গ্রীষ্মে সাজ ও ত্বকের যত্ন

গ্রীষ্মে সাজ ও ত্বকের যত্ন

 


‘উৎসব মানেই রঙ বাহারি পোশাক। আর উৎসবটি যদি হয় র্বষবরণ তাহলে তো কথাই নেই। লাল, সাদা, হলুদ, বেগুনি, সবুজ কিংবা নীল- কোনো রঙেই নেই মানা। কারণ সময়বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে ফ্যাশন ট্রেন্ডও। পহেলা বৈশাখে এখন আর কেউ শুধু লাল-সাদা পোশাকই পরেন না, লাল-সাদার সঙ্গে অন্য রঙগুলোও জড়াজড়ি করে জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশন ডিজাইনারের ক্যানভাসে। আর এতো কালারফুল পোশাকের সঙ্গে সাজটি সাদামাটা হলে তো আর হবে না! এদিকে গ্রীষ্মের খরতাপও সঙ্গেই থাকবে। তাই মেকআপ করতে হবে এসব কিছু মাথায় রেখেই’- বললেন হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতানা রীতা।

তিনি বলেন, এখন তো গরম, ঘাম, ধুলাবালি। তাই দিনের মেকআপ একটু হালকা হওয়াই ভালো। প্রথমে মেকআপ কিটসগুলো একটু গুছিয়ে নিন। এরপর মুখে কিছুক্ষণ বরফ ঘষে নিন। এবার লাগিয়ে নিন সানস্ক্রিন। কারণ রোদে ঘোরাঘুরি করতে হবে। আর গরমে লিকুইড, না হয় ম্যাট ফাউন্ডেশন লাগান। এর ওপর লাগিয়ে নিন কম্প্যাক্ট পাউডার। স্কিন টোনের কাছাকাছি হওয়াই ভালো ব্লাশন। পিংক কিংবা ব্রাউন হতে পারে। চোখের সাজে এবার নতুনত্ব এসেছে। দিনের সাজে স্মোকি লুক এখন অচল। গাঢ় কাজলও এখন চলছে না। হালকা কাজলের রেখা টেনে দু’তিন রঙের শ্যাডো পেন্সিল দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন চোখ। তবে চোখের পাপড়িতে মাশকারা লাগাতে ভুলবেন না। সেটি হতে হবে অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ। না হলে গরমে ঘামে গলে যেতে পারে। আর লিপস্টিকে এখন ম্যাটের ট্রেন্ড চলছে। গরমে এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং গাঢ় উজ্জ্বল রঙগুলো উৎসবের সঙ্গেও বেশ মানানসই। লাল, গোলাপি কিংবা কমলা লাগাতে পারেন অনায়াসে। টিপের জন্য তো কোনো চিন্তা নেই। এই উৎসবে সবচেয়ে বেশি যায় বড় একটি লাল টিপ। দুই রঙের কম্বিনেশন করতে চাইলে প্রথমে একটি বড় টিপ পরুন। এরপর ওই টিপের ওপর বসিয়ে দিন অন্য রঙের এক সাইজ ছোট টিপ।
মেকআপ তো হলো। কিন্তু চুল বাঁধবেন কীভাবে? আর গহনাই বা কী পরবেন? পহেলা বৈশাখের সাজে ট্রাডিশনাল খোঁপাই যেন বেশি মানিয়ে যায়। তবে এখন আবার বেণীর চলটিও ফিরে এসেছে। ট্রাডিশনাল খোঁপা হলেও এর ধরনে পরির্বতন এসেছে। সবচেয়ে সহজ বুদ্ধি হচ্ছে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে উঁচু করে চুলগুলো আটকে নেয়া। অর্ধেক ছাড়া আর অর্ধেক আটকানো থাকলে দেখতে যেমন ভালো লাগবে তেমনি গরমে আরামও পাওয়া যাবে। বাজারে এখন সুুন্দর সুন্দর পাঞ্চ ক্লিপ পাওয়া যায়। যাদের ছোট চুল তাদের জন্যও সুন্দর পাঞ্চ ক্লিপ পাওয়া যায়। গরমে ছোট চুলও না ছেড়ে ক্লিপ দিয়ে উঁচু করে আটকে নিলেই ভালো হয়। তবে অবশ্যই চুলে গুঁজে নেবেন একটি তাজা ফুল। বেণী হলে একগুচ্ছ ফুল অথবা মালা জড়াতে পারেন। কিন্তু খোঁপা অথবা ঝুঁটি হলে একটি ফুল হলেই সুন্দর দেখায়। আর অলঙ্কার ছাড়া নারীর সাজে যেন র্পূণতা আসে না। তাই বলে এই গরমে একগাঁদা উল্টা-পাল্টা অলঙ্কার পরলেই তো আর হলো না! গহনাও পরতে হবে উৎসবের মেজাজ ও গরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই।
রাহিমা সুলতানা বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসব। এ উৎসবে আমাদের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা উচিত। এই গরমে ইমিটেশন কিংবা কোনো ধরনের মেটালই এখন পরা উচিত নয়। বরং মাটির পুঁতি, কাঠ, সুতার তৈরি অলঙ্কার এই উৎসব ও আবহাওয়ার সঙ্গে বেশি মানানসই।
সাজ পোশাক যাই করুন না কেন, প্রচ- এই গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। খুব ভালো হয় মৌসুমি তাজা ফলের শরবত খেতে পারলে। এতে পানি যেমন পাওয়া যাবে তেমনি পাবেন ফলের পুষ্টিও। এটি আপনার ক্লান্তি দূর করবে। এছাড়া উৎসবে আপনি থাকবেন প্রাণবন্ত।

ত্বকের যত্ন
ত্বক সব সময় ঠা-া ও পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। সম্ভব হলে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই। দিনে তিন-চার লিটার পানি আধা গ্লাস করে একটু পর পর পান করতে হবে। এছাড়া যে কোনো ফলের রস পান করাও উপকারী।

রোদে যাওয়ার আগে
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শুধু সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই হবে না, গোসল করে নেয়া ভালো। পানিতে কয়েক ফোঁটা বেনজয়েন অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে গোসল করলে ঘামে দুর্গন্ধ ও রোদে ত্বক কালচে হবে না। ওষুধের দোকান বা সুপারশপে ওই অয়েল পাবেন। চার ঘণ্টা পর পর ল্যাভেন্ডার অয়েল সমৃদ্ধ ওয়েট টিস্যু দিয়ে ত্বক মুছে দিতে হবে।

রোদে পোড়া ভাব দূর করতে করণীয়
যে কোনো ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা পেস্ট উপকারী। রাতে টক দই, ডিমের সাদা অংশ মিশ্রণ প্যাক হিসেবে ত্বকে লাগানো যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এছাড়া সুজি হালকা ভেজে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এটি স্ক্রাবের কাজও করবে। স্ট্রবেরি, টক দই ও ময়দার মিশ্রণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করা যাবে দুধের সর, যে কোনো বাদাম, মধু ও সামান্য চিনির মিশ্রণ।
যাদের ত্বক পাতলা তাদের নিতে হবে বাড়তি যত্ন। এ ধরনের ত্বকের চামড়া ভেদ করে শিরার রেখা চোখে পড়ে। অনেকের পাতলা ত্বক রোদে গেলে অল্পতেই লাল হয়ে যায়। ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হয়। যাদের ত্বক পাতলা তাদের বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। আর রোদে বের হলে অবশ্যই ত্বক বুঝে সানব্লক ব্যবহার করতে হবে এবং সঙ্গে রাখতে হবে ছাতা। বাইরে থাকলে দুই ঘণ্টা পর পর নতুন করে ত্বকে সানব্লক লাগতে হবে। কিছু ফেস পাউডারও সানব্লকের কাজ করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা এমন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। রোদচশমা ও হ্যাট জাতীয় বড় টুপি ব্যবহার করতে হবে যেন মুখের চোয়াল ও এর আশপাশের স্থানে রোদ না লাগে। এরপরও যদি ত্বক লাল হয়ে জ্বালা করে তাহলে বরফ ঘষতে হবে অথবা ঠা-া পানির ঝাপটা দিতে হবে।

 

_____________________________

মডেল : নদী
মেকওভার : ক্লিউপেট্রা বিউটি স্যালন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

Read 399 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…