Page 1 of 4

তুমি না থাকলে...

 

 

‘চা’ ছোট্ট এক অক্ষরের এ শব্দটিতে মিশে আছে ভোরের আয়েশি আমেজ। একই সঙ্গে রয়েছে রোজকার পত্রিকা পড়ার সময়টুকুর মধুর সঙ্গ কিংবা বিকালের অবসন্নতার নিমেষে চনমনে হয়ে ওঠা ভাবটিও। এছাড়া অফিসের কাজের ব্যস্ততা, যে কোনো ভ্রমণের ফাঁকে কিংবা বন্ধুবান্ধবের আড্ডায় চা ছাড়া ভাবাই যায় না। অন্যদিকে অতিথি আপ্যায়নে দেশ-বিদেশ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চা এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। কাজেই সোজা কথায় বলা যায়, এই চা আজ পুরো বিশ্বের মানব জাতির কাছে অতি পরিচিত ও সমাদৃত পানীয়।

অবশ্য চায়ের নানান ধরন আছে। রয়েছে স্বাদ ও গন্ধের ভিন্নতা, এমনকি চা বানানোরও আছে ভিন্ন স্বকীয়তা। দেশ অথবা জাতিভেদে চায়ের পরিবেশনাতেও রয়েছে ভিন্নতা। কিন্তু আজকের এই বহুল পরিচিত বিশ্ব জননন্দিত ও সমাদৃত ওই পানীয়টির জন্ম ইতিহাস কী, কোথা থেকেই বা ওই চা আবিষ্কৃত হয়েছিল তা কি সবার জানা আছে?

এবার বলি চা আবিষ্কারের গল্পটি : খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩৭ সালের কথা। চায়নার সম্রাট শেন নাং তার ভৃত্য পরিবেষ্টিত হয়ে জঙ্গলে গিয়েছিলেন এক আনন্দ ভ্রমণে জুন্নান প্রদেশে। খোলা প্রান্তরে গাছের ছায়ায় বসে থাকার প্রাক্কালে সম্রাটের জলপাত্রের ফুটন্ত পানিতে হঠাৎ বাতাসের ঝাপটায় পাশের ঝোপ থেকে কিছু পাতা উড়ে এসে পড়লো। পাতাটি তুলে ফেলার আগেই তা জলের রঙ বদলে ফেললো। সম্রাট শেন কৌতূহলী হয়ে জলের ঘ্রাণ শুঁকে দেখলেন, এতে রয়েছে অন্য রকম এক মাদকতা। তিনি ওই স্বাদ নিলেন ও আনন্দিত হয়ে উঠলেন। পৃথিবীতে আবিষ্কৃত হলো এক নতুন পানীয়।
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চায়ের ঔষধি গুণাবলির স্বীকৃতি পেল যা পরে চায়নার প-িত কর্তৃক অমরত্বের স্পর্শমণি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। খ্রিস্টাব্দ ৪০০ শতকে চায়নার অভিধানে চা স্থান পায় ‘দকুয়াং ইয়া’ নামে। একই সঙ্গে বর্ণনা দেয়া হয় চা তৈরির পদ্ধতি। ৭২৫ খ্রিস্টাব্দে চীনের সম্রাট সরকারিভাবে ওই পানীয়র নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেন ‘চা’। তা আজ পৃথিবীর অনেক দেশে একই বা কাছাকাছি নামে পরিচিত। কাজেই দেখা যায় চা ও ‘চা’ শব্দটির জন্মস্থান চায়নাতেই এবং চৈনিক শাসক শেন নাং প্রথম চা আবিষ্কারক।

নানান চা, পরিবেশনা, রেসিপি ও উপকারিতা
রাস্তার টঙঘরের বিশাল টগবগে কেটলি থেকে ছোট্ট ছোট্ট কাপে ঢেলে ‘র’ চা শুরু করে রাজকীয় স্বর্ণের পেয়ালায় দুধ, চিনি বা মধু মিশিয়েও তা পরিবেশনার নজির রয়েছে।


জনপ্রিয় টি-ব্যাগ পরিবেশনা
এক পেয়ালা গরম পানিতে টি-ব্যাগের সুতাটি ধরে চুবিয়ে দিলেই হয়ে যায় মন মাতানো রঙের সুগন্ধি চা যা খুবই সুবিধাজনক পদ্ধতি। এই টি-ব্যাগের আগের চেহারাটি মোটেও আজকের দিনের চৌকোণা টি-ব্যাগের মতো ছিল না। বরং পোঁটলা করে যেন এক গোছা চা-পাতাই বাঁধা থাকতো সেখানে। ওই টি-ব্যাগের জন্ম নিয়েও রয়েছে একটি মজার ঘটনা। ১৯০৮ সালে আমেরিকার নিউ ইয়র্কের চা ব্যবসায়ী থমাস সুলিভ্যান ছোট ছোট সিল্কের কাপড়ে তৈরি পুঁটুলিতে করে চায়ের নমুনা তার কোনো এক ক্রেতার কাছে পাঠান। সেই ক্রেতা চাসহ ওই সিল্কের পুঁটুলি গরম পানিতে দিয়ে চা বানানোর চেষ্টা করেন। এই শুনে সুলিভ্যানের মাথায় আসে টি-ব্যাগের ধারণাটি। এরপরই তিনি টি-ব্যাগের প্রচলন শুরু করেন।

 

রঙ চা (‘র’ টি)
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ওই কালো চা। চা আমরা সাধারণত লিকার হিসেবে অথবা দুধ-চিনি মিশিয়ে পান করে থাকি। গবেষণায় দেখা গেছে, লিকার চা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া এই চা নিয়মিত পান করলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে তা হতে হবে দুধ ছাড়া চা।


সবুজ চা (গ্রিন টি)
চা গাছের সবুজ পাতা রোদে শুকিয়ে তাওয়ায় সেঁকে এই চা প্রস্তুত করা হয়। সবুজ চায়ের গুণাবিল বলে শেষ করা যাবে না। এতে উচ্চ হারে ক্যাফেইন থাকে যা আপনার স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই চা পান করলে ত্বক থাকে টান টান ও সতেজ। সবুজ চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকর উপাদান রোধ করে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। সবুজ চা ত্বকের রোদপোড়া ভাব দূর করে। সবুজ চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়েও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দাঁতের ক্ষয় রোধ, মাঢ়ি মজবুত করা তো এর নিয়মিত কাজেরই একটি অংশ। শুধু তা-ই নয়, ওই চা নিয়মিত পান করলে শরীরের মেদ কোষে গ্লুুকোজ ঢুকতে পারে না। কাজেই ওই সবুজ চা ওজন কমানোর অন্যান্য যে কোনো ওষুধের চেয়ে নিরাপদ। এর কোনো
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সবুজ চা হাড়ের ক্ষয় রোধে বেশ কার্যকর। কাজেই লোহার মতো সবল হাড় পেতে পান করুন সবুজ চা। সোজা কথায় বলা যায়, চিরসজীব থাকতে এই চায়ের জুড়ি নেই।

 
ওলং চা
এই চা অর্ধেক গাজন করেই প্রস্তুত করা হয় অর্থাৎ প্রস্তুত প্রণালির ভিত্তিতে কালো আর সবুজ চায়ের মাঝখানে এর অবস্থান। সবুজ চায়ের মতো এর আছে বহুমুখী গুণ, বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ওলং চায়ের লিকার পান করলে কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে। ওলং চা বাংলাদেশে পাওয়া যায়। তবে এটি বহুল পরিচিত নয় এবং দামও কিছুটা বেশি।


আদা চা ও এর উপকারিতা
মন শান্ত করা ও মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে আদা চায়ের ভূমিকা অতুলনীয়। আর আদা চা যে খুশখুশে কাশি, গলা ব্যথা রোধে ভীষণ কার্যকর তা বোধহয় কাউকে নতুন করে বলে দিতে হবে না। হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দিতেও আদা চা অনেক কার্যকর। কারণ আদায় রয়েছে ভিটামিন, মিনারাল ও অ্যামিনো এসিড। তা শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ায় ও হৃৎপি-টি সচল রাখে। আদা চা ধমনি থেকে অতিরিক্ত চর্বি সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। মাংসপেশির ব্যথা কিংবা অস্থি সন্ধির ব্যথায় আদা চা খাওয়া উপকারী। কারণ আদায় রয়েছে এমন কিছু বিশেষ উপাদান যা প্রদাহ কমিয়ে দেয়। আদা চা বানাতে পানি গরম করার সময় আদা টুকরা করে দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ জ্বাল দিতে হয়। এরপর চা-পাতা ও চিনি দিয়ে নামিয়ে নিতে হয়। এছাড়া চা বানিয়ে এতেও আদার কিছুটা রস মিশিয়ে চা পান করা যায়।


তুলসী চা
অসাধারণ উপকারী তুলসী চা সর্দিজনিত মাথা ব্যথা, কাশি, সর্দি-জ্বর ও ঠা-া লাগা দূর করে। এটি দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা পেতেও সাহায্য করে। তুলসী চা বানাতে ২ থেকে ৩ কাপ গরম পানিতে ৫-৬টি তুলসী-পাতা ফুটাতে হবে। পানি ফুটে ১ কাপ পরিমাণ হয়ে এলে এতে চা পাতা দিয়ে নামিয়ে গরম গরম পান করলে কাশি, সর্দি, মাথা ব্যথার উপশম হয়। এটি এসিডিটি নিরাময়ে অনেক জনপ্রিয়।


লেবু চা
লেবু চা ওজন কমাতে অসাধারণভাবে কাজ করে। বা লিকার চায়ের তুলনায় পুষ্টিগুণে এটি বেশি উপকারী। লেবু চা বানাতে লিকার চা তৈরি করে পরিবেশনের সময় পরিমাণমতো লেবুর রস, চিনি বা মধু মিশিয়ে পান করা যায়।


পুদিনা চা
পুদিনা চা বা মিন্ট টি পেটের বাড়তি মেদ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া গলা বসা, গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি ও জ্বর নিরাময়ে সাহায্য করে। পুদিনা চা বানাতে তাজা অথবা শুকনাÑ দু’রকম পাতাই ব্যবহার করা যায়। ২ কাপ পানি, দেড় কাপ তাজা পাতা অথবা ১ চা-চামচ শুকনা পাতা, স্বাদের জন্য চিনি, মধু ও লেবু দেয়া যেতে পারে। পান করার ২-৩ মিনিট আগে গরম পানিতে পাতা দিয়ে রেখে দিতে হবে নির্যাস বের হওয়ার জন্য।


মধু চা
মধু চা-ও সর্দিজনিত মাথা ব্যথা, কাশি, সর্দি, জ্বর ও ঠা-া লাগা দূর করেতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। হালকা লিকারে মধু মিশিয়ে ওই চা বানানো হয়। তবে এর সঙ্গে লেবু চিপে দিলেও শরীরের জন্য যেমন উপকারী তেমনি সুস্বাদু হয়।


জেসমিন টি
জেসমিন ফ্লাওয়ারের সুবাসযুক্ত ওই চা দারুণ জনপ্রিয়। সাধারণ সবুজ চা বা গ্রিন টিতেই জেসমিন টি বানানো যেতে পারে। শুকনা চায়ের সঙ্গে সন্ধ্যার পর পর জেসমিন ফুলের পাপড়ি তুলে মিশিয়ে রাখতে হবে এবং সকালেই তা বেছে ফেলতে হবে। এভাবে ৭ দিন পর ফ্লেভার ট্রান্সফার হয়ে যাবে।

 


লেখা : শায়মা হক
মডেল : সাদিয়া বনি
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : মারিয়ান ফয়সাল

ব্যাগ ও ফ্যাশন

 

হ্যান্ডব্যাগ নারীর প্রয়োজনীয় ফ্যাশনেবল অনুসঙ্গ। ফ্যাশনে ও পার্টিতে হ্যান্ড ব্যাগের চাহিদা ব্যাপক। নিত্যনতুন ডিজাইনের হ্যান্ড ব্যাগের ব্যবহার শুধু সুপার মডেল, সেলিব্রিটি, ফটোশুট ও ক্যাটওয়াকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। নারীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় অ্যাকসেসরিস হিসেবে হ্যান্ড ব্যাগের বিকল্প নেই বললেই চলে। নানাধরনের পার্টি, ফ্যাশন শো অথবা বেড়ানোর জন্য পোশাকের পরই হ্যান্ড ব্যাগের স্থান। হ্যান্ডব্যাগের মানানসই ব্যাপারটি নিয়ে বর্তমানে নারীরা এতো সজাগ যে, এর জন্য পর্যাপ্ত সময় ও অর্থ ব্যায় করে পছন্দসই ব্যাগটি সংগ্রহ করতে দ্বিধাবোধ করেন না। নারীর হ্যান্ড ব্যাগ নারীর বর্তমান সময়কে স্বপ্নময় করে তুলছে। ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে হ্যান্ডব্যাগের কদর থাকলেও স্থান বা বয়সের তারতম্যে এর বিভিন্নতা রয়েছে। হ্যান্ড ব্যাগ ব্যাবহার বা বহন করার ব্যাপারে নিজস্ব রুচি বা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরিবেশভেদে মনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভালো জিনিসটিই ব্যবহার করা উচিত। আসলে উপযোগী ও মানানসই হাতের ব্যাগটি শরীর ও মনের প্রশান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ব্যাগ পছন্দের ক্ষেত্রে নারীদের অনেক সচেতন হওয়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কিছু কারণ রয়েছে। তা হলো- হ্যান্ডব্যাগ অনেক ক্ষেত্রে এটি নারীর সামাজিক অবস্থান নির্দেশ করে। তারা কতোটা ফ্যাশন সচেতন ও রুচিবান তা অনুমান করা যায়। তাদের সোস্যাল স্টাটাসের ইঙ্গিত করে।


শতবর্ষ আগে নারীরা বাইরে কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে খুব একটা জড়িত ছিলেন না। তখন তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ‘পার্স’-এ রাখতেন। আর আমাদের উপমহাদেশের সব নারীরা কাপড়ে বেঁধে রাখতেন। আর এখন দিন বদলেছে এখন গ্রামের নারীরাও বাহারী হ্যান্ডব্যাগ ব্যবহার করেন। প্রথম ষোড়শ শতকের দিকে বিলেতে বহনযোগ্য ব্যাগের ব্যবহার শুরু হয়। তখন বিভিন্ন মুদ্রা আলাদা করে রাখতে ছোট ছোট ব্যাগ ব্যবহার করা হতো। এরপর অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকের দিকে হাতে ব্যাগ বহন আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।


সারা বিশ্বের তরুণী ও বয়স্কদের মধ্যে ব্যাগ পছন্দের ক্ষেত্রে তারতম্য দেখা যায়। মধ্যবয়স্ক নারীরা লেদার, আর্টিফিশিয়াল লেদার ও বিভিন্ন কাপড়ের তৈরি অতি সাধারণ কিন্তু মানসম্পন্ন ব্যাগ বেছে নেন। তরুণীরা গর্জিয়াস অ্যাপলিং টাইপের ব্যাগ পছন্দ করেন। মিটিং, পার্টি, অনুষ্ঠানসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্যাগ ছাড়া আপনার কাছেই নিজেকে বেমানান মনে হবে। সাজ-গোজ ও পোশাকের সঙ্গে নিজের রুচি অনুযায়ী ব্যাগের কম্বিনেশন করে নিতে হয়। আবার জুতোর সঙ্গেও মিল থাকা চাই ব্যাগ কিংবা পোশাকে। আবার এগুলোর কোনো একটি রঙ থাকতে পারে ব্যাগে- এমন পরামর্শ এখন হয়তো আর পাবেন না ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে। বর্তমানে ব্যবহারে আরামদায়ক ও নিজের সঙ্গে মানানসই ব্যাগের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের। বাজারে চামড়া, কাপড়, পাটসহ বিভিন্ন উপাদানের ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পার্টি ব্যাগ ও বটুয়ার জনপ্রিয়তাও অনেক। অনুষ্ঠানে শাড়ি পরলে সঙ্গে মানিয়ে ছোট আকারের ব্যাগ, ক্লাচ বা বটুয়া নিলে দেখতে ফ্যাশনেবল দেখায়। আর এখন তো বাজারে বিভিন্ন রঙের ব্যাগ পাওয়া যায়। তাই পছন্দসই আকারের বিভিন্ন রঙের ব্যাগ নিজের কালেকশনে রাখতে ভালোই

লাগে। বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে একটু বড় আকারের পার্টি ব্যাগ ও ক্লাচ বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে এখন ফ্যাশনেবল পোশাকের পাশাপাশি ক্রেতার চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে মানানসই ব্যাগও রাখা হয়। চামড়ার ওপর পাথরের নকশা ও মখমলের কাজ করা হয় পার্টি ব্যাগে। এছাড়া হাতে এমব্রয়ডারি করা পুঁতি বসানো, কাপড়ের ওপর পুঁতির কাজ করা, শীতল পাটি, পাট ও জুয়েলারি স্টোনের পার্টি ক্লাচও পাওয়া যায়। শাড়ি, স্কার্ট বা লেহেঙ্গার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায় বটুয়া। কাপড়ের ওপর লেইস বসানো বা ভেলভেটের বটুয়া পাওয়া যাবে যে কোনো বুটিকে।
প্রয়োজনের চেয়ে যেন ইদানীং ফ্যাশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ যেন আভিজাত্য ও স্টেটাস সিম্বল। বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যাগের ফ্যাশন। ছেলে ও মেয়ে-উভয়ের ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে মানানসই বাহারি রঙের বিচিত্র নকশার ছোট-বড় ব্যাগ অন্যতম অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। তাই অনেকেই যে কোনো পরিবেশে একটি ফ্যাশনেবল ব্যাগ ছাড়া নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করেন।
বর্তমানে ব্যবহারে আরামদায়ক ও নিজের সঙ্গে মানানসই ব্যাগের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের। বাজারে চামড়া, কাপড়, পাটসহ বিভিন্ন উপাদানের ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পার্টি ব্যাগ ও বটুয়ার জনপ্রিয়তাও অনেক।


অনুষ্ঠানে শাড়ি পরলে সঙ্গে মানিয়ে ছোট আকারের ব্যাগ, ক্লাচ বা বটুয়া নিলে দেখতে ফ্যাশনেবল দেখায়। আর এখন তো বাজারে বিভিন্ন রঙের ব্যাগ পাওয়া যায়। তাই পছন্দসই আকারের বিভিন্ন রঙের ব্যাগ নিজের কালেকশনে রাখতে ভালোই লাগে।
বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে একটু বড় আকারের পার্টি ব্যাগ ও ক্লাচ বেশ জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে এখন ফ্যাশনেবল পোশাকের পাশাপাশি ক্রেতার চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে মানানসই ব্যাগও রাখা হয়। চামড়ার ওপর পাথরের নকশা ও মখমলের কাজ করা হয় পার্টি ব্যাগে। পার্স পাওয়া যায় পার্টি কিংবা ক্যাজুয়ালে। শাড়ি কিংবা জমকালো কামিজের সঙ্গে হাতে ম্যাচ করা ঝলমলে পার্স না থাকলেই নয়।
বক্স ব্যাগ এটি শক্ত বক্স আকারের। ছোট-বড় সবই আছে। ছোট হাতল থাকে। কালো রঙের ব্যাগের ওপর থাকে সোনালি কাজ করা। এছাড়া চকলেট, বাদামি রঙগুলো বেশি চলে। আবার এখন ওপরে রাবারের মতো নতুন নকশার কিছু ব্যাগ পাওয়া যায়। সামনে থাকে লক সিস্টেম চারকোণা গড়নের।

ক্লাচ ব্যাগ ফ্যাশনে সব সময় এগিয়ে ক্লাচ ব্যাগ। চারকোণা, ডিম্বাকৃতি, গোলাকৃতি, পানপাতা, তিনকোণা, কাঠের হাতলসহ বাজারে রয়েছে নানান আকারের ক্লাচ ব্যাগ। এ ব্যাগগুলো হয় ডুয়েট স্টাইলের। হাতে নেয়া ছাড়াও সরু চেইন দিয়ে কাঁধেও ঝোলানো যায়। নকশাও নজরকাড়া। কোনো ব্যাগের শরীর ঢাকা নরম পালকে, কোনোটিতে মেটাল বা লেদার আবার কোনোটি শার্টিনের কাপড়ের নকশাদার আবরণ। তবে এখন বেশ জনপ্রিয় ছোট্ট বাক্সের মতো দেখতে ক্লাচ ব্যাগ ও চৌকো আকৃতির লেদার স্লিম ব্যাগ।

প্রয়োজনের চেয়ে যেন ইদানীং ফ্যাশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ যেন আভিজাত্য ও স্টেটাস সিম্বল। বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যাগের ফ্যাশন। ছেলে ও মেয়ে-উভয়ের ফ্যাশনে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করে মানানসই বাহারি রঙের বিচিত্র নকশার ছোট-বড় ব্যাগ অন্যতম অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। তাই অনেকেই যে কোনো পরিবেশে একটি ফ্যাশনেবল ব্যাগ ছাড়া নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করেন।

 

লেখা : সহজ ডেস্ক
মডেল : নুসরাত শ্রাবণী
ব্যাগ ও আয়োজন : সিয়াকা
ছবি : ফারহান ফয়সাল

উৎসবে লাস্যময়ী ল্যাম্প

 



আলো ছাড়া একটা দিন কল্পনা করুন তো! মনে করুন, আপনার চারপাশ ঘিরে আছে অন্ধকার আর অন্ধকার! কি, ভয় লাগছে? এটি প্রমাণিত সত্য, শক্তি ও উদ্দীপনা সরবরাহ করে প্রতি মুহূর্তে আমাদের চারপাশে ঘিরে থাকে আলো। আলোর সঠিক ব্যবহারই একটি বাসস্থান দর্শনীয় করে তুলতে পারে। যে কোনো উৎসবে আপনার বাড়িতে আলোর প্রক্ষেপণ দিতে পারে ভিন্নমাত্রা। প্রাত্যহিক কাজগুলো সহজ-স্বাচ্ছন্দে করতে সঠিক মাত্রায় আলোর ব্যবহার যেমন সাহায্য করে তেমনি উৎসবে নানান আয়োজনে আপনার রুচির পরিচয় দেয় অতিথি ও বন্ধু-বান্ধবের কাছে। স্থান বুঝে আলোর উপযুক্ত ব্যবহার আপনার গৃহে দিতে পারে নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশ। বিভিন্ন লাইটের সাহায্যে ঘরে আনা যায় আলোর নতুন মাত্রা। সঠিক মাত্রায় আলোর ব্যবহারে একটি সাধারণ গৃহকোণ হয়ে ওঠে অসাধারণ ও শৈল্পিক। চাইলে আপনি সহজেই উৎসবে নতুন আর ভিন্ন লাইট স্থান বুঝে ব্যবহার করে নতুন চমক সৃষ্টি করতে পারেন। বিভিন্ন আকার, আকৃতি ও ডিজাইন অনুযায়ী সঠিক লাইটটি ব্যবহার করতে পারলে আপনার শুধু লিভিংরুমে বা বেডরুমেই নয়Ñ ঘরের সব জায়গায় বৈচিত্র্য ও রুচির অপূর্ব সমন্বয়ে সৃষ্টি করতে পারেন এক মোহময় আবহ।

পছন্দ অনুযায়ী বাড়ির ভেতরে আলোর ব্যবহার ঠিক করার চেয়েও জরুরি ঘরের সাজের সঙ্গে মানানসই আলোর ব্যবহার। আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে, যে লাইটগুলো কিনছেন তা শুধু স্টাইলিশই নয়Ñ যে জায়গাটিতে ওই লাইটগুলো ব্যবহার করবেন সেখানকার জন্য কার্যকরও বটে। উদাহরণস্বরূপÑ পেনডেন্ট লাইটগুলোর শব্দ শুনতে কিংবা দৃশ্যত এর আবেদন থাকলেও তা কিচেনের কাজে কতোটা উপযোগী বা আসলে আপনার হাতের কাজগুলোর জন্য অনুকূল কি না সেটি ভেবে দেখা জরুরি। তাই কেনার আগে লাইটের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে জেনে নেয়া যেতে পারে। চিলড্রেন্স রুমে আলোর ডিরেকশন চেঞ্জ করে রুমে নতুনত্বের ছোঁয়া দেয়া যায়। ঠিক তেমনি রুমে ল্যাম্পের ব্যবহার অনিন্দ্য এক চেহারা দিতে পারে আপনার ঘরের। উৎসবের আমেজে ভরিয়ে তুলতে আপনি আপনার কমন স্পেস ও সদর দরজার সামনে ওয়াল ল্যাম্প বা রিসেসড লাইট ব্যবহার করতে পারেন।

পেনডেন্ট বা ঝোলানো লাইট
এই লাইট কর্ড, চেইন বা ধাতুর সাহায্যে ছাদ থেকে ফিক্স করে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। এই লাইটে সাধারণত একটি চেইনের শেষে বাল্ব থাকে। তাই এটি বেশি জায়গা পূরণ করতে পারে না। তবে ইদানীং বাজারে বিভিন্ন আকার ও ডিজাইনের এই লাইট সহজলভ্য। যেমনÑ সিলিন্ডার শেপ, গোলাকার শেইপ বা ফানেলের শেইপে পাওয়া যায়। এটি সাধারণত একটি ছোট, নির্দিষ্ট এলাকা তথা রান্নাঘরের মাঝখান বা ডাইনিংরুমে টেবিলের মাঝখান বরাবর সেট করলে আলোর ব্যবহার সঠিক ও যথাযথ হয়।

শ্যান্ডেলিয়ার বা ঝাড়বাতি
শ্যান্ডেলিয়ার বা ঝাড়বাতি বড় ইউনিটে মিলিত একাধিক বাল্বের চমকপ্রদ সমাহার। শ্যান্ডেলিয়ার এক অসম্ভব সুন্দর আলোর উৎস। ঐতিহ্যগতভাবে এটি সুরুচিপূর্ণ অভিজাত ও ব্যয়বহুল। তাই এর ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম। সাধারণত বাড়ির ভেতরে প্রবেশপথ বা ড্রইংরুম, হলরুমে
এর ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়।  

ওয়াল স্কনস বা ওয়াল ল্যাম্প
ওয়াল স্কনস বা ওয়াল ল্যাম্প সাধারণত ব্যবহার করা হয় আলোকসজ্জায় নতুন আবহ যোগ করার জন্য। ওয়াল ল্যাম্প হচ্ছে ওয়ালে আটকানো এক ধরনের লাইট। এই লাইটে সাধারণত অল্প আলো ও কম স্পন্দনশীল আলোর ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি হলরুমের কর্নার বা প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি ব্যবহার করা যেতে পারে।

রিসেসড লাইট
স্পেস যদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয় তাহলে রিসেসড লাইট আদর্শ এবং অবশ্যই অসাধারণ বিকল্প। কারণ এই লাইটের জন্য মোটেও আলাদা কোনো স্পেসের দরকার না। সিলিং বা ফলস সিলিংয়ের ভেতরে সরাসরি লাইটগুলো লাগানো থাকে। এই লাইটগুলো কিচেন, লিভিংরুম ও বিশাল আকৃতির রুমে অনেক আলোর তীব্রতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেসব জায়গায় আলো বেশি দরকার বা অন্ধকার স্থানে অতিরিক্ত আলোর জন্য মেঝে ও দেয়ালগুলোয় এ লাইটগুলো লাগানো যেতে পারে। একটি সাধারণ  স্পেস অসাধারণ করে তুলতে এটি ব্যবহার করা হয়। এখানে আলোর উৎস গোপন থাকার কারণেই এটি অনেকের পছন্দ।

আলো আমাদের চারপাশ হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। কোন জায়গা কী কাজের জন্য এবং কোথায় কী ধরনের কাজের স্বাচ্ছন্দ্য হতে পারে তা বোঝা যায় ও চিনিয়ে দেয় আলোর ব্যবহারই। এমনকি আমরা যে স্থানে আছি সেখানকার আবহ এবং যে কাজ করছি এর পরিবেশ প্রভাবিত করতে পারে আলোর কার্যক্ষমতা। উৎসবে তাই গৃহের সাজে অনন্য মাত্রা দিতে আপনিও ব্যবহার করতে পারেন নানান ধরনের লাইট।

 


লেখা : সহজ ডেস্ক
ছবি : ইন্টারনেট

ঈদের মেকআপ

 



যে কোনো সাজ, সাধারণত পোশাক আবহাওয়া এবং দিন-রাত ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে সাজার পরিকল্পনা করা উচিত। আর ঈদ মানেই আনন্দ উৎসব। এই আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাই বিশেষ সচেতনতা। এবার ঈদের সাজে বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে ব্যবহার করা উচিত ওয়াটার প্রুপ কসমেটিক।

চলুন দেখে নেয়া যাক স্পা বিশেষজ্ঞ ‘হারমনি স্পা’ ও ‘ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতান রীতা এবার ঈদ উপলক্ষে সাজ বিষয়ে কী বলেছেন-

মেকআপ করার আগে কিছু বিশেষ টিপস মেনে চলা উচিত। মেকআপের আগে আলু ও শসার রস এক সঙ্গে মুখে মাখুন। এতে ত্বকে তরতাজা ভাব আসবে। ময়েশ্চরাইজার অবশ্যই লাগাতে হবে। এ কারণে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং শুষ্ক হওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

মুখের মেকআপ

ফাউন্ডেশন : শুরুতেই ত্বকে কোনো দাগ থাকলে কনসিলার দিয়ে ঢেকে নিন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন নির্বাচন করুন। যেমনÑ শুষ্ক ত্বক হলে ওয়াটার বেইজড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করলে মেকআপ অনেক সময় থাকে। তবে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার সময় ত্বকের রঙের চেয়ে এক শেড হালকা রঙ বেছে নিন। এরপর একটি ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে ত্বকে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে বেইজ বসিয়ে নিন। পরে কমপ্যাক্ট পাউডার দিয়ে বেইজ মেকআপ শেষ করুন।
ব্লাশন : শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ব্লাশন ও তৈলাক্ত ত্বকে পাউডার ব্লাশন দিন। এবার চিক-বোনের ওপর ব্লাশন বুলিয়ে নিন। আপনার গায়ের রঙ উজ্জ্বল, হালকা পিংক বা পিচ কালার ও গাঢ় হলে ব্রোঞ্জ কিংবা ব্রাউন কালারের ব্লাশন ব্যবহার করুন। আর রাতের পার্টি হলে ব্লাশনের ওপর হালকা শিমার ব্যবহার করলে মেকআপ আরো গর্জিয়াস হবে।

চোখের মেকআপ

শুরুতেই আইশ্যাডো ফিক্সার জেল লাগিয়ে ৫ মিনিট রাখুন। তবে চোখ আর্কষণীয় করতে হলে শ্যাডোর ব্লেন্ডিং খুব ভালো করতে হবে। এ জন্য নাকের পাশে হালকা রঙ, মাঝে বা আইবলের ওপর গাঢ় রঙ এবং চোখের বাইরের কোণে হালকা রঙের শেড দিন। চোখ যদি ছোট হয় তাহলে চোখের বাইরের কোণে হালকা কালো কালারের শেড ব্যবহার করলে চোখ বড় দেখাবে। আপনার চোখের সাজ হবে সফট স্মোকি। আই ভ্রƒ-বোন এর ওপর লাইট শিমারিং শ্যাডো দিয়ে হাইলাইট করুন।

ঠোঁটের মেকআপ

ঠোঁটের মেকআপ শুরুর আগে অবশ্যই বেইজ মেকআপ করে নিতে হবে। তাহলে লিপস্টিকের রঙ হবে দীর্ঘস্থায়ী এবং আসল রঙ চলে আসবে। প্রথমে উপরের ঠোঁটের দুই ভাঁজের সেন্টার পয়েন্ট থেকে ন্যাচারাল কালারের লাইনার দিয়ে নিচের ঠোঁট পর্যন্ত এঁকে নিন। এবার পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে লিপস্টিক দিন। লিপস্টিক ব্যবহার করার পর টিশু পেপার দুই ঠোঁটের মধ্যে রেখে চাপ দিয়ে নিলে সহজে কালার উঠে যাবে না। এরপর ঠোঁটের ওপর ন্যাচারাল টোনের লিপগ্লসও দিতে পারেন।

চুলের সাজ

সাজের জন্য চুল খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরিপাটি চুলের সাজ রুচিশীল ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। চুল সাজবে তো সাজবেন আপনি। তাই ঈদের জন্য আপনার চুলের সাজ ঠিক করুন আগে থেকেই। সাজের এই বিশেষ দিকটায়  যেন কমতি না হয় এদিকটাতেও লক্ষ্য রাখুন। তবে পোশাক, গহনা ও মেকআপের সঙ্গে মিল রেখে চুলের সাজও হওয়া চাই পারফেক্ট। এ সময় কেউ চাইলেই চুল ছেড়ে রাখতে পারেন আবার আলতো করে খোঁপা করেও রাখতে পারেন।

 

____________________________
মডেল : টুম্পা জামান
মেকওভার : ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

এই ঈদে আপনি...

 

 



ঈদ শব্দটি শুনতেই প্রথমে যে ভাবনা মাথায় আসে তা হলো  আনন্দ উৎসব। এটি বহু প্রতীক্ষিত খুশির আমেজে ভরপুর এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এই আনন্দে জড়িয়ে থাকে নানান আয়োজন। আর এই আয়োজনে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার ইচ্ছা কার না থাকে! দীর্ঘ এক মাস রোজা পালনের পর বেশভূষায় ও সোন্দর্য চর্চার মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থাপন করার কথা সবাই ভাবেন। এ সময় বিভিন্ন প্রস্তুতি থাকে, থাকে আয়োজন। তাই আপনার ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে মেহেদি, হেয়ারকাট- সবকিছুর আলোচনা থাকছে
‘সহজ’-এর ঈদ আয়োজনে।  


যত্নআত্তি
এক মাস সিয়াম সাধনা আর সবার জন্য সেহরি ও ইফতারের প্রস্তুতিতে আমরা মেয়েরা নিজের যতেœর কথা ভুলেই যাই। যদিও বা মনে থাকে তাহলেও যত্ন নেয়ার ইচ্ছা বা সময় অনেকেরই হয়ে ওঠে না। নিজের ও সবার জন্য মনমতো ঈদ শপিং এবং রান্নার আয়োজন শেষে ঈদের দিনে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত দেহ আর শুষ্ক কিংবা মলিন ত্বক নিয়ে আমরা কেউই খুশি থাকতে পারি না। চলুন তাহলে জেনে নিই কীভাবে ঈদের দিন আরো আকর্ষণীয়ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পূর্ব-প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে।
ঈদে সবাই নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চায়। এ জন্য শত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনাকে এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। এবার ঈদ হবে বর্ষায়। গরম, বর্ষাÑ যাই হোক না কেন, নিজের নতুন ঈদ লুক দিতে আপনাকে কিছুটা সময় তো বরাদ্দ করতেই হবে।

ত্বক : রোদ আর গরমে আমাদের ত্বক প্রাণবন্ত রাখতে হলে নিয়মিত ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং জরুরি। প্রতিদিন নিয়ম করে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। সাত দিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন। স্ক্র্যাবিং করুন। প্রতিদিন বাজারে নানান স্ক্র্যাবার পাওয়া যায়। চাইলে রান্নাঘরের উপকরণও ব্যবহার করতে পারেন। চালের গুঁড়া খুব ভালো স্ক্র্যাবার। একদিন পর পর বেসন গুঁড়া ও দুধ মিক্স করে মুখ, গলা, হাত, পা ও পিঠে ব্যবহার করুন। এতে আপনার ত্বক অনেক উজ্জ্বল হবে। শ্যামলা মেয়েরা একটু হলুদ গুঁড়া মিক্স করে নেবেন এর সঙ্গে। এছাড়া উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বকের জন্য ঈদের কমপক্ষে তিন দিন আগে হাত-পায়ে ওয়াশ করান। এর সঙ্গে পুরো শরীরে সপ্তাহে তিনবার বেসন গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, ডিমের সাদা অংশ, দুধ ও মধু মিক্স করে ব্যবহার করুন। ফেসিয়াল করতে চাইলে তা ঈদের কমপক্ষে চার-পাঁচ দিন আগেই করে ফেলুন। ঈদের দিন শুধু মুখের সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়Ñ মলিন হাত ও পায়ের ত্বক পুরো সাজ ম্রিয়মাণ করে দেবে। তাই সাত দিন আগে থেকেই পুরো শরীরের ত্বকের যত্ন নিতে থাকুন।

চুল : ঈদে নতুন হেয়ারস্টাইলে সবাইকে চমকে দেয়ার মজাটাই আলাদা। এক্ষেত্রে বলবো, ঈদের দু’দিন আগে পার্লারে গিয়ে প্রচ- ভিড়ের মধ্যে হেয়ারকাট না করে বরং ১৫ কিংবা ১০ দিন আগে গিয়ে বিউটি এক্সপার্টের সঙ্গে আলোচনা করে মুখের গড়ন অনুযায়ী হেয়ারকাট করুন। আমাদের সবারই মুখের গড়ন একেক ধরনের। তাই যে কাট আপনার বান্ধবীকে আরো স্টাইলিশ লুক দিয়েছে তা আপনাকে বেমানান লাগতেই পারে। সুতরাং আপনার মুখের গড়ন অনুযায়ী হোক আপনার হেয়ারস্টাইল।

মুখের গড়ন অনুযায়ী হেয়ারকাটÑ
গোলাকার শেইপ (রাউন্ড ফেইস) : গোলাকার শেপের মুখের মেয়েদের কান পর্যন্ত ব্যাসকাট খুব ভালো মানায়। এক্ষেত্রে চোখের নিচ পর্যন্ত চুল কাটাবেন। কারণ ড্রাই হওয়ার পর চুল কিছুটা উপরে উঠে যাবেই। চুলে লেয়ারকাট দিলে মুখের দু’পাশের ফোলা ভাবটা চোখে পড়ে না। এতে মুখ কিছুটা লম্বাটে দেখায়।
চারকোণা শেইপ : এ ধরনের মুখে চিবুকের অংশটি বেশ প্রশস্ত হয়। তাই আপনার চুল বেশ লম্বা হতে হবে। হেয়ারকাট এমন হতে হবে যেন চিবুকের প্রশস্ততা কম মনে হয়। চুল কার্ল করতে পারেন অথবা স্ট্রেট করে সামনে ব্যাস কাটতে পারেন। চুল যদি ছোট হয় তাহলে পেছনে গোল করে কাটুন। লেয়ারকাটও এ ধরনের মুখের জন্য খুব ভালো। এতে মুখের চওড়া ভাবটা বোঝা যায় না।
লম্বাটে শেইপ : লম্বা মুখে স্টেইট হেয়ার মুখটিকে আরো লম্বা করে। চুল উঁচু করে বাঁধবেন না। পনিটেল না করে সাইড ব্রেইড ট্রাই করতে পারেন। স্টেপকাট দিতে পারেন। স্পাইরিল বা কার্ন করে নিতে পারেন।
ডায়মন্ড শেইপ : এই শেপের ফেইস প্রশস্ত হয় আবার লম্বাটে গড়নেরও হয়। গালের হাড় যেন ছোট দেখায় এ জন্য কপাল ও চিবুকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চুল কাটতে হবে। ইদানীং এমু-কাট খুব জনপ্রিয়। লেয়ারকাটও দিতে পারেন।
ওভাল শেইপ : ওভাল শেপ অনেকটাই পারফেক্ট শেপ। তাই পনিটেল, উঁচু করে চুল বাঁধা, যে কোনো হেয়ারস্টাইল ও কাট এতে মানিয়ে যায়।
হার্ট শেইপ : সরু চিবুক ও প্রশস্ত কপালই হাট শেপ ফেইসের বৈশিষ্ট্য। কপাল ঢাকা থাকে এমন কাট তথা চায়নিজ কাট, ব্যাস ট্রাইল করুন। ছোট চুল হলে ববকাট খুব মানায়। লম্বা চুল হলে লেয়ারকাট দিতে পারেন। পেছনে আর সামনে ব্যাসকাট খুব ভালো মানাবে।

চুলের যত্ন
    শুধু স্টাইলিশ হেয়ারকাট দিলেই হবে না। রুক্ষ চুলে কোনো হেয়ারস্টাইলই ফুটে ওঠে না।
    চুলের যতেœ দুই মাস অন্তর চুলের আগা কেটে ফেলুন।
    নিয়মিত চিরুনি ও হেয়ারব্রাশ পরিষ্কার করুন।
    নিয়মিত নারিকেল তেল চুল ও মাথার ত্বকে মাসাজ করুন। আজকাল বিভিন্ন হেয়ার ট্রিটমেন্ট করা হয় পার্লারে। সেগুলোও করাতে পারেন। বাসায় যখন চুলে তেল দেবেন তখনই ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল মিক্স করে নেবেন।
    চুলের যতেœ অলিভ অয়েলও খুব ভালো।
       চুল পড়া কমাতে ও চকচকে ভাব আনতে চায়ের কড়া লিকারের সঙ্গে কাগুজি লেবুর রস মেশান। চুল ধোয়ার পর সব শেষে এ মিশ্রণটা ব্যবহার করুন।
   চুলের জন্য অ্যালোভেরা খুবই উপকারী। চুলে অ্যালোভেরা জেল দিয়ে রাতে রেখে দিন। শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে পুরো মাথা ঢেকে নিন। ঘুম থেকে উঠে চুল ধুয়ে নিন। এতে নিজের চুলের সৌন্দর্যে নিজেই অবাক হবেন।

মেহেদি রাঙা ঈদ
ঈদের চাঁদ উঠলেই বাড়ির নারীদের মেহেদির পাতা বেটে রাতভর হাতে লাগিয়ে রাখার দৃশ্য ওই ছোটবেলা থেকেই আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। দিন বদলেছে, ফ্যাশন বদলেছে। কিন্তু মেহেদির সাজে হাত রাঙানো না হলে ঈদের আমেজটাই যেন পাওয়া যায় না! তাই পার্লারে গিয়ে দু’হাতভরে নিত্যনতুন ডিজাইনে হাত রাঙাতে ঈদের আগের রাতে মেয়েরা ব্যস্ত হয়ে যান। তবে বাটা মেহেদির চলনটা আজও আছে। পাড়া-মহল্লায় যে মেয়েটি খুব সুন্দর করে হাতে
‘মেহেদি ডিজাইন’ আঁকতে পারে, নিশ্চিতভাবেই চাঁদরাতে তার বাড়িতে ভিড় করে কিশোরীরা। দিন দিন মেহেদির নকশাতেও আসছে পরিবর্তন। সাধারণত তিন ধরনের ডিজাইন তথা লঙ্কা, ফুলেল ও ময়ূরÑ এগুলো সব সময়ই মেয়েদের পছন্দ। এখন ছোট করে বিভিন্ন মোটিফের ডিজাইন বেশ চলছে। হাতের ওপরিভাগে ছোট ডিজাইন কিংবা চেইন বেশ লাগে দেখতে। আজকাল কনুই পর্যন্ত মেহেদি পরার চলনটা বেশ।
পরিবর্তিত ফ্যাশনের মতো টিউব মেহেদিতেও ভিন্নতা এসেছে। ব্ল্যাক মেহেদি গ্লিটার, ড্রেসের সঙ্গে কালার ম্যাচ করে অনেকেই মেহেদি পরছেন। টিনএজারদের অনেকে চোকার-এর ডিজাইনে গলায় মেহেদি পরে ভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করছে।
আজকাল নেইল আর্ট বেশ জনপ্রিয়। তবে হাতে মেহেদি পরলে সাদা নেইলপলিশ, মেরুন নেইলপলিশ, ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিউর বেশ ভালো মানায়। নেইল আর্ট পছন্দমতো করে নিলেও খেয়াল রাখবেন তা যেন মেহেদিটিকে ছাপিয়ে না যায়।
আজকাল আর সারা রাত হাতে মেহেদি রাখতে হয় না। দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া গাঢ়রাঙা মেহেদি টিউব বাজারে পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মেহেদি শুকিয়ে গেলে ডিজাইনের ওপর সরিষার তেল কিংবা কাগুজি লেবুর রস ও চিনির মিশ্রণ দিতে পারেন। ওই মিশ্রণ ব্যবহার করলে তা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। বেশিদিন রঙ ঠিক রাখতে হলে হাতে যথাসম্ভব কম সাবান ও পানি ব্যবহার করুন। অনেকেই জানান, টিউব মেহেদি ব্যবহারে তাদের হাতে র‌্যাশ বা অ্যালার্জি হয়েছে। এর কারণ হলো, বাজারের টিউব মেহেদিতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহƒত হয়। অ্যালার্জি এড়াতে ল্যাকটোক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করার পর মেহেদি দিন।   

রমজানের দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনায় ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে যে আত্মসুদ্ধি হয়, ঈদের দিনটি আসে এরই উপহারস্বরূপ। বছরের সব আনন্দ উপচে পড়ার দিন এই ঈদ। নতুন পোশাক ভালো খাবার আর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে পুনর্মিলন যেন পরিপূর্ণ করে এইদিনটিকে। তাই ঈদে সবারই চাই বাড়তি সৌন্দর্যে নিজেকে বিকশিত করা।
 

____________________
 লেখা :  ফারহাতুল জান্নাত
 মডেল :  বারিষ হক
 ছবি :  সহজ আর্কাইভ

সুইমিং রিক্রিয়েশন



কার্ডিও ভাস্কুলার ফিটনেস বজায় রাখার জন্য সাঁতার সবচেয়ে উন্নততর পন্থা। সাঁতার এমন একটি ব্যায়াম যা ল্যান্ড বেইজড ব্যায়াম থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। জলরাশির নিজস্ব একটা চাপ রয়েছে। ফলে পানিতে প্রথম নিজেকে ভাসিয়ে রাখতে ও সামনে এগিয়ে নিয়ে যওয়া শিখে নিতে হয়। কার্ডিওর পেশেন্টের জন্য সাঁতারের চেয়ে উৎকৃষ্ট ব্যায়াম আর দ্বিতীয়টা নেই। তবে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। একই সঙ্গে হৃৎপি- ও শরীরের সব পেশী সমানভাবে কাজ করে। সুইমিংপুলে সাঁতারের একটি বড় সুবিধা হলো পুলের নিরাপত্তা, শীতল ও মনোরম পরিবেশ। তা শরীর ও মনে অন্য রকম প্রশান্তি এবং ফুরফুরে মেজাজ এনে দেয়। ছয় ঋতুর নিজস্ব স্বাধীনতা থাকলেও আমরা বছরের প্রায় সাত মাসই গরম অনুভব করি। বিশেষত আমাদের ঢাকা শহরে গ্রীষ্ম তথা গরম মৌসুমে দাবদাহ চলে, তখনই এই স্বচ্ছ জ্বলাধার আমাদের শীতল পরশ এনে দেয়। তবে সাঁতারের ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যদি আপনি মৃদু উত্তেজনা বোধ করেন তাহলে ধীরগতিতে সাঁতরাবেন। জলের বিরুদ্ধে না গিয়ে জলের সঙ্গে কাজ করুন। প্রতিযোগিতামূলক সাঁতারের অভ্যাস না থাকলে কখনোই অন্য সাঁতারুর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা ঠিক নয়।
যাদের শারীরিক গঠন, আপার বডি অথবা উইংস প্রশস্ত এবং লোয়ার বডি সরু, অনেকটা সার্ফ বোর্ড বা রূপকথার মার্মেইডের মতো তারা বাড়তি সুবিধা পায় সাঁতারে। এক্ষেত্রে সমাধান একটাই, আরামদায়ক গতিতে নিজের সঙ্গে মানিয়ে সাঁতার কাটা।


সারা দিন ফুরফুরে আমেজ ধরে রাখার জন্য অনেকেই সকালেই সুইমিংপুলে যান। প্রচ- গরমের কারণে কেউ বা আবার দুপুর, কেউ সারা দিনের কর্মব্যস্ততা সেরে নির্ভেজাল প্রশান্তি খোঁজার জন্য সন্ধ্যার পরও সুইমিংপুলে যান। সর্বাধিক ফ্যাট কমানোর জন্য সাঁতারের বিকল্প নেই। খালি পেটে সাঁতার করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার শরীরের জ¦ালানি অর্থাৎ ক্যালরির দিকে নজর রাখতে হবে।
যেহেতু আমাদের রাজধানী অর্থাৎ ঢাকা শহরে সাঁতারের উপযোগী কোনো জলাধার নেই সেহেতু আপনাকে সুইমিংপুলে যেতে হবে। সুইমিংপুলে সময় দেয়া একটা বড় রকমের বিনোদনও বটে।
পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পুলে যেতে পারেন। আর শিশুদের কথা বলতে গেলে বলা যায়, তাদের কাছে পুল একটুকরো স্বর্গ। তবে সাঁতারের ইনিশিয়াল ট্রেনিং থাকতেই হবে। বড়দেরও শিশুদের পাশাপাশি অবস্থান করতে হবে। এখন শুধু পাঁচতারা হোটেলগুলোর মধ্যেই সুইমিংপুল সীমাবদ্ধ নেই। কেউ কেউ বাড়তি সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্যই বাড়িতেই পুল তৈরি করছেন। আধুনিক আর্কিটেক্টরাও বাড়িতে সুইমিংপুল রাখার পরামর্শ দেন। এতে বাড়ির সৌন্দর্য ও আভিজাত্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।


বাণিজ্যিক সুইমিংপুলগুলোয় সময় কাটানো কিছুটা ব্যয়বহুল। এরপরও নির্ভেজাল উৎকৃষ্ট বিনোদনের কথা মাথায় রেখে সপ্তাহের অন্তত দু’দিন আপনি সুইমিংপুলের শরণাপন্ন হতে পারেন।
শহরের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই সাঁতার জানে না। আর অভিভাবকরা সময়-সুযোগের কথা বলে খোঁড়া যুক্তি দেখান। জেনে রাখা দরকার, পৃথিবীর সব থেকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিসহ কয়েকটা দেশে শিশুদের সাঁতার শেখানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশে শহুরে ছেলে-মেয়েরা সাঁতার জানে না বললেই চলে। পুলের নিরেট স্বচ্ছ জলরাশি থেকে উঠেই ভাববেন না স্নান শেষ। এর সঙ্গে সঙ্গেই শাওয়ার নিয়ে ফেলবেন। আপনি সুইমিংপুলে যাচ্ছেন। আপনার সুইমিং কস্টিউম সঙ্গে নিয়েছেন তো?

 


______________________________


 লেখা : শাফিক মালিক
 মডেল : নাজমুল সাদ
 ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
 কৃতজ্ঞতা :  শাখাওয়াত হোসেন কল্লোল

Page 1 of 4

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…