বসার ঘরের কাব্য

বসার ঘরের কাব্য

 

মানুষ প্রকৃতির সেরা সৃষ্টি। প্রকৃতির নিয়মে অনেক

বিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানব সভ্যতা বর্তমান অবস্থায় রূপ নিয়েছে। প্রকৃতির দান নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে। প্রকৃতির ওপর এখনো মানুষ প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। প্রকৃতির নির্মল বাতাস এখনো মানুষকে অফুরন্ত প্রাণশক্তি জোগায়।

আপনার বাড়িটি এমনভাবে সাজান যেন দেখে একটা আরাম ও প্রশান্তির ভাব মনে তৈরি হয়। বেডরুমের জন্য বেছে নিন হালকা ও উষ্ণ রঙ। গাঢ় রঙ মনে উত্তেজনা তৈরি করে। এতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। যারা নতুন করে নিজের বাড়ি সাজাতে চান তারা আগে থেকেই একটি পরিকল্পনা তৈরি করে নিন। ঘরের ফেব্রিক্স কী হবে তা আগে ঠিক করে এর সঙ্গে মিল রেখে দেয়ালের রঙ করলে ভালো লাগবে। এছাড়া রাখতে হবে মানানসই আসবাব।

ঘরের বেডকভার, জানালার পর্দা, ডেকোরেশন ও ডিজাইনে সুন্দর কম্পোজিশন তৈরি করুন। সব মিলিয়ে ঘরে একটি গোছানো ছবির রূপ ফুটে উঠবে। ঘরের ভেতর পারলে একটি ওয়াল ক্যাবিনেট বানিয়ে নিন। এতে বাড়তি সব জিনিস ঢুকিয়ে রাখতে পারবেন। ফলে ঘরে সাজানো-গোছানো ভাব থাকবে। ছোট ঘরের বড় ইমেজ তৈরি করতে দেয়ালে বড় আয়না লাগাতে পারেন। এ কারণে ঘরের স্পেস বড় মনে হবে। শোয়ার ঘরের মেঝে কাঠ এবং এর সঙ্গে বেড সাইড কার্পেট বা শতরঞ্জি রাখতে পারেন। দেয়ালে ছবি রাখতে চাইলে দুই বা তিন দেয়ালে না ঝুলিয়ে একটি দেয়াল বেছে নিন। সেখানে সুন্দর কম্পোজিশন করে ছবি রাখুন। দেখতে ভালো লাগবে। ঘরের লাইটিংয়ে আনতে পারেন পারেন ভিন্নতা। লাইটিং দিয়ে ঘরে একটা মুড তৈরি করা যায়। ঘরের ধরন বুঝে ল্যাম্পশেড, আপ লাইট, ফ্লোর ল্যাম্প, স্পট লাইট ব্যবহার করুন।

বসার ঘরটি একভাবে শুধু সোফা দিয়ে না সাজিয়ে বসার জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা করতে পারেন। একপাশে যদি ফরমাল বসার ব্যবস্থা থাকে তাহলে সেখানে রাখুন সোফা বা উঁচু কোনো আসন। আরেকটু ঘরোয়া আমেজে বসতে চাইলে ফ্লোর সিটিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন ঘরের অন্য এক কোণে। ডাইনিং স্পেস অনুযায়ী ডাইনিং টেবিলের মাপ স্থির করে নিন। ছোট স্পেসে বড় টেবিল না রেখে ওভাল বা রাউন্ড শেপের টেবিল রাখলে তা বেশি কার্যকর হবে। বড় ঘরে বড় টেবিল রাখায় কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু ছোট মাপের জায়গায় এমন টেবিল রাখতে হবে যাতে চলতে-ফিরতে অসুবিধা না হয়।

ডাইনিং স্পেসের জানালা দিয়ে বাগান, পার্ক বা চলমান শহর দেখা গেলে পাশেই রাখুন টেবিলটি। খুবই ভালো হয় যদি ঘরের একটি আকর্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা যায়। দুরন্ত দেখতে কোনো ফার্নিচার টেবিলের উল্টোদিকে রাখলে দেখাবে বেশ চমৎকার।

ঘর সাজান অ্যান্টিকে

ঘর সাজাতে কম-বেশি আমরা সবাই পছন্দ করি। ঘর দেখে মানুষের আভিজাত্য আর রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। ঘর সাজাতে সাধারণত আমরা কাঠের রকমারি আসবাব, ওয়ালম্যাট, পেইন্টিং, মাটির পুতুল প্রভৃতি ব্যবহার করি। তবে যারা একটু উচ্চাভিলাষী কিংবা বেশি মাত্রায় শৌখিন তারা চান ভিন্ন কিছু। ঘরের কোণ, বসার ঘর কিংবা ব্যালকনিতে তাদের রুচি খেলা করে ভিন্ন মাত্রা নিয়ে। এমন লোকজনের তালিকায় থাকে নানান অ্যান্টিক পণ্য বা পুরনো নিদর্শন। তাই ঘরের সাজে আসে নতুনত্ব। এসব পণ্য দেখতেও আকর্ষণীয়। অ্যান্টিকের বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে লণ্ঠনবাতি, নারীমূর্তি, জাহাজের ঘড়ি, বিদেশি মুদ্রা, ব্রোঞ্জের তৈরি আসবাবপত্র, সিরামিকের পুতুল ও খেলনা, মুক্তার দামি পাথরের গহনা, লেদারের জিনিসপত্র, জীবজন্তুর মূর্তি, ঘণ্টা প্রভৃতি পাওয়া যায়। এগুলো কিনে ঘরের সৌন্দর্যের মাত্রায় নতুনত্ব সংযোজন করতে পারেন।

 

পরিপাটি আড্ডার ঘর

‘সুন্দর গৃহকোণ একান্ত আপন সুখের ভুবন।’

স্থান সংকটের এই যুগে নান্দনিকতা বজায় রেখে সামান্য জায়গাটুকুও কতো যে বেশি কাজে লাগানো যায় সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বল্প জায়গায় মানানসই জিনিস দিয়ে নিখুঁত সুন্দর করে সাজানোর মধ্যেই রয়েছে গৃহিণীর আসল সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। লিভিং রুম, বসার ঘর বা আড্ডার ঘরÑ যাই বলি না কেন, এটি আসলে আমাদের অলস দুপুরে শান্তির আমেজে গড়াগড়ি দেয়ার উপযুক্ত স্থান। ড্রয়িং রুমটায় একটু ফরমাল ভাব চলে আসে সাধারণত বাইরের    

 

মানুষের সঙ্গে লৌকিকতা করার জন্য বেশ পরিপাটি কেতাদুরস্ত আয়োজনে। লিভিং রুমে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেয়ার মজাই আলাদা। বাড়ি যতোই ছোট হোক না কেন, বসার ঘর আলাদা আমেজে তৈরি করা জটিল ব্যপার নয়। লিভিং রুম না থাকলে ডাইনিং রুমে পার্টিশন ব্যবহার করেও এটি করা যায়। ইচ্ছা করলে দু’মুখী ক্যাবিনেট তৈরি করে জিনিসপত্র রাখতে সুবিধা হয় আবার ফ্ল্যাটটিও খোলামেলা থাকে। আড্ডার ঘরে সোফা তো লাগবেই, একই সঙ্গে প্রয়োজন দেয়াল ঘেঁষে নিচু ডিভান। তবে ডিভান ও সোফায় অবশ্যই সুতি কাপড়ের ব্যবহার করা উচিত। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা যায় ছোট-বড় নানান রঙের কুশন। দেয়ালের রঙ সাদা হওয়াটাই ভালো। এতে ছোট ঘর হলেও বেশ ভালো লাগবে। ঘর বড় হলে গৃহিণীর পছন্দমতো রঙ ব্যবহার করতে পারেন। পর্দার ক্ষেত্রে সোফা ও কুশনের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। পর্দা না দিতে চাইলে চিকও ব্যবহার যায়। তাহলে ঘরে বেশ আলো-আঁধারির খেলা করবে এবং জানালার ধার, ঘরের কোণায় ইনডোর প্লান্ট শীতলতার ছোঁয়া আনবে। অনেকে লিভিং রুমে টিভি মিউজিক সিস্টেম ইত্যাদি রাখেন। এগুলো ঘরের প্রান্ত ঘেঁষে রাখা উচিত যাতে ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা থাকে।

 

ল্যাম্পের জাদুকরী আলো-ছায়া ঘরের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। এ জন্য বিভিন্ন ল্যাম্প, ল্যাম্পশেড, বা স্ট্যান্ড ল্যাম্প ব্যবহার করা যায়। ইচ্ছা করলে নিজে বুদ্ধি খাটিয়ে অভিনব ল্যাম্পও তৈরি করে নেয়া সম্ভব। বেত বা কাঠÑ যে উপাদানের তৈরি আসবাবই হোক না কেন, এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্যান্য উপাদানের আয়োজন করা একটি বিশেষ গুণ। ছোটখাটো ক্রিস্টাল, পোরসেলিন, কাচের টেবিল ল্যাম্প, শ্বেতপাথরের ছোট টেবিল, পিতল বা সিরামিকের টুকিটাকিÑ সব মিলিয়ে এক অন্যভাবের আয়োজন করা গৃহিণীর নিপুণতার পরিচয়। সবাই বসে স্বস্তি পাওয়ার মধ্যেই ঘর সাজানোর সার্থকতা নির্ভর করে।

Read 292 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…