আলো ও আলেয়া

আলো ও আলেয়া

 

ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা ডেকোরেশন অথবা গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ব্যাপারটি বর্তমানে বিশ^জুড়ে সম্প্রসারিত হলেও এটি আদৌও নতুন কিছু নয়। সাধের সঙ্গে সাধ্যের সমন্বয়টাই ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার মূল প্রতিপাদ্য। তাই উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত যে কেউই ইন্টেরিয়রের কথা ভাবতে পারেন। কোনো ইঞ্জিনিয়ার আপনার বাড়ির নকশাটি করে দেবেন, গৃহে রুমগুলোর নির্দেশনা দেবেন। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা আলো-ছায়া ও সবুজায়নসহ অনেক দিক বিবেচনা করে কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আপনার ঘরের দরজা-জানালা, ভেন্টিলেটর ও আলোর উৎসসহ অন্য দিকগুলো দেখিয়ে দেবেন। কোনো ডিজাইনার ঘরের সাধারণ সিলিংটি বিভিন্ন আঙ্গিকে সাজিয়ে তা করে তোলেন দর্শনীয়। সিলিংয়ে বসানো যায় লাইটের সাহায্যে হাজার তারার আসর ও নানান বর্ণের বর্ণালী আলোর মেলা। তাই গৃহসজ্জায় চার দেয়াল এবং সিলিংয়ে রঙ ও লাইটিং প্ল্যান খুব জরুরি। বর্তমানে এলইডি বাতির কল্যাণে বিদ্যুতের খরচ খুব কমে এসেছে। এ কারণে ঘরের বিভিন্ন স্থানে প্ল্যান অনুযায়ী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসানো যায় কম আলোর রকমারি বাতি। বাসগৃহে বসবাসকারীরা যাতে মনোটোনাস হয়ে না পড়েন বা মনমরা ভাব না আসে, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আনন্দের উৎস, ভালো লাগার বিষয়গুলো ইন্টেরিয়র পরিকল্পনার সঙ্গে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। এ জন্য আলো এবং রঙ ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যা থেকে আলো প্রতিফলিত হয় এবং ভীতিকর ছায়া

না থাকে। হালকা ধরনের রঙ ব্যবহার করাই ভালো। যেমন- হোয়াইট, অফহোয়াইট, লাইট লেমন, লাইট ওয়ার্ম। স্টাডিরুম, কিচেন ও শিশুদের ঘরগুলোয় স্পট লাইট বা উজ্জ্বল বাতি ব্যবহার করলে ঘর ফুটে ওঠে। সর্বতভাবে খেয়াল রাখতে হবে, আপনার ইন্টেরিয়র ডিজাইন যেন নিজের ও পরিবারের সবাইকে স্বস্তি দেয়, ফ্রেশ রাখে এবং ঘুমের কোনো ব্যাঘাত না ঘটায়। আপনার রুচির সচেনতায় নিজের ইন্টেরিয়র যেন হয়ে ওঠে অন্যদের আলোচনার বিষয়।


দিনে সূর্যের আলো থাকে। তাই আলো নিয়ে এতো চিন্তা করার কিছু নেই। দিনশেষে রাতের আঁধারে আমাদের আবাস-চারপাশ ঢাকা পড়ে যায়। তাই রাতে কৃত্রিম আলো অনিবার্য। চলমান সভ্যতা আলোর অরণ্য থেকে বেছে নিতে হয় আলোর সঠিক উৎসটিকে। শুধুমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী লাইটিংই পারে আপনার ইন্টেরিয়রের লুক পরিবর্তন করতে। সামান্য আলোর ব্যবহারে বৈচিত্র্য আসতে পারে ঘরে। উপযুক্ত আলোর নিক্ষেপণ চমকে দিতে পারে হাজারো মানুষের চোখ। এ কারণে ইন্টেরিয়রে আলোর ব্যবহারে হতে হবে চৌকস ও সৃজনশীল।


ঘরে যদি প্রাকৃতির আলো প্রবেশ করে তাহলে দিনে বাড়তি আলো না জ¦ালানোই ভালো। রাতে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করে ঘরের প্রতিটি বস্তুর ওপর নানানভাবে স্পটের মতো ওই আলো বিন্যস্ত করলে তা হয় নান্দনিক ও দর্শনীয়। এতে সৃষ্টি হয় সৌন্দর্যের নতুন এক মাত্রা। তবে বেশি উজ্জ্বল আলো ব্যবহারে ঘর গরম হয়ে ওঠে এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলে সেটির কার্যকারিতাও কমে যায়। আধুনিক কিছু ঘরে আলো রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে কমানো বা বাড়ানো যায়। ইন্টিরিয়রে এ ধরনের বাতি বেশ ভালো কাজ করে। ড্রয়িংরুমে ঝাড়বাতি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এটি যার যেমন সাধ্য ওই অনুযায়ী সংস্থাপন করে নিলেই হবে। পরে এটি প্রতিস্থাপন করা তেমন ঝামেলার ব্যাপার নয়। ঘর সাজানোর জন্য বাজারে এখন নানান টেবিল ল্যাম্প পাওয়া যায়। এগুলোয় থাকে বিচিত্র কারুকাজ। একটি টেবিল ল্যাম্প একদিকে সুন্দর একটি শোপিস, অন্যদিকে তা মিষ্টি রঙিন আলোও প্রদান করে। টেবিল বা স্টান্ড ল্যাম্পের ডিজাইনের অভাব নেই। ইচ্ছা করলে হাতেও নিজের ডিজাইন মতো সহজেই টেবিল ল্যাম্প বানিয়ে নেয়া য়ায়। এখন বাজারে নানান ধরনের ফ্লাওয়ার ল্যাম্প পাওয়া যায়। এটি হাতেও বানানো যায়। তা একদিকে প্লান্টের কাজ করে, অন্যদিকে রাতে বাহারি ফুলের মতো উজ্জ্বল ফুল হয়ে ফুটে ওঠে। সুন্দর একটি নান্দনিক ইন্টেরিয়রে মোম ও মোমদানির ভূমিকাও কম নয়। ডিজাইনারের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরে সাজানো যায় আপনার রুচি বহনকারী অ্যান্টিক ও দুষ্পাপ্য আলোক সামগ্রী।

 


লেখা : রাশেদ মামুন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : সোহানী ইন্টেরিয়রস

Read 155 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…