Super User

Super User

Page 9 of 29

সুইমিং রিক্রিয়েশন



কার্ডিও ভাস্কুলার ফিটনেস বজায় রাখার জন্য সাঁতার সবচেয়ে উন্নততর পন্থা। সাঁতার এমন একটি ব্যায়াম যা ল্যান্ড বেইজড ব্যায়াম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জলরাশির নিজস্ব একটা চাপ রয়েছে। ফলে পানিতে প্রথম নিজেকে ভাসিয়ে রাখতে ও সামনে এগিয়ে নিয়ে যওয়া শিখে নিতে হয়। কার্ডিওর পেশেন্টের জন্য সাঁতারের চেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যায়াম আর দ্বিতীয়টা নেই। তবে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। একই সঙ্গে হৃৎপি- ও শরীরের সব পেশী সমানভাবে কাজ করে। সুইমিংপুলে সাঁতারের একটি বড় সুবিধা হলো পুলের নিরাপত্তা, শীতল ও মনোরম পরিবেশ। তা শরীর ও মনে অন্য রকম প্রশান্তি এবং ফুরফুরে মেজাজ এনে দেয়। ছয় ঋতুর নিজস্ব স্বাধীনতা থাকলেও আমরা বছরের প্রায় সাত মাসই গরম অনুভব করি। বিশেষত আমাদের ঢাকা শহরে গ্রীষ্ম তথা গরম মৌসুমে দাবদাহ চলে, তখনই এই স্বচ্ছ জ্বলাধার আমাদের শীতল পরশ এনে দেয়। তবে সাঁতারের ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যদি আপনি মৃদু উত্তেজনা বোধ করেন তাহলে ধীরগতিতে সাঁতরাবেন। জলের বিরুদ্ধে না গিয়ে জলের সঙ্গে কাজ করুন। প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারের অভ্যাস না থাকলে কখনোই অন্য সাঁতারুর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ঠিক নয়।
যাদের শারীরিক গঠন, আপার বডি অথবা উইংস প্রশস্ত এবং লোয়ার বডি সরু, অনেকটা সার্ফ বোর্ড বা রূপকথার মার্মেইডের মতো তারা বাড়তি সুবিধা পায় সাঁতারে। এক্ষেত্রে সমাধান একটাই, আরামদায়ক গতিতে নিজের সঙ্গে মানিয়ে সাঁতার কাটা।


সারা দিন ফুরফুরে আমেজ ধরে রাখার জন্য অনেকেই সকালেই সুইমিংপুলে যান। প্রচ- গরমের কারণে কেউ বা আবার দুপুর, কেউ সারা দিনের কর্মব্যস্ততা সেরে নির্ভেজাল প্রশান্তি খোঁজার জন্য সন্ধ্যার পরও সুইমিংপুলে যান। সর্বাধিক ফ্যাট কমানোর জন্য সাঁতারের বিকল্প নেই। খালি পেটে সাঁতার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার শরীরের জ¦ালানি অর্থাৎ ক্যালরির দিকে নজর রাখতে হবে।
যেহেতু আমাদের রাজধানী অর্থাৎ ঢাকা শহরে সাঁতারের উপযোগী কোনো জলাধার নেই সেহেতু আপনাকে সুইমিংপুলে যেতে হবে। সুইমিংপুলে সময় দেয়া একটা বড় রকমের বিনোদনও বটে।
পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পুলে যেতে পারেন। আর শিশুদের কথা বলতে গেলে বলা যায়, তাদের কাছে পুল একটুকরো স্বর্গ। তবে সাঁতারের ইনিশিয়াল ট্রেনিং থাকতেই হবে। বড়দেরও শিশুদের পাশাপাশি অবস্থান করতে হবে। এখন শুধু পাঁচতারা হোটেলগুলোর মধ্যেই সুইমিংপুল সীমাবদ্ধ নেই। কেউ কেউ বাড়তি সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্যই বাড়িতেই পুল তৈরি করছেন। আধুনিক আর্কিটেক্টরাও বাড়িতে সুইমিংপুল রাখার পরামর্শ দেন। এতে বাড়ির সৌন্দর্য ও আভিজাত্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।


বাণিজ্যিক সুইমিংপুলগুলোয় সময় কাটানো কিছুটা ব্যয়বহুল। এরপরও নির্ভেজাল উৎকৃষ্ট বিনোদনের কথা মাথায় রেখে সপ্তাহের অন্তত দু’দিন আপনি সুইমিংপুলের শরণাপন্ন হতে পারেন।
শহরের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই সাঁতার জানে না। আর অভিভাবকরা সময়-সুযোগের কথা বলে খোঁড়া যুক্তি দেখান। জেনে রাখা দরকার, পৃথিবীর সব থেকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিসহ কয়েকটা দেশে শিশুদের সাঁতার শেখানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশে শহুরে ছেলে-মেয়েরা সাঁতার জানে না বললেই চলে। পুলের নিরেট স্বচ্ছ জলরাশি থেকে উঠেই ভাববেন না স্নান শেষ। এর সঙ্গে সঙ্গেই শাওয়ার নিয়ে ফেলবেন। আপনি সুইমিংপুলে যাচ্ছেন। আপনার সুইমিং কস্টিউম সঙ্গে নিয়েছেন তো?

 


______________________________


 লেখা : শাফিক মালিক
 মডেল : নাজমুল সাদ
 ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
 কৃতজ্ঞতা :  শাখাওয়াত হোসেন কল্লোল

চুলের রঙে রঙিন

 




আসছে রোজার ঈদ। বছর ঘুরে আসে বহু প্রত্যাশিত এদিনটি। ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই উৎসব। আর এ উৎসব উপলক্ষে প্রত্যেকেরই নিজেকে নিয়ে থাকে নানান প্রস্তুতি। অন্যসব দিনের চেয়ে এদিনটি ব্যতিক্রম হওয়ায় সাজটিও হওয়া চাই আলাদা। ঈদ নিয়ে ফ্যাশনের সব শাখায় চলে অন্তহীন ব্যস্ততা। চাঁদরাত পর্যন্ত চলে অবিরাম প্রস্তুতি।


বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের চুলের ফ্যাশন নিয়ে আগ্রহ অপরিসীম। থাকে চুলের বিভিন্ন স্টাইল বা কাট এবং এর সঙ্গে চুলের বিভিন্ন রঙে রঙিন চমক। ইদানীং চুলের বাহারি রঙ নিয়ে চলছে বেশ মাতামাতি। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত ফ্যাশনে স্থান করে নেয় নানান অনুষঙ্গ। কাল ও যুগের পরিক্রমায় কখনো বা নতুনত্বের পসরা নিয়ে সামনে আসে ফ্যাশনের বৈচিত্র্য, কখনো বা পুরনোকে নতুনের ছাঁচে ঢেলে তৈরি হয় অতীতের ফ্যাশনের সঙ্গে বর্তমান আধুনিকতার অপূর্ব মিশেল। ফ্যাশনের এই হাজারো উপকরণ এবং এর উপযোগিতা খুঁজে নেয় বর্তমানের ফ্যাশন দুরস্ত মন। সারা পৃথিবীতে চলছে চুলের রঙ নিয়ে রঙবেরঙের খেলা। এ খেলায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও। চুলের রঙ কেমন হবে তা প্রত্যেকের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত জাতি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে চুলের রঙ সম্পর্কিত। আমাদের দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষেরই চুলের রঙ কালো। তবে কালো চুলও বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে চেহারায় ফুটিয়ে তোলা যায় অন্য রকমের আবেদন।


সাধারণত দুই ধরনের মেলানিনের কারণে চুলের রঙে পার্থক্য হয়ে থাকে। তা হলো ইউমেলানিন ও ফোমেলানিন। কারো চুলে ইউমেলানিন বেশি থাকলে তার চুলের রঙ গাঢ় হবে এবং পরিমাণ কম হলে হবে হালকা। তবে চুলে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে এখন সহজেই রঙ পরিবর্তন করা যায়।  চুলের রঙ স্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এর ওপর নির্ভর করে খরচ হয়। ক্ষণস্থায়ী বলতে বোঝায়, এর স্থায়িত্ব থাকবে ৩ থেকে ৬ মাস। ছেলেমেয়েদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ ব্লন্ড কালার বা স্বর্ণকেশী রঙ। খুব সহজেই মানিয়ে যায় এ রঙটি। তাই হয়তো এ রঙটি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

এছাড়া আজকাল টিনএজার মেয়েরা প্রথা ভেঙে চুলের নিচের অংশটুকু নীল বেগুনি ইত্যাদি রঙেও রাঙিয়ে নিচ্ছে। বাজারে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রঙ, যেমন লরিয়েল, রেভলন, গার্নিয়ার, জেস্ট, ডাভ, গোদরেজ ইত্যাদি। এর সাহায্যে আপনার চুল বাড়িতে বসেই অনায়াসে রাঙিয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে প্রথমবার হলে অবশ্যই কোনো ভালো পার্লার বা স্যালন-এ গিয়েই করানো উচিত।  রঙ করার আগে চুলে ব্লিচ করে নিলে রঙ কিছুদিন বেশি স্থায়ী হয়। তবে এতে চুলের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আজকাল অবশ্য অনেকে মেহেদি দিয়েও চুল রঙ করতে আগ্রহী।
 

লক্ষণীয়:


   যে কোনো উৎসবের অন্তত ৫ দিন আগে চুলে রঙ করানো উচিত। এতে চুলে রঙটা ভালোমতো বসে এবং
   চেহারার সঙ্গে মানানসই হয়।
   রঙ করার পর অবশ্য চুলের বাড়তি যতœ নেয়া প্রয়োজন। আজকাল কালার প্রটেক্টেড শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার
   পাওয়া যায় যে কোনো শপিং মল আর প্রসাধনীর দোকানে।
   বাড়তি যত্ন আপনার চুলে এনে দেবে জেল্লা আর ঝলমলে ভাব।

 

 

_____________________________

 লেখা : সোনাম চৌধুরী
 মডেল : ফারিয়া আফরিন
 মেকওভার : ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালন
 ছবি :  শোভন আচার্য্য অম্বু

বাহারি ব্রেসলেট

 



ইংরেজি শব্দ ব্রেসলেট বাংলা ভাষায় এমনভাবে স্থান করে নিয়েছে যে, কেউ আর এর আভিধানিক অর্থ খুঁজতে যান না। আগে শুধু শহরে এর ব্যবহার দেখা যেতো। এখন শহর ও গ্রামÑ উভয়স্থানেই ছেলেরা নিজের ইউনিক লুকের জন্য ব্রেসলেট পরে। মজার বিষয় হচ্ছে, রিস্ট হিসেবে পরার ওই বস্তুটি পুরো গেটআপেই ফোকাস করতে সক্ষম। এক দশক আগে ব্রেসলেট শুধু ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গেই পরতে দেখা যেতো। অতীতের ওই ধ্যান-ধারণা পাল্টে ফরমাল ও
ক্যাজুয়াল- উভয়ক্ষেত্রেই ব্রেসলেট দারুণভাবে মানিয়ে যায়। অতীতে যেতে হলে একেবারে আদিম যুগের মানুষের কথা বলতে হয়। তখন তারা পশুর হাড়, চামড়া কব্জিতে ব্যবহার করতো। কোনো রিচুয়াল স্থান থেকে এখনো ওই ধারণা পুরোপুরি উঠে যায়নি। পশ্চিমা বিশ্বে কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে হরেক রকমের ব্রেসলেট পরতে দেখা যায়। লেদার ও মেটাল, জুয়েলারি স্টেইনলেস স্টিল, সুতা, রাবার, পুঁথি, প্লাস্টিক উপকরণসহ নানান সামগ্রী ব্রেসলেটে ব্যবহার করা হয়। ছেলেদের ফ্যাশনে নতুন উপাদান ও নকশার ব্রেসলেট এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিছু ব্রেসলেট সিলিকন অর্থাৎ নরম ধাতু দিয়ে তৈরি হয়। একেকজনের রুচি একেক রকম। তাই একেকজন একেক রকমের ব্রেসলেট পরতে পছন্দ করেন। অকেশনের ভিন্নতার কারণেও ব্রেসলেটের ভিন্নতা দেখা যায়। ব্রেসলেট ফ্যাশনের অন্যতম অংশ হলেও সব সময় গর্জিয়াস ব্রেসলেট পরাটা ঠিক না। পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করেই আপনার ব্রেসলেটটি পছন্দ করতে হবে। টিশার্ট, পোলো শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্টের সঙ্গে লেদার অথবা রবারের ব্রেসলেট পরতে পারেন। আনুষ্ঠানিকতায় চেইন ও পিতলের

 তৈরি ব্রেসলেট পরতে পারেন। সেমিফরমাল পোশাকের সঙ্গে চামড়া বা কাঠ দিয়ে তৈরি ব্রেসলেট বেশ মানানসই। কুলবয় লুক পেতে কম-বেশি অনেকেই মেতে উঠছে ব্রেসলেট পরার জন্য। তাই কোন ধরনের ব্রেসলেট আপনি পরতে পারেন তা দেখে নিন-


ব্যাঙ্গেল ব্রেসলেট : ব্যাঙ্গেল স্টাইলের এই ব্রেসলেট বেশ জনপ্রিয়। পুঁথি ও নানান রঙের বালা এক সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাঙ্গেল তৈরি করা হয়। এটি যেমন সুন্দর তেমনি স্মার্ট।
বিডেড ব্রেসলেট : স্টোন, কাঠের টুকরা ও প্লাস্টিক দিয়ে ফুরফুরে মেজাজের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায় এই বিডেড।
কাফ ব্রেসলেট : একদিকে খোলা হয় এই ব্রেসলেটটি পরতে বেশ সুবিধা রয়েছে। এগুলো সাধারণত মেটালের হয়ে থাকে।
লেদার ব্রেসলেট : যারা মেটাল ব্রেসলেট পছন্দ করেন না তারা পরতে পারেন এই লেদার ব্রেসলেট। এটি স্মার্ট লুকের সাথে প্রকাশ করে আভিজাত্য ও ব্যক্তিত্ব।
লিংক ব্রেসলেট : একটার পর একটা স্টোন ও মেটালের কারুকার্য দিয়ে যুক্ত করে এই ব্রেসলেট তৈরি হয়। এই ব্রেসলেট আপনার রুচির পরিচয় দেবে তখনই যখন লিংক ব্রেসলেট নির্বাচনে ভুল করবেন না।
মাল্টিস্ট্রেন্ড ব্রেসলেট : অনেকটি চেইন এক সঙ্গে পেঁচিয়ে তৈরি করা হয় এ ব্রেসলেটটি। একটা সময় মনে করা হতো রঙবেরঙের ব্রেসলেট শুধু মেয়েদের হাতেই মানায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনে এসেছে পরিবর্তন। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও  ব্রেসলেটকে ফ্যাশন
 

 

________________________


লেখা : শাফিক মালিক
স্টাইলিং: শাফিক মালিক
মডেল : জুবায়ের, শাকিল
ছবি :  শোভন আচার্য্য অম্বু

 হেয়ারকাট

 

কতো শত গান, কবিতা রচিত হয়েছে নারীর চুল ঘিরে। নারীর সৌন্দর্য বর্ণনায় চুলের উপমা থাকবেই। তবে ছেলেদের চুলের সৌন্দর্য অনেকটাই অপ্রকাশিত থেকে গেছে। মজার বিষয় হচ্ছে, সময়ের এমন পরিবর্তন এসেছে যে, নারীর চেয়ে ছেলেরা চুলের স্টাইল নিয়ে বেশি সজাগ এবং বৈচিত্র্যও অনেক।


নারীরা চুলের যত্নে হাতে গোনা কয়েকটা স্টাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। এক্ষেত্রে ছেলেরা চাইলেই তার চুলের স্টাইল চেঞ্জ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লুক নিয়ে আসেন। অতীতের ছেলেদের উড়ন্ত চুল বিপ্লব ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ধরা হতো। শুধু চুলই পারে কারো অবয়বের পুরোপুরি পরিবর্তন করে দিতে। হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে যে কোনো ছেলের কুল লুক, বয় লুক, অ্যারিস্টোক্রেসি, এথলেক, ব্যক্তিত্ববান, রাফ অ্যান্ড টাফ ও জেন্টেল লুক প্রকাশিত হয়। বর্তমান ফ্যাশনে ছেলেরা নিত্যনতুন হেয়ারস্টাইল নিয়ে খুবই সজাগ। তাদের হেয়ার ফ্যাশন দু’ভাবে হতে পারে। তা হলো লম্বা ও ছোট চুলের স্টাইল।


লম্বা চুলের জন্য একটি জনপ্রিয় স্টাইল হচ্ছে মেন বান কার্ট। সহজ কথা হচ্ছে চুলে একটি ঝুঁটি বাঁধা। এটি হতে পারে সব চুল এক সঙ্গে পেছনে বাঁধা আবার শুধু হেড বটম চুলগুলো ছোট করে ঝুঁটি বাঁধা। পেছনের চুল খোলা রাখা যেতে পারে। এটি বিভিন্ন স্টাইলেও করা যায়। আপনার ফেইস অনুযায়ী নিজের কাছে যেটি মানানসই হবে সেটিই করতে পারেন।


কুল লুকের জন্য গ্লোসার কার্ল ফ্যাশনে স্থান করে নিয়েছে। এই স্টাইল চোখে পড়ার মতো ইউনিক লুক এনে দেয়। এক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা আছে। আপনার চুল কার্লি না হলে এই কাট থেকে মন সরিয়ে নিন।
আপনার মাঝারি চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করে ফেলুন। করপোরেটের ক্ষেত্রে এটা এনে দেয় দারুণ লুক। এ স্টাইলটিকে বলা হয় ইজি সুইফট ব্যাক। তবে এটি আপনাকে ম্যাচিউরড লুক পেতে সাহায্য করে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে টিনএজারদের থেকেতুলনামূলকভাবে একটু বেশি বয়সের ছেলেদের এই কাট ভালো মানায়।

এবারের ঈদে তরুণদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের কাট হচ্ছে শর্ট স্টিকিং। দু’দিক থেকে বেশি ছোট করে বটম চুল একটু বড় করে জাম্পিংয়ে রাখা। ফুটবল তারকাদের মধ্যে এ স্টাইল বেশি দেখা যায়।
শর্ট সাইড পার্ট হাল ফ্যাশনের আরেকটি স্মার্ট কাট। বামদিকে ছোট করে একটা লম্বা স্পষ্ট সিঁথি বের করে বাকি চুলগুলো আঁচড়ে নিতে হয়। হাল ফ্যাশন থেকে ছিটকে পড়েছে পাম্প স্টাইল এবং বিভিন্ন স্পাইক। চুল যখন আপনার পুরো গেটআপ পরিবর্তন করতে সক্ষম তখন একবার ভেবে নিন, এবার ঈদে আপনি কোন স্টাইল বেছে নেবেন। সেটি আগে থেকে প্ল্যান করে হেয়ার ড্রেসারের কাছে যান।

 

_______________________________


লেখা : শাফিক মালিক
স্টাইলিং : শাফিক মালিক
মডেল : তুষার, আপেল, তনয়, রাসেল
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

ঈদ উৎসব ও নন্দনতত্ত্ব

ড. মো. আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী




ঈদ ‘আওদ’ শব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। আওদ-এর আভিধানিক অর্থ পুনরাগমন বা বার বার ফিরে আসা। অষ্টম শতকের প্রথম দিকে বাংলাদেশে মুসলমানদের আগমন ঘটে। ওই সময় সুফি, দরবেশ, তুর্কি- আরব বণিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশে রোজা, নামাজ ও ঈদের সূত্রপাত বলে মনে করা হয়। অবশ্য তা ছিল বহিরাগত ধর্ম শাসক, ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশের ধর্ম সামাজিক পার্বণ নয়। বাংলাদেশে রোজা পালনের প্রথম ঐতিহাসিক বিবরণ পাওয়া যায় ‘তাসকিরাতুল সোলহা’ গ্রন্থে। এই গ্রন্থের বিবরণ থেকে জানা গেছে, আরব দেশের শেখউল খিদা-র ৩৪১ সন মুতাবিক অর্থাৎ ৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় আগমন। ঢাকায় ইসলাম ধর্ম প্রবেশের আগে শাহ সুলতান রুমি নেত্রকোনা ও বাবা আদম শহীদ বিক্রমপুরের রামপালে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। শেখউল খিদা চন্দ্র বংশীয় রাজা শ্রী চন্দের শাসনকালে (৯০৫- ৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ) সবুজ বদ্বীপে আগমন করেন বলে অনুমান করা হয়। তাদের প্রভাবেই বাংলাদেশে রোজা, নামাজ ও ঈদ প্রচলিত হয়েছিল- এটাও প্রমাণ সাপেক্ষ নয়। কারণ ‘নামাজ’, ‘রোজা’, ও ‘খোদা হাফেজ’ শব্দের ব্যাপক প্রচলনে বোঝা যায়, অ্যারাবিয়ানরা নন, ইরানিয়ান সুফি-দরবেশদের দ্বারাই বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার শুরু হয়েছে। উপরোক্ত তিনটি শব্দই আরবি নয়, ফার্সি। ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবেদার শাহ সুজার নির্দেশে তার প্রধান আমাত্য মীর আবুল কাসেম একটি ঈদগাহ (২৪৫-১৩৭ ফিট আয়তন) নির্মাণ করেন। ভূমি থেকে ১২ ফিট উঁচু ওই ঈদগাহের চতুর্দিকে ১৬ ফিট উঁচু সুদৃশ্য প্রাচীর ঘেরা। ঈদগাহে মেহরাব ও মিনার নির্মিত হয়েছিল। মোগল আমলে রাজদরবার, আদালত, সেনা ছাউনি ও বাজারে কেন্দ্রে অবস্থান ছিল ওই ঈদগাহের। সেখানে শুধু সুবেদার, নায়েবে নাজিম, অভিজাত মুসলমান কর্মকর্তা ও তাদের স্বজনরাই এখানে ঈদের নামাজ পড়তে পারতেন। পরে ঈদগাহ ময়দান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ওই ঈদগাহ ময়দানের পাশে ঈদের সময় মেলা বসতো। মোগল আমলে ঈদের দিন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান ও আনন্দ উৎসব হতো। এর প্রমাণ পাওয়া যায় বাংলাদেশে বিভিন্ন স্থানে গণমুখী শাহী ঈদগাহের উপস্থিতি দেখে। সুফি-সাধকদের ভূমিকাও ছিল এক্ষেত্রে অনন্য এবং অধিকতর জনসচেতন। উনিশ শতকের শেষ দিকে ঈদের আনুষঙ্গিক আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয় একটি নতুন উপাদান ‘লোকজ মেলা’। ওই মেলায় শোলার তৈরি পাখি, ফুল, কুমির, হাতি, ঘোড়া, নকশা তালপাখা, চিত্রিত শখের হাঁড়ি ছাড়াও অনেক লোকজ খেলনা পাওয়া যায়। আর দই, মিষ্টি ও জিলাপির পসরার কোনো তুলনা নেই। ওই ধারা এখনো বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিরাজমান। ঈদ যে বাংলাদেশের মুসলমানদের মহোৎসব এর বড় প্রমাণ উৎসবমুখর ঈদের বাজার। তা নি¤œবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তের এক যোগসূত্র। এর সঙ্গে আবার যুক্ত কোরবানির মহোৎসব। ‘কোরবানি’ শব্দের অর্থ অতীব নিকটবর্তী হওয়া। কোরবানির পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত নি¤œবিত্তের কোটি কোটি নারী-পুরুষ। বলা চলে, ঈদের প্রস্তুতি সারা বছর ধরে এবং সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নও ঈদ উৎসবের বাইরে নয়।

 


পৃথিবীর ইতিহাসে বিভিন্ন ধর্মের যে উৎসব উদযাপিত হয়, ঈদ উৎসব ওই তুলনায় কনিষ্ঠতম। কিন্তু আয়োজনের ব্যাপকতায় সবচেয়ে বড়। সমকাল থেকে ১৩৮৮ সৌর বছর আগে এই উৎযাপন শুরু হয়। ইসলামের বার্তাবাহক নবী হজরত মুহম্মদ (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের অব্যহতি পর প্রথম ঈদুল ফিতর উৎসব পালন শুরু হয়। অ্যারাবিয়ানদের ইহুদি ধ্যান-ধারণা ও জাহেলি প্রথার পরিবর্তে দুই ঈদ ছিল আল্লাহর রাসুলের পক্ষ থেকে মুসলমানদের জন্য ঘোষিত উপহার। ইসলামি আদর্শে উজ্জীবিত আরববাসী পালন শুরু করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। এর আগে আরবে পৌত্তলিক ভাবনায় অগ্নিপূজকদের ‘নওরোজ’ ও মূর্তিবাদীদের ‘মিহিরজান’ নামে দুটি শ্রেণিবৈষম্য, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ উৎসব পালিত হতো। এর পরিবর্তে দুই উৎসব বয়ে আনে আনন্দবার্তা। শ্রেণিবৈষম্যহীন, পবিত্র আর ধর্মানুভূতির মেলবন্ধনের মহোৎসব। ঈদুল ফিতর শব্দের অর্থ রোজা ভাঙার দিবস। ঈদুল ফিতরের আগের রাতকে ইসলামি পরিভাষায় বলা হয় ‘লাইলাতুল জায়জা’। এর অর্থ পুরস্কার রজনী। ঈদুল আজহাকে ধর্মীয় পরিভাষায় বলা হয় ‘ইয়ামুজ জায়েজ’। এর অর্থ পুরস্কারের দিবস। এছাড়া আছে আলবেনিয়ান, আরবি, বাংলা, চায়নিজ, গ্রিক, হিন্দি, হিব্রু, সিলেটি নাগরী ও তামিল ভাষায় দুই ঈদের আলাদা নাম প্রচলিত। দেড় হাজার বছরেরও বেশি ঈদ উৎসব পালিত হচ্ছে। ক্যামেরাবিহীন যুগে চিত্রশিল্পীরা ধরে রেখেছেন ঈদ উৎসবের ছবি। অবশ্য ইসলামিক অনুশাসনে ছবি আঁকা নিয়ে বিরোধ-বিতর্ক রয়েছে। ঈদ উৎসবের যতো চিত্রশিল্প রয়েছে এর মধ্যে শোভাযাত্রার ছবি বেশি। বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত মানুষ দলবেঁধে ঈদগাহ ময়দানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শোভাযাত্রায় হাতি, ঘোড়া, রাজকীয় পালকি ও নকশাদার ছাতার ব্যবহার রয়েছে। কোনো কোনো ছবিতে আতশবাজি পোড়াচ্ছেন নারীরা। বোরাকের ছবি এঁকেছেন শিল্পীরা। মাথায় চাঁদ-তারাখচিত মুকুট শোভিত বোরাকের বোরাক, ছবির ভেতর ফার্সি ও আরবি ভাষায় ক্যালিগ্রাফি। মোগল আমলের ছবিতে স¤্রাটকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সব ছবির ভেতর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতা ও ঠা-া রঙ ব্যবহারের চাতুর্যতা প্রশংসনীয়। বিশ্বশিল্পে ইসলামিক চিত্রকলার একটি বিশাল স্থান রয়েছে, বিশেষ করে পার্শিয়ান ও মোগল মিনিয়েচার চিত্রশিল্প। ওই চিত্রশিল্প পর্যবেক্ষণে এর ইতিহাস জানা জরুরি।


শিল্প প্রতিভার দ্বারাই নির্মাণ করা সম্ভব। সাধারণভাবে তাকেই শিল্প বলা হয় যার বিকাশ অথবা প্রকাশ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির দ্বারা চালিত নয়, বরং একটি সুকুমার বোধ ও কল্পনা প্রতিভার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রাচীনকাল থেকে আধুনিককাল পর্যন্ত শিল্পকে নানানভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অস্কার ওয়াইল্ড যেমন ‘আর্ট ফর আর্ট সেক’ তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন তেমনি লিও টলস্টয় অথবা বার্নাড শ’ শিল্পের সামাজিক মূল্যমানকে শিল্পের উদ্দেশ্য মনে করেছেন। অস্কার ওয়াইল্ড বলেছেন, ‘সুন্দর সৃষ্টিই হচ্ছে শিল্পের একমাত্র লক্ষ্য- ‘দ্য আর্টিস্ট ইজ দ্য ক্রিয়েটর অ্যা বিউটিফুল থিংক’। শিল্পে নীতির প্রশ্নকে তিনি স¤পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন- ‘দেয়ার ইজ নো সাচ থিংক অ্যাজ অ্যা মোরাল অর ইমমোরাল বুক’। লিও টলস্টয় তার ‘হোয়াট ইজ আর্ট’ গ্রন্থে লিখেছেন, শিল্পের মধ্যে প্রকাশিত হবে সেসব ‘ফিলিং ইনডিস পেনসিবল ফর দ্য লাইফ অ্যান্ড প্রগ্রেস টুওয়ার্ডস ওয়েলবিং অ্যা ইনডিভিজুয়ালস অ্যান্ড অ্যা হিউম্যানেটি’। ফ্রেজার তার ‘দ্য গোল্ডেন বাউস’ গ্রন্থে অকাল্ট ম্যাজিক ইত্যাদি বিষয়কে প্রাচীন শিল্পের উৎসমুখ বলে উল্লেখ করেছেন। শিল্পকলায় অনুকরণ অর্থাৎ ইমিটেশনের প্রসঙ্গ সুপ্রাচীন। গ্রিক শব্দ ‘মাইমেসিস’ ইমিটেশন বা অনুকরণের অনুকরণ। প্লেটোর অনুকরণতত্ত্বে শিল্প হলো ‘আর্ট ইজ ডাউলি রিমোভড ফ্রম রিয়ালিটি’ অর্থাৎ ঈশ্বর তার পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজস্ব প্রতিরূপ হিসেবে যে বিশ্বসংসার তৈরি করেছেন এরই দ্বিতীয় প্রতিরূপ হচ্ছে শিল্পকলা। শিল্পের প্রেরণা হিসেবে তার ধারণা ছিল শিল্পী শিল্পকর্ম সৃষ্টির জন্য ঐশ্বরিক অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল। প্লেটো শিল্পীর অন্তরে নিজস্ব ‘অ্যাসেনসিয়াল ক্রিয়েটিভ স্প্রিট’কে অবিশ্বাস করতেন। ঐশ্বরিক প্রেরণাজাত কোনো বিশেষ তাগিদ শিল্পীর ওপর ভর করলেই শিল্প সৃষ্টি সম্ভব।


নন্দনতত্ত্ব ও শিল্পের নির্মিতিকে কখনোই বিচ্ছিন্নভাবে দেখা যায়নি। এটি ভারতীয় সমাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর অপরিহার্য অংশ। সমাজের একদিকের পরিবর্তন অনিবার্যভাবে অপরদিককে প্রভাবিত করে। এটিই হচ্ছে ভারতীয় সমাজ, শিল্প ও শিল্প-কারখানার আন্তঃসম্পর্কের প্রকৃত ‘গতি বিজ্ঞান’। উপনিষদের সৃষ্টি ও জীবন সংক্রান্ত ‘মেটাফিজিকাল’ বা অধিবিদ্যামূলক দর্শন ও ঈশ্বর ধারণা কয়েক হাজার বছর ধরে এই উপমহাদেশে দিয়েছিল এক সাংস্কৃতিক যোগসূত্র। তা প্রতিফলিত হয়েছে সারা ভারতবর্ষের লোকশিল্প, লোকসাহিত্য, সঙ্গীত ও নৃত্যবৈচিত্র্যের মধ্যে একই সুরের খেলা, বহুর মধ্যে একই সুরের স্পন্দন। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে আর্যদের আগমন এবং এই উপমহাদেশে আর্য ও দ্রাবিড়দের সহাবস্থানের দ্যোতক ভারতবর্ষের বেদ উপনিষদের স্বীকৃতির পর বহু জনগোষ্ঠী উপমহাদেশে এসেছে। ভারতবর্ষের মহামানবের মূল স্রোতে মিশে গেছে অনেক সময় নিজ নিজ বৈশিষ্ট্য রেখেও।


খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীতে মুসলমানরা এলো এক অতি উচ্চাঙ্গের সংস্কৃতি ও ধর্মবোধ সঙ্গে নিয়ে। তাদের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত ভারতবর্ষে কোনো গ-িবদ্ধ ধর্মমত ছিল না। হিন্দু জনসমাজের মধ্যে ছিল বেদ ও উপনিষদের দর্শন। ওই দর্শনের বিস্তৃত অঙ্গনের মধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে নানান বিশ্বাস বা অবিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধর্মাচারণ করতো। এই প্রথম এক জনগোষ্ঠী ভারতবর্ষে বাস স্থাপন করেও উপমহাদেশের মূল স্রোতের বাইরে নিজেদের বিশিষ্ট সংস্কৃতি ও ধর্ম নিয়ে স্বতন্ত্র পরিচয় স্থাপন করে। হিন্দু সমাজেও এই সময় ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র বোধের উদয় হয়। বহু হিন্দু ধর্মান্তরিত হন। পশ্চিম এশিয়ার ইসলামিক দেশগুলো থেকেও ভারতবর্ষে এসে বসবাস স্থাপন করেছিল বহু জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি-দার্শনিক, কবি, ঐতিহাসিক ছাড়াও স্থপতি, সঙ্গীতজ্ঞ, চিত্রশিল্পী ও নানান ধরনের পারদর্শী কারুশিল্পী। ধীরে ধীরে ভারতবর্ষে গড়ে ওঠে এক বর্ণাঢ্য সংস্কৃতি। ভারতীয় মুসলিমের সংস্কৃতি এবং পশ্চিম এশিয়া ও ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতির মিলনে গড়ে ওঠে ওই সংস্কৃতি। দুই সামন্ততান্ত্রিক দেশের নাগরিক সংস্কৃতি মুসলিম ও মুসলিম-উত্তর দরবারি শিল্প। আদিম সমাজ থেকে যখন মানুষের সামন্ততান্ত্রিক সমাজে উত্তরণ ঘটে তখন ওই সামন্ততান্ত্রিক সমাজে গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির পাশাপাশি গড়ে ওঠে এক নাগরিক সংস্কৃতি, নতুন সমাজের নগর ও জনপদগুলো কেন্দ্র করে। ভারতবর্ষের লোকসমাজ আদিবাসী সংস্কৃতি ও মুসলিম সমাজের দরবারি সমাজ বাদ দিলে বৃহত্তর হিন্দু সমাজ জাতি-বর্ণে বিভক্ত হয়। ওই সমাজে লোকসংস্কৃতির নানান অভিব্যক্তি, বিশেষ করে লোকশিল্পের উপজাত বস্তু ৯টি শিল্পভিত্তিক বর্ণের অবদান। বৃত্তিভিত্তিক বর্ণ-বিভাগের ফলে প্রাচীন ভারতের সামন্ততান্ত্রিক সমাজের নাগরিক সংস্কৃতি
প্রয়োজনীয় সর্ববস্তু সম্ভারের জন্য বংশানুক্রমিক ভাবধারা ও অসাধারণ দক্ষতার


অধিকারী বর্ণাশ্রয়ী শিল্পীদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। মধ্যযুগে ইসলামি শিল্প-সংস্কৃতি- যাকে দরবারি শিল্প বলা হয় এর সংস্পর্শে এলো হিন্দু নাগরিক সংস্কৃতির শিল্প। ওই মিলনের ফসল হিসেবে ভারতবর্ষের নাগরিক শিল্প এমন এক নান্দনিক গুণ অর্জনে সমর্থ হয়েছিল যে, পৃথিবীজুড়ে এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে ওই যুগে। মোগল শাসন আমলে ভারত উপমহাদেশে মুসলমানদের যে স্থাপত্য ধারা প্রবর্তিত হয় তা দেখা যায় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাসাদ, মসজিদ, দুর্গ, দরবার কক্ষ, স্মৃতিসৌধ্য, মিনার প্রভৃতির বিচিত্র বর্ণ ও অলঙ্করণের মাধ্যমে। ৭১২ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের মধ্য দিয়ে এই উপমহাদেশে মুসলমানদের আগমন সভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের দ্বার উন্মোচন করে। এতে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও মুসলমান এবং স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ভাব ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান করতে পূর্ণমাত্রায় সক্ষম হয়েছিল। সিন্ধুর বিশেষ এলাকা ‘মানসুরা’য় (বর্তমানে ধ্বংস্তূপে পরিণত) নির্মিত ক্ষুদ্র পরিসরের মসজিদ ছাড়া ওই সময়ের স্থাপত্যের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নিদর্শন পাওয়া যায় না। তবে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়-পরবর্তী মুসলিম বিজয় এবং স্থায়ীভাবে তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথ অনেকটা সহজ করে দিয়েছিল। একাদশ শতাব্দীতে গজনির সুলতান মাহমুদ একাধিকবার ভারতবর্ষে প্রবেশ করেন। কিন্তু যে কোনো প্রাসঙ্গিক কারণেই হোক, তিনি স্থায়ীভাবে এখানে রাজত্ব করেননি এবং তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নির্মাণে ব্রতী হননি। অবশ্য তিনি গজনিতে অনেক সুরম্য প্রাসাদ ও ধর্মীয় ইমারত ও বিজয়স্তম্ভ নির্মাণ করেছেন। গজনির স্থাপত্যরীতি
পরবর্তীকালে ভারতীয় মুসলিম স্থাপত্যে বহুলাংশে অনুসৃত হয়েছে। এর সাক্ষ্য বহন করে দিল্লির কুতুব মিনারের নির্মাণ কৌশল।


ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম স্থাপত্যকে সাধারণত  প্রধান তিনটি শৈলীতে ভাগ করা যায়। তা হলো দিল্লির সুলতানি স্থাপত্যরীতি, মোগল রাজকীয় শৈলী ও প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক স্থাপত্যশৈলী। শৈলীগত পরিবর্তন ঘটলেও মোগল স্থাপত্য অলঙ্করণে ইসলামি ধারাবিবর্জিত কোনো বিষয় রচিত হয়নি। ইসলামি শিল্পকলার অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো অলঙ্করণ। ইসলামি শিল্পকলাকে মূর্তিবিবর্জিত বা আইকনিক শিল্পকলা বলা হয়েছে। অপরাপর শিল্পকলার মতো ইসলাম কেন্দ্র করে কোনো ‘আইকনিক’ বা মূর্তি শিল্প গড়ে ওঠেনি। ইসলামি শিল্পকলায় অলঙ্করণের ব্যবহার দু’দিক থেকে বিচার করা যায়- উপকরণভিত্তিক ও মোটিভভিত্তিক। অলঙ্কণের প্রকারভেদ নির্ভর করে উপকরণের ওপর। উমাইয়া যুগে পাথর ও মার্বেলের সর্বজনীন প্রয়োগের ফলে যে ধরনের অলঙ্করণের উদ্ভব হয়, আব্বাসীয় যুগে ইটের ব্যবহারে তা দেখা যায় না। এ কারণে পাথরের ওপর যে ধরনের নকশা দেখা যায় তা সাধারণত খোদাই বা স্টোন কার্ভিং ‘ফুসাইফিসা’ বা মোজাইক, ওপুস সেকটাইল বা সাদা পাথর কেটে রঙিন পাথর বসিয়ে নকশা করা। পাথরের ওপর বিভিন্ন আকারের নুড়ি, কাচ, মার্বেল প্রভৃতি বসিয়ে যে মোটিভ সৃষ্টি করা হয় তাকে মোজাইক বলে। আব্বাসীয় যুগে মোজাইকের ব্যবহার হ্রাস পেলেও সামারার ভগ্নপ্রাপ্ত বালকুয়ারা প্রাসাদ থেকে প্রচুর মোজাইক উদ্ধার করা হয়। ওপুস সেকটাইল-এর প্রয়োগ ভারত উপমহাদেশে মোগল আমলে, বিশেষ করে সম্রাট আকবরের স্থাপত্যকীর্তিতে (ফতেপুর সিক্রির জামে মসজিদ, সেকেন্দ্রায় আকবরের সমাধি, আগ্রায় ইতিমদল্লার সমাধি) দেখা যায়। এছাড়া মোগল স্থাপত্যগাত্রে ফ্রেস্কো, স্টাকো, টেরাকোটা, রঞ্জিতটালী ও পিয়েত্রা দুরার বহুল ব্যবহার করা হয়েছে। আর শিল্পের ইতিহাস বদলে দিয়েছে আবয়বিক

বিমূর্তলোকের বাসিন্দা : রশিদ আমিন

 

 

ভাবনার বিমূর্তরূপ যাঁর ক্যানভাসে মূর্ত হয়ে ওঠে তিনি রশিদ আমিন।
নিভৃতচারী এই শিল্পী মননে বিমূর্তলোকের বাসিন্দা। ধ্যানস্থ তাঁর আপন কাজে, তবে নির্লিপ্ত নন পারিপার্শ্বিক টানাপড়েনে। এই শিল্পীর মুখোমুখি হয়েছিলেন শাকিল সারোয়ার

 

আপনার শৈশব-কৈশোর কোথায় কেটেছে?
আমার শৈশব কেটেছে টাঙ্গাইলে। আমার শৈশবের টাঙ্গাইল ছিল একটি ছোট্ট মায়াবী শহর। ওই শহরেই আমার বেড়ে ওঠা। একটা চমৎকার সাংস্কৃতিক আবহ ছিল এই শহরে। নাটক, সঙ্গীত, নৃত্যানুষ্ঠানÑ এসব আয়োজনে মুখরিত থাকতো ওই শহর। ছিল অনেক শিশু সংগঠন। এ রকমই একটি শিশু সংগঠন ছিল ‘কচিকাঁচার মেলা’। এখানেই আমার ছবি আঁকার শুরু আমার শিল্পী সত্তার সূচনা।

আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন
আমার বাবা টাঙ্গাইলে পোস্ট মাস্টার ছিলেন। ৯ ভাইবোন আমরা। বড় একটি পরিবার। আমরা চার ভাই ও পাঁচ বোন। ভাইয়েরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। বড় ভাই নাট্যজন মামুনুর রশীদ। মেজভাই সাংবাদিক। বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। সেজভাই ডাক্তার। তিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. কামরুল হাসান খান। বোনরা সবাই স্নাতক, কেউ কেউ স্নাতকোত্তর পাস এবং চাকরি করছে। বোনরা সাংস্কৃতিক জগতে আসতে পারেননি। কারণ বাবা কিছুটা রক্ষণশীল ছিলেন।

কবে থেকে ছবি আঁকার তাগিদ অনুভব করলেন এবং ছবি আঁকাই বা কেন বেছে নিলেন?
ছবি আঁকায় আমার পরিবারে কোনো পূর্বসূরি ছিলেন না। বলা যেতে পারে আমিই এক্ষেত্রে পথিকৃৎ। তবে আমার বড় ভাই নাটক করতেন। সেক্ষেত্রে কিছুটা প্রেরণা ছিল। আমি একটি শিশু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম যা আগেই বলেছি। সেখানেই আমার ছবি আঁকার হাতেখড়ি। আমি যখন এসএসসি পরীক্ষার্থী তখন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম আর্ট কলেজে ভর্তি হবো। তখন থেকেই আমার পেশাদার শিল্প শিক্ষার শুরু। আমার ভাইয়েরা সবাই আমাকে চারুকলায় ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে খুব উৎসাহ দিয়েছিলেন। ছবি আঁকা বেছে নেয়ার বড় কারণ হচ্ছে, এটা এমন একটা বর্ণময় ভুবন, এই ভুবনে যে প্রবেশ করেছে তার এখান থেকে নিস্তার নেই। আমিও এই ভুবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেলাম। তবে আরো কিছু কারণ ছিল। তা হলো, ছবির মধ্য দিয়ে নিজেকে যতো সহজে প্রকাশ করা যায়, অন্য মাধ্যমে তা সম্ভব নয়। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম স্বাধীন পেশাদার শিল্পী হবো। তা আর সম্ভব হয়নি। শিক্ষকতায় ঢুকতে হলো। তবে এটিও আমার জন্য একটি আনন্দদায়ক অধ্যায়। আমার একটি বিশাল ছাত্রভুবন তৈরি হয়েছে। তাদের সঙ্গে শিল্প পাঠ দেয়া ছাড়াও নানান সুখ-দুঃখে জড়িয়ে গিয়েছি। তাদের কাছ থেকেও অনেক শেখার আছে।

পেইন্টিংয়ের কোন ধারাটি আপনাকে বেশি টানে?
আমি মনে করি, পেইন্টিং হচ্ছে খুব একটা ইচ্ছা-স্বাধীনের ভুবন। এর মধ্য দিয়ে আমার অন্তরের একেবারের ভেতরের নির্যাসটা বের করে নিয়ে আসতে পারি। তাই সব সময় বিমূর্তধারাটিই বেশি পছন্দ করি। অবশ্য বিমূর্তধারার শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা খুব কঠিন। কারণ মানুষ পেইন্টিংয়ের মধ্যে সব সময় একটি আকার অথবা অবয়বই খোঁজে। যখনই দেখে নিরাবয়ব অথবা নিরাকার তখনই মুখ ফিরিয়ে নেয়। এটি একটি সংগ্রাম। মানুষের দৃষ্টি নিরাবয়বের মধ্যে টেনে নিয়ে আসা। আমার গুরু মোহাম্মদ কিবরিয়া তা পেরেছিলেন। বিমূর্তধারার সঙ্গে এক ধরনের আধ্যাত্ম চেতনার সংমিশ্রণ ঘটাতে হয়। অনেকেই ভুল বোঝেন। এটা ঠিক তথাকথিত ধর্মীয় আধ্যাত্ম নয়। এটি প্রকৃতি, বিশ্বব্রহ্মা- ও মহাশূন্যের সঙ্গে শিল্পীর এক নিবিড় খেলা।

শিল্পী হিসেবে বলুন, নিজের শিল্পসত্তা প্রকাশে আপনি কতোটুকু স্বাধীন?
আমি এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমার শিল্পসত্তা প্রকাশের ব্যাপারে পুরোপুরি স্বাধীন ও আপসহীন। নিজস্ব শিল্প-ভাবনা ও শিল্প-প্রকাশ টিকিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করেছি। আজ পর্যন্তও তা করছি। অন্যের রুচি অনুযায়ী ছবি আঁকিনি। অনবরত নিজেকেই প্রকাশ করতে চেয়েছি।

স্বদেশ আপনাকে কতোটুকু টানে এবং ওই টান আপনার কাজে কতোটকু প্রভাব ফেলেছে?
স্বদেশ আমার এক গভীর প্রেরণা। যা-ই আঁকি না কেন, সেখানে স্বদেশ থাকে, থাকে স্বদেশের রঙ। সুযোগ পেলেই ভ্রমণ করি। এতো সুন্দর আমাদের দেশ! বর্ষা আমার প্রিয় ঋতু। বর্ষায় ‘বর্ষামঙ্গল’ শিরোনামে ছবি আঁকি এবং গত দুই বছরে অনেক ছবি জমেছে। ভাবছি ভবিষ্যতে একটা প্রদর্শনী করবো।

নিজের কাজে আপনার তুষ্টি কতোটুকু?
আমার কাজে মোটেই তুষ্ট নই। অনবরত একটি অতৃপ্তি কাজ করে। অনেক ছবি আছে বছরের পর বছর ফেলে রেখেছি, শেষ করতে পারি না। দেশে কিংবা বিদেশে কার কার কাজ আপনাকে মুগ্ধ করে, ভাবায় এবং প্রাণিত করে? দেশে মোহাম্মদ কিবরিয়া ও মনিরুল ইসলাম আমার প্রিয়। আসলে কিবরিয়া স্যার আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। খুব কাছ থেকে দেখেছি, একজন শিল্পী কীভাবে শিল্পের সাধক হয়ে ওঠেন। আমাকে সব সময় তাকে সন্ত শিল্পী হিসেবেই মনে হয়েছে। বিদেশে ক্যান্দেনেস্কি, মার্ক রথকো, পিকাসো, তাপিস আমার প্রিয়। তাদের কাজের ভেতর রঙ ও রেখার সঙ্গে দারুণ এক আধ্যাত্ম বোধের সংমিশ্রণ ঘটেছিল। এটিই আমাকে খুব টানে।

 

_______________________

লেখাঃ শাকিল সারোয়ার

ছবিঃ শোভন আচার্য্য অম্বু

Page 9 of 29

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…