হাতঘড়ি

হাতঘড়ি

 

ফ্যাশন শুধু নারীদের- এমন ধারণা করার দিন অনেক আগেই শেষ হয়েছে। অধুনা পুরুষরাও বেশ ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠছেন। তবে ফ্যাশন সচেতন পুরুষ বলতে এটি বোঝায় না যে, তারা ব্র্যান্ডের পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ ছাড়া অন্যকিছু ব্যবহার করতে চান না। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে হাতের কাছে পাওয়া নানান জিনিস ব্যবহার করে এবং কম খরচেও অনেক ফ্যাশনেবল হয়ে ওঠা যায়। তাই পয়সা খরচ করে নয়, মাথা খাটিয়ে ফ্যাশনেবল হয়ে উঠুন। এখন চলুন দেখে নেয়া যাক পুরুষদের ফ্যাশনের জরুরি কিছু বিষয় অর্থাৎ নিজে যা পরছি তাতে ফ্যাশন বহন করতে পারছি কিনা সেটিই জরুরি।

সময় দেখার জন্য তো বটেই, ফ্যাশনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যে জিনিসটি এর নাম হাত ঘড়ি। তাই প্রয়োজন আর ফ্যাশনের অপূর্ব সমন্বয় হলো হাত ঘড়ি। আগে অবশ্য সময় দেখার জন্যই ঘড়ির ব্যবহার ছিল। কিন্তু সব কাজের কাজি মোবাইল ফোনের আবির্ভাবে ঘড়ির প্রয়োজনীয়তা কমতে কমতে প্রায় নিঃশেষ হওয়ার আগেই ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে আবারও হাত ঘড়ির প্রচলন শুরু হয়েছে। ব্যক্তিত্ববান পুরুষের প্রয়োজন আর ফ্যাশনের সম্মিলন ঘটেছে হাত ঘড়িতে।

বর্তমানে তরুণদের পছন্দের তুঙ্গে রয়েছে মোটা চেইন ও বড়ো ডায়ালের ঘড়ি। টিনএজাররা বরাবরই স্পোর্টস ঘড়ি পরতে বেশি পছন্দ করে। কেউ আবার পছন্দের সিলেব্রিটির পছন্দকেই নিজের পছন্দ হিসেবে বেছে নিতে চান। তাদের গেটআপ আর ঘড়ি- দুটিই যেন রপ্ত করা যায়।
চাকরিজীবী ও ছাত্রদের ফ্যাশন বরাবরই সময় সম্পর্কিত। তাই হাল ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে ঘড়ি তাদের সব সময় প্রয়োজন ও অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে মানানসই বিষয়টি যে খুব গুরুত্বপূর্ণ তাদের কাছে, ব্যাপারটি ঠিক তেমন নয়। বেমানান বিষয়গুলোও কখনো কখনো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই ওই বহন করতে পারার বিষয়টি আবারও উঠে আসে এখানে। ফলে চিকন হাতে খুব ভারী বা বেল্টের ঘড়ি স্থান করে নিতে পারে অনায়াসে।
ঘড়ির বাজারে নামি-দামি ব্র্যান্ড আছে। তবে সব সময় যে নামি-দামি ব্র্যান্ডেই অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে তা নয়, বরং অনেক সময় কম দামের ঘড়িও হতে পারে সঠিক ফ্যাশন অনুষঙ্গ। টাইটান, সিটিজেন, রাডোসহ নানান ব্র্যান্ডের ঘড়ি পাবেন ২ হাজার ৫০০ থেকে লাখ টাকার উপর পর্যন্ত। বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে এসব ঘড়ির দোকান আছে। এছাড়া বায়তুল মোকাররম মার্কেটেও ব্র্যান্ডসহ ঘড়ির অনেক দোকান রয়েছে। একেক ধরনের পোশাকের সঙ্গে একেক রকম ঘড়ি মানানসই। সময় ও পরিবেশ বুঝে পরার জন্য ক্যাজুয়াল, ফরমাল, এক্সক্লুসিভ- এই তিন ধরনের ঘড়ি রাখা যেতে পারে সংগ্রহে।
অনেক ফ্যাশন ডিজাইনারই বলেন, আসলে পার্টি বুঝে পোশাকের সঙ্গে ঘড়ির ব্যাপারে পুরোটাই নির্ভর করে নিজের ব্যক্তিত্বের ওপর। নিজেকে কোন ধরনের পোশাকে ভালো লাগছে তা আগে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে কোথায় ও কোন পরিবেশে যাচ্ছি। এর ওপর ভিত্তি করেই হাত ঘড়ি বাছাই করে নিতে হবে। চওড়া বেল্টের হাত ঘড়ির প্রচলন বেশি বলেই যে এ ধরনের ঘড়ি পরতে হবে তা নয়। সবার আগে দেখতে হবে যে ঘড়িটি পরছি তা ভালো দেখাচ্ছে কিনা কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি কিনা।
ক্যাজুয়াল লুকের ক্ষেত্রে চেইন ও বড় ডায়ালের ঘড়িই বেশি জনপ্রিয়। আর অফিসে ফরমাল লুকের জন্য মাঝারি ডায়ালের চামড়া চেইনের ঘড়ি মানাবে। বন্ধুদের আড্ডা বা ক্যাজুয়াল পার্টিতে বড় ডায়াল ও চওড়া বেল্টের হাত ঘড়ি পরা যেতে পারে। আবার ফরমাল অনুষ্ঠানে নিজেকে খেয়াল রাখতে হবে ভালো ব্র্যান্ডের মার্জিত সাইজের ঘড়ির দিকে।
সবশেষে বলা যায়, সব শেষ বলে আসলে কিছুই নেই। যা পরতে নিজের কাছে ভালো লাগে সেটিই হবে উপযুক্ত ফ্যাশন। আর নিজের অনন্যতা এনে দেবে নিজস্ব একটি স্টাইল। কে জানে, একদিন হয়তো নিজের স্টাইলের জোয়ারে ভাসতে পারে পুরো পৃথিবীও!

 

 লেখা : সহজ ডেস্ক 

Read 92 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…