Page 1 of 5

অর্ধশতে সুখ

 

‘মৃত্যুকে পিছিয়ে দিতে পারে আনন্দমুখর জীবন।’ বেশ কিছুদিন আগে এই সংবাদে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ওই সংক্রান্ত গবেষণায় নাকি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকরা ৫০-৬০ বছর বয়সী ৯ হাজার নারী ও পুরুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখতে পায়, পঞ্চাশোর্ধ বয়সেও যারা সার্বক্ষণিক হাসি-খুশি থাকতে পারেন তাদের পরবর্তী সাত বছরে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যায় অন্তত ২৪ শতাংশ। হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ গবেষণাটি প্রকাশ করেছিল।
ব্যাপারটি আমাকে ভাবিয়েছিল। সাধারণত আমরা দেখতে পাই, পঞ্চাশোর্ধ বয়সের যে কোনো নারী-পুরুষই যেন জীবনের ভারে ন্যুব্জ। নানান দায়িত্ববোধ, অপ্রাপ্তি, ফেলে আসা দিনের না পাওয়ার হাহাকার অথবা যেন নিজেকে জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিক ভাবেন। অথচ ব্যাপারটি এমন নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতার ঝুলি যেমন ভারী হতে থাকে তেমনি বাড়ে জ্ঞানের গভীরতা। কাজেই পঞ্চাশোর্ধ জীবনের মধ্যে খুঁজে পাওয়া ওইসব অর্জন কাজে লাগিয়েই শুরু হতে পারে আরেক নতুন জীবন।
সাধারণত মানুষের মনোভাব অনুযায়ী দেহে ক্ষতিকর ও উপকারী- উভয় ধরনের হরমোন নিঃসরণের মাত্রা বাড়ে-কমে। হাসি-খুশি অবস্থায় কারো শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিজল-এর মতো মানসিক চাপ উদ্রেককারী হরমোনের মাত্রা কমে যায়। এছাড়া মানসিক অশান্তিতে থাকলে এমনিতেই মানুষের ধূমপান ও মদপানের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব কারণেই যারা হাসি-খুশি জীবন যাপন করতে পারেন না তাদের আয়ুষ্কাল কমে আসে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। কাজেই এই বয়সকাল ক্ষয়ে যাওয়ার নয়, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের পরিধি নিয়ে শুরু করা যায় আনন্দময় পথচলা। মানুষ তার শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য কাটিয়ে দেয় জীবন ও

জীবিকার সন্ধানে। কেটে যায় শিক্ষা জীবন, বয়ে যায় কর্মজীবনও। অনেকের মধ্যে সাহিত্য প্রতিভা বা লেখালিখির গুণাবলি থাকার পরও দেখা যায় সময় ও সুযোগের অভাবে চর্চাটি হয়ে ওঠে না। এই বয়সে এসে যারা মোটামুটি থিতু হন তারা বিগত জীবনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভা-ার কাজে লাগিয়ে লেখালিখি বা সাহিত্য চর্চা করতে পারেন। লেখক মাত্রই জানেন, ওই সৃষ্টির আনন্দ। এর মধ্যেই খুঁজে পেতে পারেন জীবনের আনন্দের আরো একটি দিক। পৃথিবীতে অনেক নামকরা লেখক, এমনকি চিত্রশিল্পীদের কথাও শোনা যায় যারা অবসর জীবনে শিল্প চর্চার মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন জীবনের আনন্দ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন জীবনের বহুমুখী সমস্যাও বাড়তে থাকে। স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক নানানমুখী সমস্যাতেও জর্জরিত হয়ে ওঠে কারো কারো জীবন। সুস্থ ও সুন্দর থাকার সঙ্গে আনন্দময় জীবনের সম্পর্ক থাকুক, না থাকুক- এ বয়সে হঠাৎ করেই মাঝে মধ্যে যেন বদলে যায় আজীবন বয়ে চলা লাইফস্টাইলটি। এর প্রধান কারণ হতে পারে বয়সী অসুস্থতাগুলো। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ- এসব কারণে বদলে যায় এতো দিন বয়ে চলা জীবনের গতিধারাটি। তাই সচেতন হতে হবে এবং যে সমস্যাই আসুক না কেন, তা মেনে নিয়ে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। খাদ্য অভ্যাস বদলে ফেলা ও নিয়মিত জীবন যাপন, শরীর চর্চা, হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে এ সময়ের সমস্যা মোকাবেলায়। পারিবারিক সদস্যদের বিচ্ছিন্নতা বা একাকীত্বও এই বয়সটায় জীবন দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। এ বয়সে ছেলেমেয়েরা অনেকেই চলে যায় পড়ালেখা বা কর্মক্ষেত্রে। অনেকেরই জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনী গত হন কিংবা বিচ্ছেদ ঘটে। ওই ব্যাপারগুলো খুব সূক্ষ্মভাবেই মানসিক চাপের সৃষ্টি করে।

ছেলেমেয়েদের দূরে থাকা বা সামাজিক চক্ষুলজ্জায় অনেকেই একা থেকে আরো নিজের ক্ষতি করেন। সময় এসেছে দৃষ্টিভঙ্গি বদলের। বিচ্ছেদ বা সুকঠিন সমস্যাও মোকাবেলা করে নতুন জীবন শুরু করাই বরং বুদ্ধিমানের কাজ হবে। একাকীত্ব বা সঙ্গীহীন জীবন এই বয়সে খুব একটা উপযোগী নয়। কাজেই সঙ্গী বা সঙ্গিনী বেছে নেয়াও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আবেগের বশে বা অনাগত ভবিষ্যতের নেতিবাচক আশঙ্কায় অনেকেই নতুন করে সঙ্গী বা সঙ্গিনী নির্বাচনের ব্যাপারটি এড়িয়ে যান। এ ব্যাপারটি এড়িয়ে না গিয়ে বরং গুরুত্বসহ দেখার জন্য পরিবারের সবারই এগিয়ে আসা উচিত। আমরা প্রায়ই দেখে থাকি, এ মধ্যবয়সটায় স্বামী বা স্ত্রীকে হারিয়ে অনেকেই নির্লিপ্ত কিংবা কিছুটা অসহায় জীবনই পার করেন। এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়াতে পরিবারের সদস্যদের এগিয়ে আসাটা যেমন জরুরি তেমনি নিজেরও সচেতনতার প্রয়োজন আছে। চিরকুমার ব্রত নেয়া কেউ কেউ অথবা অকৃতদার ব্যক্তির জন্যও এ বয়সটি হেলাফেলার নয়, বরং নতুন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রভাব বা তাদের সান্নিধ্যে জীবন হয়ে উঠতে পারে স্বর্গীয় সুন্দর।


শুধু সাফল্যের পেছনে ছুটে চলাতেই জীবনের সব আনন্দ বা সফলতা- এমন ভাবনাই সব নয়। সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সময় ও সুযোগ খুঁজে নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন প্রকৃতির কাছে। পৃথিবীর এই বিশাল যজ্ঞে অংশ নেয়ার সুযোগ না হলেও তো অপার প্রকৃতি পড়ে রয়েছে আমাদের দ্বারপ্রান্তে। রোজ না হোক, সপ্তাহে বেড়িয়ে আসুন পরিবারের সঙ্গে বাড়ির কাছাকাছি পার্ক কিংবা কোনো বড় উদ্যানে। মঞ্চ নাটক, মুভি, থিয়েটার বা সাংস্কৃতিক কর্মকা- কিংবা সমাজসেবায় অংশ নেয়া অথবা উপভোগটি শুধুই তারুণ্যের অংশ নয়, আপনিও এসবের মূল্যবান অংশীদার। কাজেই সময় এসেছে দৃষ্টিভঙ্গি বদল ও নতুন করে ভাবার। জীবন ফুরিয়ে যাওয়ার নয়, বরং তা যতোক্ষণ গতিশীল ততোক্ষণই উপভোগের। তাই পঞ্চাশোর্ধ জীবনের এই বাঁক বদলে নিজেকে বদলে ফেলুন। জীবনটিকে করে তুলুন মূল্যবান ও সুন্দর।

এখানে একটি ব্যাপার মাথায় রাখা যেতে পারে, এই বয়সে এসে বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেছে- এমনটা অনেকেই ভেবে থাকেন। আসলে সম্ভবত এমনটি মাথায় গেঁথে রাখার কোনো কারণ নেই। জীবনের নানান কাজে বা নানা প্রয়োজনে অনেকেরই হয়তো বিয়েটা ঠিক বয়সে করা হয় না, তবে সত্যি বলতে জীবন সঙ্গিনী বেছে নিতে বা বিয়েটা এই বয়সেও করে ফেলতে তেমন কোনো বাঁধা নেই। হতে পারে একই বয়সী বা কাছাকাছি বয়সের কনে না খুঁজে পাওয়া। এতে বিয়ে বা বাকি জীবনটা একেবারে বিফলে যাবে এমন গাঁটছড়ার বাঁধনে এটিও ভাবার কোনো কারণ নেই। একটু বয়সের বৈষম্য বা বেশি বয়সের বিয়েতেও বাকি জীবন হয়ে উঠতে পারে মধুর সান্নিধ্যের।
আসলে প্রয়োজন নিজেদের মাঝে বুঝে চলা ও জীবন উপভোগের বিষয়টিকে মাথায় রাখা। কাজেই চিরকুমার ব্রত নেয়া কেউ অথবা অকৃতদার মানুষের জন্যও এ বয়সটি হেলাফেলার নয়। বরং নতুন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রভাবে বা তাদের সান্নিধ্যতায় জীবন হয়ে উঠতে পারে স্বর্গীয় সুন্দর।

 

লেখা : সহজ ডেস্ক
মডেল : এনায়েত কবির
নাহিদা আলম উচ্ছ্বাস ও অনুষা
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

আলো ও আলেয়া

 

ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা ডেকোরেশন অথবা গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ব্যাপারটি বর্তমানে বিশ^জুড়ে সম্প্রসারিত হলেও এটি আদৌও নতুন কিছু নয়। সাধের সঙ্গে সাধ্যের সমন্বয়টাই ইন্টেরিয়র ডিজাইন বা গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার মূল প্রতিপাদ্য। তাই উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত যে কেউই ইন্টেরিয়রের কথা ভাবতে পারেন। কোনো ইঞ্জিনিয়ার আপনার বাড়ির নকশাটি করে দেবেন, গৃহে রুমগুলোর নির্দেশনা দেবেন। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা আলো-ছায়া ও সবুজায়নসহ অনেক দিক বিবেচনা করে কোনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার আপনার ঘরের দরজা-জানালা, ভেন্টিলেটর ও আলোর উৎসসহ অন্য দিকগুলো দেখিয়ে দেবেন। কোনো ডিজাইনার ঘরের সাধারণ সিলিংটি বিভিন্ন আঙ্গিকে সাজিয়ে তা করে তোলেন দর্শনীয়। সিলিংয়ে বসানো যায় লাইটের সাহায্যে হাজার তারার আসর ও নানান বর্ণের বর্ণালী আলোর মেলা। তাই গৃহসজ্জায় চার দেয়াল এবং সিলিংয়ে রঙ ও লাইটিং প্ল্যান খুব জরুরি। বর্তমানে এলইডি বাতির কল্যাণে বিদ্যুতের খরচ খুব কমে এসেছে। এ কারণে ঘরের বিভিন্ন স্থানে প্ল্যান অনুযায়ী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসানো যায় কম আলোর রকমারি বাতি। বাসগৃহে বসবাসকারীরা যাতে মনোটোনাস হয়ে না পড়েন বা মনমরা ভাব না আসে, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, আনন্দের উৎস, ভালো লাগার বিষয়গুলো ইন্টেরিয়র পরিকল্পনার সঙ্গে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। এ জন্য আলো এবং রঙ ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যা থেকে আলো প্রতিফলিত হয় এবং ভীতিকর ছায়া

না থাকে। হালকা ধরনের রঙ ব্যবহার করাই ভালো। যেমন- হোয়াইট, অফহোয়াইট, লাইট লেমন, লাইট ওয়ার্ম। স্টাডিরুম, কিচেন ও শিশুদের ঘরগুলোয় স্পট লাইট বা উজ্জ্বল বাতি ব্যবহার করলে ঘর ফুটে ওঠে। সর্বতভাবে খেয়াল রাখতে হবে, আপনার ইন্টেরিয়র ডিজাইন যেন নিজের ও পরিবারের সবাইকে স্বস্তি দেয়, ফ্রেশ রাখে এবং ঘুমের কোনো ব্যাঘাত না ঘটায়। আপনার রুচির সচেনতায় নিজের ইন্টেরিয়র যেন হয়ে ওঠে অন্যদের আলোচনার বিষয়।


দিনে সূর্যের আলো থাকে। তাই আলো নিয়ে এতো চিন্তা করার কিছু নেই। দিনশেষে রাতের আঁধারে আমাদের আবাস-চারপাশ ঢাকা পড়ে যায়। তাই রাতে কৃত্রিম আলো অনিবার্য। চলমান সভ্যতা আলোর অরণ্য থেকে বেছে নিতে হয় আলোর সঠিক উৎসটিকে। শুধুমাত্র ব্যতিক্রমধর্মী লাইটিংই পারে আপনার ইন্টেরিয়রের লুক পরিবর্তন করতে। সামান্য আলোর ব্যবহারে বৈচিত্র্য আসতে পারে ঘরে। উপযুক্ত আলোর নিক্ষেপণ চমকে দিতে পারে হাজারো মানুষের চোখ। এ কারণে ইন্টেরিয়রে আলোর ব্যবহারে হতে হবে চৌকস ও সৃজনশীল।


ঘরে যদি প্রাকৃতির আলো প্রবেশ করে তাহলে দিনে বাড়তি আলো না জ¦ালানোই ভালো। রাতে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা করে ঘরের প্রতিটি বস্তুর ওপর নানানভাবে স্পটের মতো ওই আলো বিন্যস্ত করলে তা হয় নান্দনিক ও দর্শনীয়। এতে সৃষ্টি হয় সৌন্দর্যের নতুন এক মাত্রা। তবে বেশি উজ্জ্বল আলো ব্যবহারে ঘর গরম হয়ে ওঠে এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থাকলে সেটির কার্যকারিতাও কমে যায়। আধুনিক কিছু ঘরে আলো রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে কমানো বা বাড়ানো যায়। ইন্টিরিয়রে এ ধরনের বাতি বেশ ভালো কাজ করে। ড্রয়িংরুমে ঝাড়বাতি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এটি যার যেমন সাধ্য ওই অনুযায়ী সংস্থাপন করে নিলেই হবে। পরে এটি প্রতিস্থাপন করা তেমন ঝামেলার ব্যাপার নয়। ঘর সাজানোর জন্য বাজারে এখন নানান টেবিল ল্যাম্প পাওয়া যায়। এগুলোয় থাকে বিচিত্র কারুকাজ। একটি টেবিল ল্যাম্প একদিকে সুন্দর একটি শোপিস, অন্যদিকে তা মিষ্টি রঙিন আলোও প্রদান করে। টেবিল বা স্টান্ড ল্যাম্পের ডিজাইনের অভাব নেই। ইচ্ছা করলে হাতেও নিজের ডিজাইন মতো সহজেই টেবিল ল্যাম্প বানিয়ে নেয়া য়ায়। এখন বাজারে নানান ধরনের ফ্লাওয়ার ল্যাম্প পাওয়া যায়। এটি হাতেও বানানো যায়। তা একদিকে প্লান্টের কাজ করে, অন্যদিকে রাতে বাহারি ফুলের মতো উজ্জ্বল ফুল হয়ে ফুটে ওঠে। সুন্দর একটি নান্দনিক ইন্টেরিয়রে মোম ও মোমদানির ভূমিকাও কম নয়। ডিজাইনারের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরে সাজানো যায় আপনার রুচি বহনকারী অ্যান্টিক ও দুষ্পাপ্য আলোক সামগ্রী।

 


লেখা : রাশেদ মামুন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : সোহানী ইন্টেরিয়রস

ফিরে আসা

 

ফিরে আসার গল্প বলার দৃঢ় সংকল্প নিয়েই এগিয়েছিলাম দুরূহ পথ ধরে। পেছন ফিরে তাকালে যেন এখনো দেখতে পাই সময়গুলো, যে সময়গুলো নিজেই দীর্ঘ হয়ে যায় বেদনার ভার বুকে করে। দিনগুলো চলতে থাকে একটি ছন্দ নিয়ে। নিজের একটি নকশা তুলতে তুলতে অনেক পাওয়া আর না পাওয়ার ভাবনা জমে। আবার সময় হঠাৎ করে অন্য আরেক ছন্দে ঢুকে পড়ে যখন ইচ্ছা আর লক্ষ্যগুলো একদম আলাদা হয়ে যায়। যা অনায়াসে পাওয়া হয়ে আসে তা নিয়েই গতানুগতিক ছন্দপ্রবাহে আবারও যুক্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা চলতে থাকে।


আমার স্তন ক্যানসার পার হয়ে আসার গল্প বলি। নিজে নিজে পরীক্ষা করতাম। কিন্তু একদম হঠাৎ করেই ধরা পড়ল। খানিকটা চিৎ হয়ে শুয়ে ছিলাম। একটা গোটার মতো টের পেলাম। আমার এক কাছের ডাক্তার বড় আপাকে বললাম। তার বলে দেয়া ডাক্তারের পরামর্শমতো মেমোগ্রাম, এফএনএসি, কোর বায়োপসিতে বোঝা গেল টিউমার আছে। আর তা ক্যানসার হয়ে বসে আছে। ঈদের লম্বা ছুটির মধ্যে যথাসম্ভব খোঁজ-খবর করে সার্জারিকে দেখানোর সময় ও ক্লিনিক ঠিক করা হলো। ছুটি শেষ হতেই সার্জারি। এরপর বায়োপসির রিপোর্ট অনুযায়ী কেমোথেরাপি। অনেক সময় ধরে চিকিৎসা নিয়ে, বহুপথ পেড়িয়ে ক্যানসারমুক্ত হওয়া।


বিদেশে যাওয়ার চিন্তা করিনি। আমার অবস্থানুযায়ী এ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আমার জন্য বেশ ভালো। সিদ্ধান্তগুলো আমি আর আমার স্বামী মিলে নিতাম। অনেকে বুদ্ধি আবার অতিরিক্ত পরামর্শও দিতেন। কিন্তু আমরা বুঝে নিতাম কোনটি আমাদের জন্য উপযুক্ত। অবস্থাটি আমরা একেবারে আমাদের করে নিলাম। সার্জারি, কেমোথেরাপি, ডাক্তার দেখানো, রক্ত পরীক্ষা করে আমরা কথা বলতাম, চিন্তা করতাম। এতোদিনের ভালোবাসা, প্রেম, ছেলে মানুষ করা, এক সঙ্গে বুড়ো হতে থাকার মধ্যে আমরা যতো কাছে ছিলাম এর চেয়ে অনেক বেশি কাছে চলে এলাম। ডাক্তারের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েছিলাম। তাই দুঃখজনক কিছু চিন্তা করতাম না। আর আমার স্বামী সব সময় সাহস জোগাতেন। আমাদের প্রচ- বিশ্বাস ছিল, আমরা এটি পার হয়ে আসব।
আমার ছেলের বয়স তখন ১২ বছর। ব্যাপারটি নিজে থেকে খানিকটা বুঝত আর নেট ঘেঁটে বাকিটা বুঝে নেয়ার চেষ্টা করতো। আমাকে অনেক সাহস দিতো। মন তবুও খারাপ হতো। এক আপার সঙ্গে ফোনে কথা হতো। আমরা একজন অন্যজনকে আগে চিনতাম না। তাকে কখনোই দেখিনি। তিনিও এক সময় এসবের মধ্য দিয়ে গেছেন। তাই তার নম্বর জোগাড় করি। অনেক সময় ঘণ্টা পার হয়ে যেতো কথা বলে। সবকিছু শুনতেন। মাঝে মধ্যে তার ওই সময়টার কথাও বলতেন। কতো কষ্ট হতো, কতো চেষ্টা চলতো। ওই সময় তার অফিসের কাজের কথা, বাসা সামলানো, মনের অবস্থা- সব। সারাক্ষণ সাহস দিতেন। খাওয়া, বিশ্রাম আর দুশ্চিন্তা না করার ব্যাপারে জোর দিতেন।

সার্জারির আগের দিন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট এলেন। অভয় দিলেন। হাঁপানি আমার পুরনো রোগ জেনে গেলেন। সার্জারির পর ক্লিনিকে কিছুদিন থেকে বাসায় ফিরে যাওয়ার পর শুরু হলো কেমোথেরাপির চিন্তা। আরেক হাসপাতাল, আরেক ডাক্তার। সার্জারির আগে পেট স্ক্যান করার সুযোগ হয়নি। তাই পরে করা হলো। ঠিক ওই সময়ই ভয় হলো যদি আবারও কিছু ধরা পড়ে! হাসপাতালের অ্যাটেনডেন্ট মেশিনের কাছে নিয়ে গেলেন। এরপর কেমোথেরাপিস্ট পরবর্তী চিকিৎসা বুঝিয়ে বললেন। কেমোথেরাপি লাগবে কেন, কয়টা, কতোদিন পর পর, কী ওষুধ দেবেন, কী কী অসুবিধা হতে পারে- সব। অনেকটা দিন লাগবে আর শরীর-মন ভালো রাখতে হবে- সবই সুন্দর করে বললেন। মনে হলো, খুব লেগে থেকে সবটুকু পার হয়ে যাব।
প্রথম কেমোথেরাপির পর পরই খাওয়ার রুচি হারিয়ে ফেললাম। তবুও যে ধৈর্য ধরে খেতে হবে তা বুঝিনি। কারণ পুষ্টি তো আসবে খাবার থেকেই। আর ওই সময়টায় সাধারণ অবস্থার চেয়ে বেশি ক্যালরি দরকার। মনে করলাম, রুচি আবার ফিরে আসবে। কিন্তু খাওয়ার অনিচ্ছা আরো বাড়লো। ভাত খেতে ঘণ্টা পার হয়ে যেতো। অল্প করে কিছুক্ষণ পর পর খেতাম। এক প্রস্থ খাওয়া শেষ হলে নিজেকে বাহবা দিতাম। ডাক্তার বলতেন প্রোটিন বেশি খেতে, স্টার্চ কম খেতে এবং চিনি, তেল-চর্বি, মশলা এড়িয়ে যেতে। বেশকিছু মৌসুমি ফল খেতে বলতেন। ফল খেতে ভালোও লাগতো। রান্না খাবারে লবণের স্বাদ সঠিক হলেও পরিমাণে তা বেশি লাগতো। অল্প মশলাতেও অনেক সময় মুখ জ্বলত। টোস্ট, বিস্কুট খাওয়ার জন্য লোভ হতো। কিন্তু টোস্ট, পাউরুটি খেলেই মুখের তালু ছুলে যেতো আর বিস্কুট তো দুরস্ত। খুব খেয়াল রাখতাম যেন যথেষ্ট পানি খাওয়া হয়। বলে দেয়া হয়েছিল, কেমোথেরাপির সময় পানি স্বল্পতায় নানান জটিলতা হতে পারে।
প্রথম কেমোর দ্বিতীয় সপ্তাহেই জ্বর এলো। তাড়াতাড়ি রক্ত পরীক্ষা করে দেখা গেল, রক্তের শ্বেতকণিকা ভয়ানক রকম কমে গেছে। তখনই হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তার জানালেন, কেমোথেরাপির পর অনেকেরই ওই অসুবিধা হয়। তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বলে পর্যবেক্ষণে থাকার জন্য হাসপাতালে থাকতে হয়। কারণ ওই সময়টায় ইনফেকশন হলে তা মারাত্মক হয়ে যেতে পারে। ওষুধ-পথ্য আর শুশ্রƒষায় ঠিক হয়ে সপ্তাহখানেক পর বাসায় ফিরি। ততোদিনে দ্বিতীয় কেমোথেরাপির সময় হয়ে গেছে। এভাবে পুরো সময়টায় মোট তিনবার এমন অবস্থায় পড়লাম। আর প্রতিবারই হাসপাতালে থাকা হয়। পরের দিকে সেরে উঠতে আরো সময় লাগতো। শরীর তো বার বার যুদ্ধ করছিল, তাই। একবার তো অণুচক্রিকাও কমে গেল। চারটি কেমোথেরাপি পার করার পর বেঁকে বসলাম, আর নেব না। আমার স্বামী তখন বোঝালেন, আমরা তো ঠিক করেছিলাম সব পার করবো। আবার মনে জোর আনলাম, বাকিগুলোও পার করবো।
তৃতীয় সপ্তাহ থেকে চুল পড়া শুরু। অল্প করে শুরু হয়ে একেবারে ঝুরঝুর করে পড়তে লাগলো। তৃতীয় কেমোথেরাপির পর রাতে বমি হলো। সামান্য যা চুল ছিল তা মুখের সামনে এসে অসুবিধা করছিল। আমার স্বামী তখন বাকিটুকু চুল খুব ছোট করিয়ে ট্রিম করে দিলেন। বোঝা যাচ্ছিল, সব চুল ফেলে দিতে তার মনে কতো কষ্ট হচ্ছে!


পাশের বেডে এক আপা কেমোথেরাপি নিতেন। তার সঙ্গে বেশ কিছুদিনের শেডিউল মিলে যেতো। আবার আমরা অসুস্থ হলেও একই সময় হাসপাতালে থাকতাম। শ্বেতকণিকা কম থাকার কারণেও ওই সময়টায় মেলামেশা এড়িয়ে যেতাম। তার মনের জোর দেখে অবাক হতাম! অন্য রোগীদের প্রাণশক্তিটা যে কী প্রখর হয়ে আছে তা তাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যেতো। তখন আমাদের চেহারা পাল্টে একেবারেই অন্য রকম হতো। কিন্তু চোখ দেখে ধারণা করা যেতো, কতো বড় বড় বাধা পার হয়ে আসছি আমরা। এ রকম এক সময় ওই অ্যাটেনডেন্ট ভাইয়ার সঙ্গে আবার দেখা। তখন চুল, ভ্রƒহীন অবস্থায় চেহারা ফুলে একেবারে চাঁদের মতো। কেমন আছি জিজ্ঞাসা করায় অবাক হলাম। আমাকে চিনলেন কীভাবে! তিনি বললেন, মানুষের চোখ তো একই রকম থাকে। তাই চেনা যায়। তার কথাটি পোশাকি ছিল না, আন্তরিকই ছিল। নার্সরা অনেক যতœ নিতেন। তাদের নিঃশব্দে হাঁটাটা খুব মজা লাগতো। কীভাবে যে বুঝে যেতেন, কখন তাদের কাউকে আমার দরকার লাগবে! ওই সময় তাদের সাজপোশাক বেশ খেয়াল করতাম। ইনফেকশনের ভয়ে দুল পরতাম না। দেখতাম, তারা খুব ছোট্ট দুল পরেন, খুব হালকা কাজল দেন আর চুল তো নেটের ভেতর বাঁধা থাকে। এমন প্রমিত সাজ ভালো লাগতো। নিজের জন্য মায়া লাগতো যে, আহারে, আমার চুল কবে হবে!

বাসায় আমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিল আমার কুকুরটি। এরা হলো অন্য প্রাণীর শরীরে ভর করে আসা মহাপ্রাণ। ওই প্রাণীটি ছিল বলেই আমাকে বাসায় কখনো একা থাকতে হয়নি, একাকীত্বেও ভুগিনি। কী করে যে মনের অবস্থা বুঝতে পারতো! আর যখন হাসপাতাল থেকে ফিরতাম, অল্প দূরত্ব বজায় রেখে কাছে থাকতো। যখন আমাকে কেমোথেরাপির সুবিধার জন্য পোর্ট করতে বলা হলো তখন ওই কুকুরের কথা চিন্তা করে করলাম না। ইনফেকশন হয়ে গেলে সব দোষ ওই প্রাণীটির ঘাড়ে পড়তো। আর খরচের ব্যাপারটিও ছিল। পোর্ট অবশ্য আমার ভালো সাহায্যে আসতো। ধীরে ধীরে সব কেমোথেরাপি ভালোভাবে পার করা হলো। সেরে উঠলাম। কিছু জিনিস আগের মতো থাকলো না। কিছু জিনিস ভালোর জন্য পাল্টালো। পরীক্ষায় ছেলে বেশ খারাপ করলো। তাকে স্কুল পরের ক্লাসে বিশেষ বিবেচনায় নয়, এমনিই তুলে দিল। তার টিচার জানতেন। বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অনেক বেড়ে গেল। কেউ কেউ স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হলো। যে কোনো কঠিন সময়ের মতো ওই অভিজ্ঞতাতেও টের পেলাম কারা আমাদের পরম আপনজন আর কারা আবর্জনা।

ক্যানসার একটি মহাচোর। মানুষের অনেক কিছু নিয়ে নেয়। তবু মানুষ তো অমৃতের সন্তান। তাই লড়াই করেই যায়। এর মধ্যেও যারা থেমে যান না। তারাই শ্রদ্ধার পাত্র। আর যারা পরম মমতা ও পরিশ্রমে তাদের পাশে থাকেন তারাও সমানভাবে শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের ছাড়া ওই লড়াইয়ে উত্তীর্ণ সম্ভবই নয়। ক্যানসার নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক ভুল ধারণা আছে। এখন চিন্তা করে দেখি, আমার দিকের পরিবারে বড় পরিসরে হৃদরোগ আর স্তন ক্যানসারের হার প্রায় সমান। তাই হয়তো এটি ধরা পড়ার পর এতোটা ঘাবড়াইনি। তবু আমাদের কেউ যখন পরিবারের ক্যানসারভোগীদের রোগের যোগসূত্র বৈবাহিকভাবে অন্যপক্ষের আত্মীয়র কাছ থেকে খোঁজেন তখন বেশ অবাক লাগে! ক্যানসার নিয়ে মানুষের মনে এত সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমি ফিরে আসতে পেরেছি, আপনিও পারবেন। যারা এমন দুঃসহ যন্ত্রণার মাঝ দিয়ে পার হবেন কিংবা যারা এখন সুস্থ আছেন তাদের সচেতনতার জন্য কিছু বিষয় জানানো হলো:- সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তাই এতোদিন এ ব্যাপারে নারীদের সচেতন করাই ছিল মুখ্য। কিন্তু এখন পুরুষদেরও সচেতন করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যানসার দেখা দিতে পারে। অবশ্য তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। এক হিসাবে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন ৪১ হাজার নারী। ওই তুলনায় মাত্র ৩০০ পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। স্তন ক্যানসার হওয়ার কারণগুলো এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।


স্তন ক্যানসার হয়েছে কী করে বুঝবেন
- স্তনে একটি পি-ের মতো অনুভব হয়।
- স্তনের বোঁটা থেকে রক্ত বের হয়।
- স্তনের আকার ও আকৃতির পরিবর্তন হয়।
- স্তনের ত্বকে পরিবর্তন দেখা দেয়। যেমন- টোল পড়া।
- স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে যায়।
- স্তনের বোঁটার চামড়া উঠতে থাকে।
- স্তনের ত্বক লালচে তথা কমলার খোসার মতো এবং গর্ত গর্ত হয়ে যায়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন
- স্তনে নতুন ও অস্বাভাবিক পি- অনুভব করলে।
- পরবর্তী মাসিক পার হয়ে গেলেও পি- না গেলে।
- স্তনের পি- আরো বড় ও শক্ত হলে।
- স্তনের বোঁটা থেকে অনবরত রক্ত নির্গত হলে।
- স্তনের ত্বকে পরিবর্তন দেখা দিলে।
- স্তনের বোঁটা ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে।

কোথায় চিকিৎসা করাবেন
- জেলা সদর হাসপাতালে।
- মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- বিশেষায়িত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে।

কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে
- মেমোগ্রাম (Mammogram) বা স্তনের এক্স-রে।
- ব্রেস্ট আলট্রাসাউন্ড (Breast Ultrasound)।
- ব্রেস্ট ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স ইমাজিং {Breast magnetic resonance imaging (MRI)}।
- বায়োপসি (Biopsy)।
- রক্তের পরীক্ষা।
- বুকের এক্স-রে।
- কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফি স্ক্যান {Computerized tomography (CT) Scan }
- পজিট্রন ইমিশন টমোগ্রাফি স্ক্যান {Positron emission tomography (PET) Scan}

কী ধরনের চিকিৎসা আছে
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন, পর্যায়, ক্যানসারের কোষগুলো হরমন সংবেদনশীল কি না এসবের ওপর। অধিকাংশ নারীই স্তন অপারেশনের পাশাপাশি অন্যান্য বাড়তি চিকিৎসাও গ্রহণ করে থাকেন।
যেমন- কেমোথেরাপি, হরমনথেরাপি অথবা রশ্মিথেরাপি।

 

লেখা : তাহমিনা রহমান

শীতে ত্বকের যত্ন 

 

‘এখন শীতকাল। এই শীতের সঙ্গে আছে শুষ্কতার নিবিড় সম্পর্ক। আর এ শুষ্কতার কারণেই ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন’- এ কথাগুলো বললেন হারমোনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতা।

শীতে অ্যালার্জির উপদ্রবও দেখা যায়। তখন ত্বকে র‌্যাশের সমস্যা দেখা যায়। শুষ্কতার কারণে ত্বক উজ্জ্বলতা হারায়। একটু যত্ন নিলেই শীতে ত্ব¡ক ভালো রাখা যায়। যেহেতু শীতে বাতাসের আর্দ্রতা ক্রমেই কমতে থাকে সেহেতু ধুলো-ময়লা জমে ত্বকে নানান সমস্যা দেখা দেয়। এ থেকে রক্ষা পেতে সবার আগে ভালো করে ত্বক পরিষ্কার রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। শীতে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা যায় যেভাবে-


তৈলাক্ত ত্বকের জন্য : লেবুর রস দুই টেবিল চামচ, গ্লিসারিন এক চা-চামচ, গোলাপ জল তিন টেবিল চামচ একত্রে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।


বেশি শুষ্ক ত্বকের জন্য : আধা চা-চামচ দুধ ও মধু একত্রে মিশিয়ে দুই মিনিট মাসাজ করে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। এতে ত্বকের শুষ্কতা কমবে। এরপর একটি ডিম, মধু দুই চামচ, গুঁড়া দুধ এক চামচ, কাঁচাহলুদ এক টেবিল চামচ, লেবুর রস আধা চামচ একত্রে পেস্ট করে ত্বকে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।


স্বাভাবিক ত্বকের জন্য : এক চামচ গাজরের পেস্টের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া শসার কুচি দুই টেবিল চামচ, গোলাপ জল ছয় টেবিল চামচ, ময়দা এক টেবিল চামচ, গ্লিসারিন দুই টেবিল চামচ, মধু এক চামচ একত্রে ব্লেন্ড করে ত্বকে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।


খসখসে ত্বকের জন্য : খসখসে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও পরিষ্কার রাখতে দিনে অন্তত দু’বার ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে লোটাস ফেয়ারনেস জেল বিশেষ করে রাতে শোয়ার আগে মুখ, গলা ও বুকের খোলা অংশে মাখলে উপকার পাওয়া যাবে।


মেকআপের জন্য : এক চা-চামচ শসার রস ও মধু এবং সামান্য তেঁতুল মিশিয়ে মেকআপের আগে ত্বক টোনিং করে নিলে মেকআপ ভালো বসে। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত তিনবার কোন ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের উপকার নিশ্চিত।

শীতকালে হাত ও পায়ের যত্ন
- আঙুল নরম ও মসৃণ রাখতে সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে হাতের আঙুলে লাগাতে হবে।
- হাতের ত্বক খসখসে হলে লেবুর রসে এক চামচ মধু বা চিনি দিয়ে হাতে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- কনুইয়ে কালো দাগ দেখা দিলে চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট মাসাজ করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
- লেবুর রস ৪ চা-চামচ, মধু এক চা-চামচ, অলিভ অয়েল এক চা-চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে মাসাজ করতে হবে ভালোভাবে।
- রাতে শোয়ার আগে পানিতে এক চামচ লবণ, এক চামচ শ্যাম্পু, এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রেখে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, যে কোন ঋতুতেই শরীরের বাইরের সৌন্দর্যের পাশাপাশি মনের সৌন্দর্যের বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরি। নিয়মিত মেডিটেশন ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো করার মতো বিষয়গুলোতেও
মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।

 

মডেল : নওরিন
ছবি : ফারহান ফয়সাল

 

 

 

 

 

আবেগ বা ইমোশন ছাড়া কি মানুষ হয়! না, কখনোই নয়! যার আবেগ নেই তিনি তো কোনো মনুষ্যকুলের ভেতরই পড়েন না। আবেগ আছে বলেই তো পৃথিবীতে এতো প্রেম,-ভালোবাসা, এতো কবিতা-গান। তবে ওই আবেগই আবার অনেক ক্ষতিরও কারণ। আবেগের বাড়াবাড়ি আছে বলেই এতো হানাহানি, রেষারেষি, আত্মহত্যা, ঝগড়া-ফ্যাসাদ, বিচ্ছেদ ইত্যাদি।
আবেগের কারণেই যেমন মানুষ আপ্লুত হয় ঠিক তেমনই আবেগ অনিয়ন্ত্রণেই ফেটে পড়ে ক্রোধ, চিৎকার, চেঁচামেচি বা লঙ্কাকা- ঘটিয়ে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তথা নিজের ইন্টারনাল ক্ষতিও করে থাকে। এই ইমম্যাচিউরড মেন্টালিটি পরিহার করুন। এছাড়া আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন ও হাসি-খুশি জীবন যাপন করুন এবং নিজে বাঁচুন, অপরকে বাঁচান। ইমম্যাচিউরড মেন্টালিটি বলতে গিয়ে মনে পড়ে গেল আরেকটি কথা। তা হলো ছোট শিশুরা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে প্রায় অক্ষম থাকে। যেমন তারা একটা প্রজাপতি বা বিড়ালছানা দেখলেই হাসি-খুশি মনে ধরতে দৌড়ায় ঠিক তেমনি একটু ধমকেই ভ্যাঁ করে কেঁদেও ফেলে।

যাহোক, দেখি আবেগ কী বা আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাধ্যম কী কী?
আবেগ ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ হলো ভালোবাসা, ভালো লাগা, আনন্দ-বেদনা, হিংসা-বিদ্বেষ, রাগ-ক্রোধ, ঝগড়া-ঝাটি, মারামারি, খুনাখুনি, উন্মাদনা, ইগো ইত্যাদি।
ওই আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে যখন কেউ কেউ রাস্তার মাঝে গাড়ি থামিয়ে জানালা নামিয়ে নিয়ম ভাঙা কাউকে উত্তেজিতভাবে গালি দিয়ে ফেলে বা রেস্টুরেন্টে প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে আশপাশ জানিয়ে দেয় এবং শেষমেশ স্থান-কাল-পাত্র ভুলে কেঁদেই ফেলে তখন নিজে তো বোকার মতো আচরণ করেনই, এমনকি প্রেমিকসহ অন্যদেরও বিব্রত করে। এছাড়া নিজেরও বিশেষ ক্ষতি করে থাকেন যা তার অজান্তেই নিজের মধ্যে ঘটে যায় তা তিনি জানেনই না। তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা অবশ্যই জরুরি। আবেগ নিয়ন্ত্রণের রয়েছে কিছু পরীক্ষিত কৌশল। যখনই কেউ ক্রোধে উন্মাদ হবেন বা রাগ-দুঃখে চুল ছিঁড়তে চাইবেন (নিজের এবং অপরের) কিংবা চিৎকার-চেঁচামেচিতে বাড়ি মাথায় করবেন অথবা কোনো দিশা না পেয়ে ধেই ধেই পাগলা নৃত্য করবেন তখনই মনে রাখুন নো কুইক রিঅ্যাকশন বা দ্রুত প্রতিক্রিয়া না দেয়া : সোজা ভাষায়, রিঅ্যাক্টিভ না হওয়া! কোনো পরিস্থিতি আবেগ দিয়ে বিবেচনা না করে যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করতে শিখতে হবে এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ঠা-া মাথায় চিন্তা করে পদক্ষেপ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, উগ্র বৈশিষ্ট্যের স্বভাব বা গালাগালি, ক্রোধ প্রকাশ, অশালীন ভাষার ব্যবহার যুক্তিটিকে দুর্বল করে ফেলে।


সঠিক সমাধান : আমার কাছে ব্যাপারটি সময় নিয়ে হলেও সঠিক ডিসিশন নেয়াটাটিকেই বোঝায়। যে বিষয়গুলোয় আমরা ইমোশনাল হয়ে পড়ি সেসব থেকে মন অন্যদিকে সরাতে হবে। তা না পারলে মন থেকে মুছেই ফেলতে হবে যেসব স্মৃতি বা ঘটনা আমাদের ইমোশনাল করে তোলে অথবা অন্য কিছুর প্রতি মনোযোগী হওয়া বা মত পাল্টে ফেলাও একটি সমাধান হতে পারে। খোলামেলা আলোচনার সুযোগ থাকলে যার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে তার সঙ্গে তা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে।


সচেতনতা : সচেতনতা বৃদ্ধি বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকাও একটি জরুরি ব্যাপার। কোন কোন পরিস্থিতিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকছে না সেগুলো খেয়াল রাখতে হবে। রাগ, দুঃখ, ভালোবাসা, ভালো লাগা, ক্ষোভ, ক্রোধ, হতাশা, অস্থিরতা এসবের নেতিবাচক কারণ চিহ্নিত করতে হবে।


চিন্তার পরিবর্তন : যেসব বিষয় নিয়ে ভাবলে আবেগ নিয়ন্ত্রণে থাকে না বা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে হয় তা মনে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা পরিবর্তন করতে হবে। ওই সময় ভালো কোনো স্মৃতির কথা মনে করা যেতে পারে। এভাবেই চিন্তাধারা ভিন্নদিকে প্রবাহিত করে আবেগাপ্লুত না হয়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা আবেগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব ।


ইতিবাচক হওয়া : ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা বা সিদ্ধান্ত কিংবা ভালো চিন্তা আবেগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ভালো আচরণ দিয়ে জীবনের অর্জনগুলো ভাবতে হবে। তাহলেও পরবর্তী পদক্ষেপে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।
এসব ছাড়াও তাৎক্ষণিক আবেগ নিয়ন্ত্রণেরও কিছু অব্যর্থ কৌশল আছে। তা হলো -


শ্বাস নিয়ন্ত্রণ : শান্ত হয়ে মোটামুটি নিরিবিলি কোনো জায়গা খুঁজে সেখানে বসতে হবে। কিছুক্ষণ স্বাভাবিক শ্বাস নেয়ার পর খুব ধীরে নাক দিয়ে ফুসফুসভরে শ্বাস নিয়ে তা ভেতরে ধরে রাখতে হবে এবং ১, ২, ৩ ও ৪ পর্যন্ত গুনতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস বের করে দিতে হবে।


ইতিবাচক ভঙ্গি রপ্ত করা : চলাফেরা ও কাজেকর্ম ধীর, আত্মবিশ্বাসী ও ইতিবাচক ধ্যান-ধারণা এবং অঙ্গভঙ্গি ধরে রাখতে হবে। বসা বা দাঁড়ানো কিংবা হাঁটাচলার সময় ভগ্ন হৃদয় অ্যাবা ত্রিভঙ্গ মুরারি না হয়ে সোজা ও দৃঢ় এবং স্মার্ট ভাবটিই প্র্যাকটিস করতে হবে। সোজা কথা, তাৎক্ষণিক আবেগ নিয়ন্ত্রণে ভাবতে হবে কন্ট্রোল ইওর আবেগ বাট ডোন্ট লেট ইট কন্ট্রোল ইউ।


হালকা ব্যায়াম : এ ব্যাপারে খুবই কার্যকর ব্যায়াম। ব্যায়ামের বদলের হাঁটার অভ্যাসও করা যেতে পারে। হাঁটার ফলে এন্ড্রোফিন নামক রাসায়নিক পদার্থের সিক্রিয়েশনে মুড পজিটিভ হয়ে যায়। তবে আবেগ নিয়ন্ত্রণে তখনই হাঁটা শুরু করাটা মনে হয় সঠিক হবে না।


লেখালিখি : এটি একটি দারুণ কৌশল! লেখালিখি করে মনের আবেগগুলো বের করে দেয়া যায়। এক সপ্তাহ বা এক মাস পর সেসব পড়ে নিজেকে চিনে নিতে হবে কোন বিষয়গুলো আবেগের প্রতি প্রভাবিত করে। এবার ওইসবের নিয়ন্ত্রণ সহজ! এভয়েড অর কন্ট্রোল অর কন্ট্রোল অলটার ডিলিট।


নিজের কথাগুলো বলুন : শেয়ারিং একটি ভালো উপায়। মনের কথাগুলো, দুঃখ বোধ বা কষ্ট অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা! ফোন দিয়ে বা মুখোমুখি বলা যেতে পারে। তবে সাবধান, বন্ধু ভেবে হিংসুটে কোনো শত্রুকে মনের ভাব বলে ফেললে ভবিষ্যতে খবর আছে।


জীবন যাপনের ভালো বিষয়গুলো সযতেœ লালন করা : সুন্দরের প্রশংসা ও চর্চা, প্রতিদিনের ছোটখাটো আনন্দের বিষয়গুলো উপভোগ করা এই অযাচিত আবেগীয় অনিয়ন্ত্রণকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অবশ্য সার্বক্ষণিক আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল প্র্যাকটিস হিসাবেই কাজ করে।


দূরদর্শিতা : কথায় আছে, ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।’ আবেগ আপ্লুত হয়ে রাগ, দুঃখ ও ক্রোধে অন্ধ হওয়ার আগে ভাবতে হবে, ওই আবেগ আপনাকে কোথায় নিয়ে যাবে। আবেগের ফাঁদে এ জীবন সংকটে পড়বে না তো! দূরদর্শী চিন্তা-চেতনাই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভবিষ্যতের পথে হাঁটতে সাহায্য করবে।
এছাড়া কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে


পর্যাপ্ত ঘুম : আবেগ যখন অনিয়ন্ত্রিত হয় তখন ঘুম কমে যায় বা অনিদ্রা হয়। কারো সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ, ব্রেকআপ এসব রাতের ঘুম হারাম করে দেয়। এটি বেশ কয়েকদিন, মাস, বছরও পার করতে পারে। এই ঘুম হারাম হওয়া ব্যাপারটিতে যেভাবেই হোক সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত আরামদায়ক ঘুমের পর রাগ, দুঃখ, ক্রোধ, ক্ষোভ অনেক আবেগই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।


ভালো পরিকল্পনা : ভালো পরিকল্পনা না থাকলে যে কোনো কাজেই সফলতা পাওয়া একটু কঠিন। আর ওই অসফলতা বা ব্যর্থতাও মানুষিক অবসাদ কিংবা আবেগ নিয়ন্ত্রণ হারাতে কাজ করে। তাই ভালো পরিকল্পনাকারী হয়ে কাজ শুরু করাটাই উত্তম।
নিজের জন্য কিছু সময় ও আত্মকথন : নিজের সঙ্গে নিজের কথা বা নিজেই প্রশ্ন করা কিংবা উত্তর খুঁজে বের করা এসবও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। নিজের জন্য কিছু আনন্দময় কাজ খুঁজে বের করা বা একান্ত সময় কাটানোও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই তো টক টু দাইসেলফ অ্যান্ড ইনক্রিজ ইওর অন ক্রিয়েটিভিটি বা ক্রিয়েটিভ থিকিং অর থটফুল আইডিয়াস।

এবার আসি মজার এবং খুবই এফেক্টিভ একটি বিষয়ে। দিস ইজ কলড নাইটি বা টেন প্রিন্সিপাল-
টেন পার্সেন্ট অফ লাইফ ইজ মেডআপ হোয়াট হ্যাপেনস টু ইউ বাট নাইন্টি পার্সেন্ট অফ লাইফ ইজ ডিসাইডেড বাই হাউ ইউ রিঅ্যাক্ট... মানেটা কী? আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ১০ শতাংশের উপর নিজের কোনো হাত থাকে না, থাকে না কোনো নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু বাকি ৯০ শতাংশ আলাদা। এটি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতেই পারি। তা কীভাবে! আমাদের রি-অ্যাকশনের মধ্য দিয়ে। মানে, আমরা কীভাবে রিঅ্যাক্ট করবো ঘটনাটির প্রতি।
একটা গল্প বলি। একদিন সুন্দর এক সকালে মা-বাবা আর ছোট্ট একটি মেয়ে সবাই মিলে আনন্দে সকালের ব্রেকফাস্ট করছিল। হঠাৎ মেয়েটি এক কাপ কফি বাবার গায়ে ফেলে দিল। বাবার অফিসের পোশাক নষ্ট হয়ে গেল। এখানে কফি পড়ে যাওয়ার ঘটনাটিতে কারো নিয়ন্ত্রণ করার উপায় ছিল না। কিন্তু এর পরের ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যেতো কীভাবে তিনি রিঅ্যাক্ট করবেন এর ওপর। বাবা রেগে গেলেন। অনেক চিল্লাচিল্লি বকাঝকা! শিশুটি কান্না করতে শুরু করলো। শুধু তা-ই নয়, তাকে বকাঝকা করেও বাবার হলো না। তিনি মায়ের ওপর চড়াও হলেন, চিৎকার-চেঁচামেচি করলেন। তার জামাকাপড় বদল এবং শিশুর ব্রেকফাস্ট দেরি, স্কুলবাস মিস। তাড়াতাড়ি বাবাকে কারে করে স্কুল নিতে হলো। তাড়াহুড়ায় যে কোনো মুহূর্তে তখন অ্যাক্সিডেন্ট হয় হয়! শিশু স্কুলে মুখ গোমরা করে ঢুকলো বাবাকে কোনোই হাই অর বাই না বলেই। অফিসে পৌঁছে বাবা দেখলেন ব্রিফকেসটাই ভুলে গেছেন। সমস্ত কাজ ভ-ুল। সারা দিনটাই নষ্ট হয়ে গেল এভাবেই...। বাড়ি ফেরার পরও সবই থমথমে। কারণ সকালের ব্যবহার। কেন সারা দিন খারাপ গেল?
কফিটাই কারণ?
নাকি ওই শিশুই কারণ?
নাকি মা-ই কারণ?
নাকি বাবাই তার কারণ?


উত্তর তো সকলের জানা ৪ নম্বরটিই। এ একজনই। কফি পড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ ছিল না কারো। কিন্তু ওই ৫ সেকেন্ডের রিঅ্যাকশন বদলে দিল সব। এটা যদি হতো এমন কফি পড়ে গেল আর বাবা বলতেন, ওহ বেবি, নেক্সট টাইম বি কেয়ারফুল। এরপর কাপড় বদলে সব ঠিকঠাক নিয়ে এসে দেখতেন শিশু নাশতা খেয়ে বাসে চলে গেছে। তাহলে তাড়াহুড়া বা দেরি হতো না অফিসে। ওই শিশু মনটা খারাপ করতো না, স্কুল বাসও মিস হতো না। বাবার ব্রিফকেস নিতে ভুল হতো না। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় এই পার্থক্যটা। ঘটনার শুরুটা একই হলেও শেষ হতো অন্যভাবে। কারণ ওই ১০ শতাংশে আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু বাকি ৯০ শতাংশে আছে। কাজেই সদা ও সর্বদা মনে রাখতেই হবে, ওই ৯০ঃ১০ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার গূঢ় উপায়টি।


ইমোশনাল সেফ জোন : শেষ হইয়াও হইলো না শেষ...। সেফটি বলতে আমরা শুধু ফিজিকাল সেফটিই বুঝে থাকি। তাই কীভাবে অ্যাকসিডেন্ট না হবে, সিটবেল্ট বাঁধা হবে, লাইফ জ্যাকেট পরা এসব নিয়েই সচেতন থাকি। কিন্তু আমাদের ভেতরের ক্ষতি ও নিরাপত্তা বা অনিরাপত্তা বোধ এটা নিয়ে কয়জন ভাবি? হঠাৎ বা ধীরে ধীরে কিংবা যখন-তখন এই নিরাপত্তার অভাব বোধ হতে পারে। লজ্জা, ভয়, ত্রাস বা সংশয়, কষ্ট গ্রাস করে নিতে পারে। নিজের দিকে তাকিয়ে দেখুন। এই ক্ষুদ্র বা বৃহৎ জীবনে আপনি কি ইমোশনাল সেফটির প্রয়োজন বোধ করেছেন? ইচ্ছা হলে এখন থেকে একটি ডায়রি মেইনটেইন করুন। কোন কোনদিন কোন কোন ঘটনায় আপনি ইমোশনাল সেফ ফিল করেননি? সেসব নিয়ে ভাবুন। এই ইমোশনাল সেফটিটাও খুবই প্রয়োজন! জীবনে চলার পথে এসব ঘটনা থেকেই নিজের সেফটি গড়ে তুলুন। এ জন্য প্রয়োজন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা। পরিশেষে বলবো, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। গড়ে তুলুন নিজের মধ্যে ও আশপাশের সবার জন্য দারুণ এক শারীরিক, মানসিক এবং পারিপার্শ্বিক নিরাপদ, সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন...।

 

লেখা : শায়মা হক
মডেল : তামান্না খান
ছবি : আরাফাত

 

হাতঘড়ি

 

ফ্যাশন শুধু নারীদের- এমন ধারণা করার দিন অনেক আগেই শেষ হয়েছে। অধুনা পুরুষরাও বেশ ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠছেন। তবে ফ্যাশন সচেতন পুরুষ বলতে এটি বোঝায় না যে, তারা ব্র্যান্ডের পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ ছাড়া অন্যকিছু ব্যবহার করতে চান না। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে হাতের কাছে পাওয়া নানান জিনিস ব্যবহার করে এবং কম খরচেও অনেক ফ্যাশনেবল হয়ে ওঠা যায়। তাই পয়সা খরচ করে নয়, মাথা খাটিয়ে ফ্যাশনেবল হয়ে উঠুন। এখন চলুন দেখে নেয়া যাক পুরুষদের ফ্যাশনের জরুরি কিছু বিষয় অর্থাৎ নিজে যা পরছি তাতে ফ্যাশন বহন করতে পারছি কিনা সেটিই জরুরি।

সময় দেখার জন্য তো বটেই, ফ্যাশনের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যে জিনিসটি এর নাম হাত ঘড়ি। তাই প্রয়োজন আর ফ্যাশনের অপূর্ব সমন্বয় হলো হাত ঘড়ি। আগে অবশ্য সময় দেখার জন্যই ঘড়ির ব্যবহার ছিল। কিন্তু সব কাজের কাজি মোবাইল ফোনের আবির্ভাবে ঘড়ির প্রয়োজনীয়তা কমতে কমতে প্রায় নিঃশেষ হওয়ার আগেই ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে আবারও হাত ঘড়ির প্রচলন শুরু হয়েছে। ব্যক্তিত্ববান পুরুষের প্রয়োজন আর ফ্যাশনের সম্মিলন ঘটেছে হাত ঘড়িতে।

বর্তমানে তরুণদের পছন্দের তুঙ্গে রয়েছে মোটা চেইন ও বড়ো ডায়ালের ঘড়ি। টিনএজাররা বরাবরই স্পোর্টস ঘড়ি পরতে বেশি পছন্দ করে। কেউ আবার পছন্দের সিলেব্রিটির পছন্দকেই নিজের পছন্দ হিসেবে বেছে নিতে চান। তাদের গেটআপ আর ঘড়ি- দুটিই যেন রপ্ত করা যায়।
চাকরিজীবী ও ছাত্রদের ফ্যাশন বরাবরই সময় সম্পর্কিত। তাই হাল ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে ঘড়ি তাদের সব সময় প্রয়োজন ও অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে মানানসই বিষয়টি যে খুব গুরুত্বপূর্ণ তাদের কাছে, ব্যাপারটি ঠিক তেমন নয়। বেমানান বিষয়গুলোও কখনো কখনো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই ওই বহন করতে পারার বিষয়টি আবারও উঠে আসে এখানে। ফলে চিকন হাতে খুব ভারী বা বেল্টের ঘড়ি স্থান করে নিতে পারে অনায়াসে।
ঘড়ির বাজারে নামি-দামি ব্র্যান্ড আছে। তবে সব সময় যে নামি-দামি ব্র্যান্ডেই অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাবে তা নয়, বরং অনেক সময় কম দামের ঘড়িও হতে পারে সঠিক ফ্যাশন অনুষঙ্গ। টাইটান, সিটিজেন, রাডোসহ নানান ব্র্যান্ডের ঘড়ি পাবেন ২ হাজার ৫০০ থেকে লাখ টাকার উপর পর্যন্ত। বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কে এসব ঘড়ির দোকান আছে। এছাড়া বায়তুল মোকাররম মার্কেটেও ব্র্যান্ডসহ ঘড়ির অনেক দোকান রয়েছে। একেক ধরনের পোশাকের সঙ্গে একেক রকম ঘড়ি মানানসই। সময় ও পরিবেশ বুঝে পরার জন্য ক্যাজুয়াল, ফরমাল, এক্সক্লুসিভ- এই তিন ধরনের ঘড়ি রাখা যেতে পারে সংগ্রহে।
অনেক ফ্যাশন ডিজাইনারই বলেন, আসলে পার্টি বুঝে পোশাকের সঙ্গে ঘড়ির ব্যাপারে পুরোটাই নির্ভর করে নিজের ব্যক্তিত্বের ওপর। নিজেকে কোন ধরনের পোশাকে ভালো লাগছে তা আগে বুঝতে হবে। বুঝতে হবে কোথায় ও কোন পরিবেশে যাচ্ছি। এর ওপর ভিত্তি করেই হাত ঘড়ি বাছাই করে নিতে হবে। চওড়া বেল্টের হাত ঘড়ির প্রচলন বেশি বলেই যে এ ধরনের ঘড়ি পরতে হবে তা নয়। সবার আগে দেখতে হবে যে ঘড়িটি পরছি তা ভালো দেখাচ্ছে কিনা কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি কিনা।
ক্যাজুয়াল লুকের ক্ষেত্রে চেইন ও বড় ডায়ালের ঘড়িই বেশি জনপ্রিয়। আর অফিসে ফরমাল লুকের জন্য মাঝারি ডায়ালের চামড়া চেইনের ঘড়ি মানাবে। বন্ধুদের আড্ডা বা ক্যাজুয়াল পার্টিতে বড় ডায়াল ও চওড়া বেল্টের হাত ঘড়ি পরা যেতে পারে। আবার ফরমাল অনুষ্ঠানে নিজেকে খেয়াল রাখতে হবে ভালো ব্র্যান্ডের মার্জিত সাইজের ঘড়ির দিকে।
সবশেষে বলা যায়, সব শেষ বলে আসলে কিছুই নেই। যা পরতে নিজের কাছে ভালো লাগে সেটিই হবে উপযুক্ত ফ্যাশন। আর নিজের অনন্যতা এনে দেবে নিজস্ব একটি স্টাইল। কে জানে, একদিন হয়তো নিজের স্টাইলের জোয়ারে ভাসতে পারে পুরো পৃথিবীও!

 

 লেখা : সহজ ডেস্ক 

Page 1 of 5

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…