তুমি না থাকলে...

 

 

‘চা’ ছোট্ট এক অক্ষরের এ শব্দটিতে মিশে আছে ভোরের আয়েশি আমেজ। একই সঙ্গে রয়েছে রোজকার পত্রিকা পড়ার সময়টুকুর মধুর সঙ্গ কিংবা বিকালের অবসন্নতার নিমেষে চনমনে হয়ে ওঠা ভাবটিও। এছাড়া অফিসের কাজের ব্যস্ততা, যে কোনো ভ্রমণের ফাঁকে কিংবা বন্ধুবান্ধবের আড্ডায় চা ছাড়া ভাবাই যায় না। অন্যদিকে অতিথি আপ্যায়নে দেশ-বিদেশ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চা এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। কাজেই সোজা কথায় বলা যায়, এই চা আজ পুরো বিশ্বের মানব জাতির কাছে অতি পরিচিত ও সমাদৃত পানীয়।

অবশ্য চায়ের নানান ধরন আছে। রয়েছে স্বাদ ও গন্ধের ভিন্নতা, এমনকি চা বানানোরও আছে ভিন্ন স্বকীয়তা। দেশ অথবা জাতিভেদে চায়ের পরিবেশনাতেও রয়েছে ভিন্নতা। কিন্তু আজকের এই বহুল পরিচিত বিশ্ব জননন্দিত ও সমাদৃত ওই পানীয়টির জন্ম ইতিহাস কী, কোথা থেকেই বা ওই চা আবিষ্কৃত হয়েছিল তা কি সবার জানা আছে?

এবার বলি চা আবিষ্কারের গল্পটি : খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩৭ সালের কথা। চায়নার সম্রাট শেন নাং তার ভৃত্য পরিবেষ্টিত হয়ে জঙ্গলে গিয়েছিলেন এক আনন্দ ভ্রমণে জুন্নান প্রদেশে। খোলা প্রান্তরে গাছের ছায়ায় বসে থাকার প্রাক্কালে সম্রাটের জলপাত্রের ফুটন্ত পানিতে হঠাৎ বাতাসের ঝাপটায় পাশের ঝোপ থেকে কিছু পাতা উড়ে এসে পড়লো। পাতাটি তুলে ফেলার আগেই তা জলের রঙ বদলে ফেললো। সম্রাট শেন কৌতূহলী হয়ে জলের ঘ্রাণ শুঁকে দেখলেন, এতে রয়েছে অন্য রকম এক মাদকতা। তিনি ওই স্বাদ নিলেন ও আনন্দিত হয়ে উঠলেন। পৃথিবীতে আবিষ্কৃত হলো এক নতুন পানীয়।
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চায়ের ঔষধি গুণাবলির স্বীকৃতি পেল যা পরে চায়নার প-িত কর্তৃক অমরত্বের স্পর্শমণি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। খ্রিস্টাব্দ ৪০০ শতকে চায়নার অভিধানে চা স্থান পায় ‘দকুয়াং ইয়া’ নামে। একই সঙ্গে বর্ণনা দেয়া হয় চা তৈরির পদ্ধতি। ৭২৫ খ্রিস্টাব্দে চীনের সম্রাট সরকারিভাবে ওই পানীয়র নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেন ‘চা’। তা আজ পৃথিবীর অনেক দেশে একই বা কাছাকাছি নামে পরিচিত। কাজেই দেখা যায় চা ও ‘চা’ শব্দটির জন্মস্থান চায়নাতেই এবং চৈনিক শাসক শেন নাং প্রথম চা আবিষ্কারক।

নানান চা, পরিবেশনা, রেসিপি ও উপকারিতা
রাস্তার টঙঘরের বিশাল টগবগে কেটলি থেকে ছোট্ট ছোট্ট কাপে ঢেলে ‘র’ চা শুরু করে রাজকীয় স্বর্ণের পেয়ালায় দুধ, চিনি বা মধু মিশিয়েও তা পরিবেশনার নজির রয়েছে।


জনপ্রিয় টি-ব্যাগ পরিবেশনা
এক পেয়ালা গরম পানিতে টি-ব্যাগের সুতাটি ধরে চুবিয়ে দিলেই হয়ে যায় মন মাতানো রঙের সুগন্ধি চা যা খুবই সুবিধাজনক পদ্ধতি। এই টি-ব্যাগের আগের চেহারাটি মোটেও আজকের দিনের চৌকোণা টি-ব্যাগের মতো ছিল না। বরং পোঁটলা করে যেন এক গোছা চা-পাতাই বাঁধা থাকতো সেখানে। ওই টি-ব্যাগের জন্ম নিয়েও রয়েছে একটি মজার ঘটনা। ১৯০৮ সালে আমেরিকার নিউ ইয়র্কের চা ব্যবসায়ী থমাস সুলিভ্যান ছোট ছোট সিল্কের কাপড়ে তৈরি পুঁটুলিতে করে চায়ের নমুনা তার কোনো এক ক্রেতার কাছে পাঠান। সেই ক্রেতা চাসহ ওই সিল্কের পুঁটুলি গরম পানিতে দিয়ে চা বানানোর চেষ্টা করেন। এই শুনে সুলিভ্যানের মাথায় আসে টি-ব্যাগের ধারণাটি। এরপরই তিনি টি-ব্যাগের প্রচলন শুরু করেন।

 

রঙ চা (‘র’ টি)
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ওই কালো চা। চা আমরা সাধারণত লিকার হিসেবে অথবা দুধ-চিনি মিশিয়ে পান করে থাকি। গবেষণায় দেখা গেছে, লিকার চা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া এই চা নিয়মিত পান করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে তা হতে হবে দুধ ছাড়া চা।


সবুজ চা (গ্রিন টি)
চা গাছের সবুজ পাতা রোদে শুকিয়ে তাওয়ায় সেঁকে এই চা প্রস্তুত করা হয়। সবুজ চায়ের গুণাবিল বলে শেষ করা যাবে না। এতে উচ্চ হারে ক্যাফেইন থাকে যা আপনার স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই চা পান করলে ত্বক থাকে টান টান ও সতেজ। সবুজ চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকর উপাদান রোধ করে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। সবুজ চা ত্বকের রোদপোড়া ভাব দূর করে। সবুজ চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়েও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দাঁতের ক্ষয় রোধ, মাঢ়ি মজবুত করা তো এর নিয়মিত কাজেরই একটি অংশ। শুধু তা-ই নয়, ওই চা নিয়মিত পান করলে শরীরের মেদ কোষে গ্লুুকোজ ঢুকতে পারে না। কাজেই ওই সবুজ চা ওজন কমানোর অন্যান্য যে কোনো ওষুধের চেয়ে নিরাপদ। এর কোনো
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সবুজ চা হাড়ের ক্ষয় রোধে বেশ কার্যকর। কাজেই লোহার মতো সবল হাড় পেতে পান করুন সবুজ চা। সোজা কথায় বলা যায়, চিরসজীব থাকতে এই চায়ের জুড়ি নেই।

 
ওলং চা
এই চা অর্ধেক গাজন করেই প্রস্তুত করা হয় অর্থাৎ প্রস্তুত প্রণালির ভিত্তিতে কালো আর সবুজ চায়ের মাঝখানে এর অবস্থান। সবুজ চায়ের মতো এর আছে বহুমুখী গুণ, বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ওলং চায়ের লিকার পান করলে কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে। ওলং চা বাংলাদেশে পাওয়া যায়। তবে এটি বহুল পরিচিত নয় এবং দামও কিছুটা বেশি।


আদা চা ও এর উপকারিতা
মন শান্ত করা ও মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে আদা চায়ের ভূমিকা অতুলনীয়। আর আদা চা যে খুশখুশে কাশি, গলা ব্যথা রোধে ভীষণ কার্যকর তা বোধহয় কাউকে নতুন করে বলে দিতে হবে না। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দিতেও আদা চা অনেক কার্যকর। কারণ আদায় রয়েছে ভিটামিন, মিনারাল ও অ্যামিনো এসিড। তা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ায় ও হৃৎপি-টি সচল রাখে। আদা চা ধমনি থেকে অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। মাংসপেশির ব্যথা কিংবা অস্থি সন্ধির ব্যথায় আদা চা খাওয়া উপকারী। কারণ আদায় রয়েছে এমন কিছু বিশেষ উপাদান যা প্রদাহ কমিয়ে দেয়। আদা চা বানাতে পানি গরম করার সময় আদা টুকরা করে দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ জ্বাল দিতে হয়। এরপর চা-পাতা ও চিনি দিয়ে নামিয়ে নিতে হয়। এছাড়া চা বানিয়ে এতেও আদার কিছুটা রস মিশিয়ে চা পান করা যায়।


তুলসী চা
অসাধারণ উপকারী তুলসী চা সর্দিজনিত মাথা ব্যথা, কাশি, সর্দি-জ্বর ও ঠা-া লাগা দূর করে। এটি দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা পেতেও সাহায্য করে। তুলসী চা বানাতে ২ থেকে ৩ কাপ গরম পানিতে ৫-৬টি তুলসী-পাতা ফুটাতে হবে। পানি ফুটে ১ কাপ পরিমাণ হয়ে এলে এতে চা পাতা দিয়ে নামিয়ে গরম গরম পান করলে কাশি, সর্দি, মাথা ব্যথার উপশম হয়। এটি এসিডিটি নিরাময়ে অনেক জনপ্রিয়।


লেবু চা
লেবু চা ওজন কমাতে অসাধারণভাবে কাজ করে। বা লিকার চায়ের তুলনায় পুষ্টিগুণে এটি বেশি উপকারী। লেবু চা বানাতে লিকার চা তৈরি করে পরিবেশনের সময় পরিমাণমতো লেবুর রস, চিনি বা মধু মিশিয়ে পান করা যায়।


পুদিনা চা
পুদিনা চা বা মিন্ট টি পেটের বাড়তি মেদ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া গলা বসা, গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি ও জ্বর নিরাময়ে সাহায্য করে। পুদিনা চা বানাতে তাজা অথবা শুকনাÑ দু’রকম পাতাই ব্যবহার করা যায়। ২ কাপ পানি, দেড় কাপ তাজা পাতা অথবা ১ চা-চামচ শুকনা পাতা, স্বাদের জন্য চিনি, মধু ও লেবু দেয়া যেতে পারে। পান করার ২-৩ মিনিট আগে গরম পানিতে পাতা দিয়ে রেখে দিতে হবে নির্যাস বের হওয়ার জন্য।


মধু চা
মধু চা-ও সর্দিজনিত মাথা ব্যথা, কাশি, সর্দি, জ্বর ও ঠা-া লাগা দূর করেতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। হালকা লিকারে মধু মিশিয়ে ওই চা বানানো হয়। তবে এর সঙ্গে লেবু চিপে দিলেও শরীরের জন্য যেমন উপকারী তেমনি সুস্বাদু হয়।


জেসমিন টি
জেসমিন ফ্লাওয়ারের সুবাসযুক্ত ওই চা দারুণ জনপ্রিয়। সাধারণ সবুজ চা বা গ্রিন টিতেই জেসমিন টি বানানো যেতে পারে। শুকনা চায়ের সঙ্গে সন্ধ্যার পর পর জেসমিন ফুলের পাপড়ি তুলে মিশিয়ে রাখতে হবে এবং সকালেই তা বেছে ফেলতে হবে। এভাবে ৭ দিন পর ফ্লেভার ট্রান্সফার হয়ে যাবে।

 


লেখা : শায়মা হক
মডেল : সাদিয়া বনি
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : মারিয়ান ফয়সাল

ব্যাগ ও ফ্যাশন

 

হ্যান্ডব্যাগ নারীর প্রয়োজনীয় ফ্যাশনেবল অনুসঙ্গ। ফ্যাশনে ও পার্টিতে হ্যান্ড ব্যাগের চাহিদা ব্যাপক। নিত্যনতুন ডিজাইনের হ্যান্ড ব্যাগের ব্যবহার শুধু সুপার মডেল, সেলিব্রিটি, ফটোশুট ও ক্যাটওয়াকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। নারীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় অ্যাকসেসরিস হিসেবে হ্যান্ড ব্যাগের বিকল্প নেই বললেই চলে। নানাধরনের পার্টি, ফ্যাশন শো অথবা বেড়ানোর জন্য পোশাকের পরই হ্যান্ড ব্যাগের স্থান। হ্যান্ডব্যাগের মানানসই ব্যাপারটি নিয়ে বর্তমানে নারীরা এতো সজাগ যে, এর জন্য পর্যাপ্ত সময় ও অর্থ ব্যায় করে পছন্দসই ব্যাগটি সংগ্রহ করতে দ্বিধাবোধ করেন না। নারীর হ্যান্ড ব্যাগ নারীর বর্তমান সময়কে স্বপ্নময় করে তুলছে। ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে হ্যান্ডব্যাগের কদর থাকলেও স্থান বা বয়সের তারতম্যে এর বিভিন্নতা রয়েছে। হ্যান্ড ব্যাগ ব্যাবহার বা বহন করার ব্যাপারে নিজস্ব রুচি বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরিবেশভেদে মনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভালো জিনিসটিই ব্যবহার করা উচিত। আসলে উপযোগী ও মানানসই হাতের ব্যাগটি শরীর ও মনের প্রশান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্যাগ পছন্দের ক্ষেত্রে নারীদের অনেক সচেতন হওয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কিছু কারণ রয়েছে। তা হলো- হ্যান্ডব্যাগ অনেক ক্ষেত্রে এটি নারীর সামাজিক অবস্থান নির্দেশ করে। তারা কতোটা ফ্যাশন সচেতন ও রুচিবান তা অনুমান করা যায়। তাদের সোস্যাল স্টাটাসের ইঙ্গিত করে।


শতবর্ষ আগে নারীরা বাইরে কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে খুব একটা জড়িত ছিলেন না। তখন তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ‘পার্স’-এ রাখতেন। আর আমাদের উপমহাদেশের সব নারীরা কাপড়ে বেঁধে রাখতেন। আর এখন দিন বদলেছে এখন গ্রামের নারীরাও বাহারী হ্যান্ডব্যাগ ব্যবহার করেন। প্রথম ষোড়শ শতকের দিকে বিলেতে বহনযোগ্য ব্যাগের ব্যবহার শুরু হয়। তখন বিভিন্ন মুদ্রা আলাদা করে রাখতে ছোট ছোট ব্যাগ ব্যবহার করা হতো। এরপর অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকের দিকে হাতে ব্যাগ বহন আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।


সারা বিশ্বের তরুণী ও বয়স্কদের মধ্যে ব্যাগ পছন্দের ক্ষেত্রে তারতম্য দেখা যায়। মধ্যবয়স্ক নারীরা লেদার, আর্টিফিশিয়াল লেদার ও বিভিন্ন কাপড়ের তৈরি অতি সাধারণ কিন্তু মানসম্পন্ন ব্যাগ বেছে নেন। তরুণীরা গর্জিয়াস অ্যাপলিং টাইপের ব্যাগ পছন্দ করেন। মিটিং, পার্টি, অনুষ্ঠানসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যাগ ছাড়া আপনার কাছেই নিজেকে বেমানান মনে হবে। সাজ-গোজ ও পোশাকের সঙ্গে নিজের রুচি অনুযায়ী ব্যাগের কম্বিনেশন করে নিতে হয়। আবার জুতোর সঙ্গেও মিল থাকা চাই ব্যাগ কিংবা পোশাকে। আবার এগুলোর কোনো একটি রঙ থাকতে পারে ব্যাগে- এমন পরামর্শ এখন হয়তো আর পাবেন না ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। বর্তমানে ব্যবহারে আরামদায়ক ও নিজের সঙ্গে মানানসই ব্যাগের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের। বাজারে চামড়া, কাপড়, পাটসহ বিভিন্ন উপাদানের ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পার্টি ব্যাগ ও বটুয়ার জনপ্রিয়তাও অনেক। অনুষ্ঠানে শাড়ি পরলে সঙ্গে মানিয়ে ছোট আকারের ব্যাগ, ক্লাচ বা বটুয়া নিলে দেখতে ফ্যাশনেবল দেখায়। আর এখন তো বাজারে বিভিন্ন রঙের ব্যাগ পাওয়া যায়। তাই পছন্দসই আকারের বিভিন্ন রঙের ব্যাগ নিজের কালেকশনে রাখতে ভালোই

লাগে। বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে একটু বড় আকারের পার্টি ব্যাগ ও ক্লাচ বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে এখন ফ্যাশনেবল পোশাকের পাশাপাশি ক্রেতার চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে মানানসই ব্যাগও রাখা হয়। চামড়ার ওপর পাথরের নকশা ও মখমলের কাজ করা হয় পার্টি ব্যাগে। এছাড়া হাতে এমব্রয়ডারি করা পুঁতি বসানো, কাপড়ের ওপর পুঁতির কাজ করা, শীতল পাটি, পাট ও জুয়েলারি স্টোনের পার্টি ক্লাচও পাওয়া যায়। শাড়ি, স্কার্ট বা লেহেঙ্গার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় বটুয়া। কাপড়ের ওপর লেইস বসানো বা ভেলভেটের বটুয়া পাওয়া যাবে যে কোনো বুটিকে।
প্রয়োজনের চেয়ে যেন ইদানীং ফ্যাশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ যেন আভিজাত্য ও স্টেটাস সিম্বল। বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যাগের ফ্যাশন। ছেলে ও মেয়ে-উভয়ের ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে মানানসই বাহারি রঙের বিচিত্র নকশার ছোট-বড় ব্যাগ অন্যতম অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। তাই অনেকেই যে কোনো পরিবেশে একটি ফ্যাশনেবল ব্যাগ ছাড়া নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করেন।
বর্তমানে ব্যবহারে আরামদায়ক ও নিজের সঙ্গে মানানসই ব্যাগের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের। বাজারে চামড়া, কাপড়, পাটসহ বিভিন্ন উপাদানের ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পার্টি ব্যাগ ও বটুয়ার জনপ্রিয়তাও অনেক।


অনুষ্ঠানে শাড়ি পরলে সঙ্গে মানিয়ে ছোট আকারের ব্যাগ, ক্লাচ বা বটুয়া নিলে দেখতে ফ্যাশনেবল দেখায়। আর এখন তো বাজারে বিভিন্ন রঙের ব্যাগ পাওয়া যায়। তাই পছন্দসই আকারের বিভিন্ন রঙের ব্যাগ নিজের কালেকশনে রাখতে ভালোই লাগে।
বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে একটু বড় আকারের পার্টি ব্যাগ ও ক্লাচ বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে এখন ফ্যাশনেবল পোশাকের পাশাপাশি ক্রেতার চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে মানানসই ব্যাগও রাখা হয়। চামড়ার ওপর পাথরের নকশা ও মখমলের কাজ করা হয় পার্টি ব্যাগে। পার্স পাওয়া যায় পার্টি কিংবা ক্যাজুয়ালে। শাড়ি কিংবা জমকালো কামিজের সঙ্গে হাতে ম্যাচ করা ঝলমলে পার্স না থাকলেই নয়।
বক্স ব্যাগ এটি শক্ত বক্স আকারের। ছোট-বড় সবই আছে। ছোট হাতল থাকে। কালো রঙের ব্যাগের ওপর থাকে সোনালি কাজ করা। এছাড়া চকলেট, বাদামি রঙগুলো বেশি চলে। আবার এখন ওপরে রাবারের মতো নতুন নকশার কিছু ব্যাগ পাওয়া যায়। সামনে থাকে লক সিস্টেম চারকোণা গড়নের।

ক্লাচ ব্যাগ ফ্যাশনে সব সময় এগিয়ে ক্লাচ ব্যাগ। চারকোণা, ডিম্বাকৃতি, গোলাকৃতি, পানপাতা, তিনকোণা, কাঠের হাতলসহ বাজারে রয়েছে নানান আকারের ক্লাচ ব্যাগ। এ ব্যাগগুলো হয় ডুয়েট স্টাইলের। হাতে নেয়া ছাড়াও সরু চেইন দিয়ে কাঁধেও ঝোলানো যায়। নকশাও নজরকাড়া। কোনো ব্যাগের শরীর ঢাকা নরম পালকে, কোনোটিতে মেটাল বা লেদার আবার কোনোটি শার্টিনের কাপড়ের নকশাদার আবরণ। তবে এখন বেশ জনপ্রিয় ছোট্ট বাক্সের মতো দেখতে ক্লাচ ব্যাগ ও চৌকো আকৃতির লেদার স্লিম ব্যাগ।

প্রয়োজনের চেয়ে যেন ইদানীং ফ্যাশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ যেন আভিজাত্য ও স্টেটাস সিম্বল। বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যাগের ফ্যাশন। ছেলে ও মেয়ে-উভয়ের ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে মানানসই বাহারি রঙের বিচিত্র নকশার ছোট-বড় ব্যাগ অন্যতম অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। তাই অনেকেই যে কোনো পরিবেশে একটি ফ্যাশনেবল ব্যাগ ছাড়া নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করেন।

 

লেখা : সহজ ডেস্ক
মডেল : নুসরাত শ্রাবণী
ব্যাগ ও আয়োজন : সিয়াকা
ছবি : ফারহান ফয়সাল

উৎসবে লাস্যময়ী ল্যাম্প

 



আলো ছাড়া একটা দিন কল্পনা করুন তো! মনে করুন, আপনার চারপাশ ঘিরে আছে অন্ধকার আর অন্ধকার! কি, ভয় লাগছে? এটি প্রমাণিত সত্য, শক্তি ও উদ্দীপনা সরবরাহ করে প্রতি মুহূর্তে আমাদের চারপাশে ঘিরে থাকে আলো। আলোর সঠিক ব্যবহারই একটি বাসস্থান দর্শনীয় করে তুলতে পারে। যে কোনো উৎসবে আপনার বাড়িতে আলোর প্রক্ষেপণ দিতে পারে ভিন্নমাত্রা। প্রাত্যহিক কাজগুলো সহজ-স্বাচ্ছন্দে করতে সঠিক মাত্রায় আলোর ব্যবহার যেমন সাহায্য করে তেমনি উৎসবে নানান আয়োজনে আপনার রুচির পরিচয় দেয় অতিথি ও বন্ধু-বান্ধবের কাছে। স্থান বুঝে আলোর উপযুক্ত ব্যবহার আপনার গৃহে দিতে পারে নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ। বিভিন্ন লাইটের সাহায্যে ঘরে আনা যায় আলোর নতুন মাত্রা। সঠিক মাত্রায় আলোর ব্যবহারে একটি সাধারণ গৃহকোণ হয়ে ওঠে অসাধারণ ও শৈল্পিক। চাইলে আপনি সহজেই উৎসবে নতুন আর ভিন্ন লাইট স্থান বুঝে ব্যবহার করে নতুন চমক সৃষ্টি করতে পারেন। বিভিন্ন আকার, আকৃতি ও ডিজাইন অনুযায়ী সঠিক লাইটটি ব্যবহার করতে পারলে আপনার শুধু লিভিংরুমে বা বেডরুমেই নয়Ñ ঘরের সব জায়গায় বৈচিত্র্য ও রুচির অপূর্ব সমন্বয়ে সৃষ্টি করতে পারেন এক মোহময় আবহ।

পছন্দ অনুযায়ী বাড়ির ভেতরে আলোর ব্যবহার ঠিক করার চেয়েও জরুরি ঘরের সাজের সঙ্গে মানানসই আলোর ব্যবহার। আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে, যে লাইটগুলো কিনছেন তা শুধু স্টাইলিশই নয়Ñ যে জায়গাটিতে ওই লাইটগুলো ব্যবহার করবেন সেখানকার জন্য কার্যকরও বটে। উদাহরণস্বরূপÑ পেনডেন্ট লাইটগুলোর শব্দ শুনতে কিংবা দৃশ্যত এর আবেদন থাকলেও তা কিচেনের কাজে কতোটা উপযোগী বা আসলে আপনার হাতের কাজগুলোর জন্য অনুকূল কি না সেটি ভেবে দেখা জরুরি। তাই কেনার আগে লাইটের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে জেনে নেয়া যেতে পারে। চিলড্রেন্স রুমে আলোর ডিরেকশন চেঞ্জ করে রুমে নতুনত্বের ছোঁয়া দেয়া যায়। ঠিক তেমনি রুমে ল্যাম্পের ব্যবহার অনিন্দ্য এক চেহারা দিতে পারে আপনার ঘরের। উৎসবের আমেজে ভরিয়ে তুলতে আপনি আপনার কমন স্পেস ও সদর দরজার সামনে ওয়াল ল্যাম্প বা রিসেসড লাইট ব্যবহার করতে পারেন।

পেনডেন্ট বা ঝোলানো লাইট
এই লাইট কর্ড, চেইন বা ধাতুর সাহায্যে ছাদ থেকে ফিক্স করে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এই লাইটে সাধারণত একটি চেইনের শেষে বাল্ব থাকে। তাই এটি বেশি জায়গা পূরণ করতে পারে না। তবে ইদানীং বাজারে বিভিন্ন আকার ও ডিজাইনের এই লাইট সহজলভ্য। যেমনÑ সিলিন্ডার শেপ, গোলাকার শেইপ বা ফানেলের শেইপে পাওয়া যায়। এটি সাধারণত একটি ছোট, নির্দিষ্ট এলাকা তথা রান্নাঘরের মাঝখান বা ডাইনিংরুমে টেবিলের মাঝখান বরাবর সেট করলে আলোর ব্যবহার সঠিক ও যথাযথ হয়।

শ্যান্ডেলিয়ার বা ঝাড়বাতি
শ্যান্ডেলিয়ার বা ঝাড়বাতি বড় ইউনিটে মিলিত একাধিক বাল্বের চমকপ্রদ সমাহার। শ্যান্ডেলিয়ার এক অসম্ভব সুন্দর আলোর উৎস। ঐতিহ্যগতভাবে এটি সুরুচিপূর্ণ অভিজাত ও ব্যয়বহুল। তাই এর ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম। সাধারণত বাড়ির ভেতরে প্রবেশপথ বা ড্রইংরুম, হলরুমে
এর ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়।  

ওয়াল স্কনস বা ওয়াল ল্যাম্প
ওয়াল স্কনস বা ওয়াল ল্যাম্প সাধারণত ব্যবহার করা হয় আলোকসজ্জায় নতুন আবহ যোগ করার জন্য। ওয়াল ল্যাম্প হচ্ছে ওয়ালে আটকানো এক ধরনের লাইট। এই লাইটে সাধারণত অল্প আলো ও কম স্পন্দনশীল আলোর ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি হলরুমের কর্নার বা প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি ব্যবহার করা যেতে পারে।

রিসেসড লাইট
স্পেস যদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয় তাহলে রিসেসড লাইট আদর্শ এবং অবশ্যই অসাধারণ বিকল্প। কারণ এই লাইটের জন্য মোটেও আলাদা কোনো স্পেসের দরকার না। সিলিং বা ফলস সিলিংয়ের ভেতরে সরাসরি লাইটগুলো লাগানো থাকে। এই লাইটগুলো কিচেন, লিভিংরুম ও বিশাল আকৃতির রুমে অনেক আলোর তীব্রতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেসব জায়গায় আলো বেশি দরকার বা অন্ধকার স্থানে অতিরিক্ত আলোর জন্য মেঝে ও দেয়ালগুলোয় এ লাইটগুলো লাগানো যেতে পারে। একটি সাধারণ  স্পেস অসাধারণ করে তুলতে এটি ব্যবহার করা হয়। এখানে আলোর উৎস গোপন থাকার কারণেই এটি অনেকের পছন্দ।

আলো আমাদের চারপাশ হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। কোন জায়গা কী কাজের জন্য এবং কোথায় কী ধরনের কাজের স্বাচ্ছন্দ্য হতে পারে তা বোঝা যায় ও চিনিয়ে দেয় আলোর ব্যবহারই। এমনকি আমরা যে স্থানে আছি সেখানকার আবহ এবং যে কাজ করছি এর পরিবেশ প্রভাবিত করতে পারে আলোর কার্যক্ষমতা। উৎসবে তাই গৃহের সাজে অনন্য মাত্রা দিতে আপনিও ব্যবহার করতে পারেন নানান ধরনের লাইট।

 


লেখা : সহজ ডেস্ক
ছবি : ইন্টারনেট

ঈদের মেকআপ

 



যে কোনো সাজ, সাধারণত পোশাক আবহাওয়া এবং দিন-রাত ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সাজার পরিকল্পনা করা উচিত। আর ঈদ মানেই আনন্দ উৎসব। এই আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাই বিশেষ সচেতনতা। এবার ঈদের সাজে বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবহার করা উচিত ওয়াটার প্রুপ কসমেটিক।

চলুন দেখে নেয়া যাক স্পা বিশেষজ্ঞ ‘হারমনি স্পা’ ও ‘ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতান রীতা এবার ঈদ উপলক্ষে সাজ বিষয়ে কী বলেছেন-

মেকআপ করার আগে কিছু বিশেষ টিপস মেনে চলা উচিত। মেকআপের আগে আলু ও শসার রস এক সঙ্গে মুখে মাখুন। এতে ত্বকে তরতাজা ভাব আসবে। ময়েশ্চরাইজার অবশ্যই লাগাতে হবে। এ কারণে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং শুষ্ক হওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

মুখের মেকআপ

ফাউন্ডেশন : শুরুতেই ত্বকে কোনো দাগ থাকলে কনসিলার দিয়ে ঢেকে নিন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন নির্বাচন করুন। যেমনÑ শুষ্ক ত্বক হলে ওয়াটার বেইজড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে মেকআপ অনেক সময় থাকে। তবে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার সময় ত্বকের রঙের চেয়ে এক শেড হালকা রঙ বেছে নিন। এরপর একটি ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ত্বকে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে বেইজ বসিয়ে নিন। পরে কমপ্যাক্ট পাউডার দিয়ে বেইজ মেকআপ শেষ করুন।
ব্লাশন : শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ব্লাশন ও তৈলাক্ত ত্বকে পাউডার ব্লাশন দিন। এবার চিক-বোনের ওপর ব্লাশন বুলিয়ে নিন। আপনার গায়ের রঙ উজ্জ্বল, হালকা পিংক বা পিচ কালার ও গাঢ় হলে ব্রোঞ্জ কিংবা ব্রাউন কালারের ব্লাশন ব্যবহার করুন। আর রাতের পার্টি হলে ব্লাশনের ওপর হালকা শিমার ব্যবহার করলে মেকআপ আরো গর্জিয়াস হবে।

চোখের মেকআপ

শুরুতেই আইশ্যাডো ফিক্সার জেল লাগিয়ে ৫ মিনিট রাখুন। তবে চোখ আর্কষণীয় করতে হলে শ্যাডোর ব্লেন্ডিং খুব ভালো করতে হবে। এ জন্য নাকের পাশে হালকা রঙ, মাঝে বা আইবলের ওপর গাঢ় রঙ এবং চোখের বাইরের কোণে হালকা রঙের শেড দিন। চোখ যদি ছোট হয় তাহলে চোখের বাইরের কোণে হালকা কালো কালারের শেড ব্যবহার করলে চোখ বড় দেখাবে। আপনার চোখের সাজ হবে সফট স্মোকি। আই ভ্রƒ-বোন এর ওপর লাইট শিমারিং শ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করুন।

ঠোঁটের মেকআপ

ঠোঁটের মেকআপ শুরুর আগে অবশ্যই বেইজ মেকআপ করে নিতে হবে। তাহলে লিপস্টিকের রঙ হবে দীর্ঘস্থায়ী এবং আসল রঙ চলে আসবে। প্রথমে উপরের ঠোঁটের দুই ভাঁজের সেন্টার পয়েন্ট থেকে ন্যাচারাল কালারের লাইনার দিয়ে নিচের ঠোঁট পর্যন্ত এঁকে নিন। এবার পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক দিন। লিপস্টিক ব্যবহার করার পর টিশু পেপার দুই ঠোঁটের মধ্যে রেখে চাপ দিয়ে নিলে সহজে কালার উঠে যাবে না। এরপর ঠোঁটের ওপর ন্যাচারাল টোনের লিপগ্লসও দিতে পারেন।

চুলের সাজ

সাজের জন্য চুল খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরিপাটি চুলের সাজ রুচিশীল ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। চুল সাজবে তো সাজবেন আপনি। তাই ঈদের জন্য আপনার চুলের সাজ ঠিক করুন আগে থেকেই। সাজের এই বিশেষ দিকটায়  যেন কমতি না হয় এদিকটাতেও লক্ষ্য রাখুন। তবে পোশাক, গহনা ও মেকআপের সঙ্গে মিল রেখে চুলের সাজও হওয়া চাই পারফেক্ট। এ সময় কেউ চাইলেই চুল ছেড়ে রাখতে পারেন আবার আলতো করে খোঁপা করেও রাখতে পারেন।

 

____________________________
মডেল : টুম্পা জামান
মেকওভার : ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

এই ঈদে আপনি...

 

 



ঈদ শব্দটি শুনতেই প্রথমে যে ভাবনা মাথায় আসে তা হলো  আনন্দ উৎসব। এটি বহু প্রতীক্ষিত খুশির আমেজে ভরপুর এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই আনন্দে জড়িয়ে থাকে নানান আয়োজন। আর এই আয়োজনে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার ইচ্ছা কার না থাকে! দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর বেশভূষায় ও সোন্দর্য চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থাপন করার কথা সবাই ভাবেন। এ সময় বিভিন্ন প্রস্তুতি থাকে, থাকে আয়োজন। তাই আপনার ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে মেহেদি, হেয়ারকাট- সবকিছুর আলোচনা থাকছে
‘সহজ’-এর ঈদ আয়োজনে।  


যত্নআত্তি
এক মাস সিয়াম সাধনা আর সবার জন্য সেহরি ও ইফতারের প্রস্তুতিতে আমরা মেয়েরা নিজের যতেœর কথা ভুলেই যাই। যদিও বা মনে থাকে তাহলেও যত্ন নেয়ার ইচ্ছা বা সময় অনেকেরই হয়ে ওঠে না। নিজের ও সবার জন্য মনমতো ঈদ শপিং এবং রান্নার আয়োজন শেষে ঈদের দিনে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত দেহ আর শুষ্ক কিংবা মলিন ত্বক নিয়ে আমরা কেউই খুশি থাকতে পারি না। চলুন তাহলে জেনে নিই কীভাবে ঈদের দিন আরো আকর্ষণীয়ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পূর্ব-প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে।
ঈদে সবাই নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চায়। এ জন্য শত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাকে এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এবার ঈদ হবে বর্ষায়। গরম, বর্ষাÑ যাই হোক না কেন, নিজের নতুন ঈদ লুক দিতে আপনাকে কিছুটা সময় তো বরাদ্দ করতেই হবে।

ত্বক : রোদ আর গরমে আমাদের ত্বক প্রাণবন্ত রাখতে হলে নিয়মিত ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং জরুরি। প্রতিদিন নিয়ম করে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। সাত দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন। স্ক্র্যাবিং করুন। প্রতিদিন বাজারে নানান স্ক্র্যাবার পাওয়া যায়। চাইলে রান্নাঘরের উপকরণও ব্যবহার করতে পারেন। চালের গুঁড়া খুব ভালো স্ক্র্যাবার। একদিন পর পর বেসন গুঁড়া ও দুধ মিক্স করে মুখ, গলা, হাত, পা ও পিঠে ব্যবহার করুন। এতে আপনার ত্বক অনেক উজ্জ্বল হবে। শ্যামলা মেয়েরা একটু হলুদ গুঁড়া মিক্স করে নেবেন এর সঙ্গে। এছাড়া উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বকের জন্য ঈদের কমপক্ষে তিন দিন আগে হাত-পায়ে ওয়াশ করান। এর সঙ্গে পুরো শরীরে সপ্তাহে তিনবার বেসন গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, ডিমের সাদা অংশ, দুধ ও মধু মিক্স করে ব্যবহার করুন। ফেসিয়াল করতে চাইলে তা ঈদের কমপক্ষে চার-পাঁচ দিন আগেই করে ফেলুন। ঈদের দিন শুধু মুখের সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়Ñ মলিন হাত ও পায়ের ত্বক পুরো সাজ ম্রিয়মাণ করে দেবে। তাই সাত দিন আগে থেকেই পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নিতে থাকুন।

চুল : ঈদে নতুন হেয়ারস্টাইলে সবাইকে চমকে দেয়ার মজাটাই আলাদা। এক্ষেত্রে বলবো, ঈদের দু’দিন আগে পার্লারে গিয়ে প্রচ- ভিড়ের মধ্যে হেয়ারকাট না করে বরং ১৫ কিংবা ১০ দিন আগে গিয়ে বিউটি এক্সপার্টের সঙ্গে আলোচনা করে মুখের গড়ন অনুযায়ী হেয়ারকাট করুন। আমাদের সবারই মুখের গড়ন একেক ধরনের। তাই যে কাট আপনার বান্ধবীকে আরো স্টাইলিশ লুক দিয়েছে তা আপনাকে বেমানান লাগতেই পারে। সুতরাং আপনার মুখের গড়ন অনুযায়ী হোক আপনার হেয়ারস্টাইল।

মুখের গড়ন অনুযায়ী হেয়ারকাটÑ
গোলাকার শেইপ (রাউন্ড ফেইস) : গোলাকার শেপের মুখের মেয়েদের কান পর্যন্ত ব্যাসকাট খুব ভালো মানায়। এক্ষেত্রে চোখের নিচ পর্যন্ত চুল কাটাবেন। কারণ ড্রাই হওয়ার পর চুল কিছুটা উপরে উঠে যাবেই। চুলে লেয়ারকাট দিলে মুখের দু’পাশের ফোলা ভাবটা চোখে পড়ে না। এতে মুখ কিছুটা লম্বাটে দেখায়।
চারকোণা শেইপ : এ ধরনের মুখে চিবুকের অংশটি বেশ প্রশস্ত হয়। তাই আপনার চুল বেশ লম্বা হতে হবে। হেয়ারকাট এমন হতে হবে যেন চিবুকের প্রশস্ততা কম মনে হয়। চুল কার্ল করতে পারেন অথবা স্ট্রেট করে সামনে ব্যাস কাটতে পারেন। চুল যদি ছোট হয় তাহলে পেছনে গোল করে কাটুন। লেয়ারকাটও এ ধরনের মুখের জন্য খুব ভালো। এতে মুখের চওড়া ভাবটা বোঝা যায় না।
লম্বাটে শেইপ : লম্বা মুখে স্টেইট হেয়ার মুখটিকে আরো লম্বা করে। চুল উঁচু করে বাঁধবেন না। পনিটেল না করে সাইড ব্রেইড ট্রাই করতে পারেন। স্টেপকাট দিতে পারেন। স্পাইরিল বা কার্ন করে নিতে পারেন।
ডায়মন্ড শেইপ : এই শেপের ফেইস প্রশস্ত হয় আবার লম্বাটে গড়নেরও হয়। গালের হাড় যেন ছোট দেখায় এ জন্য কপাল ও চিবুকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চুল কাটতে হবে। ইদানীং এমু-কাট খুব জনপ্রিয়। লেয়ারকাটও দিতে পারেন।
ওভাল শেইপ : ওভাল শেপ অনেকটাই পারফেক্ট শেপ। তাই পনিটেল, উঁচু করে চুল বাঁধা, যে কোনো হেয়ারস্টাইল ও কাট এতে মানিয়ে যায়।
হার্ট শেইপ : সরু চিবুক ও প্রশস্ত কপালই হাট শেপ ফেইসের বৈশিষ্ট্য। কপাল ঢাকা থাকে এমন কাট তথা চায়নিজ কাট, ব্যাস ট্রাইল করুন। ছোট চুল হলে ববকাট খুব মানায়। লম্বা চুল হলে লেয়ারকাট দিতে পারেন। পেছনে আর সামনে ব্যাসকাট খুব ভালো মানাবে।

চুলের যত্ন
    শুধু স্টাইলিশ হেয়ারকাট দিলেই হবে না। রুক্ষ চুলে কোনো হেয়ারস্টাইলই ফুটে ওঠে না।
    চুলের যতেœ দুই মাস অন্তর চুলের আগা কেটে ফেলুন।
    নিয়মিত চিরুনি ও হেয়ারব্রাশ পরিষ্কার করুন।
    নিয়মিত নারিকেল তেল চুল ও মাথার ত্বকে মাসাজ করুন। আজকাল বিভিন্ন হেয়ার ট্রিটমেন্ট করা হয় পার্লারে। সেগুলোও করাতে পারেন। বাসায় যখন চুলে তেল দেবেন তখনই ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল মিক্স করে নেবেন।
    চুলের যতেœ অলিভ অয়েলও খুব ভালো।
       চুল পড়া কমাতে ও চকচকে ভাব আনতে চায়ের কড়া লিকারের সঙ্গে কাগুজি লেবুর রস মেশান। চুল ধোয়ার পর সব শেষে এ মিশ্রণটা ব্যবহার করুন।
   চুলের জন্য অ্যালোভেরা খুবই উপকারী। চুলে অ্যালোভেরা জেল দিয়ে রাতে রেখে দিন। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে পুরো মাথা ঢেকে নিন। ঘুম থেকে উঠে চুল ধুয়ে নিন। এতে নিজের চুলের সৌন্দর্যে নিজেই অবাক হবেন।

মেহেদি রাঙা ঈদ
ঈদের চাঁদ উঠলেই বাড়ির নারীদের মেহেদির পাতা বেটে রাতভর হাতে লাগিয়ে রাখার দৃশ্য ওই ছোটবেলা থেকেই আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। দিন বদলেছে, ফ্যাশন বদলেছে। কিন্তু মেহেদির সাজে হাত রাঙানো না হলে ঈদের আমেজটাই যেন পাওয়া যায় না! তাই পার্লারে গিয়ে দু’হাতভরে নিত্যনতুন ডিজাইনে হাত রাঙাতে ঈদের আগের রাতে মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে যান। তবে বাটা মেহেদির চলনটা আজও আছে। পাড়া-মহল্লায় যে মেয়েটি খুব সুন্দর করে হাতে
‘মেহেদি ডিজাইন’ আঁকতে পারে, নিশ্চিতভাবেই চাঁদরাতে তার বাড়িতে ভিড় করে কিশোরীরা। দিন দিন মেহেদির নকশাতেও আসছে পরিবর্তন। সাধারণত তিন ধরনের ডিজাইন তথা লঙ্কা, ফুলেল ও ময়ূরÑ এগুলো সব সময়ই মেয়েদের পছন্দ। এখন ছোট করে বিভিন্ন মোটিফের ডিজাইন বেশ চলছে। হাতের ওপরিভাগে ছোট ডিজাইন কিংবা চেইন বেশ লাগে দেখতে। আজকাল কনুই পর্যন্ত মেহেদি পরার চলনটা বেশ।
পরিবর্তিত ফ্যাশনের মতো টিউব মেহেদিতেও ভিন্নতা এসেছে। ব্ল্যাক মেহেদি গ্লিটার, ড্রেসের সঙ্গে কালার ম্যাচ করে অনেকেই মেহেদি পরছেন। টিনএজারদের অনেকে চোকার-এর ডিজাইনে গলায় মেহেদি পরে ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছে।
আজকাল নেইল আর্ট বেশ জনপ্রিয়। তবে হাতে মেহেদি পরলে সাদা নেইলপলিশ, মেরুন নেইলপলিশ, ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর বেশ ভালো মানায়। নেইল আর্ট পছন্দমতো করে নিলেও খেয়াল রাখবেন তা যেন মেহেদিটিকে ছাপিয়ে না যায়।
আজকাল আর সারা রাত হাতে মেহেদি রাখতে হয় না। দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া গাঢ়রাঙা মেহেদি টিউব বাজারে পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মেহেদি শুকিয়ে গেলে ডিজাইনের ওপর সরিষার তেল কিংবা কাগুজি লেবুর রস ও চিনির মিশ্রণ দিতে পারেন। ওই মিশ্রণ ব্যবহার করলে তা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বেশিদিন রঙ ঠিক রাখতে হলে হাতে যথাসম্ভব কম সাবান ও পানি ব্যবহার করুন। অনেকেই জানান, টিউব মেহেদি ব্যবহারে তাদের হাতে র‌্যাশ বা অ্যালার্জি হয়েছে। এর কারণ হলো, বাজারের টিউব মেহেদিতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহƒত হয়। অ্যালার্জি এড়াতে ল্যাকটোক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করার পর মেহেদি দিন।   

রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনায় ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যে আত্মসুদ্ধি হয়, ঈদের দিনটি আসে এরই উপহারস্বরূপ। বছরের সব আনন্দ উপচে পড়ার দিন এই ঈদ। নতুন পোশাক ভালো খাবার আর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পুনর্মিলন যেন পরিপূর্ণ করে এইদিনটিকে। তাই ঈদে সবারই চাই বাড়তি সৌন্দর্যে নিজেকে বিকশিত করা।
 

____________________
 লেখা :  ফারহাতুল জান্নাত
 মডেল :  বারিষ হক
 ছবি :  সহজ আর্কাইভ

সুইমিং রিক্রিয়েশন



কার্ডিও ভাস্কুলার ফিটনেস বজায় রাখার জন্য সাঁতার সবচেয়ে উন্নততর পন্থা। সাঁতার এমন একটি ব্যায়াম যা ল্যান্ড বেইজড ব্যায়াম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জলরাশির নিজস্ব একটা চাপ রয়েছে। ফলে পানিতে প্রথম নিজেকে ভাসিয়ে রাখতে ও সামনে এগিয়ে নিয়ে যওয়া শিখে নিতে হয়। কার্ডিওর পেশেন্টের জন্য সাঁতারের চেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যায়াম আর দ্বিতীয়টা নেই। তবে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। একই সঙ্গে হৃৎপি- ও শরীরের সব পেশী সমানভাবে কাজ করে। সুইমিংপুলে সাঁতারের একটি বড় সুবিধা হলো পুলের নিরাপত্তা, শীতল ও মনোরম পরিবেশ। তা শরীর ও মনে অন্য রকম প্রশান্তি এবং ফুরফুরে মেজাজ এনে দেয়। ছয় ঋতুর নিজস্ব স্বাধীনতা থাকলেও আমরা বছরের প্রায় সাত মাসই গরম অনুভব করি। বিশেষত আমাদের ঢাকা শহরে গ্রীষ্ম তথা গরম মৌসুমে দাবদাহ চলে, তখনই এই স্বচ্ছ জ্বলাধার আমাদের শীতল পরশ এনে দেয়। তবে সাঁতারের ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যদি আপনি মৃদু উত্তেজনা বোধ করেন তাহলে ধীরগতিতে সাঁতরাবেন। জলের বিরুদ্ধে না গিয়ে জলের সঙ্গে কাজ করুন। প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারের অভ্যাস না থাকলে কখনোই অন্য সাঁতারুর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ঠিক নয়।
যাদের শারীরিক গঠন, আপার বডি অথবা উইংস প্রশস্ত এবং লোয়ার বডি সরু, অনেকটা সার্ফ বোর্ড বা রূপকথার মার্মেইডের মতো তারা বাড়তি সুবিধা পায় সাঁতারে। এক্ষেত্রে সমাধান একটাই, আরামদায়ক গতিতে নিজের সঙ্গে মানিয়ে সাঁতার কাটা।


সারা দিন ফুরফুরে আমেজ ধরে রাখার জন্য অনেকেই সকালেই সুইমিংপুলে যান। প্রচ- গরমের কারণে কেউ বা আবার দুপুর, কেউ সারা দিনের কর্মব্যস্ততা সেরে নির্ভেজাল প্রশান্তি খোঁজার জন্য সন্ধ্যার পরও সুইমিংপুলে যান। সর্বাধিক ফ্যাট কমানোর জন্য সাঁতারের বিকল্প নেই। খালি পেটে সাঁতার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার শরীরের জ¦ালানি অর্থাৎ ক্যালরির দিকে নজর রাখতে হবে।
যেহেতু আমাদের রাজধানী অর্থাৎ ঢাকা শহরে সাঁতারের উপযোগী কোনো জলাধার নেই সেহেতু আপনাকে সুইমিংপুলে যেতে হবে। সুইমিংপুলে সময় দেয়া একটা বড় রকমের বিনোদনও বটে।
পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পুলে যেতে পারেন। আর শিশুদের কথা বলতে গেলে বলা যায়, তাদের কাছে পুল একটুকরো স্বর্গ। তবে সাঁতারের ইনিশিয়াল ট্রেনিং থাকতেই হবে। বড়দেরও শিশুদের পাশাপাশি অবস্থান করতে হবে। এখন শুধু পাঁচতারা হোটেলগুলোর মধ্যেই সুইমিংপুল সীমাবদ্ধ নেই। কেউ কেউ বাড়তি সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্যই বাড়িতেই পুল তৈরি করছেন। আধুনিক আর্কিটেক্টরাও বাড়িতে সুইমিংপুল রাখার পরামর্শ দেন। এতে বাড়ির সৌন্দর্য ও আভিজাত্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।


বাণিজ্যিক সুইমিংপুলগুলোয় সময় কাটানো কিছুটা ব্যয়বহুল। এরপরও নির্ভেজাল উৎকৃষ্ট বিনোদনের কথা মাথায় রেখে সপ্তাহের অন্তত দু’দিন আপনি সুইমিংপুলের শরণাপন্ন হতে পারেন।
শহরের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই সাঁতার জানে না। আর অভিভাবকরা সময়-সুযোগের কথা বলে খোঁড়া যুক্তি দেখান। জেনে রাখা দরকার, পৃথিবীর সব থেকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিসহ কয়েকটা দেশে শিশুদের সাঁতার শেখানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশে শহুরে ছেলে-মেয়েরা সাঁতার জানে না বললেই চলে। পুলের নিরেট স্বচ্ছ জলরাশি থেকে উঠেই ভাববেন না স্নান শেষ। এর সঙ্গে সঙ্গেই শাওয়ার নিয়ে ফেলবেন। আপনি সুইমিংপুলে যাচ্ছেন। আপনার সুইমিং কস্টিউম সঙ্গে নিয়েছেন তো?

 


______________________________


 লেখা : শাফিক মালিক
 মডেল : নাজমুল সাদ
 ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
 কৃতজ্ঞতা :  শাখাওয়াত হোসেন কল্লোল

চুলের রঙে রঙিন

 




আসছে রোজার ঈদ। বছর ঘুরে আসে বহু প্রত্যাশিত এদিনটি। ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই উৎসব। আর এ উৎসব উপলক্ষে প্রত্যেকেরই নিজেকে নিয়ে থাকে নানান প্রস্তুতি। অন্যসব দিনের চেয়ে এদিনটি ব্যতিক্রম হওয়ায় সাজটিও হওয়া চাই আলাদা। ঈদ নিয়ে ফ্যাশনের সব শাখায় চলে অন্তহীন ব্যস্ততা। চাঁদরাত পর্যন্ত চলে অবিরাম প্রস্তুতি।


বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের চুলের ফ্যাশন নিয়ে আগ্রহ অপরিসীম। থাকে চুলের বিভিন্ন স্টাইল বা কাট এবং এর সঙ্গে চুলের বিভিন্ন রঙে রঙিন চমক। ইদানীং চুলের বাহারি রঙ নিয়ে চলছে বেশ মাতামাতি। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত ফ্যাশনে স্থান করে নেয় নানান অনুষঙ্গ। কাল ও যুগের পরিক্রমায় কখনো বা নতুনত্বের পসরা নিয়ে সামনে আসে ফ্যাশনের বৈচিত্র্য, কখনো বা পুরনোকে নতুনের ছাঁচে ঢেলে তৈরি হয় অতীতের ফ্যাশনের সঙ্গে বর্তমান আধুনিকতার অপূর্ব মিশেল। ফ্যাশনের এই হাজারো উপকরণ এবং এর উপযোগিতা খুঁজে নেয় বর্তমানের ফ্যাশন দুরস্ত মন। সারা পৃথিবীতে চলছে চুলের রঙ নিয়ে রঙবেরঙের খেলা। এ খেলায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও। চুলের রঙ কেমন হবে তা প্রত্যেকের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত জাতি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে চুলের রঙ সম্পর্কিত। আমাদের দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষেরই চুলের রঙ কালো। তবে কালো চুলও বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে চেহারায় ফুটিয়ে তোলা যায় অন্য রকমের আবেদন।


সাধারণত দুই ধরনের মেলানিনের কারণে চুলের রঙে পার্থক্য হয়ে থাকে। তা হলো ইউমেলানিন ও ফোমেলানিন। কারো চুলে ইউমেলানিন বেশি থাকলে তার চুলের রঙ গাঢ় হবে এবং পরিমাণ কম হলে হবে হালকা। তবে চুলে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে এখন সহজেই রঙ পরিবর্তন করা যায়।  চুলের রঙ স্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এর ওপর নির্ভর করে খরচ হয়। ক্ষণস্থায়ী বলতে বোঝায়, এর স্থায়িত্ব থাকবে ৩ থেকে ৬ মাস। ছেলেমেয়েদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ ব্লন্ড কালার বা স্বর্ণকেশী রঙ। খুব সহজেই মানিয়ে যায় এ রঙটি। তাই হয়তো এ রঙটি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

এছাড়া আজকাল টিনএজার মেয়েরা প্রথা ভেঙে চুলের নিচের অংশটুকু নীল বেগুনি ইত্যাদি রঙেও রাঙিয়ে নিচ্ছে। বাজারে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রঙ, যেমন লরিয়েল, রেভলন, গার্নিয়ার, জেস্ট, ডাভ, গোদরেজ ইত্যাদি। এর সাহায্যে আপনার চুল বাড়িতে বসেই অনায়াসে রাঙিয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে প্রথমবার হলে অবশ্যই কোনো ভালো পার্লার বা স্যালন-এ গিয়েই করানো উচিত।  রঙ করার আগে চুলে ব্লিচ করে নিলে রঙ কিছুদিন বেশি স্থায়ী হয়। তবে এতে চুলের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আজকাল অবশ্য অনেকে মেহেদি দিয়েও চুল রঙ করতে আগ্রহী।
 

লক্ষণীয়:


   যে কোনো উৎসবের অন্তত ৫ দিন আগে চুলে রঙ করানো উচিত। এতে চুলে রঙটা ভালোমতো বসে এবং
   চেহারার সঙ্গে মানানসই হয়।
   রঙ করার পর অবশ্য চুলের বাড়তি যতœ নেয়া প্রয়োজন। আজকাল কালার প্রটেক্টেড শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার
   পাওয়া যায় যে কোনো শপিং মল আর প্রসাধনীর দোকানে।
   বাড়তি যত্ন আপনার চুলে এনে দেবে জেল্লা আর ঝলমলে ভাব।

 

 

_____________________________

 লেখা : সোনাম চৌধুরী
 মডেল : ফারিয়া আফরিন
 মেকওভার : ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালন
 ছবি :  শোভন আচার্য্য অম্বু

বাহারি ব্রেসলেট

 



ইংরেজি শব্দ ব্রেসলেট বাংলা ভাষায় এমনভাবে স্থান করে নিয়েছে যে, কেউ আর এর আভিধানিক অর্থ খুঁজতে যান না। আগে শুধু শহরে এর ব্যবহার দেখা যেতো। এখন শহর ও গ্রামÑ উভয়স্থানেই ছেলেরা নিজের ইউনিক লুকের জন্য ব্রেসলেট পরে। মজার বিষয় হচ্ছে, রিস্ট হিসেবে পরার ওই বস্তুটি পুরো গেটআপেই ফোকাস করতে সক্ষম। এক দশক আগে ব্রেসলেট শুধু ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গেই পরতে দেখা যেতো। অতীতের ওই ধ্যান-ধারণা পাল্টে ফরমাল ও
ক্যাজুয়াল- উভয়ক্ষেত্রেই ব্রেসলেট দারুণভাবে মানিয়ে যায়। অতীতে যেতে হলে একেবারে আদিম যুগের মানুষের কথা বলতে হয়। তখন তারা পশুর হাড়, চামড়া কব্জিতে ব্যবহার করতো। কোনো রিচুয়াল স্থান থেকে এখনো ওই ধারণা পুরোপুরি উঠে যায়নি। পশ্চিমা বিশ্বে কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে হরেক রকমের ব্রেসলেট পরতে দেখা যায়। লেদার ও মেটাল, জুয়েলারি স্টেইনলেস স্টিল, সুতা, রাবার, পুঁথি, প্লাস্টিক উপকরণসহ নানান সামগ্রী ব্রেসলেটে ব্যবহার করা হয়। ছেলেদের ফ্যাশনে নতুন উপাদান ও নকশার ব্রেসলেট এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিছু ব্রেসলেট সিলিকন অর্থাৎ নরম ধাতু দিয়ে তৈরি হয়। একেকজনের রুচি একেক রকম। তাই একেকজন একেক রকমের ব্রেসলেট পরতে পছন্দ করেন। অকেশনের ভিন্নতার কারণেও ব্রেসলেটের ভিন্নতা দেখা যায়। ব্রেসলেট ফ্যাশনের অন্যতম অংশ হলেও সব সময় গর্জিয়াস ব্রেসলেট পরাটা ঠিক না। পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করেই আপনার ব্রেসলেটটি পছন্দ করতে হবে। টিশার্ট, পোলো শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্টের সঙ্গে লেদার অথবা রবারের ব্রেসলেট পরতে পারেন। আনুষ্ঠানিকতায় চেইন ও পিতলের

 তৈরি ব্রেসলেট পরতে পারেন। সেমিফরমাল পোশাকের সঙ্গে চামড়া বা কাঠ দিয়ে তৈরি ব্রেসলেট বেশ মানানসই। কুলবয় লুক পেতে কম-বেশি অনেকেই মেতে উঠছে ব্রেসলেট পরার জন্য। তাই কোন ধরনের ব্রেসলেট আপনি পরতে পারেন তা দেখে নিন-


ব্যাঙ্গেল ব্রেসলেট : ব্যাঙ্গেল স্টাইলের এই ব্রেসলেট বেশ জনপ্রিয়। পুঁথি ও নানান রঙের বালা এক সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাঙ্গেল তৈরি করা হয়। এটি যেমন সুন্দর তেমনি স্মার্ট।
বিডেড ব্রেসলেট : স্টোন, কাঠের টুকরা ও প্লাস্টিক দিয়ে ফুরফুরে মেজাজের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায় এই বিডেড।
কাফ ব্রেসলেট : একদিকে খোলা হয় এই ব্রেসলেটটি পরতে বেশ সুবিধা রয়েছে। এগুলো সাধারণত মেটালের হয়ে থাকে।
লেদার ব্রেসলেট : যারা মেটাল ব্রেসলেট পছন্দ করেন না তারা পরতে পারেন এই লেদার ব্রেসলেট। এটি স্মার্ট লুকের সাথে প্রকাশ করে আভিজাত্য ও ব্যক্তিত্ব।
লিংক ব্রেসলেট : একটার পর একটা স্টোন ও মেটালের কারুকার্য দিয়ে যুক্ত করে এই ব্রেসলেট তৈরি হয়। এই ব্রেসলেট আপনার রুচির পরিচয় দেবে তখনই যখন লিংক ব্রেসলেট নির্বাচনে ভুল করবেন না।
মাল্টিস্ট্রেন্ড ব্রেসলেট : অনেকটি চেইন এক সঙ্গে পেঁচিয়ে তৈরি করা হয় এ ব্রেসলেটটি। একটা সময় মনে করা হতো রঙবেরঙের ব্রেসলেট শুধু মেয়েদের হাতেই মানায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনে এসেছে পরিবর্তন। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও  ব্রেসলেটকে ফ্যাশন
 

 

________________________


লেখা : শাফিক মালিক
স্টাইলিং: শাফিক মালিক
মডেল : জুবায়ের, শাকিল
ছবি :  শোভন আচার্য্য অম্বু

 হেয়ারকাট

 

কতো শত গান, কবিতা রচিত হয়েছে নারীর চুল ঘিরে। নারীর সৌন্দর্য বর্ণনায় চুলের উপমা থাকবেই। তবে ছেলেদের চুলের সৌন্দর্য অনেকটাই অপ্রকাশিত থেকে গেছে। মজার বিষয় হচ্ছে, সময়ের এমন পরিবর্তন এসেছে যে, নারীর চেয়ে ছেলেরা চুলের স্টাইল নিয়ে বেশি সজাগ এবং বৈচিত্র্যও অনেক।


নারীরা চুলের যত্নে হাতে গোনা কয়েকটা স্টাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। এক্ষেত্রে ছেলেরা চাইলেই তার চুলের স্টাইল চেঞ্জ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লুক নিয়ে আসেন। অতীতের ছেলেদের উড়ন্ত চুল বিপ্লব ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ধরা হতো। শুধু চুলই পারে কারো অবয়বের পুরোপুরি পরিবর্তন করে দিতে। হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে যে কোনো ছেলের কুল লুক, বয় লুক, অ্যারিস্টোক্রেসি, এথলেক, ব্যক্তিত্ববান, রাফ অ্যান্ড টাফ ও জেন্টেল লুক প্রকাশিত হয়। বর্তমান ফ্যাশনে ছেলেরা নিত্যনতুন হেয়ারস্টাইল নিয়ে খুবই সজাগ। তাদের হেয়ার ফ্যাশন দু’ভাবে হতে পারে। তা হলো লম্বা ও ছোট চুলের স্টাইল।


লম্বা চুলের জন্য একটি জনপ্রিয় স্টাইল হচ্ছে মেন বান কার্ট। সহজ কথা হচ্ছে চুলে একটি ঝুঁটি বাঁধা। এটি হতে পারে সব চুল এক সঙ্গে পেছনে বাঁধা আবার শুধু হেড বটম চুলগুলো ছোট করে ঝুঁটি বাঁধা। পেছনের চুল খোলা রাখা যেতে পারে। এটি বিভিন্ন স্টাইলেও করা যায়। আপনার ফেইস অনুযায়ী নিজের কাছে যেটি মানানসই হবে সেটিই করতে পারেন।


কুল লুকের জন্য গ্লোসার কার্ল ফ্যাশনে স্থান করে নিয়েছে। এই স্টাইল চোখে পড়ার মতো ইউনিক লুক এনে দেয়। এক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা আছে। আপনার চুল কার্লি না হলে এই কাট থেকে মন সরিয়ে নিন।
আপনার মাঝারি চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করে ফেলুন। করপোরেটের ক্ষেত্রে এটা এনে দেয় দারুণ লুক। এ স্টাইলটিকে বলা হয় ইজি সুইফট ব্যাক। তবে এটি আপনাকে ম্যাচিউরড লুক পেতে সাহায্য করে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে টিনএজারদের থেকেতুলনামূলকভাবে একটু বেশি বয়সের ছেলেদের এই কাট ভালো মানায়।

এবারের ঈদে তরুণদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের কাট হচ্ছে শর্ট স্টিকিং। দু’দিক থেকে বেশি ছোট করে বটম চুল একটু বড় করে জাম্পিংয়ে রাখা। ফুটবল তারকাদের মধ্যে এ স্টাইল বেশি দেখা যায়।
শর্ট সাইড পার্ট হাল ফ্যাশনের আরেকটি স্মার্ট কাট। বামদিকে ছোট করে একটা লম্বা স্পষ্ট সিঁথি বের করে বাকি চুলগুলো আঁচড়ে নিতে হয়। হাল ফ্যাশন থেকে ছিটকে পড়েছে পাম্প স্টাইল এবং বিভিন্ন স্পাইক। চুল যখন আপনার পুরো গেটআপ পরিবর্তন করতে সক্ষম তখন একবার ভেবে নিন, এবার ঈদে আপনি কোন স্টাইল বেছে নেবেন। সেটি আগে থেকে প্ল্যান করে হেয়ার ড্রেসারের কাছে যান।

 

_______________________________


লেখা : শাফিক মালিক
স্টাইলিং : শাফিক মালিক
মডেল : তুষার, আপেল, তনয়, রাসেল
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

সেকেন্ড ইনিংস

 

সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার। পরিবার আমাদের ব্যক্তি চরিত্র বিনির্মাণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিবার ছাড়া সমাজ, এমনকি রাষ্ট্রও অলীক। তাই মানব সভ্যতার প্রাথমিক ও চূড়ান্ত স্থানটি আজও পরিবারের। দেশে দেশে পরিবার বিভিন্নতর হলেও এর মৌলিক ভিত্তি একই। যৌথ পরিবার ভেঙে ভেঙে পরিবারের বিভিন্ন আদল আমরা দেখতে পাই। এতেও পরিবারের প্রতি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশা কমেনি। আর এই পরিবার টিকে থাকে আস্থা, ভালোবাসা, বিশ্বাস ও নির্ভরতায়। পরিবার তৈরি এবং টিকিয়ে রাখতে বিয়ে অনিবার্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়। এই বিয়ের ভবিষ্যৎ পরিবারের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ জন্য বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের নানান প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। দেখলাম, ভালো লাগলো, ধুম করে বিয়ে করো- এসবই ভুল চিন্তা ও কাজ। এটি অস্বাস্থ্যকর দাম্পত্য জীবনের সূচনা করে। পশ্চিমা এক সাইকোলজিস্ট ও ম্যারিজ কাউন্সিলরের একটি লেখায় তিনি জোর দিয়েছেন বিয়ের আগে থেকে বিয়ে-পরবর্তী দায়িত্বগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার ব্যাপারে। পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত পারস্পরিক দায়িত্ব গ্রহণ ও পালন এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


বিয়ে হচ্ছে দুটি মন ও মানুষের এমন এক রসায়ন যা মিলে গেলে খুবই ভালো, না মিললেই তা হয়ে ওঠে হৃদয়বিদারক। আবার বিয়েটিকে আধা মিল ও আধা গরমিলের টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করলে অত্যুক্তি হবে না। খেলায় যেমন হার-জিত থাকে তেমনি সামাজিক এ সম্পর্কটিতেও হার-জিত আছে। বিয়েতে সফল হতে না পারলে বা সম্পর্ক রক্ষায় হেরে গেলে সারা জীবন মাথা হেট করে নিজেকে অসফল ভাবার কিছু নেই। জীবন তো বহতা নদী। আর সামাজিক জীব হওয়ার কারণে মানুষের পক্ষে একা থাকা সম্ভব নয়। তাই প্রথম ইনিংসে হেরে যাওয়া খেলোয়াড় অনায়াসে খুঁজে নিতে পারেন দ্বিতীয় আরেক পার্টনার।বিয়ের পর দু’জন নতুন মানুষ এক সঙ্গে থাকতে শুরু করলে সহনশীলতা খুবই দরকার পড়ে। মূলত নিজের ‘প্রাপ্তি’ বা ‘আকাক্সক্ষা’ নিয়ে বেশি বেশি ভাবলে প্রবঞ্চিত অনুভব করার আশঙ্কা থেকেই যায়। যে কোনো শূন্যতাই মানুষকে তা পূরণে তাগিদ দেয়। সেটি মানসিক হলে মানসিক এবং জৈবিক হলে জৈবিক।


অনেকে বিয়ের গাঁটছড়া বেঁধে বেশ কিছুদিন এক সঙ্গে পার করে দেয়ার পর বুঝতে পারেন তারা ভুল মানুষকে বেছে নিয়েছিলেন। অনেক দ্বিধা ও ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে আলাদা হওয়ার পর আবার নতুন করে জীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করেন অর্থাৎ দ্বিতীয়বার নতুন কারো খোঁজ করেন।
সুন্দর একটি আদর্শ কল্পনার জগতে পুরুষ ও নারীরা বিয়ে করবেন, এক সঙ্গে দীর্ঘ ও সুখের জীবন কাটাবেন এবং প্রায় একই সময়ে এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন। এক্ষেত্রে কখনোই দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমনটি হয় না।
আমরা এমন এক জগতে বাস করি যা নিখুঁত কিংবা আদর্শ নয়, বরং নিখুঁত থেকে অনেক দূরে। মানুষ কখনো কখনো অল্প বয়সে মারা যায় তাদের দুঃখী সঙ্গীদের একাকী পেছনে ফেলে। বেশির ভাগ বিয়েই কেবল
তালাকের মাধ্যমেই শেষ হয় না।

 


মজার বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় বিয়ের মধ্যে তালাকের হার প্রথম বিয়ের তুলনায় বেশি। কেউ হয়তো ভাবতেই পারেন, যার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে তার একটা শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই হয়তো অতীতের ভুলগুলোর আর পুনরাবৃত্তি করবেন না। এক্ষেত্রে প্রায়ই তা হয় না। যারা নির্দিষ্ট চাহিদা পূরণের জন্য বিয়ে করেন কিন্তু এর পরিবর্তে নিজেরা কিছুই করতে প্রস্তুত নন তারা একই অভিপ্রায় নিয়ে সাধারণত দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ে কঠিন ঝুঁঁকিপূর্ণ রাস্তায় ঘোড়া চালানোর মতোই বিপজ্জনক ও নতুন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।একটা সময় ছিল যখন বাঙালি সংস্কৃতির মূল সৌন্দর্য ছিল মূল্যবোধ। ওই সময় ছেলেমেয়েরা মনে করতো, পরিবারের সিদ্ধান্তই তাদের জন্য চূড়ান্ত। নিজের চাহিদা বা ভালো লাগা, মন্দ লাগার চেয়েও পারিবারিক সম্মানই তখন বড় করে দেখা হতো।


সময় পাল্টেছে এর আপন গতিতে। এখন যে কোনো কিছুর চেয়ে মানুষ নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগাটাকে বেশি প্রাধান্য দেয় বা দিতে চায়। আগে যেমন দেখা যেতো সন্তানরা পিতার হেঁটে যাওয়া রাস্তায় হাঁটতো, বেছে নিতো পিতার পেশা। এখন আর তা দেখা যায় না মোটেও। বিয়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এখন ছেলেমেয়েরা পরিবারের পছন্দের তুলনায় নিজেদের পছন্দেই বিয়ে করে। সমস্যা সেটি নয়, সমস্যা হলো- বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা বিয়ের পর মনে করে, ভুল সঙ্গীকে বেছে নিয়েছে। আর পরবর্তী সমস্যার সূত্রপাত এখন থেকেই। অতঃপর শুরু হয় নতুন সঙ্গী খোঁজার কার্যক্রম। সামাজিকভাবে প্রগতিশীল হলেও এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেয়ার মতো উদারতা আমাদের সংস্কৃতি দেখাতে পারেনি। যেখানে আগে মনে করা হতো বেশি বয়সে ভীমরতির কারণেই মানুষ দ্বিতীয় বিয়েতে ঝুঁকে পড়ে সেখানে বর্তমানে অল্পবয়সীদের দ্বিতীয় বিয়েও হচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। মিড লাইফ ক্রাইসিসের কারণে সৃষ্ট জটিলতাই মানুষকে পরিণত বয়সে অন্য রকম ভাবতে বা সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে বলে মনে করা হয়। জীবনের এই দ্বিতীয় ইনিংসে যাওয়ার প্রাক্কালে অনেকেরই চোখে ঝলমলে রঙিন চশমা থাকে। তারা সামনে যা কিছু দেখেন তা সবই রঙিন। অনেকে আবার পুরনো সব ভুল শুধরে নতুন করে জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেন। অনেক বিখ্যাত মানুষই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। অনেকে এর চেয়েও বেশি। এতে তাদের ভেতরকার শূন্যতা কতোটা কমেছে তা বোঝার চেষ্টা হয়তো কেউ করেননি কখনো।

তামাম দুনিয়ায় ভূরি ভূরি নমুনা আছে যেখানে কম বয়সী মেয়েকেই বেশি বয়সের পুরুষ পছন্দ করে বিয়ে করেছেন। উডি অ্যালেন ৫৬ বছর বয়সে ১৯ বছর বয়সের পারভিনের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন। ৩১ বছর বয়সে পা দিয়ে ক্যাথরিন জিটা জোনস ৫৬ বছর বয়সের মাইকেল ডগলাসের প্রেমে পড়েন। রুশদির সঙ্গে বিয়ের পর পদ্মালক্ষ্মীকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় ২৩ বছরের বড় একজনকে তিনি কেন বিয়ে করছেন? তখন পদ্মালক্ষ্মী সহাস্যে জানান, রুশদির মতো অমন বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লার্ট করতে আর কোনো পুরুষকে তিনি দেখেননি। বিয়ে না টিকলেও রুশদির সঙ্গে কাটানো প্রেমের মুহূর্তগুলোই পদ্মালক্ষ্মীর দাম্পত্যের শেষ কথা ছিল।
৪০ বছর বয়সে জীবন শুরু করা যায় অনায়াসে- এমন কথা ইদানীং মনোবিজ্ঞানীরা বেশ জোর দিয়ে বলে থাকেন। তাই দ্বিতীয় বিয়ের জন্য চল্লিশ-ঊর্ধ্ব বয়স কোনো বাধা নয় বলেই মনে করেন তারা। পরিণত বয়সে বিয়ের সম্পর্ক যৌনতাড়নার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হয় না বলেই তাদের ধারণা।

নামকরা একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী কামাল আহমেদ (৫৭) সম্প্রতি বিয়ে করেছেন ৩৫ বছর বয়সের নাসরিন সুলতানাকে। কামাল জানান,
পরিবারসহ আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব- কারোরই সমর্থন ছিল না ওই বিয়েতে। খুব কাছের বন্ধুরাও ভীমরতির অভিযোগ তুলে দূরে সরে গিয়েছিল। জগিংয়ের সময় নববিবাহিত স্ত্রী নাসরিনের মুখটি মনে করতেই যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এবং জগিংয়ের স্পিডটিও যায় বেড়ে- হাসিমুখে এ কথা জানান তিনি।

রাফিয়া চৌধুরীর বয়স এখন ৪০ বছর । একা থাকার পরিকল্পনা করে হঠাৎই সরকারি রিটায়ার কর্মকর্তা মোস্তফা মাহমুদের প্রেমে পড়ে যান তিনি। যখন তাদের বিয়ে হয় তখন রাফিয়ার বয়স ৩৭ ও মোস্তফা মাহমুদের ৬৩ বছর। রাফিয়ার মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই নিষেধ করেছিলেন। বন্ধুরাও বুঝিয়েছিলেন, ওই বিয়েতে তার খুব শিগগিরই বিধবা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু রাফিয়া এসব কথা উড়িয়ে দিয়েছেন এই বলে, মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। তাছাড়া তিনি সকাল-বিকাল আড্ডায় মাহমুদের সঙ্গে যে উষ্ণতা অনুভব করতেন ওই টান উপেক্ষা করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। আবেগী কণ্ঠে তিনি এটিও বলেন, মাহমুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো পোশাকি যৌনতার চেয়ে ঢের ভালো।

অল্প পরিচয়ে আজকাল হুটহাট লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়েন অনেকেই কিংবা স্বল্প আলোয় কাটিয়ে দেন ওয়াইন চুমুকের সন্ধ্যা। এছাড়া যদি থাকে চনমনে সুন্দরী কিংবা আকর্ষণীয় সুপুরুষের সঙ্গ তাহলে আর কী চাই!

ফেরদৌসী সাবাহ পরিণত বয়সের বিয়ে নিয়ে অতি উৎসাহী। গল্পে গল্পে তিনি বললেন, নারীদের জন্য বিয়ের নির্দিষ্ট বয়স আছে। কারণ তাদের সঙ্গে মাতৃত্বের বিষয়টি জড়িত। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এসব ঝামেলা নেই। তাই তারা ৬০ বছর বয়স পার করেও অনায়াসে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দ্বিতীয় বিয়েতে প্রেম ও যৌনতা দৈনন্দিন জীবনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে এবং আটপৌরে জীবনে যোগ করে অন্য রকম মাত্রা। এখন মানুষের আয়ুর সঙ্গে বাড়ছে জীবন তৃষ্ণাও।
ফেরদৌসী সাবাহ এমন এক সময়ের অপেক্ষা করছেন যখন দ্বিতীয় বিয়ে, অসম বিয়ে, যে কোনো বয়সে বিয়ে- এসব নিয়ে কেউ আর কোনো প্রশ্ন তুলবেন না। কেউ বাঁকা চোখে তাকাবেন না কিংবা দ্বিতীয় বিয়ের পর সবার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য চারপাশের মানুষকে অনবরত যুদ্ধ করতে হবে না। সেটিই হবে জীবনের সহজ ধারা...। দিন গুনছেন ফেদৌসী সাবাহ।

 

_______________________________

লেখা : এনায়েত কবির
মডেল : আমানুল্লাহ হারুন ও নাহিদ
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : রেফায়েত উল্লাহ

স্ট্রেস...

 

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বা মানসিক চাপ কীভাবে কমাবেন, কী করবেন...
‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু, পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু!- এ গানের কথাগুলোয় হতাশা, ভীতি, এংজাইটি ও স্ট্রেসের ছায়া কি পাওয়া যায়? নাগরিক ব্যস্ততার এই দৈনন্দিন জীবনে ওই গানের লাইনগুলো প্রায়ই কি আমাদের মনে পড়ে না কারো কারো? হ্যাঁ হতাশা, আক্ষেপ ও ক্লান্ত-শ্রান্ত হৃদয়ের থেকে বেরিয়ে আসা দীর্ঘশ্বাসটি আসলে আমাদের মধ্যে মানসিক চাপ বা স্ট্রেসেরই সৃষ্টি করে।
স্ট্রেস শব্দটি যেন আমাদের দৈনন্দিন কর্মকা-ের সঙ্গে আজ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিদিনের প্রতিযোগিতামূলক জীবন ভূমিকায় আমরা প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছি, হয়ে পড়ছি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, প্যানিকড। তবে দুশ্চিন্তা, এংজাইটি- এসব স্ট্রেস নয়। স্ট্রেস হচ্ছে, আমাদের পারিপার্শ্বিক যে কোনো পরিবর্তন যা নিজের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। এটিই হলো ‘স্ট্রেস’। আর ওই স্ট্রেস মোকাবেলা করেই যিনি যতো বেশি চলতে জানেন তিনিই হন ততো সফল। তবে কে কীভাবে স্ট্রেস মোকাবেলা করবেন তা অনেকটাই নির্ভর করে তার বংশগত জিনের ওপর। এর সঙ্গে রয়েছে মানুষের স্বীয় ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী লড়াই করে চলার স্বভাবটিও।
ল্যাটিন শব্দ ‘স্ট্রিং’ মানে ‘টু ড্র টুগেদার’। এখান থেকেই ‘স্ট্রেস’ শব্দটি এসেছে। আরেকটি ল্যাটিন শব্দ ‘টেনসিও’ থেকে টেনশনের উৎপত্তি। শব্দটি পাশ্চাত্যের হলেও এই সমস্যায় ভুগছেন বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ। সাধারণত মানুষের মনের দুটি অবস্থা আছে। এক. স্বাভাবিক বা নরমাল এবং দুই, অস্বাভাবিক বা অ্যাবনরমাল। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ আমাদের নিয়ে যায় ওই দু’য়ের মাঝামাঝি। আসলে শারীরিক, মানসিক কিংবা ইমোশনাল- যে কোনো বিষয় নিয়ে বাড়তি চিন্তাটিই আমাদের মনে ‘স্ট্রেস’-এর সৃষ্টি করে।

স্ট্রেসের কিছু ক্ষতিকর দিক আছে। তা হলো-

স্ট্রেসের কারণে দ্রুত রক্তচাপ বেড়ে যায়, হার্টবিট
দ্রুততর হয়।
ওজন বেড়ে যায়। কারণ তখন খাওয়াও বাড়ে।
হরমোন ডিসব্যালান্স হয়ে যায়।
মানসিক চাপে ত্বক কালো, শুষ্ক হয় ও ব্রণ জন্ম নেয়।
সোরাইসিস, রোসিয়া, অ্যাগজিমা, অ্যালার্জি বেড়ে যায়।
ত্বক প্রাণহীন ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে।

স্ট্রেসের কারণ
ঘড়ি কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার তাড়া, অফিসে কাজের চাপ, সংসার জীবনে ক্রমাগত কাজের ভারে হাঁপিয়ে ওঠা কিংবা সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো যে কোনো কিছুই হতে পারে কারো জন্য মেন্টাল স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণ। পরীক্ষাভীতি, বেকার জীবন- এসবও স্ট্রেসের খুব সাধারণ কারণ হতে পারে। তবে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলার ক্ষমতা ও টাইম ম্যানেজমেন্টে যিনি যতো বেশি দক্ষ, তিনি ততো বেশি স্ট্রেস ম্যানেজ করে চলতে পারেন।
যাহোক, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের কিছু অতি সাধারণ অভ্যাস এই মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে অনায়াসেই আমাদের মুক্তি দিতে পারে। এটি নিয়ন্ত্রণে যা করতে হবে তা হলো-
সকালে নির্দিষ্ট সময়ের ১৫ মিনিট আগেই ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে অলসতা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
মর্নিং ওয়াক করতে হবে। তা পার্ক বা উদ্যানে না হলেও নিজের বাগান, বারান্দা বা ছাদে হাঁটা যেতে পারে। সকালের বিশুদ্ধ বাতাসে হাঁটাহাঁটির অভ্যাস সারা দিনের জন্য বাড়তি মানসিক শক্তি জোগায়।
সকালের নাশতা সময় নিয়ে খেতে হবে। তাড়াহুড়ায় অনেকেই নাশতা না করে বের হয়ে যান বা অফিসেই খেয়ে নেন কিছু একটা। এটি অনেক বড় ভুল চর্চা। বরং সকালের সময়টুকু এমনভাবেই ম্যানেজ করতে হবে যাতে বেশখানিকটা সময় নিয়ে ব্রেকফাস্ট করা যায়। এতে সারা দিনের কাজে এনার্জি লেভেল দিনের শুরুতেই অর্জন করা যায়।
কর্মজীবী বা গৃহে যারা কাজ করেন তাদের জন্যই সকালে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে কী কী কাজ করতে হবে এর তালিকা তৈরি করে ফেলা একটি ভালো উপায়।
কাজের মধ্যে বিরতি দিতে হবে। টানা কাজ মেন্টাল স্ট্রেস বাড়ায়। প্রতি এক ঘণ্টায় কাজের পর অন্তত ১০ মিনিট সিট থেকে উঠে হাঁটা উচিত।
অনুরোধে ঢেঁকি গেলার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। অকারণে অন্যকে খুশি করা কিংবা অযাচিত ভয়ে সব কাজ মাথা পেতে নেবেন না।
স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের একটি ভালো উপায় হলো যোগ ব্যায়াম। যেমন- দুপুরে লাঞ্চের পর যে সময় একটু ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে, ওই সময় গভীর একটা শ্বাস নিয়ে তিন সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে পর পর পাঁচবার শ্বাস নেয়া আর ছেড়ে দেয়ার ব্যায়াম করলে শরীর বেশ চাঙ্গা হয়ে ওঠে।


অনেকে আছেন, অফিস থেকে ফিরেই সংসারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এটি কখনোই করা যাবে না। বরং পারলে আরামদায়ক গোসল আর চা পর্ব সেরেই বাড়ির কাজে মাথা ঘামানো যেতে পারে।
নিজের জন্য আলাদা একটু সময় বের করা আমাদের মানসিক শান্তির জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। এটি হতে পারে টিভি দেখা, বই বা পত্রিকা পড়া অথবা অন্য কোনো কিছু।
অনেকেই বলেন, রাতে ঘুম হয় না। নানান চিন্তা আসে। অনেকের কাছেই ওই রাত হলো আগামীকাল নিয়ে ভেবে ভেবে ঘুম হারামের কারণ। এ দলটিই হচ্ছে ভয়ঙ্কর মানসিক চাপের রোগী। কাজেই মানসিক চাপ তথা স্ট্রেস থেকে বাঁচতে হলে অহেতুক ভাবনা-চিন্তা মাথা থেকে বের করে ফেলতে হবে। মৃদু শান্ত সঙ্গীত কিংবা মেডিটেশনও ভালো ঘুম আনতে সহায়ক হতে পারে।
মানসিক চাপ কমাবার জন্য একটি অনন্য মাধ্যম হলো হাসি। প্রাত্যহিক জীবনে হাসির উপাদান রাখতে হবে। হাসতে পারেন এমন বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়া উচিত। অযথা নেতিবাচক কথাবার্তা বলা বা দূরভিসন্ধিমূলক আচরণের সঙ্গ পরিত্যগ করাই ভালো। হাসি আমাদের জীবনীশক্তি। হাসির মুভি, কমিকস- এসব উপাদানও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো অভ্যাসটিও মানসিক চাপ কমায়। শিশুদের সঙ্গে খেলা, হাসা, ছেলেমানুষি কিছুক্ষণের জন্য হলেও আমাদের স্ট্রেসমুক্ত করে তোলে।
প্রতিটি পরিস্থিতির ভালো ও খারাপ- দুটি দিকই আছে বা থাকতে পারে। পজিটিভ দিকটি দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমাদের অবচেতন মনের সার্বক্ষণিক চিন্তাই আমাদের চেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওইদিকেই জীবন ধাবিত হয়। তাই পজিটিভ দিক দেখার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
‘না’ বলতে শিখুন। মাঝে মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে না বলার অভ্যাসটাও করুন। অবশ্য বিনয়ের সঙ্গে এবং কেন না বলতে বাধ্য হচ্ছেন ওই কারণটি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করুন। ফলে স্ট্রেস তৈরি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে গোড়াতেই দূর করা যাবে।

স্ট্রেসে করণীয়
স্ট্রেস ও টেনশন হলে মাথায় খুশকি হয়। চুল পড়ে যায়। এ জন্য রোজ ড্যানড্রাফযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। চুল পড়া কমে যাবে।
স্ট্রেস হলে হরমোন ডিসব্যালান্স হয়। ফলে মুখে ব্রণ হয়। রোজ ভালো করে হারবাল ফেসিয়াল ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। লবঙ্গযুক্ত ক্রিম লাগালে ব্রণ কম হবে।
টেনশন বা স্ট্রেসের কারলে মুখে পিগমেন্টেশন হয়। এতে কালো হয়ে যায় মুখ। রোজ দুধ দিয়ে মুখ ধুলে মুখ পরিষ্কার থাকবে।
স্ট্রেস বা টেনশন হলে সোরাসিস বা রোসিয়া হলে ময়শ্চারাইজার লাগাতে হবে। এ জন্য চিকিৎসককেও দেখানো উচিত।
পরিশেষে বলা যায়, দৃঢ় মানসিকতা গড়ে তুলতে হলে এবং আনন্দময় নির্মল জীবন যাপনের হাতিয়ারই হলো কিছু সুঅভ্যাস ও আত্মসচেতনতা। একটু সচেতনতার সঙ্গে প্রাত্যহিক জীবনের কর্মকা- পরিচালনা করলেই জীবন হয়ে উঠবে অনাবিল সুন্দর। সবার স্ট্রেস বা মানসিক চাপবিহীন সুন্দর জীবন কামনা করছি।

 

__________________

লেখা : শায়মা হক
মডেল : মোউশান
ছবি : স্বাক্ষর

গ্রীষ্মে সাজ ও ত্বকের যত্ন

 


‘উৎসব মানেই রঙ বাহারি পোশাক। আর উৎসবটি যদি হয় র্বষবরণ তাহলে তো কথাই নেই। লাল, সাদা, হলুদ, বেগুনি, সবুজ কিংবা নীল- কোনো রঙেই নেই মানা। কারণ সময়বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে ফ্যাশন ট্রেন্ডও। পহেলা বৈশাখে এখন আর কেউ শুধু লাল-সাদা পোশাকই পরেন না, লাল-সাদার সঙ্গে অন্য রঙগুলোও জড়াজড়ি করে জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশন ডিজাইনারের ক্যানভাসে। আর এতো কালারফুল পোশাকের সঙ্গে সাজটি সাদামাটা হলে তো আর হবে না! এদিকে গ্রীষ্মের খরতাপও সঙ্গেই থাকবে। তাই মেকআপ করতে হবে এসব কিছু মাথায় রেখেই’- বললেন হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতানা রীতা।

তিনি বলেন, এখন তো গরম, ঘাম, ধুলাবালি। তাই দিনের মেকআপ একটু হালকা হওয়াই ভালো। প্রথমে মেকআপ কিটসগুলো একটু গুছিয়ে নিন। এরপর মুখে কিছুক্ষণ বরফ ঘষে নিন। এবার লাগিয়ে নিন সানস্ক্রিন। কারণ রোদে ঘোরাঘুরি করতে হবে। আর গরমে লিকুইড, না হয় ম্যাট ফাউন্ডেশন লাগান। এর ওপর লাগিয়ে নিন কম্প্যাক্ট পাউডার। স্কিন টোনের কাছাকাছি হওয়াই ভালো ব্লাশন। পিংক কিংবা ব্রাউন হতে পারে। চোখের সাজে এবার নতুনত্ব এসেছে। দিনের সাজে স্মোকি লুক এখন অচল। গাঢ় কাজলও এখন চলছে না। হালকা কাজলের রেখা টেনে দু’তিন রঙের শ্যাডো পেন্সিল দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন চোখ। তবে চোখের পাপড়িতে মাশকারা লাগাতে ভুলবেন না। সেটি হতে হবে অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ। না হলে গরমে ঘামে গলে যেতে পারে। আর লিপস্টিকে এখন ম্যাটের ট্রেন্ড চলছে। গরমে এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং গাঢ় উজ্জ্বল রঙগুলো উৎসবের সঙ্গেও বেশ মানানসই। লাল, গোলাপি কিংবা কমলা লাগাতে পারেন অনায়াসে। টিপের জন্য তো কোনো চিন্তা নেই। এই উৎসবে সবচেয়ে বেশি যায় বড় একটি লাল টিপ। দুই রঙের কম্বিনেশন করতে চাইলে প্রথমে একটি বড় টিপ পরুন। এরপর ওই টিপের ওপর বসিয়ে দিন অন্য রঙের এক সাইজ ছোট টিপ।
মেকআপ তো হলো। কিন্তু চুল বাঁধবেন কীভাবে? আর গহনাই বা কী পরবেন? পহেলা বৈশাখের সাজে ট্রাডিশনাল খোঁপাই যেন বেশি মানিয়ে যায়। তবে এখন আবার বেণীর চলটিও ফিরে এসেছে। ট্রাডিশনাল খোঁপা হলেও এর ধরনে পরির্বতন এসেছে। সবচেয়ে সহজ বুদ্ধি হচ্ছে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে উঁচু করে চুলগুলো আটকে নেয়া। অর্ধেক ছাড়া আর অর্ধেক আটকানো থাকলে দেখতে যেমন ভালো লাগবে তেমনি গরমে আরামও পাওয়া যাবে। বাজারে এখন সুুন্দর সুন্দর পাঞ্চ ক্লিপ পাওয়া যায়। যাদের ছোট চুল তাদের জন্যও সুন্দর পাঞ্চ ক্লিপ পাওয়া যায়। গরমে ছোট চুলও না ছেড়ে ক্লিপ দিয়ে উঁচু করে আটকে নিলেই ভালো হয়। তবে অবশ্যই চুলে গুঁজে নেবেন একটি তাজা ফুল। বেণী হলে একগুচ্ছ ফুল অথবা মালা জড়াতে পারেন। কিন্তু খোঁপা অথবা ঝুঁটি হলে একটি ফুল হলেই সুন্দর দেখায়। আর অলঙ্কার ছাড়া নারীর সাজে যেন র্পূণতা আসে না। তাই বলে এই গরমে একগাঁদা উল্টা-পাল্টা অলঙ্কার পরলেই তো আর হলো না! গহনাও পরতে হবে উৎসবের মেজাজ ও গরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই।
রাহিমা সুলতানা বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসব। এ উৎসবে আমাদের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা উচিত। এই গরমে ইমিটেশন কিংবা কোনো ধরনের মেটালই এখন পরা উচিত নয়। বরং মাটির পুঁতি, কাঠ, সুতার তৈরি অলঙ্কার এই উৎসব ও আবহাওয়ার সঙ্গে বেশি মানানসই।
সাজ পোশাক যাই করুন না কেন, প্রচ- এই গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। খুব ভালো হয় মৌসুমি তাজা ফলের শরবত খেতে পারলে। এতে পানি যেমন পাওয়া যাবে তেমনি পাবেন ফলের পুষ্টিও। এটি আপনার ক্লান্তি দূর করবে। এছাড়া উৎসবে আপনি থাকবেন প্রাণবন্ত।

ত্বকের যত্ন
ত্বক সব সময় ঠা-া ও পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। সম্ভব হলে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই। দিনে তিন-চার লিটার পানি আধা গ্লাস করে একটু পর পর পান করতে হবে। এছাড়া যে কোনো ফলের রস পান করাও উপকারী।

রোদে যাওয়ার আগে
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শুধু সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই হবে না, গোসল করে নেয়া ভালো। পানিতে কয়েক ফোঁটা বেনজয়েন অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে গোসল করলে ঘামে দুর্গন্ধ ও রোদে ত্বক কালচে হবে না। ওষুধের দোকান বা সুপারশপে ওই অয়েল পাবেন। চার ঘণ্টা পর পর ল্যাভেন্ডার অয়েল সমৃদ্ধ ওয়েট টিস্যু দিয়ে ত্বক মুছে দিতে হবে।

রোদে পোড়া ভাব দূর করতে করণীয়
যে কোনো ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা পেস্ট উপকারী। রাতে টক দই, ডিমের সাদা অংশ মিশ্রণ প্যাক হিসেবে ত্বকে লাগানো যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এছাড়া সুজি হালকা ভেজে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এটি স্ক্রাবের কাজও করবে। স্ট্রবেরি, টক দই ও ময়দার মিশ্রণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করা যাবে দুধের সর, যে কোনো বাদাম, মধু ও সামান্য চিনির মিশ্রণ।
যাদের ত্বক পাতলা তাদের নিতে হবে বাড়তি যত্ন। এ ধরনের ত্বকের চামড়া ভেদ করে শিরার রেখা চোখে পড়ে। অনেকের পাতলা ত্বক রোদে গেলে অল্পতেই লাল হয়ে যায়। ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হয়। যাদের ত্বক পাতলা তাদের বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। আর রোদে বের হলে অবশ্যই ত্বক বুঝে সানব্লক ব্যবহার করতে হবে এবং সঙ্গে রাখতে হবে ছাতা। বাইরে থাকলে দুই ঘণ্টা পর পর নতুন করে ত্বকে সানব্লক লাগতে হবে। কিছু ফেস পাউডারও সানব্লকের কাজ করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা এমন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। রোদচশমা ও হ্যাট জাতীয় বড় টুপি ব্যবহার করতে হবে যেন মুখের চোয়াল ও এর আশপাশের স্থানে রোদ না লাগে। এরপরও যদি ত্বক লাল হয়ে জ্বালা করে তাহলে বরফ ঘষতে হবে অথবা ঠা-া পানির ঝাপটা দিতে হবে।

 

_____________________________

মডেল : নদী
মেকওভার : ক্লিউপেট্রা বিউটি স্যালন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

 তিন কুড়িতে দেড় কুড়ি

 

 

‘আমরা নূতন যৌবনেরই দূত।

                আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত।

                                 

 

রবি ঠাকুরের এ লেখায় মনে হতেই পারে, গতি যেমন জীবনের অনুভূতি ঠিক তেমনি চঞ্চলতা তারুণ্যের। যে চটপটে আর চঞ্চল তাকেই কম বয়সের প্রতীক ধরা হয়।

তারুণ্যের গল্প অনেকটা এ রকম হতে পারে- ‘হাই সুইটি, কাম অন লেটস ডান্স।’ ক্লাবের অনুষ্ঠানে মাহমুদ এভাবেই আহ্বান জানালেন বন্ধুপতœী সোহেলি পারভীনকে। গত জুনে মাহমুদ ৬০ অতিক্রম করে ৬১ বছরে পা দিয়েছেন! আর সোহেলি তার চেয়ে প্রায় অর্ধেক বয়স। এভাবেই মাহমুদ মত্ত থাকেন, মাতিয়ে রাখেন বন্ধুবান্ধবকে। ক্লাবের অনুষ্ঠান, পিকনিক, স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ম্যাচ- সব জায়গাতেই তার সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। তিনি আসরে থাকা মানেই আসর প্রাণবন্ত। চমৎকারভাবে শরীরটাকেও ফিট রেখেছেন। মেদহীন একহারা গড়ন তার শরীরের। ভোরে নিয়মিত হাঁটেন, ব্যায়াম করেন। সন্ধ্যায় কয়েক মিনিট যোগ ব্যায়াম সেরে নেন। তাকে দেখে বোঝার উপায়ই নেই, তিনি অবলীলায় পার করেছেন তিন-তিনটি কুড়ি একযোগে।

বয়স কিংবা সময়- এ ভাবনাটি থাকে মনে কিংবা মস্তিষ্কে। সবাই বড় হতে চান। তবে কেউই বুড়ো হতে চান না। ৩০ বছর পার হতে না হতেই যদি নিজেকে বয়স্ক মানুষ ভাবতে থাকেন তাহলে দেহ ও ত্বকে এর প্রভাব অবশ্যই পড়বে। সবকিছুর দোষ বয়সের কাঁধে চাপিয়ে দেবেন না। মনের ভেতর ইচ্ছাশক্তি জাগিয়ে রাখুন। দেহ ও ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখতে কাজ করুন। কল্পনায় ফেলে আসা দিনগুলো দেখতে থাকেন। কিন্তু কেমন হয় যদি চল্লিশের কোঠা পার হয়েও নিজের মধ্যে  ত্রিশের তারুণ্য ধরে রাখতে পারেন!

তারুণ্য ধরে রাখতে শারীরিক ব্যায়াম করা যতটা জরুরি ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ মানসিক ব্যায়াম। কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় খেয়াল করে চলতে পারলে আপনিও ধরে রাখতে পারবেন আপনার তারুণ্য। যদি আমাদের জীবনধারা ও খাবার তালিকায় কিছু পরিবর্তন করি তাহলেই আমরা অনেক বয়স পর্যন্ত চেহারায় তারুণ্য বজায় রাখতে পারি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর কিছু মনের ব্যায়াম এবং তারুণ্য ধরে রাখার কিছু কৌশল

তুলে ধরা হলো-

 

 

ঘুম : সঠিক সময়ে ঘুমানো, রাত না জাগা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ভোরে ঘুম থেকে উঠলে শরীর সতেজ রাখে। অযথাই বেশি রাত জাগবেন না। প্রতিরাতে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমান।

হাসি-কান্না : অনাবিল হাসি আমাদের হার্টের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, মনখুলে হাসলে আয়ু বাড়ে। এমনকি চোখের জল ঝরানো কান্নাও যে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে তা বহু বছর ধরেই ছিল অজানা। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা ফাউন্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, কান্নার পর যে কোনো মানুষই বেশ স্বস্তি অনুভব করে।

 

বিভিন্ন মানসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ : মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে মনটাকে কাজে ব্যস্ত রাখার কোনো বিকল্প নেই। ছোটবেলায় আমারা নানান খেলার ছলে মনের ব্যস্ত রাখতাম। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বহুবিধ মানসিক চাপ বেড়েছে। তাই মনকে নান বিষয়ে ব্যস্ত রাখতে হবে।

মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন : মানসিক চাপের কারণে ত্বকে, বিশেষ করে মুখের ত্বকে রিংকেল পড়তে দেখা যায়। এছাড়া চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় মানসিক চাপ। মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করার বেশ বড় একটি কারণ। অন্যদিকে অনেকেই মানসিক চাপে পড়লে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন।

সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা : সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুসম্পর্ক বজায় রাখাটা তারুণ্য ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

রাগ বা ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ : রাগ যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলুন। কারণ রাগলে মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে যায়। রাগ ও ক্রোধ মানসিক চাপ তৈরি করে, মুখে বলিরেখার সৃষ্টি করে, মানসিক স্বাস্থ্যহানি করে। তাই রাগের মতো নেতিবাচক অনুভূতি থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকা উচিত।

বন্ধুত্ব : সব সামাজিক সম্পর্কের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বন্ধুত্ব। গবেষণায় জানা গেছে, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গ

আপনাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তুলতে পারে এমনভাবে যা প্রতিদিন তিন কাপ চায়ের সমপরিমাণ এনার্জির কাজ করে। এছাড়া অবসাদগ্রস্ততা ও একাকিত্ব সরিয়ে জীবন কর্মমুখর করে তুলতে বন্ধুদের আড্ডার বিকল্প নেই। ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের ওপর এক গবেষণায় জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুদের সঙ্গ আপানার পরিবেশ ও আচরণে শতকরা ৫০ ভাগ ইতিবাচক ভাবনা এবং শারীরিক সুস্থতা গড়ে তুলতে সক্ষম।

নতুন কিছু জানার আগ্রহ : সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলসের এক গবেষণায় দেখা গেছে মস্তিষ্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ওয়েব ব্রাউজিং ও ওয়েব পেইজ সার্চিং বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। শুধু তা নয়, ভাষাগত জ্ঞানের উন্নতি সাধনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে ওই ওয়েব সাইটগুলো।

সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেকেই বুড়িয়ে যান অল্প বয়সেই। উল্টোদিকে তাকালে অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের বেশ ফিট ও ছিমছাম দেখা যায়। শুধু চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে নয়, পুরো শরীরে চাঙ্গা ভাব ধরে রাখতে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরি।

 

এই বিষয়ে একটু জেনে নেয়া যাক -

 

প্রচুর পানি পান করুন : পানি দেহ, ত্বক ও দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য বিশেষভাবে জরুরি। নিষ্প্রাণ ত্বক, কিডনির ক্ষতি, দুর্বলতা এবং একই সঙ্গে মনের বার্ধক্যের জন্য দায়ী পানিশূন্যতা। প্রতিদিন নিয়মিত ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান দেহ রাখে টক্সিনমুক্ত, সুস্থ ও সবল এবং ধরে রাখে তারুণ্য।

সুষম খাবারের তালিকা : খাবারের তালিকায় টমাটো, রসুন, খেজুর জলপাই তেল বেদানা রাখুন। টমাটো বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে। রসুনটিকে বহু রোগের ওষুধ ধরা হয়। খেজুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। জলপাই তেলে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল। তা বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। জলপাই তেল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমায়। এছাড়া জলপাই তেলে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ই’ ত্বকের কুঁচকে যাওয়া রোধ করে। নিয়মিত যে কোনো বাদাম খেলে ত্বক সতেজ ও সুন্দর থাকে।

বয়সটা বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। কোনোভাবেই যেন ধরে রাখা যাচ্ছে না। যে পোশাকই পরছেন না কেন, কিছুই যেন ঠিক মানাচ্ছে না ইদানীং। কোন পোশাক পরলে বয়সটি একটু কম দেখাবে তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তারও শেষ নেই। সঠিক পোশাক নির্বাচন করলে আপনার বয়স কমে যাবে অনেকখানি। তাছাড়া সঠিকভাবে পোশাক পরলে আপনাকে বেশ স্লিম ও স্টাইলিশও দেখাবে।

আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কোন পোশাক কীভাবে পরলে বয়স কিছুটা হলেও ঢেকে যাবে-

পোশাকে পরিবর্তন আনুন : একটু বয়স বেড়ে গেলে ওই পুরনো ধাঁচের পোশাক পরলে বেশ একঘেয়ে ও বয়স্ক দেখায়। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোশাকে বেশকিছু পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। যেমন- পুরনো ধাঁচের পোশাক পরতে চাইলে সঙ্গে স্টাইলিশ জ্যাকেট, ফ্যাশনেবল জুতা বা ঘড়ি অথবা হাল ফ্যাশনের কোনো ব্যাগ কিংবা বেল্ট নিয়ে নিন। এতে পোশাকের চেহারাই পাল্টে যাবে।

সঠিক মাপের পোশাক : বয়স হয়ে গেলে ঢিলেঢালা পোশাক পরেন অনেকেই। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি সঠিক মাপের পোশাক না পরা হয় তাহলে দেখতে আরো বয়স্ক দেখায়। তাই নিজের জন্য পোশাক কিনতে গেলে সঠিক মাপ দেখে কিনুন। পোশাক বেশি আঁটসাঁট হলেও খারাপ দেখাবে আবার বেশি ঢোলা হলেও বয়স বেশি দেখাবে।

উজ্জ্বল রঙ : আমাদের দেশে প্রচলিত আছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোশাকের রঙও হালকা হতে হয়। কিন্তু এটি একটি ভুল ভাবনা। বয়স বেড়ে গেলে হালকা রঙের কাপড় পরলে আরো ম্লান দেখায়। বয়সের সঙ্গে পোশাকের রঙও উজ্জ্বল হওয়া উচিত। লাল, কমলা, উজ্জ্বল নীল, সবুজ ইত্যাদি রঙগুলোর পোশাক পরলে আপনার বয়স কম দেখাবে আবার গায়ের রঙটাও বেশ উজ্জ্বল লাগবে। আপনি যদি উজ্জ্বল রঙের পোশাক পছন্দ না করে থাকেন তাহলে আপনার হালকা রঙের পোশাকটির সঙ্গে একটি উজ্জ্বল রঙের ওড়না, টাই, বেল্ট ইত্যাদি নিয়ে নিন। আনেকটাই তরুন দেখাবে আপনাকে।

কাপড়ের ধরন : পোশাকের জন্য কাপড়ের ধরনের ওপরও আপনাকে কতোটুকু তরুন দেখাবে তা নির্ভর করে। যেমন- চকচকে স্যাটিন কাপড় পরলে বয়স বেশ খানিকটা কম দেখায়। আবার একটু বড় ধরনের প্রিন্টের পোশাক পরলেও বয়স লুকনো যায় বেশখানিকটা। তাই বয়স তারুণ্যের জন্য ভিন্ন টেক্সচারের পোশাক পরে দেখুন কোনটায় আপনাকে বেশি মানাচ্ছে।

পোশাক নির্বাচন : বয়সের সঙ্গে মানানসই পোশাক নির্বাচন করাটা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই ওই সময় কী পরা উচিত-অনুচিত তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে থাকেন। সঠিক পোশাক নির্বাচন করে নিতে পারলে আপনার বয়স ঢাকার পাশাপাশি আপনাকে রুচিশীল ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লাগবে। তাই সঠিক পোশাক নির্বাচন করে বয়সটি লুকিয়ে ফেলুন সহজেই।

 

পরিশেষে বলা যায়, তারুণ্য থাকে অবচেতনে যা আচরণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রকৃতির নিয়মে সময়ের সঙ্গে বেড়ে যায় বয়স। এটি জিনগত বৈশিষ্ট্য। তবে এর মধ্যে অনেকেই তারুণ্য ধরে রাখেন। তারুণ্যের কাছে হার মানে তাদের বয়স। বয়স বেড়ে যাওয়া মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও তারুণ্য ধরে রাখা একেবারেই কঠিন কাজ নয়। সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই বয়সকে হার মানিয়ে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন আরো সুন্দর, তরুণ, স্নিগ্ধ ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর।

 

___________________________________________________________________________

লেখা : ঋভু অনিকেত

মডেল : এনায়েত কবির  

ছবি : সাঈদ সিদ্দিকি

শোভন আচার্য্য অম্বু

 

 

 

গায়েহলুদ, বিয়ে ও বউভাতের মেকআপ

 


মেকআপের আগে যত্ন
এখন যেহেতু শীতকাল সেহেতু মেকআপ করার আগে কিছু বিশেষ টিপস মেনে চলা উচিত। মেকআপের আগে আলু, শসার রস এক সঙ্গে মুখে মাখলে ত্বকে তরতাজা ভাব আসবে। ময়শ্চরাইজার অবশ্যই লাগাতে হবে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে ও শুষ্ক হওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

হলুদের মেকআপ
হলুদের সাজে সাধারণত একটু সফট লুক রাখা হয়। হলুদে হলুদ শাড়ি, লাল টিপ, আলপনা, আলতা, ফুলের গয়না ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আজকাল অনেক সুন্দর হলুদের গয়না পাওয়া যায়। সেগুলো শুধু ড্রাই ফ্লাওয়ার দিয়ে তৈরি করা হয়। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে তা পরলে ভালো লাগে। হলুদের মেকআপে ফেসের কালার, টোন ও শেইপ ঠিক রেখে মেকআপ করলে প্রপার লুক চলে আসবে। যাদের কপাল ছোট তারা উল্টিয়ে চুল আচড়ালে ভালো লাগবে। যাদের কপাল বড় তাদের মাঝে সিঁথি করে চুল আঁচড়ালে ভালো লাগবে। হেয়ার স্টাইলিংয়ের জন্য এখন খোঁপা ও বেণী দুটিই ভালো লাগবে।

বিয়ের সাজ
বিয়ের সাজ অবশ্যই ফেইসের ধরন অনুযায়ী হতে হবে। ফেইসের ধরন অনুযায়ী মেকআপ সিলেক্ট করা খুব জরুরি। বিয়ের মেকআপের আগে ফেসিয়াল, অয়েল মাসাজ, মশ্চারাইজার ও মেকআপ প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত। বিয়ের দিন সাধারণত একটু ব্রাইট সাজ ভালো লাগে। শাড়ির কালারের সঙ্গে চোখের শেড মিলিয়ে লাগালে ভালো লাগবে। বিয়ের মেকআপ একটু শাইনি হতে হয়। কারণ কনেকে সবাই অনেক দূর থেকে দেখবেন। চোখের জন্য চোখের গড়ন অনুযায়ী ডায়মেনশন তৈরি করতে হয়। ব্রাইডাল মেকআপের জন্য আলাদা একটা স্পেস থাকা উচিত।

বৌভাতের সাজ
বিয়ের পর বৌভাতের আগে যদি হাতে সময় থাকে তাহলে একটি বডি সার্ভিস ও ফেসিয়াল নিলে ভালো হবে। বিয়ে যদি ট্রাডিশনাল সাজে হয়ে থাকে তাহলে বৌভাতের সাজটি মডার্ন লুকে ভালো লাগবে। এ জন্য লাল রঙের পরিবর্তে অন্যান্য কালার পরলেও ভালো লাগে। চুলে হাফ স্পাইরালের সঙ্গে খোঁপা করলে ভালো লাগে। খোঁপায় থাকা চাই ফুল সাজের সঙ্গে মিল রেখে।

বিয়ের আগে শীতে ত্বক, হাত, পা ও চুলের যত্ন
শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বক ও চুল দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য একটু এক্সট্রা যত্ন নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া বিয়ের আগে কনের জন্য ওই পরিচর্যা খুবই দরকার।
বিয়ের আগে একটু সময় নিয়ে যত্ন নিলেই শীতে ত্বকের রুক্ষ ভাব দূর করা সম্ভব। অনেকের খসখসে

ত্বক, রুক্ষ চুল, ফাটা গোড়ালি ও ধুলা-ময়লা জমে ত্বকে নানান সমস্যা দেখা দেয়। বিয়ের সমএসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে সবার আগে ভালো করে ত্বক পরিষ্কার রাখাটা একান্ত জরুরি।
যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা লবুর রস দুই টেবিল চামচ, গ্লিসারিন ১ চা-চামচ, গোলাপের পানি ৩ টেবিল চামচ একত্রে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
যাদের ত্বক বেশি শুষ্ক তারা ডিম ১টি, মধু ২ চামচ, গুঁড়া দুধ ১ চামচ, কাঁচাহলুদ ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস আধা চা-চামচ একত্রে পেস্ট করে ত্বকে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন।
যারা সাধারণ ত্বক তারা শসা কুচি ২ টেবিল চামচ, গোলাপের পানি ৬ টেবিল চামচ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, গ্লিসারিন ২ টেবিল চামচ, মধু ১ চামচ একত্রে ব্লেন্ড করে ত্বকে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন।

বিয়ের আগে চুলের যত্ন
চুলকে সুন্দর রাখতে সব সময় চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল হালকা গরম করে চুলে মাসাজ করতে হবে। খুশকি থাকলে একটু লেবুর রস মেশাতে হবে।
১ চামচ মধু, ডিম ১টি, মেথির গুঁড়া ৩ চামচ, নিমপাতা  বাটা ২ চামচ, ২ চামচ লেবুর রস ও মেহেদিপাতা বাটা একত্রে মিশিয়ে  মাথায় লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে।
বিয়ের আগে হাত ও পায়ের যত্ন
আঙুল নরম ও মসৃণ রাখতে সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে হাতের আঙুলে লাগান।
হাতের ত্বক খসখসে হলে লেবুর রসে ১ চামচ মধু বা চিনি দিয়ে হাতে ঘষুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
কনুইয়ে কালো দাগ দেখা দিলে চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে ৫-৭ মিনিটের মতো মাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
রাতে শোয়ার আগে পানিতে ১ চা-চামচ লবণ, ১ চা-চামচ শ্যাম্পু, ১ চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখতে হবে এবং পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। পা ধোয়ার পর ময়শ্চারাইজার ক্রিম বা পেট্রলিয়াম জেলি লাগাতে হবে।
২ চা-চামচ চালের গুঁড়া, ১ চা-চামচ কমলার খোসা বাটা, ১ চা-চামচ হলুদ, ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে পায়ে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবুর রস ৪ চা-চামচ, মধু ১ চা-চামচ, অলিভ অয়েল ১ চা-চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে মাসাজ করতে হবে।

বিয়ের পর ত্বকের যত্ন
বিয়ের দিন, হলুদ ও বৌভাতের অনুষ্ঠানে অনেক ভারী মেকআপ করা হয় টানা কয়েকদিন। তাই সবার আগে মেকআপ খুব ভালোভাবে তুলতে এবং ত্বক পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
ত্বক পরিষ্কার করার আগেই লোশন এবং আই মেকআপ রিমুভার দিয়ে আপনার মুখ ও চোখের মেকআপ তুলে ফেলতে হবে। আপনার ত্বকের ধরন যাই হোক না কেন, মেকআপ তোলার জন্য মুখ ধোয়ার আগে কোনো তেলযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করুনÑ যাতে ক্রিমের সঙ্গে আপনার মেকআপ সহজেই মিশে যায়। তবে যাদের ত্বক খুব সেনসেটিভ তাদের জন্য গন্ধযুক্ত যে কোনো পণ্য এড়িয়ে চলতে হবে। বাজারে এখন অনেক মেকআপ রিমুভার লোশন পাওয়া যায়। তবে যে কোনো  ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করেও এ কাজটি যথেষ্ট কার্যকরভাবে করা যায়। মেকআপ না তুলে ঘুমাতে যাবেন না। যদি মেকআপ না তুলে ঘুমাতে যান তাহলে লোমের গোড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে, মাশকারা চোখের পাঁপড়ি ফেলে দিতে পারে বা ভেঙে ফেলতে পারে।
কোনো ভালো পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করাতে পারেন। চুলের ওপর একম কিছু করা হয় না। তাই চুলের জন্যও চাই আলাদা যত্ন। এ জন্য অয়েল মাসাজ

 

মডেলঃ রাহি

ছবিঃ তানভীর মাহমুদ শোভন

সুচিত্রা সেন

আলমগীর রেজা চৌধুরী

 

 

সুচিত্রা সেনের প্রেমে পড়েছিলেন আমার বাবা, আমি পড়িনি। না হলে আমাদের শহরের ‘রওশন টকিজ’ হলে সুচিত্রা ছবি এলেই মাকে নতুন কাপড় পরিয়ে রিকশায় বসে বাবা হুড তুলে ভাইবোনদের সার সার (যার যার) দাঁড়নো রিকশা ভরে নিয়ে যেতেন সুচিত্রা র্দশনে। আমি তখন সিনেমা বোঝার বয়সে পড়িনি। কিন্তু সিনেমা হলে বাবার দেয়া চানাচুর ভাজা, দুধ মালাই তো নিশ্চিত। আসি এতেই সন্তুষ্ট।
রিকশার টুনটুন বাজিয়ে মধ্যরাতে যখন ঘরে ফেরা হতো তখন বড় চাচা গলা খাকারি দিয়ে বলতেন, ‘কি রে, বই দেখে ফিরলি?’
বাবা বলতেন, ‘জি মিয়া ভাই। সুচিত্রা সেনের ছবি।’ ওই পর্যন্তই। পরে সুচিত্র সেনে প্রেমে পড়েন বড় ভাই। কলেজে ওঠার পর পর তার মাথার ভেতর রমা ঢুকে যায়। আর যাবে কোথায়? বাবার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সুচিত্রার বই দেখে দেখে বড় ভাই ঈষৎ রোমান্টিক, ঈষৎ বিরহ লালন করতে করতে যৌবনে অতিক্রম করেন। বাবা ও বড় ভাইয়ের আবদ্ধ নারীর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ হয় আরো পরে। যখন স্কুল শেষ করে কলেজে উঠেছি। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ভারতীয় ছবি ‘চ্যারিটি শো’ হিসেবে প্রদর্শিত হতে থাকে সিনেমা হলগুলোয়। ঠিক তখনই সুচিত্র সেনের সঙ্গে আমার পরিচয়। ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ছবিতে বসন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সুচিত্রা সেন। বসন্ত চৌধুরীর সেবার দায়িত্বে নার্স সুচিত্রা সেন। সহশিল্পী পাহাড়ি সান্যাল। অসাধারণ এক নারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যৌবনে পা দেয়া এক যুবক। অনুরণন তুলতে থাকে- ‘এই রাত তোমার আমার।’ চোখের তারায় তার ব্যাকুল নিমন্ত্রণ! সে কোনো সাধারণ নারী নয়। যুবকের ভূভাগে নারীর বাঁকা অক্ষির মোহনা চতুরতা। তা কেবল গহিন সাগরে হাবুডুবু খাওয়া কাতর ডলফিন। কণ্ঠের মদুরিমায় যে প্রকাশ এর নাম মমতাময়ী প্রেমিকা। আমি তো তার জন্যই অপেক্ষা করছি।


বাবা ও বড় ভাইয়ের ভালোবাসায় প্রান্তি ছিল। তাদের সঙ্গে সুচিত্রা সেনকে মানায়নি। আমি তার যথার্থ প্রেমিক। আকণ্ঠ তৃষ্ণা নিয়ে হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছি।
না, ওই মুখ দেখে তৃষ্ণা মেটেনি আমার। এরপর শুধু সুচিত্রা সেনকে অবিষ্কার করা। বাংলা-হিন্দি ছবি মিলিয়ে সুচিত্রা সেন অভিনয় করেছে ৬০টি ছবিতে। ৫৩টি বাংলা, বাকি ৭টি হিন্দি ছবি। প্রথম বাংলা ছবি, ‘সাত নম্বর কয়েদি’ মুক্তি পায় ১৯৫৩ সালে। শেষ ছবি ‘প্রণয়পাশা’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। হিন্দি ছবি ‘দেবদাস’ মুক্তি ১৯৫৫ সালে। শেষ হিন্দি ছবি ‘আঁধি’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে।
সুচিত্রা সেন অভিনীত ছবির নায়করা (বাংলা)- সমর রায়, উত্তম কুমার, রবীন মজুমদার, বিকাশ রায়, অশোক কুমার, অসিত বরন, শৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ কুমার, নির্মল কুমার, উৎপল দত্ত, সমিত ভ- ও রঞ্জিত মল্লিক।
হিন্দি ছবির নায়করা- দিলীপ কুমার, শেখর, ভারত ভূষণ, দেব আনন্দ, ধর্মেন্দ্র ও সঞ্জীব কুমার। সুচিত্রা সেন অভিনীত সর্বাবাধিক জুটির যুক্তিপ্রাপ্ত ছবির নায়ক উত্তম কুমার। উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ছবি ৩০টি। সুচিত্রা সেনের ৩৫ বছর অভিনয় জীবনে উত্তম-সুচিত্র সফল ও চিরায়ত জুটি হিসিবে চিহ্নিত। কেন ও কী কারণে সফল এবং চিরায়ত ওই ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন নেই। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, তার সময়ে বাংলা ও হিন্দি চলচিত্রের সফল তারকাদের সঙ্গে সুচিত্রা সেন অভিনয় করেছেন। বলা যায়, ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে সফল ও দর্শক নন্দিত নায়িকা হিসেবে সুদীর্ঘ সময় দীপ্যমান। ২০১৪ সালে দাঁড়িয়ে যে কাউতে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার প্রিয় নায়িকা কে? অন্তত ৬০ শতাংশ দর্শক জবাব দেবেন সুচিত্রা সেন। কেন ও কী কারণে সুচিত্রার এ সফল অভিনয়শৈলী এর একটু ঠিকুজি থাকা দরকার।


সুচিত্রা সেনের জন্ম ১৯২৯ সালের ৬ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচিতে তার মামাবাড়িতে। পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার একতলা পাকা পৈতৃক বাড়িতে শিশুকাল, শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। স্কুলে ভর্তি করার সময় তার নাম রাখা হয় কৃষ্ণা দাসগুপ্ত। ডাকনাম রমা। বাবা করুণাময় দাসগুপ্ত ছিলেন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ভাইবোনদের মধ্যে সুচিত্রা পঞ্চম। ১৯৮৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর পাবনা ছেড়ে বাবার সঙ্গে তিনি চলে যান কলকাতায়। ওই বছর তার বিয়ে হয় আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে। রমা সেন ভালোবেসেই দিবানাথ সেনকে বিয়ে করেছিলেন ১৯৪৮ সালে। স্বামীর সম্মতিতেই ১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে চিত্রজগতে আত্মপ্রকাশ তার। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি।
সুচিত্রা সেন সম্পর্কে চিত্র পরিচালক সুকুমার দাসগুপ্ত বলেছেন, “১৯৫১ সালে ‘সাত নম্বর কয়েদি’ ছবির জন্য নতুন মুখ খুঁজছি। এমন সময় অমিত চৌধুরী বললেন, একটি ভালো ও শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে আছে। মনে হয় সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে নাম করবে। তার কথায় মেয়েটি কে পাঠিয়ে দিতে বললাম। প্রথম দিন তার স্বামী দিবানাথ সেনের সঙ্গে এলেছিলেন দেখা করতে আরোরা স্টুডিওতে। ছিপছিপে চেহারা, ডাগর ধরনের চোখ। চোখ দুটি ভারী সুন্দর এবং খুব এক্সপ্রেসিভ। চাহনিতে স্বচ্ছ গভীরতা। মিষ্টি হাসিতে মুখখানা যেন উচ্ছলতায় ভরে যায়। একনজরে পছন্দ হয়ে গেল। কণ্ঠস্বরও বেশ মিষ্টি। কথার মধ্যে বাঙাল টোন আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিতে রাজি হয়ে গেলাম।’
ওই সাত নম্বর কয়েদি দিয়ে শুরু। তখনো রমা সেন নামেই পরিচিত।


১৯৫২ সালে রমা সেন পাল্টিয়ে সুচিত্রা সেন নামে আত্মপ্রকাশ নীরেন লাহিড়ীর ‘কাজরী’ ছবিতে। ৫ ফিট সাড়ে ৪ ইঞ্চির মতো সুচিত্রা হয়তো আজকের সুস্মিতা ও ঐশ্বর্যদের মতো দীর্ঘাঙ্গী নন। ফিতান মাপে তিনি সিøম নন, নন আন্তর্জাতিক রূপসী। তার সুগঠিত নাক, লম্বাটে ভরাট মুখম-ল, ছোট কপাল, একঢাল কালো চুল, শ্যামবরন ত্বক। নারায়ণ গঙ্গেপাধ্যায় লিখেছেন, ‘কালো মেয়ের প্রেমে পড়লে ওঠা যায় না।’ সুচিত্রা সেনের সৌর্ন্দয অনেকটা ওই ঘরনার আকৃষ্ট করে। একই সঙ্গে দূরত্বও রচনা করে- রোমান্টিক ও বিরহী।
আমার মতো লাখো প্রেমিক আছে সুচিত্রা সেনের। যে কোনো বয়সের প্রেমিক। সিনেমা জগতে এতো দীর্ঘকাল প্রেমিকা থাকা খুব কঠিন। সুচিত্রা সেন ছিলেন এবং আছেন। মনময়ূরী স্বপ্নের দেবী। কী চমৎকার রূপ, কী তার চাহনি, কী অভিনয়! যেন বার বার হৃদয় পোড়ে। সুচিত্রা সেন মানেই স্বতন্ত্র স্টাইল। বলা যায়, স্টার ইমেজ কারো ছিল না। দর্শককুল তাকে গভীর ভালোবাসে। এতে কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব নেই। কাম ও ক্রোধহীন নিষ্পাপ প্রেম। সে প্রেম কোনো পুরুষকে জীবন ভালোবাসতে শেখায়। বিরহের অনল হৃদয়ে উত্তাপ ছড়ায়, এর মধ্যে সহস্র রেণু ঝরে পড়ে। তা মানুষকে অনন্ত এক সহযাত্রীর সন্ধান দেয়।
বাংলা ছবির গ্ল্যামার কুইন সুচিত্রা। রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে তার খ্যাতি চিরায়ত। তার দীর্ঘ রোমান্সের সমকক্ষ অভিনেত্রী সে যুগে কেউ ছিল না, এ যুগেও কেউ নেই।
তো কলেজে পড়া ঝুল বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করে যে নারী, তিনি প্রণয় আরসে জায়িত সুন্দরী। এক রকম গহিন রহস্যের অনঙ্গ পরী, সৌন্দর্যের অনন্য উপমা- ‘দীপ জ্বেলে যাই’ দিয়ে এ নারীকে আবিষ্কার করা। সাধারণ নার্স শুভ্র বসনা। চোখের অনন্য চাহনিতে উল্টে দিয়েছিল পৃথিবীর দেয়াল। প্রেমান্ধ পরিব্রাজক আস্তে আস্তে খুঁজে পায় ‘পথে হলো দেরি’র মল্লিকা, ‘উত্তর ফাল্গুনী’র ব্যথিত মা ও কন্যা। অপূর্ব অভিনয়শৈলী হৃদয়িক মহিমায় তাকে কেবলই উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে।
বলা যায় উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ৩০টি ছবি বাংলা সিনেমায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যখন পর্দায় দু’জনকে দেখা যেতো তখন তা আর অভিনয় থাকেনি, হয়ে উঠেছে বাঙালির জীবন কাহিনীর দৃশ্যমান সহজ চলচ্চিত্র। অসধারণ ব্যক্তিত্বে দু’জনই কিংবদন্তি- কী চলনে, কী বলনে। এখনো সুচিত্রা উত্তমের ছবি চ্যানেলগুলোয় প্রদর্শনের সময় বাংলা সিনেমার দর্শককুল দয়িতা অথবা প্রেমিক হয়ে ওঠে।


আমি যখন সুচিত্র সেনকে খুঁজে পাই তখন তিনি প্রায় অভিনয় ছেড়ে দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ সত্তর দশকের প্রথম দিকে। ১৯৭৮ সালে তার অভিনীত শেষ বাংলা ছবি ‘প্রণয়পাশা’ মুক্তি পায়। এরপর রুপালি পর্দা থেকে অবসর নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান তিনি। ধর্মের প্রতি গভীর অভিনিবেশ তাকে জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। শেষ দিকে বলতেন, ‘এক সময় বাসনার রূপ ছিলাম। তাই এখন সরিয়ে নিয়েছি নিজেকে ওই চোখগুলো থেকে অনেক দূরে।’
প্রায় ৩৫ বছরের আলো ঝলমল জীবন তাকে ধরে রাখতে পারেনি। গৃহকোণে নিভৃতে ঈশ্বরের খোঁজে বসবাস করে সাধারণ হয়ে বাঁচতে চেয়েছেন। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর তার গলায় মালা রেখে গিয়েছিলেন। এরপর মিড়িয়ার সঙ্গে কথা বলেনি। একাকী নিসঙ্গ জীবন যাপন।
হলিউডের গ্রেটা গার্বো, টালিউডের সুচিত্রা সেন খ্যাতির তুঙ্গে থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন। গ্রেটা গার্বো ১৯৪১ ও সুচিত্রা ১৯৮০ সালে। প্রচারের হ্যালোজেন থেকে স্বেচ্ছায় নিবার্সিত দুই কিংবদন্তি ফিরে আসেননি রুপালি পর্দায়। তারা অধরা মাধুরী। দুই নারী ঢেকে রেখেছেন তাদের গভীর গোপন সেই অন্ধকার, পিচ্ছিল গহ্বর, ব্যক্তিগত জীবন।
২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার এক হালপাতালে ৮৪ বছর বয়সে শেষ হয় তার বর্ণাঢ্য জীবনচরিত। রেখে যান এক মাত্র কন্যা মুনমুন সেন এবং নাতনি রিয়া সেন ও রাইমা সেন। তারা হিন্দি ছবিতে উত্তরাধিকারের উজ্জ্বল উপস্থিতি রেখেছেন।
আর আমি নামক মানুষ যে নারীর ঊর্ণনাভে জড়িয়ে মধ্যাহ্নে পৌঁছে গেছি, আজও তার প্রতি অণুরাগের এতোটুকু কমতি নেই। তাকে সন্ধান করতে করতে এক সময় মনে হয়েছে, আমার কিছুই হারায়নি। এমন মগ্নতায় কি ছল থাকে? সুচিত্রা সেন অভিনীত চরিত্রগুলো হেঁটে আসে- কখনো রমা, কখনো মল্লিকা। মল্লিকা বলছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাদের ভালোবাসা দেখার জন্য ওই কাঞ্চনজংঘার নিচে এতো সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে...। ভাটার ফুল ঝরে যাবে, চাঁদ ডুবে যাবে। কিন্তু আজকের লগন কোনো দিন শেষ হয়ে যাবে না।’
প্রিয় সুচিত্রা সেন, আপনার চোখের মায়াময় দ্যুাতি, হৃদয়কাড়া হাসি, অব্যক্ত ক্রন্দনের দৃশ্যকল্প খুঁজে খুঁজে এতো দিন-রাতের মুগ্ধতা তা কি বিস্মরণের অকূলে হারিয়ে যেতে পারে? আপনাতে চোখের তারায় ক্রুশবিদ্ধ করেছি। বর দিন, তিন পুরুষের প্রণয়পাশার খেলোয়াড় কেমন কাঙাল হয়ে আছে।

 

 

জাদুর ঘর



বসার ঘরের অন্দরসাজ কেমন হবে, তা নির্ভর করবে ঘরের আয়তন, লাইফস্টাইল ও বাজেটের ওপর। ঘর বড় হলে ফর্মাল সোফা, সেন্টার ও কর্নার টেবিল, ল্যাম্প, ঝাড়বাতি, কার্পেট দিয়ে ঘর সাজাতে পারেন। ঘর ছোট হলে আয়তন অনুযায়ী  সাজানোর প্যাটার্ন ও আসবাবপত্র নির্বাচন করুন।
দিনে শেষে প্রত্যেকের ঠিকানা নিজের ঘর, সারাদিন কাজের পর নিশ্চিন্ত আশ্রয়। কিন্তু শুধু চাইলেই হবে না, কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। একটু কৌশলী হতে হবে। আর তা হলেই নিজের ঘরটি করে তোলা যায় অনন্য।
যার যার পছন্দ এবং চাহিদা অনুযায়ী সেই ঘর গোছানো হয়। প্রতিটি মানুষ চায় তার ঘরটি হবে সুন্দর। কিন্তু শুধু চাইলেই হবে না। গৃহকোণ গড়ে ওঠে গৃহকর্তার রুচির উপর ভিত্তি করে। গুলশান-২ এ মাঈন চৌধুরীর বাসা তার সংগৃহীত এন্টিক এবং পেইন্টিংস এ সাজানো। অসাধারণ আর বৈচিত্র্যময় সব পেন্টিংসগুলো গৃহকর্তার শিল্পমানের সুরুচির বাহক। আরও আছো দুর্লভ কিছু পাথরের মূর্তি।
যুগের পরিবর্তনে ফ্যাশনে যেমন পরিবর্তন এসেছে, পরিবর্তন এসেছে গৃহসজ্জায়ও। ম্যাচিং আর কনট্রাস্টের সামঞ্জস্যপূর্ণ সাজের যুগ এখন।
বসার ঘরের মূল আকর্ষণ সোফা। রুচি অনুযায়ী বেত, কাঠ বা রট আয়রনের সোফা বেছে নিন। সোফার ডিজাইন অনুযায়ী বসার ঘরের অন্য ফার্নিচার কেবিনেট, শেলফের ডিজাইন নির্বাচন করুন।
বসার ঘরের আয়তন অনুযায়ী দেয়ালের রং ঠিক করুন। উজ্জ্বল এবং হালকা রঙে ঘর বড় দেখায়। ঘরে সূর্যের আলো না ঢুকলে কোনোভাবেই দেয়ালে গাঢ় রং ব্যবহার করা যাবে না। গাঢ় রং চাইলে একটা দেয়ালে কমলা, লাল, হালকা নীল রং দিয়ে অন্য দেয়ালগুলোয় নিউট্রাল রং দিন।
বসার ঘরে রঙিন এবং উজ্জ্বল ভাব আনার জন্য বিপরীত রঙের সোফার কভার ও কুশন কভার বেছে নিন। সোফার কভার কালারফুল হলে একরঙা কুশন কভার নিন। আবার কুশন কালারফুল সোফার কভার একরঙা হলে ভালো। কুশন ও সোফার কভারের সঙ্গে মিলিয়ে ঘরের পর্দা নির্বাচন করুন। বসার ঘরে রিচ ফেব্রিকের পর্দা লাগালে ঘরে একটি আলাদা আমেজ আসে।
দেয়ালে পেইন্টিং ঝোলাতে চাইলে ভিন্ন রঙের দেয়ালটি বেছে নিন। অনেকেই বসার ঘরে একটা দেয়ালে বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট করেন। সে ক্ষেত্রে গাঢ় রঙের বদলে দেয়ালে মার্বেল পাথর, টেরাকোটা, স্টোন বা রাস্টিক টাইলস দিয়ে ডিজাইন করতে পারেন।
বসার ঘরের ইন্টেরিয়র প্ল্যান করার আগে লাইটিংয়ের দিকে নজর দিন। আলো-ছায়ার আবহ তৈরি করতে চাইলে সাদা, লাল, কমলা, গোলাপি বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহার করুন। আর বিশেষ অংশ হাইলাইট করতে স্পটলাইট লাগান।
বসার ঘরের মেঝেতে সোফার কভার, কুশন ও পর্দার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্পেট বা শতরঞ্জি ব্যবহার করুন। ফার্নিচার ও সাজ মডার্ন হলে কার্পেট আর দেশীয় সাজের সঙ্গে শতরঞ্জি ভালো মানায়।

কৃতজ্ঞতা : মাঈন চৌধুরী
লেখা    : সহজ ডেক্স
ছবি      : শোভন আচার্য্য অম্বু

আসন্ন গরমে ত্বকের যত্ন


আসন্ন গরমে আমাদের দেহের তাপমাত্রা ও বাইরের আবহওয়ার তাপমাত্রার সমন্বয় ঘটানো খুবই জরুরি। ত্বক সব সময় ঠা-া ও পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানির বিকল্প নেই। দিনে তিন-চার লিটার পানি আধা গ্লাস করে একটু পর পর পান করতে হবে। এছাড়া যে কোনো ফলের রস পান করা উপকারী। রোজ দুধ, কাঁচা হলুদ ও আমলকী খাওয়া উচিত। এতে ত্বক উজ্জ্বল ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।
আসন্ন গরমে আনেকের ত্বকের ধরণ পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই সঠিক সমাধানের জন্য হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স¦ত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা অনুযায়ী ঘরোয়াভাবে কীভাবে নারী দেখতে নিখুঁত হবেন তা তুলে ধরেছেনÑ

শুষ্ক ত্বক: গরমে শুষ্ক ত্বক আরো যেন খসখসে ও প্রাণহীন হয়ে যাচ্ছে। এর থেকে বাঁচার জন্য যা করতে হবে তা হলো তরমুজ, টক দই, চন্দন ও ঘৃতকুমারী এক সঙ্গে প্যাক করে লাগাতে পারেন। এত ত্বক মসৃণ ও নরম থাকবে। এছাড়া আইস বা বরফ, ঘৃতকুমারী, নিমের তেল ও চন্দন এক সঙ্গে লাগালেও ত্বক উজ্জ্বল হয়।

তৈলাক্ত ত্বক: গরমে তৈলাক্ত ত্বক থেকে প্রচুর তেল বের হয়। ফলে ত্বক আরো গরম হয়ে যায় এবং ব্রণ দেখা দেয়। এই ত্বকের জন্য যা করতে হবে তা হলো টমেটো, মধু, নিমপাতা ও মসুরের ডাল এক সঙ্গে লাগাতে হবে। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে যাবে এবং ব্রণ দূর হবে। এছাড়া শসার রস, সয়াবিন, মধু ও আঙুরের রস এক সঙ্গে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয় ও তৈলাক্ত ভাব কমে।

মিশ্র ত্বক: মিশ্র ত্বক গরমে তৈলাক্ত হয়ে ওঠে। ফলে মুখের চামড়া উঠতে থাকে। এ জন্য যা করতে হবে তা হলো কচি ডাবের শ্বাস, কমলার রস, বেসন ও কালিজিরার তেল প্যাক করে লাগাতে হবে। এতে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হবে। এছাড়া পাকা পেঁপে, চকলেট, চন্দন ও হলুদের প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ ও টানটান হবে।

হাত ও পায়ের যত্ন

হাতের যত্ন
বেসন ২ চামচ, টক দই ২ চামচ, চিনি ১ চামচ ও পাতিলেবুর রস ১-২ চামচ একত্রে মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পাকা কলা ১টির সঙ্গে চিনি মিশিয়ে হাতে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পেস্তা বাটা ২ চামচ, গুঁড়া দুধ ১ চামচ, মধু ২ চামচ ও গোলাপ জল ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে ২ হাতে সুন্দর করে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পাকা কলার সঙ্গে তেঁতুলের ক্বাথ মিশিয়ে কনুইয়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
চালের গুঁড়া ২ চামচ, টক দই ২ চামচ, মুলতানি মাটি ২ চামচ, কমলার খোসা গুঁড়া ১ চামচ ও অলিভ অয়েল ১ চামচ একত্রে মিশিয়ে হাতে লাগানোর পর ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
বেসন ২ চামচ, সামান্য কাঁচা দুধ ও এপ্রিকট স্ক্রাবার ২ চামচ মিশিয়ে সম্পূর্ণ হাতে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

পায়ের যত্ন - 
মুলতানি মাটি ২ চামচ, মধু ২ চামচ, তরমুজের রস ২ চামচ ও ডাবের পানি ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
শসার রস ২ চামচ, আলুর রস ২ চামচ ও মধু ১ চামচ পায়ে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে।
টক দই ২ চামচ, অলিভ অয়েল ১ চামচ, চিনি ১ চামচ ও লবণ ১-২ চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর আলতোভাবে ঘষে তুলে ধুয়ে ফেলতে হবে।
কুসুম গরম পানি ১ বোলে লবণ ১ চিমটি, ১ চা-চামচ শ্যাম্পু ও ১ চা-চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ওই পানিতে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রেখে পরে ঝামা দিয়ে ভালো করে পায়ের গোড়ালি ঘষতে হবে। এতে মরা কোষ উঠে যাবে।
নারিকেল তেল ২ চামচ, পাতিলেবুর রস ১-২ চা-চামচ, বাঁধাকপির রস ২ চামচ মিশিয়ে পায়ে ভালো করে মাসাজ করতে হবে।
গাজরের রস ২ চামচ, তিলের তেল ১ চামচ, শসার রস ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে ভালো করে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ত্বকের যতেœ যখনই কোনো প্যাক ব্যবহার করা হোক না কেন, অবশ্যই তা তুলে সুন্দর করে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।

ত্বকের যত্ন 

চলমান আবহাওয়ায় আমাদের শরীরের চামড়ার ধরণ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বুঝতে পারছেন না, এর সঠিক সমাধান কোথা থেকে পাবেন। তাই ঘরোয়াভাবে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা অনুযায়ী কীভাবে কোনো নারী নিখুঁত চেহারা পাবেন তা তুলে ধরেছেন রূপ বিশেষজ্ঞ

রহিমা সুলতানা

 

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতুর বৈচিত্র্যের সঙ্গে সঙ্গে এ দেশে আবহওয়া এবং মানুষের দেহ ও মনের পরিবর্তন দেখা দেয়। প্রতিটি ঋতু পরিবর্তনের সময় আমাদের দেহের ও বাইরের আবহাওয়ার তাপমাত্রার সমন্বয় ঘটানো খুবই জরুরি। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে প্রচুর ঘাম বের হয়ে শরীর ডিহাইড্রেটেড হতে পারে।
ত্বক সব সময় শীতল ও পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। সম্ভব হলে শীততাপ নিয়ন্ত্রণযুক্ত কক্ষে থাকতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানির বিকল্প নেই। দিনে তিন-চার লিটার পানি আধা গ্লাস করে একটু পর পর পান করতে হবে। এছাড়া যে কোনো ফলের রস পান খুবই উপকারী।
প্রতিদিন দুধ, কাঁচাহলুদ ও আমলকী খাওয়া উচিত। এতে স্কিন উজ্জ্বল ও ব্যাকটেরিয়া দূর হবে।
রোদে যাওয়ার আগে
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শুধু সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই হবে না, গোসল করে নেয়া ভালো। পানিতে কয়েক ফোঁটা বেনজয়েন অ্যাসেনসিয়াল অয়েল মিশিয়ে গোসল করলে ঘামে দুর্গন্ধ ও রোদে ত্বক কালচে হবে না। ওষুধের দোকান বা সুপারশপে এই অয়েল পাবেন। চার ঘণ্টা পর পর ল্যাভেন্ডার অয়েল সমৃদ্ধ ওয়েট টিস্যু দিয়ে ত্বক মুছে দিতে হবে।
রোদে পোড়া ভাব দূর করতে
যে কোনো ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা পেস্ট উপকারী। রাতে টক দই, ডিমের সাদা অংশ মিশ্রণ প্যাক হিসেবে ত্বকে লাগানো যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এছাড়া সুজি হালকা করে ভেজে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এটি স্ক্রাবের কাজও করবে। স্ট্রবেরি, টক দই ও ময়দার মিশ্রণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো। শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করা যাবে দুধের সর, যে কোনো বাদাম, মধু ও সামান্য চিনির মিশ্রণ।
যাদের ত্বক পাতলা তাদের নিতে হবে বাড়তি যতœ। এ ধরনের ত্বকের চামড়া ভেদ করে শিরার রেখা চোখে পড়ে। অনেকের পাতলা ত্বক রোদে গেলে অল্পতেই লাল হয়ে যায়। ফলে ত্বকে জ¦ালাপোড়া হয়। যাদের ত্বক পাতলা তারা যেন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলেন। রোদে বের হলে অবশ্যই ত্বক বুঝে সানব্লক ব্যবহার করতে এবং সঙ্গে রাখতে হবে ছাতা। বাইরে থাকলে দুই ঘণ্টা পর পর নতুন করে ত্বকে সানব্লক লাগতে হবে। কিছু ফেস পাউডারও সানব্লকের কাজ করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা এমন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। রোদচশমা ও হ্যাট জাতীয় বড় টুপি ব্যবহার করতে হবে যেন চোয়াল ও এর আশপাশে রোদ না লাগে। এরপরও যদি ত্বক লাল হয়ে জ্বালা করে তাহলে বরফ ঘষতে হবে অথবা ঠা-া পানির ঝাপটা দিতে হবে।
শুষ্ক ত্বক : গরমে শুষ্ক ত্বক আরো যেন খসখসে, শুষ্ক, প্রাণহীন হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে বাঁচার জন্য যা করতে হবে- 
তরমুজ, টক দই, চন্দন ও ঘৃতকুমারী এক সঙ্গে প্যাক করে লাগালে ত্বক মসৃণ ও নরম থাকবে।
আইস বা বরফ, ঘৃতকুমারী, নিম তেল ও চন্দন লাগালে ত্বকের হয়।
তৈলাক্ত ত্বক : গরমে তৈলাক্ত ত্বক থেকে প্রচুর তেল বের হয়। ফলে ত্বক আরো গরম হয়ে যায়। এছাড়া দেখা দেয় ব্রণ। এ জন্য যা করতে হবে-
টমাটো, মধু, নিমপাতা ও মসুরের ডাল লাগাতে হবে। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে যাবে এবং ব্রণ দূর হবে।
শসার রস, সয়াবিন, মধু ও আঙুরের রস লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং তৈলাক্ত ভাব কমে যায়।
মিশ্র ত্বক : মিশ্র ত্বক গরমে তৈলাক্ত হয়ে ওঠে এবং মুখের চামড়া উঠতে থাকে। এ জন্য যা করতে হবে-
কচি ডাবের শাঁস, কমলার রস, বেসন ও কালোজিরার তেল প্যাক করে লাগাতে হবে। এতে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হবে।
পাকা পেঁপে, চকলেট, চন্দন ও হলুদ প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ এবং টানটান হবে।

চুলের পরিচর্যা
লেবুর রসের সঙ্গে ত্রিফলা চূর্ণ মিশিয়ে সপ্তাহে ২ দিন চুলে ব্যবহার করলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং দ্রুত বাড়ে।
লেবুর রসের সঙ্গে টক দই অথব নারিকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে চুলের গোড়ায় মাসাজ ব্যবহার করলে খুশকি দূর হয়।
পেঁয়াজের রসের সঙ্গে জবা ফুল পেস্ট করে লাগালে চুল গজাতে সাহায্য করে।
লেবুর রসের সঙ্গে চায়ের লিকার মিশিয়ে শ্যাম্পু শেষে ব্যবহার করলে চুল ঝলমলে ও সুন্দর হয়।
শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনিংয়ের জন্য ১ চামচ মেথি ১ লিটার পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে ওই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

হাতের যত্ন
বেসন ২ চামচ, টক দই ২ চামচ, চিনি ১ চামচ ও পাতিলেবুর রস আধা চামচ একত্রে মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
একটি পাকা কলার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে হাতে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পোস্তাবাটা ২ চামচ, গুঁড়া দুধ ১ চামচ, মধু ২ চামচ ও গোলাপ জল ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে ২ হাতে সুন্দর করে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পাকা কলার সঙ্গে তেঁতুলের ক্বাথ মিশিয়ে কনুইয়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
চালের গুঁড়া ২ চামচ, টক দই ২ চামচ, মুলতানি মাটি ২ চামচ, কমলার খোসার গুঁড়া ১ চামচ ও অলিভ অয়েল ১ চামচ একত্রে মিশিয়ে হাতে লাগানোর পর ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
বেসন ২ চামচ, সামান্য কাঁচা দুধ ও এপ্রিকট স্ক্রাবার ২ চামচ মিশিয়ে পুরো হাতে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

পায়ের যত্ন 
মুলতানি মাটি ২ চামচ, মধু ২ চামচ, তরমুজের রস ২ চামচ ও ডাবের পানি ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
শসার রস ২ চামচ, আলুর রস ২ চামচ ও মধু ১ চামচ পায়ে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

মডেলঃ ফাহমি এশা

ছবিঃ সুমন হোসাইন

মেকওভারঃ ক্লিও প্রেট্রো বিউটি স্যালন

বসার ঘরের কাব্য

 

মানুষ প্রকৃতির সেরা সৃষ্টি। প্রকৃতির নিয়মে অনেক

বিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানব সভ্যতা বর্তমান অবস্থায় রূপ নিয়েছে। প্রকৃতির দান নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে। প্রকৃতির ওপর এখনো মানুষ প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। প্রকৃতির নির্মল বাতাস এখনো মানুষকে অফুরন্ত প্রাণশক্তি জোগায়।

আপনার বাড়িটি এমনভাবে সাজান যেন দেখে একটা আরাম ও প্রশান্তির ভাব মনে তৈরি হয়। বেডরুমের জন্য বেছে নিন হালকা ও উষ্ণ রঙ। গাঢ় রঙ মনে উত্তেজনা তৈরি করে। এতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। যারা নতুন করে নিজের বাড়ি সাজাতে চান তারা আগে থেকেই একটি পরিকল্পনা তৈরি করে নিন। ঘরের ফেব্রিক্স কী হবে তা আগে ঠিক করে এর সঙ্গে মিল রেখে দেয়ালের রঙ করলে ভালো লাগবে। এছাড়া রাখতে হবে মানানসই আসবাব।

ঘরের বেডকভার, জানালার পর্দা, ডেকোরেশন ও ডিজাইনে সুন্দর কম্পোজিশন তৈরি করুন। সব মিলিয়ে ঘরে একটি গোছানো ছবির রূপ ফুটে উঠবে। ঘরের ভেতর পারলে একটি ওয়াল ক্যাবিনেট বানিয়ে নিন। এতে বাড়তি সব জিনিস ঢুকিয়ে রাখতে পারবেন। ফলে ঘরে সাজানো-গোছানো ভাব থাকবে। ছোট ঘরের বড় ইমেজ তৈরি করতে দেয়ালে বড় আয়না লাগাতে পারেন। এ কারণে ঘরের স্পেস বড় মনে হবে। শোয়ার ঘরের মেঝে কাঠ এবং এর সঙ্গে বেড সাইড কার্পেট বা শতরঞ্জি রাখতে পারেন। দেয়ালে ছবি রাখতে চাইলে দুই বা তিন দেয়ালে না ঝুলিয়ে একটি দেয়াল বেছে নিন। সেখানে সুন্দর কম্পোজিশন করে ছবি রাখুন। দেখতে ভালো লাগবে। ঘরের লাইটিংয়ে আনতে পারেন পারেন ভিন্নতা। লাইটিং দিয়ে ঘরে একটা মুড তৈরি করা যায়। ঘরের ধরন বুঝে ল্যাম্পশেড, আপ লাইট, ফ্লোর ল্যাম্প, স্পট লাইট ব্যবহার করুন।

বসার ঘরটি একভাবে শুধু সোফা দিয়ে না সাজিয়ে বসার জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা করতে পারেন। একপাশে যদি ফরমাল বসার ব্যবস্থা থাকে তাহলে সেখানে রাখুন সোফা বা উঁচু কোনো আসন। আরেকটু ঘরোয়া আমেজে বসতে চাইলে ফ্লোর সিটিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন ঘরের অন্য এক কোণে। ডাইনিং স্পেস অনুযায়ী ডাইনিং টেবিলের মাপ স্থির করে নিন। ছোট স্পেসে বড় টেবিল না রেখে ওভাল বা রাউন্ড শেপের টেবিল রাখলে তা বেশি কার্যকর হবে। বড় ঘরে বড় টেবিল রাখায় কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু ছোট মাপের জায়গায় এমন টেবিল রাখতে হবে যাতে চলতে-ফিরতে অসুবিধা না হয়।

ডাইনিং স্পেসের জানালা দিয়ে বাগান, পার্ক বা চলমান শহর দেখা গেলে পাশেই রাখুন টেবিলটি। খুবই ভালো হয় যদি ঘরের একটি আকর্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা যায়। দুরন্ত দেখতে কোনো ফার্নিচার টেবিলের উল্টোদিকে রাখলে দেখাবে বেশ চমৎকার।

ঘর সাজান অ্যান্টিকে

ঘর সাজাতে কম-বেশি আমরা সবাই পছন্দ করি। ঘর দেখে মানুষের আভিজাত্য আর রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। ঘর সাজাতে সাধারণত আমরা কাঠের রকমারি আসবাব, ওয়ালম্যাট, পেইন্টিং, মাটির পুতুল প্রভৃতি ব্যবহার করি। তবে যারা একটু উচ্চাভিলাষী কিংবা বেশি মাত্রায় শৌখিন তারা চান ভিন্ন কিছু। ঘরের কোণ, বসার ঘর কিংবা ব্যালকনিতে তাদের রুচি খেলা করে ভিন্ন মাত্রা নিয়ে। এমন লোকজনের তালিকায় থাকে নানান অ্যান্টিক পণ্য বা পুরনো নিদর্শন। তাই ঘরের সাজে আসে নতুনত্ব। এসব পণ্য দেখতেও আকর্ষণীয়। অ্যান্টিকের বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে লণ্ঠনবাতি, নারীমূর্তি, জাহাজের ঘড়ি, বিদেশি মুদ্রা, ব্রোঞ্জের তৈরি আসবাবপত্র, সিরামিকের পুতুল ও খেলনা, মুক্তার দামি পাথরের গহনা, লেদারের জিনিসপত্র, জীবজন্তুর মূর্তি, ঘণ্টা প্রভৃতি পাওয়া যায়। এগুলো কিনে ঘরের সৌন্দর্যের মাত্রায় নতুনত্ব সংযোজন করতে পারেন।

 

পরিপাটি আড্ডার ঘর

‘সুন্দর গৃহকোণ একান্ত আপন সুখের ভুবন।’

স্থান সংকটের এই যুগে নান্দনিকতা বজায় রেখে সামান্য জায়গাটুকুও কতো যে বেশি কাজে লাগানো যায় সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বল্প জায়গায় মানানসই জিনিস দিয়ে নিখুঁত সুন্দর করে সাজানোর মধ্যেই রয়েছে গৃহিণীর আসল সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। লিভিং রুম, বসার ঘর বা আড্ডার ঘরÑ যাই বলি না কেন, এটি আসলে আমাদের অলস দুপুরে শান্তির আমেজে গড়াগড়ি দেয়ার উপযুক্ত স্থান। ড্রয়িং রুমটায় একটু ফরমাল ভাব চলে আসে সাধারণত বাইরের    

 

মানুষের সঙ্গে লৌকিকতা করার জন্য বেশ পরিপাটি কেতাদুরস্ত আয়োজনে। লিভিং রুমে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেয়ার মজাই আলাদা। বাড়ি যতোই ছোট হোক না কেন, বসার ঘর আলাদা আমেজে তৈরি করা জটিল ব্যপার নয়। লিভিং রুম না থাকলে ডাইনিং রুমে পার্টিশন ব্যবহার করেও এটি করা যায়। ইচ্ছা করলে দু’মুখী ক্যাবিনেট তৈরি করে জিনিসপত্র রাখতে সুবিধা হয় আবার ফ্ল্যাটটিও খোলামেলা থাকে। আড্ডার ঘরে সোফা তো লাগবেই, একই সঙ্গে প্রয়োজন দেয়াল ঘেঁষে নিচু ডিভান। তবে ডিভান ও সোফায় অবশ্যই সুতি কাপড়ের ব্যবহার করা উচিত। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা যায় ছোট-বড় নানান রঙের কুশন। দেয়ালের রঙ সাদা হওয়াটাই ভালো। এতে ছোট ঘর হলেও বেশ ভালো লাগবে। ঘর বড় হলে গৃহিণীর পছন্দমতো রঙ ব্যবহার করতে পারেন। পর্দার ক্ষেত্রে সোফা ও কুশনের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। পর্দা না দিতে চাইলে চিকও ব্যবহার যায়। তাহলে ঘরে বেশ আলো-আঁধারির খেলা করবে এবং জানালার ধার, ঘরের কোণায় ইনডোর প্লান্ট শীতলতার ছোঁয়া আনবে। অনেকে লিভিং রুমে টিভি মিউজিক সিস্টেম ইত্যাদি রাখেন। এগুলো ঘরের প্রান্ত ঘেঁষে রাখা উচিত যাতে ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা থাকে।

 

ল্যাম্পের জাদুকরী আলো-ছায়া ঘরের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। এ জন্য বিভিন্ন ল্যাম্প, ল্যাম্পশেড, বা স্ট্যান্ড ল্যাম্প ব্যবহার করা যায়। ইচ্ছা করলে নিজে বুদ্ধি খাটিয়ে অভিনব ল্যাম্পও তৈরি করে নেয়া সম্ভব। বেত বা কাঠÑ যে উপাদানের তৈরি আসবাবই হোক না কেন, এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্যান্য উপাদানের আয়োজন করা একটি বিশেষ গুণ। ছোটখাটো ক্রিস্টাল, পোরসেলিন, কাচের টেবিল ল্যাম্প, শ্বেতপাথরের ছোট টেবিল, পিতল বা সিরামিকের টুকিটাকিÑ সব মিলিয়ে এক অন্যভাবের আয়োজন করা গৃহিণীর নিপুণতার পরিচয়। সবাই বসে স্বস্তি পাওয়ার মধ্যেই ঘর সাজানোর সার্থকতা নির্ভর করে।

সানগ্লাসের সময়ফের

- নবাব আমিন 

 

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চাল-চলনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশনেও প্রতিনিয়তই পরিবর্তন ঘটছে। এই যেমন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন রঙের রোদচশমা (সানগ্লাস) পরা চলতি সময়ের জনপ্রিয় ফ্যাশন। নানান ডিজাইন ও রঙের রোদচশমা এখন বাজারে পাওয়া যায়। নিজের আউটলুকে খানিকটা পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে রোদচশমার কারিশমা অনস্বীকার্য। সাদামাটা একটি পোশাকের সঙ্গে রোদচশমা সহজেই এনে দেয় চমৎকার ফ্যাশনেবল লুক। এর ভক্ত কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে মধ্য বয়সী ও বুড়োরাও। তবে অনেকেই জানেন না এই রোদচশমা আবিষ্কারের ইতিকথা। চলুন জেনে নিই প্রিয় ওই রোদচশমা আবিষ্কারের গল্প।

প্রাচীনকালে কাচ রঙিন করে কিংবা স্ফটিক পাথর ব্যবহার করে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে আকাশ অথবা সূর্যের দিকে তাকাতো সাধারণ মানুষ। তবে এভাবে সূর্যালোকটি জয় করার ব্যাপারটি খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ শতকের আগ পর্যন্ত কারো মাথাতেই আসেনি।

প্রাচীন চীনে নাকি আজকের দিনের চশমার মতো এক ফ্রেম বানিয়ে এতে দুই চোখের ওপর রঙিন কাচ লাগিয়ে রোদের হাত থেকে চোখ দুটি রক্ষা করার কৌশলের উদ্ভব হয়েছিল। তাই ইতিহাসের পাতায় প্রথম রোদচশমার উৎসস্থল বলা হয়েছে চীন দেশকেই। চীনে নাকি রঙিন চশমা ব্যবহৃত হতো আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে। কোনো অপরাধের বিচারকাজ চলার সময় বিচারকরা সাধারণত এমন রঙিন চশমা ব্যবহার করতেন। রঙিন চশমা পরে থাকলে কোনো অভিযুক্ত কিংবা সাক্ষী তার চোখের অভিব্যক্তি বুঝতে পারতো না। বিচার কাজের স্বচ্ছতার জন্যই সাধারণত প্রাচীন চীনের বিচারালয়গুলোয় বিচারকদের এই রঙিন চশমা পরার ব্যাপারটি প্রচলিত ছিল।

১৩০০ সালের দিকে চীনের বিচারকরা বিচার কাজ চালানোর সময় চোখ ‘কোয়ার্টজ’-এর কাচে ঢেকে রাখতেন যাতে তারা কী দেখছেন তা কেউ বুঝতে না পারে। মূলত তাদের চোখের দৃষ্টি আড়াল করতে ওই চশমা ব্যবহার করা হয়। এরপর ১০০ বছর ধরে রোদচশমার ব্যবহার শুধু বিচারালয়ে হতে থাকলো।

১৪৩০ সালের দিকে রোদচশমা চীন থেকে ইটালিতে পাড়ি জমায়। তারাও বিচারিক কাজে রোদচশমা ব্যবহার করতেন।

১৮০০ সালে তৈরি হয় গগলস্। এর কাজ ছিল ভ্রমণকারীদের চোখ বাতাস, ধুলো ও রোদের আলোর হাত থেকে রক্ষা করা।

আঠারো শতকের মধ্যভাগে চশমার অস্বচ্ছ লেন্স নিয়ে জেমস আয়ুসকফ গবেষণা শুরু করলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নীল অথবা সবুজ অস্বচ্ছ কাচ নির্দিষ্ট দৃষ্টির ত্রুটি নিরাময় করতে সক্ষম হবে। সূর্যালোক প্রতিহত করার কোনো চিন্তা-ভাবনা তার মাথায় ছিল না।

১৯০০ সালের দিকে বিমান আবিষ্কারের ফলে মাটির অনেক উপরে উজ্জ্বল আলো সমস্যা হয়ে ওঠে। তাই বাউস অ্যান্ড লম্ব কোম্পানিকে এয়ার কর্পস সমাধানের জন্য খবর দেন আমেরিকান আর্মি। তখন তারা সবুজ রেব্যান এভিয়েটর রোদচশমা তৈরি করেন।

 

১৯২৯ সালে আধুনিক রোদচশমা আসে। ১৯৩০ সালে আটলান্টিক সিটিতে ফস্টার-গ্রান্ট-সানগ্লাসের প্রথম জোড়া বিক্রি করেন ফস্টার গ্রান্ট কম্পানির প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ফস্টার।

১৯৩৭ সালে প্রায় ২০ মিলিয়ন রোদচশমা আমেরিকায় বিক্রি হয়। জানা গেছে, ছেলেদের থেকে মেয়েরাই রোদচশমা ফ্যাশন হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। তখন শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ মানুষ রোদচশমা শুধু রোদ থেকে চোখ রক্ষা করতেই ব্যবহার করতো।

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে টিনটেড রোদচশমার প্রচলন শুরু হয় ইউরোপে। তখন হলিউডের তারকারা ব্যাপকভাবে এটি পরা শুরু করেন।

১৯৬৫ সালে রোদচশমার আকার ও রঙ বদলাতে শুরু করে। রোদচশমার জন্য ফটোক্রমিক লেন্স আবিষ্কার হয়। তা সূর্যের আলোটি মৃদু করে।

সত্তরের দশকে হলিউড তারকারা রোদচশমা ব্যবহারের জন্য রীতিমতো বিখ্যাত ছিলেন।

১৯৮০ সালে আরো উন্নত লেন্স আবিষ্কার হতে থাকে।

বিংশ শতাব্দীতে এসে রোদচশমা প্রাণ পায়। রোদচশমা টেকনোলজির উন্নয়নে আমেরিকার মিলিটারি ব্যাপক ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে মূলত আশির দশকের পর কিংবা এরও পর থেকে রোদচশমার ব্যবহার শুরু হয়। অবশ্য ওই সময় এতো ডিজাইনের রোদচশমা ছিল না। নব্বইয়ের দশকের পর এর আবেদন আস্তে আস্তে আরো বাড়তে থাকে।

বিংশ শতাব্দীর পর রোদচশমা অন্যান্য অনুষঙ্গের মতো একটি হয়ে ওঠে। কালের বিবর্তনে এটি এখন ঘুরে-ফিরে ওই পুরনো ডিজাইনের দিকেই যাচ্ছে। এখন অনেক ব্যবহারকারীই ওই সময় ব্যবহৃত রোদচশমার খোঁজ ও নিয়মিত ব্যবহার করছেন।

এরপর ইতিহাস ছেড়ে বর্তমানে এলে দেখা যায়, এখন সবার চোখেই রোদচশমা। সময়ের পরিক্রমায় এখন ঘর থেকে বের হলে রোদ ও ধুলাবালি থেকে চোখটি রক্ষা করার জন্য এর কোনো তুলনা হয় না। বর্তমানে এটি যেমন রোদ ও ধুলাবালি থেকে চোখটি রক্ষা করছে তেমনি ফ্যাশনেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে হ্যাঁ, ফ্যাশন আর পোশাকের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে এখন এর রঙ ও ধরন পালটাচ্ছে। মুখের আকৃতি ও নিজস্ব রুচির ওপর নির্ভর করে রোদচশমা পড়ছে সবাই। তরুণদের এখনকার অন্যতম অনুসঙ্গ এটি। এর আধুনিকতা থেকে বর্তমানে কেউই আর পিছিয়ে নেই।

অতীত-বর্তমান পর্যন্ত তারকা থেকে শুরু করে ক্রিকেটার, ফুটবলার, কবি, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের স্টাইলের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হলো রোদচশমা।

 

প্রি-ব্রাইডাল

 

প্রিব্রাইডেল

বিয়ের আগে ও পরে থাকে কনের যতœ আত্তির ব্যাপার। বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে তাই পরিচর্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন ত্বক অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পরিচর্যা ও খুটিনাটি বিষয়ে বললেন, হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতাÑ

 

বিয়ের আগে যতœ

ব্রাইডাল প্রস্তুতি ৬ মাস আগে থেকে শুরু করলে ভালো হয়। যদি ৬ মাস হাতে সময় না থাকে তাহলে ৩ মাস। যদি ৩ মাসও সময় না থাকে তাহলে এক মাসের সময় হাতে নিয়ে পরিচর্যা করতে হবে। এ জন্য দরকার একটা রুটিন জীবন। তা হলো, প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসম¥ত খাবার খেতে হবে নিয়ম করে। যেমনÑ

এক. প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস খুব উপকার করে।

দুই. সবুজ আপেল, লাল আঙুর, বিচিসহ পেয়ারা, কলা আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে প্রতিদিন অন্তত একটি খাওয়া উচিত।

তিন. সবুজ শাকসবজিÑ ব্রকলি, ঢেঁড়শ, পুঁইশাক, লালশাক, গাজর, টমেটো ইত্যাদি।

চার. ভিটামিন ‘এ’, ‘ই’, ‘ডি’ ও ‘সি’যুক্ত খাবার খেতে হবে।

পাঁচ. মাছের তেল (ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড)।

 

নিয়ম করে ত্বকের যতœ নিতে হবে

* যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের জন্য লেবুর রস দুই টেবিল চামচ, গ্লিসারিন ১ চা-চামচ ও গোলাপের পানি ৩ টেবিল চামচ একত্রে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

* যাদের ত্বক বেশি শুষ্ক তাদের জন্য ডিম ১টি, মধু ২ চামচ, গুঁড়া দুধ ১ চামচ, কাঁচাহলুদ ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস আধা চামচ একত্রে পেস্ট করে ত্বকে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

* সাধারণ ত্বকের জন্য তৈরি প্যাকÑ শসার কুচি ২ টেবিল চামচ, গোলাপের পানি ৬ টেবিল চামচ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, গ্লিসারিন ২ টেবিল চামচ, মধু ১ চামচ একত্রে ব্লেন্ড করে ত্বকে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

বিয়ের আগে চুলের যতœ

চুল সুন্দর রাখতে সব সময় এটি পরিষ্কার রাখতে হবে। অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল হালকা গরম করে চুলে মাসাজ করতে হবে। খুশকি থাকলে একটু লেবুর রস মেশাতে হবে। এছাড়াÑ

* ১ চামচ মধু, ডিম ১টি, মেথির গুঁড়া ৩ চামচ, নিমপাতা বাটা ২ চামচ, ২ চামচ লেবুর রস, মেহেদিপাতা বাটা একত্রে মিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

বিয়ের আগে হাত-পায়ের যতœ

এক. আঙুল নরম ও মসৃণ রাখতে সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে হাতের আঙুলে লাগান।

দুই. হাতের ত্বক খসখসে হলে লেবুর রসে ১ চামচ মধু বা চিনি দিয়ে হাতে ঘষুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

তিন. কনুইয়ে কালো দাগ দেখা দিলে চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট মতো মাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

চার. রাতে শোয়ার আগে পানিতে ১ চামচ লবণ, ১ চামচ শ্যাম্পু, ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখতে হবে এবং পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। পা ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে হবে।

পাঁচ. ২ চামচ চালের গুঁড়া, ১ চামচ কমলার খোসা বাটা, ১ চামচ হলুদ, ১ চামচ মধু মিশিয়ে পায়ে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবুর রস ৪ চা-চামচ, মধু ১ চা-চামচ, অলিভ অয়েল ১ চা-চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে মাসাজ করতে হবে।

 

বিয়ের মেকআপ

মেকআপের আগে যতœ

মেকআপ করার আগে কিছু বিশেষ টিপস মেনে চলা উচিত। মেকআপের আগে আলু, শসার রস একসঙ্গে মুখে মাখুন। ফলে ত্বকে তরতাজা ভাব আসবে। ময়েশ্চরাইজার অবশ্যই লাগাতে হবে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

হলুদের মেকআপ

হলুদের মেকআপে সাধারণত একটু সফট লুক রাখা হয়। হলুদে হলুদ শাড়ি, লাল টিপ, আলপনা, আলতা, ফুলের গয়না ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আজকাল অনেক সুন্দর হলুদের গয়না পাওয়া যায়। এগুলো শুধু ড্রাই ফ্লাওয়ার দিয়ে তৈরি করা হয় এবং শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে পরলে ভালো লাগে। হলুদের মেকআপে ফেসের কালার, টোন ও শেইপ ঠিক রেখে মেকআপ করলে প্রপার লুক চলে আসবে। যাদের কপাল ছোট তারা উল্টে চুল আচড়ালে ভালো লাগবে। যাদের কপাল বড় তাদের মাঝে সিঁথি করে চুল আঁচড়ালে ভালো লাগবে। হেয়ারস্টাইলিংয়ের জন্য এখন খোঁপা ও বেণীÑ দুটিই ভালো লাগবে।

 

বিয়ের মেকআপ

বিয়ের মেকআপ অবশ্যই ফেসের ধরন অনুযায়ী হতে হবে। ফেসের ধরন অনুযায়ী মেকআপ সিলেক্ট করা খুব জরুরি। বিয়ের মেকআপের আগে ফেসিয়াল, অয়েল মাসাজ, ময়েশ্চারাইজার ও মেকআপ প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত। বিয়ের দিন সাধারণত একটু ব্রাইট সাজ ভালো লাগে। শাড়ির রঙের সঙ্গে চোখের শ্যাড মিলিয়ে লাগালে ভালো লাগবে। বিয়ের মেকআপ একটু শাইনি হতে হয়। কারণ কনেকে সবাই অনেক দূর থেকে দেখবেন। চোখের জন্য চোখের গড়ন অনুযায়ী ডায়মেনশন ক্রিয়েট করতে হয়। ব্রাইডাল মেকআপের জন্য আলাদা একটা স্পেস থাকা উচিত।

 

বৌভাতের মেকআপ

বিয়ের পর বৌভাতের আগে যদি হাতে সময় থাকে তাহলে একটি বডি সার্ভিস ও ফেসিয়াল নিলে ভালো হবে। বিয়ে যদি ট্রাডিশনাল সাজে হয়ে থাকে তাহলে বৌভাতের সাজটা মর্ডান লুকে ভালো লাগবে। এ জন্য লালের পরিবর্তে অন্যান্য রঙ পড়লেও ভালো লাগবে। চুলে হাফ স্পাইরালের সঙ্গে খোঁপা করলে ভালো লাগবে। তবে খোঁপায় থাকা চাই ফুল সাজের সঙ্গে মিল রেখে।

 

বিয়ের পর ত্বকের যতœ

বিয়ের দিনসহ হলুদ ও বৌভাতের অনুষ্ঠানে অনেক ভারী মেকআপ করা হয় টানা কয়েকদিন ধরে। তাই সবার আগে মেকআপ খুব ভালোভাবে তুলে ফেলে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ত্বক পরিষ্কার করার আগেই লোশন এবং আই মেকআপ রিমোভার দিয়ে আপনার মুখ ও চোখের মেকআপ তুলে ফেলতে হবে। আপনার ত্বকের ধরন যাই হোক না কেন, মেকআপ তোলার জন্য মুখ ধোয়ার আগে কোনো তেলযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করুন যাতে মেকআপ ক্রিমের সঙ্গে সহজেই মিশে যায়। তবে যাদের ত্বক খুব সেনসেটিভ তাদের জন্য গন্ধযুক্ত যে কোনো প্রডাক্ট এড়িয়ে চলতে হবে।

 

মেডিটেশন

- শায়মা হক 

 

‘সন্ন্যাসী উপগুপ্ত

মথুরাপুরীর প্রাচীরের তলে

একদা ছিলেন সুপ্ত--’

 

রবি ঠাকুরের ‘অভিসার’ কবিতাটি পড়ার কারণে আমার চোখে সেই কিশোরীকাল থেকেই মুনি, ঋষি বা সন্ন্যাসী মানেই ওই সন্ন্যাসী উপগুপ্ত। মুদ্রিত নয়ন, মুষ্টিবদ্ধ দুই হাত, কোনো এক প্রাচীন মথুরাপুরি নগরীর প্রায় ধসে যাওয়া প্রাচীরের পাশে ধ্যানরত যোগী সন্ন্যাসী। মুনি-ঋষিরা ধ্যানের মাধ্যমেই নানান অভীষ্ট লাভ করে থাকেনÑ এমনটাই শুনেছিলাম। আরও পরে জেনেছি, ধ্যান শুধু তাদেরই একচ্ছত্র অধিকার নয়। ওই ধ্যান এখন পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তেই বসে থাকা যে কোনো মানুষেরই প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হতে পারে। এ জন্য বনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সংসার, সমাজ ত্যাগ করে নির্জন-বিরল কোনো স্থানে চলে যাওয়ার দরকার নেই। এমনকি গৃহে থেকে সব থেকে আলাদা হয়ে গৃহী সন্ন্যাসী হওয়ারও কোনো কারণ নেই। দরকার শুধু নিজের জন্য কিছু সময় ও নিজের ভেতরে ডুবে যাওয়া। আজ ওই ধ্যানের কথাই লিখবো যা বড় উপযোগী এবং প্রয়োজন আমাদের আজকের এই প্রাত্যহিক জীবনের নানানরূপ মানসিক শোক, তাপ ও চাপ ডিঙিয়ে প্রশান্তিময় জীবন যাপনের জন্য।

 

আধুনিক জীবনের নানান জটিলতায় প্রায়ই অস্থির হয়ে ওঠে আমাদের দেহ ও মন। হতাশা, ক্ষোভ, কাছের মানুষের প্রতারণা, সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক অবক্ষয়Ñ এসব নিয়ে কূল-কিনারা এবং সমাধান খুঁজে পায় না যখন মন তখনই আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। ওই মানসিক চাপ আমাদের শারীরিকভাবেও অসুস্থ করে তোলে। কাজে মন বসে না, জগৎ-সংসারের সবকিছু হয়ে ওঠে রঙহীন ও বিবর্ণ। এক্ষেত্রে মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনার এক অনন্য উপায় হতে পারে মেডিটেশন বা ধ্যান।

আসলে আমাদের আকাক্সক্ষার সঙ্গে যখন বাস্তবতার সংঘাত ঘটে তখনই আমরা ভেঙে পড়ি। ঠিক তখনই প্রয়োজন আমাদের মানসিক শক্তি বা মনের জোর। ওই মনের জোর বাড়াতে সবচেয়ে বেশি উপকারী মেডিটেশন। মেডিটেশন বা ধ্যান মূলত এক ধরনের সাধনা। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে উপলব্ধি করে। ধ্যান আসলে

মনঃসংযোগের এক সুসংবদ্ধ রূপ। ওই ধ্যানের মাধ্যমেই মন নিয়ে যাওয়া যায় গভীর প্রশান্তির রাজ্যে। ওই রাজ্য পার্থিব সব কাম, ক্রোধ, লোভ, লালসার ঊর্ধ্বে। সেখানে নেই কোনো দুঃখ, বেদনা, জ্বালা বা যন্ত্রণা।

ধ্যান বা মেডিটেশনের মূল ব্যাপারই হলো মন একাগ্রতার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট স্থান, বস্তু বা যে কোনো কিছুর প্রতি নিবদ্ধ করা। তা হতে পারে কোনো ব্যক্তি অথবা কোনো ইমেজ, কাল্পনিক চরিত্র কিংবা আলোর বিন্দু বা কোনো শব্দ কিংবা যে কোনো বস্তুর প্রতি। মন স্থিরভাবে কোনো কিছুর প্রতি নিবদ্ধ রেখে কিছুক্ষণ বসে ধ্যান করে ধ্যানকারী তার আকাক্সক্ষার প্রশান্তিময় কল্পরাজ্যে হারিয়ে যেতে পারেন। এটি তাকে মানসিক প্রশান্তির পরশে অস্থিরতা থেকে অনায়াসেই মুক্তি দিতে পারে। আমাদের মনের প্রতিনিয়ত যন্ত্রণাবিদ্ধ ও ক্ষতবিক্ষত করে তোলে ষড়রিপু। মেডিটেশনের মাধ্যমে তা দমন করতে পারলেই মন এক অনির্বাচনীয় প্রশান্তিতে ভরে উঠবে। খুঁজে পাওয়া যাবে সুন্দর, সহজ, ক্লেদহীন জীবন যাপনের সত্যিকারের উপকরণ। যুগে যুগে মহাপুরুষরা ধ্যানের মাধ্যমে যেমন ইন্দ্রিয় জয় করেছেন তেমনি সন্ধান পেয়েছেন সত্য উপলব্ধির।

স্বল্প সময়ে অল্প একটু মেডিটেশন বা ধ্যান এবং সারা দিনের মানসিক প্রশান্তির জন্য কী প্রয়োজন

আগেই বলেছি, মেডিটেশনের জন্য ওই প্রাচীন সন্ন্যাসী বা মুনি-ঋষিদের মতো গৃহত্যাগের প্রয়োজন নেই। শুধু প্রয়োজন একটু খোলা জায়গা। তা হতে পারে বাড়ির সামনের এক টুকরো বাগান, বারান্দা বা খোলা ছাদ। বড় জানালা দেয়া বড় ঘরেও মেডিটেশন করা যেতে পারে।

 

আরো কিছু

  একটা ছোট কার্পেট, মাদুর বা বিছানা    সুগন্ধি মোমবাতি বা ধূপধুনো    আরামদায়ক ঢিলেঢালা জামা    হাতে অন্তত আধা ঘণ্টা সময়

  টিভি, সেলফোন, রেডিও, কলিংবেল থেকে যতোটা দূরে থাকা যায় তা খেয়াল রাখা।

 

কী করতে হবে

  সুগন্ধি মোমবাতি বা ধূপ জ্বালিয়ে বিছানা, কার্পেট বা মাদুরে আসন গ্রহণ। এক্ষেত্রে যেভাবে বসতে আরাম বোধ হয় সেভাবেই বসা উচিত। হাঁটু মুড়ে বা পদ্মাসনেও বসা যায়।

  শিরদাঁড়া সোজা রেখে কোলের ওপর হাত দুটি রাখতে হবে।

  লম্বা শ্বাস নিতে হবে। তবে শ্বাসের গতি বাড়ানো যাবে না।

  চোখ বন্ধ করে মনঃসংযোগ করতে হবে। এ সময় সাংসারিক বা জাগতিক সব চিন্তা মুক্তি দিয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য বা আকাক্সিক্ষত কোনো দৃশ্য ভাবা যেতে পারে।

  ২০-২৫ মিনিন এভাবেই কাটাতে হবে।

 

শরীরের জন্য মেডিটেশন বা ধ্যানের উপকারিতা

  ব্লাড সার্কুলেশন ইমপ্রুভ করে।

  ব্লাড প্রেশার নরমাল রাখতে সাহায্য করে।

  মাসল রিলাক্স করে এবং মাথা ধরা কমিয়ে দেয়।

  ব্লাড ল্যাক্টেট লেভেল কমায় এবং আংজাইটি অ্যাটাক কমে যায়।

  মস্তিষ্কে সেরোটনিন উৎপাদনে বৃদ্ধি ঘটায়। এটি মানুষকে ডিপ্রেশন, ইনসমনিয়াÑ এসব সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

 

মেডিটেশন বা ধ্যানের সূচনা যদিও অতি প্রাচীনকাল থেকেই এ উপমহাদেশে প্রচলিত বলে জানা গেছে তবুও ষাটের দশকে প্রাচ্যে বিভিন্ন ধ্যান পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করার কয়েক বছরের মধ্যে পাশ্চাত্যেও এর প্রভাব পড়ে। ১৯৬৮ সালে ই এম টি সহ মেডিটেশনের প্রায় অর্ধশত পদ্ধতি চালু হয়। এর মধ্যে সিলভা মেথড সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ ছাড়া ধ্যান বা সাফল্যময় মেডিটেশনের আরো নাম বা পদ্ধতি রয়েছে।

 

সিলভা মেথড

এই মেথড বর্তমানে বিশ্বের ১৩১টি দেশে ৩০টি ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়। এর পুরো নাম সিলভা মাইন্ড কন্ট্রোল মেথড অ্যান্ড স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট।

 

কোয়ান্টাম মেথড

এটিকে বলা হয় জীবন বদলে দেয়া ও জীবনে ভালো থাকার বিজ্ঞান। এটি শুরু হয় জীবন দৃষ্টি বদলের মধ্য দিয়ে। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি মস্তিষ্কের নিউরোনে নতুন ডেনড্রাইট সৃষ্টি করে এবং সূচিত হয় নিউরোনে নতুন সংযোগায়ন প্রক্রিয়া। ফলে মস্তিষ্কের কর্মকাঠামোয় সৃষ্টি হয় ইতিবাচক কর্মচাঞ্চল্য। এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তির আচরণ ও দৈনন্দিন প্রতিটি কাজে। অশান্তি পরিণত হয় প্রশান্তিতে।

 

জেন মেডিটেশন

স্টিভ জবস-এর বয়স তখন মাত্র ১৯ বছর। রিড কলেজ থেকে ড্রপ আউট ওই কিশোর চলে গেলেন ভারতে। তবে ভারত থেকে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন তখন তাকে দেখে সবাই চমকে গেল। সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে অবতরণের পর তার মা-বাবা তাকে দেখে চিনতে পারলেন না। ভারতে তিনি এসেছিলেন মূলত আধ্যাত্মিক জীবনের খোঁজে। ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ধর্মগুরু কিংবা বৌদ্ধ ধর্মের আধ্যাত্মিক সাধকদের কথা তিনি আগেই শুনেছিলেন। তবে নিজেও হয়তো কখনো চিন্তা করতে পারেননি তার ওই ভারত সফরই পুরো জীবন পাল্টে দেবে। শুধু তার জীবনই নয়, পাল্টে দেবে প্রযুক্তি বিশ্বটিও। জবসের কর্মজীবনের দিকে তাকালে খুব সহজেই ‘জেন মেডিটেশন’-এর প্রভাব বোঝা যায়। ১ হাজার ৩০০ বছর ধরে জেন মেডিটেশন মানুষকে শিখিয়েছে কীভাবে সাহস করে কোনো কাজ করতে এবং কোনো কাজে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও কঠোর হতে হয়। এর সঙ্গে এটিও শিখিয়েছে, কীভাবে সাধারণ জীবন যাপন করতে হয়।

 

ধ্যান বা মেডিটেশন ও মেডিটেশনকারীদের সাফল্যময় জীবন নিয়ে রয়েছে নানান ইতিহাস। এসবের জন্য রয়েছে কঠোর সাধনার ইতিকথাও। তবে আমাদের দৈনন্দিন কর্মক্লান্তি, মানসিক অস্থিরতা, এমনকি অনেক জটিল সমস্যার সমাধান পেতেও ওই ধ্যান বা মেডিটেশন যথেষ্ট কার্যকর। আসলে শুধু অস্থির মনেই সমস্যাগুলো জটিলতার সৃষ্টি করে। তাই সর্বপ্রথম প্রয়োজন মানসিক প্রশান্তি আনয়ন। ধ্যান বা মেডিটেশন মানসিক জোর ও শক্তি বাড়ায়। প্রাত্যহিক জীবনের স্বল্প সময়ের ওই অল্প একটু মেডিটেশন চর্চাই বাড়াতে পারে মনের জোর। ওই চর্চার মাধ্যমেই সব অস্থিরতা কাটিয়ে প্রশান্তিতে ভরিয়ে উঠতে পারে এই দেহ-মন। পরিশেষে বলা যায়, সুন্দর ও সুস্থ জীবন চর্চায় দিনের ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মেডিটেশন হতে পারে এক অনন্য মাধ্যম।

দর্জিবাড়ি যাওয়ার আগে

 

পছন্দের কাপড় কিনে ইচ্ছামতো নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন উৎসবের পোশাক বানাতে চাইলে দর্জিবাড়িতে ঢুঁ মারতেই হয়। দর্জিবাড়ি যাওয়ার আগে জেনে নিন গজকাপড়ের খোঁজখবর।

  গজকাপড়

বৈচিত্র্যময় গজকাপড় পেয়ে যাবেন চাঁদনী চক, প্রিয়াঙ্গন মার্কেট, আনারকলি মার্কেট ও গাউসিয়ায়। গজকাপড়ের বাজারে রয়েছে সামু সিল্কের আধিপত্য। ফ্লোরাল প্রিন্টের পাশাপাশি চমৎকার সব রঙ ও ডিজাইনের সামু সিল্ক ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, জ্যামিতিক নকশা ও ফুলের প্রিন্টের সামু সিল্ক কিনেন অনেক ক্রেতা। নরম এই সিল্ক পরতে বেশ আরামদায়ক। এর পাশাপাশি কাপড়ের চাকচিক্যও চোখে পড়ার মতো। সামু সিল্কের গজ ধরণভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

  পছন্দের শীর্ষে সুতিকাপড়

পোশাকের কাপড় হিসেবে সবার রয়েছে সুতিকাপড় পছন্দের শীর্ষে। সুতির মধ্যে বৈচিত্র্যময় প্রিন্ট, মিষ্টি রঙের ওপরে টাই-ডাই ও চুন্দ্রির কাপড় রয়েছে বাজারে। গজপ্রতি দাম পড়বে ৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এ সুতি প্রিন্টের কাপড়ে মোটা লেইস বসানো কাপড়ও আছে। গজপ্রতি এর দাম পড়বে ৫০০ টাকা।

  জর্জেট প্রিন্ট

জর্জেট প্রিন্টও পছন্দ করেন অনেকে। জর্জেট প্রিন্টের মধ্যে ছোট-বড় ফুলের প্রিন্টেরই জয়জয়কার। গজপ্রতি এর দাম ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা।

  সুতিকাপড়ে মোটা লেইস

প্রিন্টের ক্রেপ কাপড় পছন্দ করেন অনেক তরুণী। এসব প্রিন্টের মধ্যে পেপার প্রিন্ট, অভিনেত্রীদের মুখ, ব্র্যান্ডের লোগো বেশ জনপ্রিয়। সাদা, কালো, লালÑ এ ৩টি রঙই প্রাধান্য পায় ক্রেপের বড় প্রিন্টের মধ্যে। কটি জামার জন্য অনেকে এই কাপড় কেনেন। এক্ষেত্রে জর্জেট প্রিন্টের লম্বা কটি ও সিল্কের জামা পছন্দ করেন সবাই। ভারী ভেলভেট ও পাথরের কাজ করা কাপড়ও পাওয়া যায় বাজারে।

দর্জিবাড়ি যাওয়ার আগে বেছে নিন আপনার পছন্দের কাপড়। পছন্দের কাপড় কিনে রঙ মিলিয়ে সালোয়ার ও ওড়নাও পেয়ে যাবেন গজকাপড়ের দোকানেই।

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…