দুধ কোয়ার্টার কাপ, মেরি বিস্কুট এক প্যাকেট ও সøাইস করে কাটা লাল চেরি আধা কাপ।

প্রস্তুত প্রণালি : উপরের সব উপকরণ এক সঙ্গে মিলিয়ে ভালোমতো নেড়ে ফোমের মতো করে নিন। এবার বাটিতে ওই ক্রিমের মিশ্রনটি অল্প করে নিয়ে প্রলেপ দিন। এরপর মেরি বিস্কুট একের পর এক সাজান। আবার ওপরে ক্রিম ও বিস্কুট দিন। এবার বাকি ক্রিমটুকু দিন। এরপর সবার ওপরে চেরি সøাইস দিয়ে ডেকোরেশন করে দিন। রেফ্রিজারেটরে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিন। জমে গেলে ডেজার্ট টি চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

ডাব-নারিকেলের পুডিং

উপকরণ : ডাবের পানি ৪ কাপ, নারিকেলের দুধ ৪ কাপ, চিনি এক কাপ, চায়না গ্রাস এক কাপ ও ডাবের শাঁস এক কাপ।

প্রণালি : চায়না গ্রাস ছোট ছোট টুকরো করে নিয়ে গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। প্রথমে ডাবের পানির সঙ্গে আধা কাপ চিনি ও আধা কাপ চায়না গ্রাস মিশিয়ে চুলায় জাল দিন। ঘন হলে সাদা কাচের বাটিতে চেলে এর ওপর ডাবের শাঁস কুচি কুচি করে কেটে দিন। এবার ঠা-া হয়ে জমে গেলে নারিকেল দুধ এবং বাকি আধা কাপ চিনি ও আধা কাপ চায়না গ্রাসসহ চুলায় আবার জ্বাল দিন। ঠা-া হয়ে জমে গেলে রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। পরে তা কেটে পরিবেশন করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : ইচ্ছা করলে চিনি স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি দিতে পারেন।

 

____________________
 রেসিপি : শায়লা পারভীন
 ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

ঈদের মেকআপ

 



যে কোনো সাজ, সাধারণত পোশাক আবহাওয়া এবং দিন-রাত ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সাজার পরিকল্পনা করা উচিত। আর ঈদ মানেই আনন্দ উৎসব। এই আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাই বিশেষ সচেতনতা। এবার ঈদের সাজে বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবহার করা উচিত ওয়াটার প্রুপ কসমেটিক।

চলুন দেখে নেয়া যাক স্পা বিশেষজ্ঞ ‘হারমনি স্পা’ ও ‘ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতান রীতা এবার ঈদ উপলক্ষে সাজ বিষয়ে কী বলেছেন-

মেকআপ করার আগে কিছু বিশেষ টিপস মেনে চলা উচিত। মেকআপের আগে আলু ও শসার রস এক সঙ্গে মুখে মাখুন। এতে ত্বকে তরতাজা ভাব আসবে। ময়েশ্চরাইজার অবশ্যই লাগাতে হবে। এ কারণে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং শুষ্ক হওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

মুখের মেকআপ

ফাউন্ডেশন : শুরুতেই ত্বকে কোনো দাগ থাকলে কনসিলার দিয়ে ঢেকে নিন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন নির্বাচন করুন। যেমনÑ শুষ্ক ত্বক হলে ওয়াটার বেইজড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে মেকআপ অনেক সময় থাকে। তবে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার সময় ত্বকের রঙের চেয়ে এক শেড হালকা রঙ বেছে নিন। এরপর একটি ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ত্বকে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে বেইজ বসিয়ে নিন। পরে কমপ্যাক্ট পাউডার দিয়ে বেইজ মেকআপ শেষ করুন।
ব্লাশন : শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ব্লাশন ও তৈলাক্ত ত্বকে পাউডার ব্লাশন দিন। এবার চিক-বোনের ওপর ব্লাশন বুলিয়ে নিন। আপনার গায়ের রঙ উজ্জ্বল, হালকা পিংক বা পিচ কালার ও গাঢ় হলে ব্রোঞ্জ কিংবা ব্রাউন কালারের ব্লাশন ব্যবহার করুন। আর রাতের পার্টি হলে ব্লাশনের ওপর হালকা শিমার ব্যবহার করলে মেকআপ আরো গর্জিয়াস হবে।

চোখের মেকআপ

শুরুতেই আইশ্যাডো ফিক্সার জেল লাগিয়ে ৫ মিনিট রাখুন। তবে চোখ আর্কষণীয় করতে হলে শ্যাডোর ব্লেন্ডিং খুব ভালো করতে হবে। এ জন্য নাকের পাশে হালকা রঙ, মাঝে বা আইবলের ওপর গাঢ় রঙ এবং চোখের বাইরের কোণে হালকা রঙের শেড দিন। চোখ যদি ছোট হয় তাহলে চোখের বাইরের কোণে হালকা কালো কালারের শেড ব্যবহার করলে চোখ বড় দেখাবে। আপনার চোখের সাজ হবে সফট স্মোকি। আই ভ্রƒ-বোন এর ওপর লাইট শিমারিং শ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করুন।

ঠোঁটের মেকআপ

ঠোঁটের মেকআপ শুরুর আগে অবশ্যই বেইজ মেকআপ করে নিতে হবে। তাহলে লিপস্টিকের রঙ হবে দীর্ঘস্থায়ী এবং আসল রঙ চলে আসবে। প্রথমে উপরের ঠোঁটের দুই ভাঁজের সেন্টার পয়েন্ট থেকে ন্যাচারাল কালারের লাইনার দিয়ে নিচের ঠোঁট পর্যন্ত এঁকে নিন। এবার পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক দিন। লিপস্টিক ব্যবহার করার পর টিশু পেপার দুই ঠোঁটের মধ্যে রেখে চাপ দিয়ে নিলে সহজে কালার উঠে যাবে না। এরপর ঠোঁটের ওপর ন্যাচারাল টোনের লিপগ্লসও দিতে পারেন।

চুলের সাজ

সাজের জন্য চুল খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরিপাটি চুলের সাজ রুচিশীল ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। চুল সাজবে তো সাজবেন আপনি। তাই ঈদের জন্য আপনার চুলের সাজ ঠিক করুন আগে থেকেই। সাজের এই বিশেষ দিকটায়  যেন কমতি না হয় এদিকটাতেও লক্ষ্য রাখুন। তবে পোশাক, গহনা ও মেকআপের সঙ্গে মিল রেখে চুলের সাজও হওয়া চাই পারফেক্ট। এ সময় কেউ চাইলেই চুল ছেড়ে রাখতে পারেন আবার আলতো করে খোঁপা করেও রাখতে পারেন।

 

____________________________
মডেল : টুম্পা জামান
মেকওভার : ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

এই ঈদে আপনি...

 

 



ঈদ শব্দটি শুনতেই প্রথমে যে ভাবনা মাথায় আসে তা হলো  আনন্দ উৎসব। এটি বহু প্রতীক্ষিত খুশির আমেজে ভরপুর এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই আনন্দে জড়িয়ে থাকে নানান আয়োজন। আর এই আয়োজনে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার ইচ্ছা কার না থাকে! দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর বেশভূষায় ও সোন্দর্য চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থাপন করার কথা সবাই ভাবেন। এ সময় বিভিন্ন প্রস্তুতি থাকে, থাকে আয়োজন। তাই আপনার ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে মেহেদি, হেয়ারকাট- সবকিছুর আলোচনা থাকছে
‘সহজ’-এর ঈদ আয়োজনে।  


যত্নআত্তি
এক মাস সিয়াম সাধনা আর সবার জন্য সেহরি ও ইফতারের প্রস্তুতিতে আমরা মেয়েরা নিজের যতেœর কথা ভুলেই যাই। যদিও বা মনে থাকে তাহলেও যত্ন নেয়ার ইচ্ছা বা সময় অনেকেরই হয়ে ওঠে না। নিজের ও সবার জন্য মনমতো ঈদ শপিং এবং রান্নার আয়োজন শেষে ঈদের দিনে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত দেহ আর শুষ্ক কিংবা মলিন ত্বক নিয়ে আমরা কেউই খুশি থাকতে পারি না। চলুন তাহলে জেনে নিই কীভাবে ঈদের দিন আরো আকর্ষণীয়ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পূর্ব-প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে।
ঈদে সবাই নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চায়। এ জন্য শত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাকে এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এবার ঈদ হবে বর্ষায়। গরম, বর্ষাÑ যাই হোক না কেন, নিজের নতুন ঈদ লুক দিতে আপনাকে কিছুটা সময় তো বরাদ্দ করতেই হবে।

ত্বক : রোদ আর গরমে আমাদের ত্বক প্রাণবন্ত রাখতে হলে নিয়মিত ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং জরুরি। প্রতিদিন নিয়ম করে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। সাত দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন। স্ক্র্যাবিং করুন। প্রতিদিন বাজারে নানান স্ক্র্যাবার পাওয়া যায়। চাইলে রান্নাঘরের উপকরণও ব্যবহার করতে পারেন। চালের গুঁড়া খুব ভালো স্ক্র্যাবার। একদিন পর পর বেসন গুঁড়া ও দুধ মিক্স করে মুখ, গলা, হাত, পা ও পিঠে ব্যবহার করুন। এতে আপনার ত্বক অনেক উজ্জ্বল হবে। শ্যামলা মেয়েরা একটু হলুদ গুঁড়া মিক্স করে নেবেন এর সঙ্গে। এছাড়া উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বকের জন্য ঈদের কমপক্ষে তিন দিন আগে হাত-পায়ে ওয়াশ করান। এর সঙ্গে পুরো শরীরে সপ্তাহে তিনবার বেসন গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, ডিমের সাদা অংশ, দুধ ও মধু মিক্স করে ব্যবহার করুন। ফেসিয়াল করতে চাইলে তা ঈদের কমপক্ষে চার-পাঁচ দিন আগেই করে ফেলুন। ঈদের দিন শুধু মুখের সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়Ñ মলিন হাত ও পায়ের ত্বক পুরো সাজ ম্রিয়মাণ করে দেবে। তাই সাত দিন আগে থেকেই পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নিতে থাকুন।

চুল : ঈদে নতুন হেয়ারস্টাইলে সবাইকে চমকে দেয়ার মজাটাই আলাদা। এক্ষেত্রে বলবো, ঈদের দু’দিন আগে পার্লারে গিয়ে প্রচ- ভিড়ের মধ্যে হেয়ারকাট না করে বরং ১৫ কিংবা ১০ দিন আগে গিয়ে বিউটি এক্সপার্টের সঙ্গে আলোচনা করে মুখের গড়ন অনুযায়ী হেয়ারকাট করুন। আমাদের সবারই মুখের গড়ন একেক ধরনের। তাই যে কাট আপনার বান্ধবীকে আরো স্টাইলিশ লুক দিয়েছে তা আপনাকে বেমানান লাগতেই পারে। সুতরাং আপনার মুখের গড়ন অনুযায়ী হোক আপনার হেয়ারস্টাইল।

মুখের গড়ন অনুযায়ী হেয়ারকাটÑ
গোলাকার শেইপ (রাউন্ড ফেইস) : গোলাকার শেপের মুখের মেয়েদের কান পর্যন্ত ব্যাসকাট খুব ভালো মানায়। এক্ষেত্রে চোখের নিচ পর্যন্ত চুল কাটাবেন। কারণ ড্রাই হওয়ার পর চুল কিছুটা উপরে উঠে যাবেই। চুলে লেয়ারকাট দিলে মুখের দু’পাশের ফোলা ভাবটা চোখে পড়ে না। এতে মুখ কিছুটা লম্বাটে দেখায়।
চারকোণা শেইপ : এ ধরনের মুখে চিবুকের অংশটি বেশ প্রশস্ত হয়। তাই আপনার চুল বেশ লম্বা হতে হবে। হেয়ারকাট এমন হতে হবে যেন চিবুকের প্রশস্ততা কম মনে হয়। চুল কার্ল করতে পারেন অথবা স্ট্রেট করে সামনে ব্যাস কাটতে পারেন। চুল যদি ছোট হয় তাহলে পেছনে গোল করে কাটুন। লেয়ারকাটও এ ধরনের মুখের জন্য খুব ভালো। এতে মুখের চওড়া ভাবটা বোঝা যায় না।
লম্বাটে শেইপ : লম্বা মুখে স্টেইট হেয়ার মুখটিকে আরো লম্বা করে। চুল উঁচু করে বাঁধবেন না। পনিটেল না করে সাইড ব্রেইড ট্রাই করতে পারেন। স্টেপকাট দিতে পারেন। স্পাইরিল বা কার্ন করে নিতে পারেন।
ডায়মন্ড শেইপ : এই শেপের ফেইস প্রশস্ত হয় আবার লম্বাটে গড়নেরও হয়। গালের হাড় যেন ছোট দেখায় এ জন্য কপাল ও চিবুকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চুল কাটতে হবে। ইদানীং এমু-কাট খুব জনপ্রিয়। লেয়ারকাটও দিতে পারেন।
ওভাল শেইপ : ওভাল শেপ অনেকটাই পারফেক্ট শেপ। তাই পনিটেল, উঁচু করে চুল বাঁধা, যে কোনো হেয়ারস্টাইল ও কাট এতে মানিয়ে যায়।
হার্ট শেইপ : সরু চিবুক ও প্রশস্ত কপালই হাট শেপ ফেইসের বৈশিষ্ট্য। কপাল ঢাকা থাকে এমন কাট তথা চায়নিজ কাট, ব্যাস ট্রাইল করুন। ছোট চুল হলে ববকাট খুব মানায়। লম্বা চুল হলে লেয়ারকাট দিতে পারেন। পেছনে আর সামনে ব্যাসকাট খুব ভালো মানাবে।

চুলের যত্ন
    শুধু স্টাইলিশ হেয়ারকাট দিলেই হবে না। রুক্ষ চুলে কোনো হেয়ারস্টাইলই ফুটে ওঠে না।
    চুলের যতেœ দুই মাস অন্তর চুলের আগা কেটে ফেলুন।
    নিয়মিত চিরুনি ও হেয়ারব্রাশ পরিষ্কার করুন।
    নিয়মিত নারিকেল তেল চুল ও মাথার ত্বকে মাসাজ করুন। আজকাল বিভিন্ন হেয়ার ট্রিটমেন্ট করা হয় পার্লারে। সেগুলোও করাতে পারেন। বাসায় যখন চুলে তেল দেবেন তখনই ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল মিক্স করে নেবেন।
    চুলের যতেœ অলিভ অয়েলও খুব ভালো।
       চুল পড়া কমাতে ও চকচকে ভাব আনতে চায়ের কড়া লিকারের সঙ্গে কাগুজি লেবুর রস মেশান। চুল ধোয়ার পর সব শেষে এ মিশ্রণটা ব্যবহার করুন।
   চুলের জন্য অ্যালোভেরা খুবই উপকারী। চুলে অ্যালোভেরা জেল দিয়ে রাতে রেখে দিন। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে পুরো মাথা ঢেকে নিন। ঘুম থেকে উঠে চুল ধুয়ে নিন। এতে নিজের চুলের সৌন্দর্যে নিজেই অবাক হবেন।

মেহেদি রাঙা ঈদ
ঈদের চাঁদ উঠলেই বাড়ির নারীদের মেহেদির পাতা বেটে রাতভর হাতে লাগিয়ে রাখার দৃশ্য ওই ছোটবেলা থেকেই আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। দিন বদলেছে, ফ্যাশন বদলেছে। কিন্তু মেহেদির সাজে হাত রাঙানো না হলে ঈদের আমেজটাই যেন পাওয়া যায় না! তাই পার্লারে গিয়ে দু’হাতভরে নিত্যনতুন ডিজাইনে হাত রাঙাতে ঈদের আগের রাতে মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে যান। তবে বাটা মেহেদির চলনটা আজও আছে। পাড়া-মহল্লায় যে মেয়েটি খুব সুন্দর করে হাতে
‘মেহেদি ডিজাইন’ আঁকতে পারে, নিশ্চিতভাবেই চাঁদরাতে তার বাড়িতে ভিড় করে কিশোরীরা। দিন দিন মেহেদির নকশাতেও আসছে পরিবর্তন। সাধারণত তিন ধরনের ডিজাইন তথা লঙ্কা, ফুলেল ও ময়ূরÑ এগুলো সব সময়ই মেয়েদের পছন্দ। এখন ছোট করে বিভিন্ন মোটিফের ডিজাইন বেশ চলছে। হাতের ওপরিভাগে ছোট ডিজাইন কিংবা চেইন বেশ লাগে দেখতে। আজকাল কনুই পর্যন্ত মেহেদি পরার চলনটা বেশ।
পরিবর্তিত ফ্যাশনের মতো টিউব মেহেদিতেও ভিন্নতা এসেছে। ব্ল্যাক মেহেদি গ্লিটার, ড্রেসের সঙ্গে কালার ম্যাচ করে অনেকেই মেহেদি পরছেন। টিনএজারদের অনেকে চোকার-এর ডিজাইনে গলায় মেহেদি পরে ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছে।
আজকাল নেইল আর্ট বেশ জনপ্রিয়। তবে হাতে মেহেদি পরলে সাদা নেইলপলিশ, মেরুন নেইলপলিশ, ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর বেশ ভালো মানায়। নেইল আর্ট পছন্দমতো করে নিলেও খেয়াল রাখবেন তা যেন মেহেদিটিকে ছাপিয়ে না যায়।
আজকাল আর সারা রাত হাতে মেহেদি রাখতে হয় না। দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া গাঢ়রাঙা মেহেদি টিউব বাজারে পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মেহেদি শুকিয়ে গেলে ডিজাইনের ওপর সরিষার তেল কিংবা কাগুজি লেবুর রস ও চিনির মিশ্রণ দিতে পারেন। ওই মিশ্রণ ব্যবহার করলে তা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বেশিদিন রঙ ঠিক রাখতে হলে হাতে যথাসম্ভব কম সাবান ও পানি ব্যবহার করুন। অনেকেই জানান, টিউব মেহেদি ব্যবহারে তাদের হাতে র‌্যাশ বা অ্যালার্জি হয়েছে। এর কারণ হলো, বাজারের টিউব মেহেদিতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহƒত হয়। অ্যালার্জি এড়াতে ল্যাকটোক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করার পর মেহেদি দিন।   

রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনায় ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যে আত্মসুদ্ধি হয়, ঈদের দিনটি আসে এরই উপহারস্বরূপ। বছরের সব আনন্দ উপচে পড়ার দিন এই ঈদ। নতুন পোশাক ভালো খাবার আর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পুনর্মিলন যেন পরিপূর্ণ করে এইদিনটিকে। তাই ঈদে সবারই চাই বাড়তি সৌন্দর্যে নিজেকে বিকশিত করা।
 

____________________
 লেখা :  ফারহাতুল জান্নাত
 মডেল :  বারিষ হক
 ছবি :  সহজ আর্কাইভ

Page 8 of 29

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…