Page 3 of 4

 তিন কুড়িতে দেড় কুড়ি

 

 

‘আমরা নূতন যৌবনেরই দূত।

                আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত।

                                 

 

রবি ঠাকুরের এ লেখায় মনে হতেই পারে, গতি যেমন জীবনের অনুভূতি ঠিক তেমনি চঞ্চলতা তারুণ্যের। যে চটপটে আর চঞ্চল তাকেই কম বয়সের প্রতীক ধরা হয়।

তারুণ্যের গল্প অনেকটা এ রকম হতে পারে- ‘হাই সুইটি, কাম অন লেটস ডান্স।’ ক্লাবের অনুষ্ঠানে মাহমুদ এভাবেই আহ্বান জানালেন বন্ধুপতœী সোহেলি পারভীনকে। গত জুনে মাহমুদ ৬০ অতিক্রম করে ৬১ বছরে পা দিয়েছেন! আর সোহেলি তার চেয়ে প্রায় অর্ধেক বয়স। এভাবেই মাহমুদ মত্ত থাকেন, মাতিয়ে রাখেন বন্ধুবান্ধবকে। ক্লাবের অনুষ্ঠান, পিকনিক, স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ম্যাচ- সব জায়গাতেই তার সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। তিনি আসরে থাকা মানেই আসর প্রাণবন্ত। চমৎকারভাবে শরীরটাকেও ফিট রেখেছেন। মেদহীন একহারা গড়ন তার শরীরের। ভোরে নিয়মিত হাঁটেন, ব্যায়াম করেন। সন্ধ্যায় কয়েক মিনিট যোগ ব্যায়াম সেরে নেন। তাকে দেখে বোঝার উপায়ই নেই, তিনি অবলীলায় পার করেছেন তিন-তিনটি কুড়ি একযোগে।

বয়স কিংবা সময়- এ ভাবনাটি থাকে মনে কিংবা মস্তিষ্কে। সবাই বড় হতে চান। তবে কেউই বুড়ো হতে চান না। ৩০ বছর পার হতে না হতেই যদি নিজেকে বয়স্ক মানুষ ভাবতে থাকেন তাহলে দেহ ও ত্বকে এর প্রভাব অবশ্যই পড়বে। সবকিছুর দোষ বয়সের কাঁধে চাপিয়ে দেবেন না। মনের ভেতর ইচ্ছাশক্তি জাগিয়ে রাখুন। দেহ ও ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখতে কাজ করুন। কল্পনায় ফেলে আসা দিনগুলো দেখতে থাকেন। কিন্তু কেমন হয় যদি চল্লিশের কোঠা পার হয়েও নিজের মধ্যে  ত্রিশের তারুণ্য ধরে রাখতে পারেন!

তারুণ্য ধরে রাখতে শারীরিক ব্যায়াম করা যতটা জরুরি ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ মানসিক ব্যায়াম। কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় খেয়াল করে চলতে পারলে আপনিও ধরে রাখতে পারবেন আপনার তারুণ্য। যদি আমাদের জীবনধারা ও খাবার তালিকায় কিছু পরিবর্তন করি তাহলেই আমরা অনেক বয়স পর্যন্ত চেহারায় তারুণ্য বজায় রাখতে পারি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর কিছু মনের ব্যায়াম এবং তারুণ্য ধরে রাখার কিছু কৌশল

তুলে ধরা হলো-

 

 

ঘুম : সঠিক সময়ে ঘুমানো, রাত না জাগা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ভোরে ঘুম থেকে উঠলে শরীর সতেজ রাখে। অযথাই বেশি রাত জাগবেন না। প্রতিরাতে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমান।

হাসি-কান্না : অনাবিল হাসি আমাদের হার্টের জন্য উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, মনখুলে হাসলে আয়ু বাড়ে। এমনকি চোখের জল ঝরানো কান্নাও যে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে তা বহু বছর ধরেই ছিল অজানা। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা ফাউন্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, কান্নার পর যে কোনো মানুষই বেশ স্বস্তি অনুভব করে।

 

বিভিন্ন মানসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ : মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে মনটাকে কাজে ব্যস্ত রাখার কোনো বিকল্প নেই। ছোটবেলায় আমারা নানান খেলার ছলে মনের ব্যস্ত রাখতাম। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বহুবিধ মানসিক চাপ বেড়েছে। তাই মনকে নান বিষয়ে ব্যস্ত রাখতে হবে।

মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন : মানসিক চাপের কারণে ত্বকে, বিশেষ করে মুখের ত্বকে রিংকেল পড়তে দেখা যায়। এছাড়া চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয় মানসিক চাপ। মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করার বেশ বড় একটি কারণ। অন্যদিকে অনেকেই মানসিক চাপে পড়লে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন।

সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা : সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সুসম্পর্ক বজায় রাখাটা তারুণ্য ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

রাগ বা ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ : রাগ যতটা সম্ভব কমিয়ে ফেলুন। কারণ রাগলে মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে যায়। রাগ ও ক্রোধ মানসিক চাপ তৈরি করে, মুখে বলিরেখার সৃষ্টি করে, মানসিক স্বাস্থ্যহানি করে। তাই রাগের মতো নেতিবাচক অনুভূতি থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকা উচিত।

বন্ধুত্ব : সব সামাজিক সম্পর্কের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বন্ধুত্ব। গবেষণায় জানা গেছে, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গ

আপনাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করে তুলতে পারে এমনভাবে যা প্রতিদিন তিন কাপ চায়ের সমপরিমাণ এনার্জির কাজ করে। এছাড়া অবসাদগ্রস্ততা ও একাকিত্ব সরিয়ে জীবন কর্মমুখর করে তুলতে বন্ধুদের আড্ডার বিকল্প নেই। ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের ওপর এক গবেষণায় জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুদের সঙ্গ আপানার পরিবেশ ও আচরণে শতকরা ৫০ ভাগ ইতিবাচক ভাবনা এবং শারীরিক সুস্থতা গড়ে তুলতে সক্ষম।

নতুন কিছু জানার আগ্রহ : সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলসের এক গবেষণায় দেখা গেছে মস্তিষ্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ওয়েব ব্রাউজিং ও ওয়েব পেইজ সার্চিং বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। শুধু তা নয়, ভাষাগত জ্ঞানের উন্নতি সাধনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে ওই ওয়েব সাইটগুলো।

সঠিক পরিচর্যার অভাবে অনেকেই বুড়িয়ে যান অল্প বয়সেই। উল্টোদিকে তাকালে অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের বেশ ফিট ও ছিমছাম দেখা যায়। শুধু চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে নয়, পুরো শরীরে চাঙ্গা ভাব ধরে রাখতে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরি।

 

এই বিষয়ে একটু জেনে নেয়া যাক -

 

প্রচুর পানি পান করুন : পানি দেহ, ত্বক ও দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জন্য বিশেষভাবে জরুরি। নিষ্প্রাণ ত্বক, কিডনির ক্ষতি, দুর্বলতা এবং একই সঙ্গে মনের বার্ধক্যের জন্য দায়ী পানিশূন্যতা। প্রতিদিন নিয়মিত ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান দেহ রাখে টক্সিনমুক্ত, সুস্থ ও সবল এবং ধরে রাখে তারুণ্য।

সুষম খাবারের তালিকা : খাবারের তালিকায় টমাটো, রসুন, খেজুর জলপাই তেল বেদানা রাখুন। টমাটো বয়স ধরে রাখতে সাহায্য করে। রসুনটিকে বহু রোগের ওষুধ ধরা হয়। খেজুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। জলপাই তেলে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনল। তা বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। জলপাই তেল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমায়। এছাড়া জলপাই তেলে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ই’ ত্বকের কুঁচকে যাওয়া রোধ করে। নিয়মিত যে কোনো বাদাম খেলে ত্বক সতেজ ও সুন্দর থাকে।

বয়সটা বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। কোনোভাবেই যেন ধরে রাখা যাচ্ছে না। যে পোশাকই পরছেন না কেন, কিছুই যেন ঠিক মানাচ্ছে না ইদানীং। কোন পোশাক পরলে বয়সটি একটু কম দেখাবে তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তারও শেষ নেই। সঠিক পোশাক নির্বাচন করলে আপনার বয়স কমে যাবে অনেকখানি। তাছাড়া সঠিকভাবে পোশাক পরলে আপনাকে বেশ স্লিম ও স্টাইলিশও দেখাবে।

আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কোন পোশাক কীভাবে পরলে বয়স কিছুটা হলেও ঢেকে যাবে-

পোশাকে পরিবর্তন আনুন : একটু বয়স বেড়ে গেলে ওই পুরনো ধাঁচের পোশাক পরলে বেশ একঘেয়ে ও বয়স্ক দেখায়। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোশাকে বেশকিছু পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। যেমন- পুরনো ধাঁচের পোশাক পরতে চাইলে সঙ্গে স্টাইলিশ জ্যাকেট, ফ্যাশনেবল জুতা বা ঘড়ি অথবা হাল ফ্যাশনের কোনো ব্যাগ কিংবা বেল্ট নিয়ে নিন। এতে পোশাকের চেহারাই পাল্টে যাবে।

সঠিক মাপের পোশাক : বয়স হয়ে গেলে ঢিলেঢালা পোশাক পরেন অনেকেই। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি সঠিক মাপের পোশাক না পরা হয় তাহলে দেখতে আরো বয়স্ক দেখায়। তাই নিজের জন্য পোশাক কিনতে গেলে সঠিক মাপ দেখে কিনুন। পোশাক বেশি আঁটসাঁট হলেও খারাপ দেখাবে আবার বেশি ঢোলা হলেও বয়স বেশি দেখাবে।

উজ্জ্বল রঙ : আমাদের দেশে প্রচলিত আছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোশাকের রঙও হালকা হতে হয়। কিন্তু এটি একটি ভুল ভাবনা। বয়স বেড়ে গেলে হালকা রঙের কাপড় পরলে আরো ম্লান দেখায়। বয়সের সঙ্গে পোশাকের রঙও উজ্জ্বল হওয়া উচিত। লাল, কমলা, উজ্জ্বল নীল, সবুজ ইত্যাদি রঙগুলোর পোশাক পরলে আপনার বয়স কম দেখাবে আবার গায়ের রঙটাও বেশ উজ্জ্বল লাগবে। আপনি যদি উজ্জ্বল রঙের পোশাক পছন্দ না করে থাকেন তাহলে আপনার হালকা রঙের পোশাকটির সঙ্গে একটি উজ্জ্বল রঙের ওড়না, টাই, বেল্ট ইত্যাদি নিয়ে নিন। আনেকটাই তরুন দেখাবে আপনাকে।

কাপড়ের ধরন : পোশাকের জন্য কাপড়ের ধরনের ওপরও আপনাকে কতোটুকু তরুন দেখাবে তা নির্ভর করে। যেমন- চকচকে স্যাটিন কাপড় পরলে বয়স বেশ খানিকটা কম দেখায়। আবার একটু বড় ধরনের প্রিন্টের পোশাক পরলেও বয়স লুকনো যায় বেশখানিকটা। তাই বয়স তারুণ্যের জন্য ভিন্ন টেক্সচারের পোশাক পরে দেখুন কোনটায় আপনাকে বেশি মানাচ্ছে।

পোশাক নির্বাচন : বয়সের সঙ্গে মানানসই পোশাক নির্বাচন করাটা বেশ কষ্টসাধ্য। তাই ওই সময় কী পরা উচিত-অনুচিত তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে থাকেন। সঠিক পোশাক নির্বাচন করে নিতে পারলে আপনার বয়স ঢাকার পাশাপাশি আপনাকে রুচিশীল ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন লাগবে। তাই সঠিক পোশাক নির্বাচন করে বয়সটি লুকিয়ে ফেলুন সহজেই।

 

পরিশেষে বলা যায়, তারুণ্য থাকে অবচেতনে যা আচরণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রকৃতির নিয়মে সময়ের সঙ্গে বেড়ে যায় বয়স। এটি জিনগত বৈশিষ্ট্য। তবে এর মধ্যে অনেকেই তারুণ্য ধরে রাখেন। তারুণ্যের কাছে হার মানে তাদের বয়স। বয়স বেড়ে যাওয়া মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও তারুণ্য ধরে রাখা একেবারেই কঠিন কাজ নয়। সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই বয়সকে হার মানিয়ে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন আরো সুন্দর, তরুণ, স্নিগ্ধ ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর।

 

___________________________________________________________________________

লেখা : ঋভু অনিকেত

মডেল : এনায়েত কবির  

ছবি : সাঈদ সিদ্দিকি

শোভন আচার্য্য অম্বু

 

 

 

গায়েহলুদ, বিয়ে ও বউভাতের মেকআপ

 


মেকআপের আগে যত্ন
এখন যেহেতু শীতকাল সেহেতু মেকআপ করার আগে কিছু বিশেষ টিপস মেনে চলা উচিত। মেকআপের আগে আলু, শসার রস এক সঙ্গে মুখে মাখলে ত্বকে তরতাজা ভাব আসবে। ময়শ্চরাইজার অবশ্যই লাগাতে হবে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে ও শুষ্ক হওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

হলুদের মেকআপ
হলুদের সাজে সাধারণত একটু সফট লুক রাখা হয়। হলুদে হলুদ শাড়ি, লাল টিপ, আলপনা, আলতা, ফুলের গয়না ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আজকাল অনেক সুন্দর হলুদের গয়না পাওয়া যায়। সেগুলো শুধু ড্রাই ফ্লাওয়ার দিয়ে তৈরি করা হয়। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে তা পরলে ভালো লাগে। হলুদের মেকআপে ফেসের কালার, টোন ও শেইপ ঠিক রেখে মেকআপ করলে প্রপার লুক চলে আসবে। যাদের কপাল ছোট তারা উল্টিয়ে চুল আচড়ালে ভালো লাগবে। যাদের কপাল বড় তাদের মাঝে সিঁথি করে চুল আঁচড়ালে ভালো লাগবে। হেয়ার স্টাইলিংয়ের জন্য এখন খোঁপা ও বেণী দুটিই ভালো লাগবে।

বিয়ের সাজ
বিয়ের সাজ অবশ্যই ফেইসের ধরন অনুযায়ী হতে হবে। ফেইসের ধরন অনুযায়ী মেকআপ সিলেক্ট করা খুব জরুরি। বিয়ের মেকআপের আগে ফেসিয়াল, অয়েল মাসাজ, মশ্চারাইজার ও মেকআপ প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত। বিয়ের দিন সাধারণত একটু ব্রাইট সাজ ভালো লাগে। শাড়ির কালারের সঙ্গে চোখের শেড মিলিয়ে লাগালে ভালো লাগবে। বিয়ের মেকআপ একটু শাইনি হতে হয়। কারণ কনেকে সবাই অনেক দূর থেকে দেখবেন। চোখের জন্য চোখের গড়ন অনুযায়ী ডায়মেনশন তৈরি করতে হয়। ব্রাইডাল মেকআপের জন্য আলাদা একটা স্পেস থাকা উচিত।

বৌভাতের সাজ
বিয়ের পর বৌভাতের আগে যদি হাতে সময় থাকে তাহলে একটি বডি সার্ভিস ও ফেসিয়াল নিলে ভালো হবে। বিয়ে যদি ট্রাডিশনাল সাজে হয়ে থাকে তাহলে বৌভাতের সাজটি মডার্ন লুকে ভালো লাগবে। এ জন্য লাল রঙের পরিবর্তে অন্যান্য কালার পরলেও ভালো লাগে। চুলে হাফ স্পাইরালের সঙ্গে খোঁপা করলে ভালো লাগে। খোঁপায় থাকা চাই ফুল সাজের সঙ্গে মিল রেখে।

বিয়ের আগে শীতে ত্বক, হাত, পা ও চুলের যত্ন
শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বক ও চুল দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য একটু এক্সট্রা যত্ন নেয়া প্রয়োজন। এছাড়া বিয়ের আগে কনের জন্য ওই পরিচর্যা খুবই দরকার।
বিয়ের আগে একটু সময় নিয়ে যত্ন নিলেই শীতে ত্বকের রুক্ষ ভাব দূর করা সম্ভব। অনেকের খসখসে

ত্বক, রুক্ষ চুল, ফাটা গোড়ালি ও ধুলা-ময়লা জমে ত্বকে নানান সমস্যা দেখা দেয়। বিয়ের সমএসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে সবার আগে ভালো করে ত্বক পরিষ্কার রাখাটা একান্ত জরুরি।
যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা লবুর রস দুই টেবিল চামচ, গ্লিসারিন ১ চা-চামচ, গোলাপের পানি ৩ টেবিল চামচ একত্রে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
যাদের ত্বক বেশি শুষ্ক তারা ডিম ১টি, মধু ২ চামচ, গুঁড়া দুধ ১ চামচ, কাঁচাহলুদ ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস আধা চা-চামচ একত্রে পেস্ট করে ত্বকে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন।
যারা সাধারণ ত্বক তারা শসা কুচি ২ টেবিল চামচ, গোলাপের পানি ৬ টেবিল চামচ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, গ্লিসারিন ২ টেবিল চামচ, মধু ১ চামচ একত্রে ব্লেন্ড করে ত্বকে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন।

বিয়ের আগে চুলের যত্ন
চুলকে সুন্দর রাখতে সব সময় চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল হালকা গরম করে চুলে মাসাজ করতে হবে। খুশকি থাকলে একটু লেবুর রস মেশাতে হবে।
১ চামচ মধু, ডিম ১টি, মেথির গুঁড়া ৩ চামচ, নিমপাতা  বাটা ২ চামচ, ২ চামচ লেবুর রস ও মেহেদিপাতা বাটা একত্রে মিশিয়ে  মাথায় লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে।
বিয়ের আগে হাত ও পায়ের যত্ন
আঙুল নরম ও মসৃণ রাখতে সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে হাতের আঙুলে লাগান।
হাতের ত্বক খসখসে হলে লেবুর রসে ১ চামচ মধু বা চিনি দিয়ে হাতে ঘষুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
কনুইয়ে কালো দাগ দেখা দিলে চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে ৫-৭ মিনিটের মতো মাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
রাতে শোয়ার আগে পানিতে ১ চা-চামচ লবণ, ১ চা-চামচ শ্যাম্পু, ১ চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখতে হবে এবং পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। পা ধোয়ার পর ময়শ্চারাইজার ক্রিম বা পেট্রলিয়াম জেলি লাগাতে হবে।
২ চা-চামচ চালের গুঁড়া, ১ চা-চামচ কমলার খোসা বাটা, ১ চা-চামচ হলুদ, ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে পায়ে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবুর রস ৪ চা-চামচ, মধু ১ চা-চামচ, অলিভ অয়েল ১ চা-চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে মাসাজ করতে হবে।

বিয়ের পর ত্বকের যত্ন
বিয়ের দিন, হলুদ ও বৌভাতের অনুষ্ঠানে অনেক ভারী মেকআপ করা হয় টানা কয়েকদিন। তাই সবার আগে মেকআপ খুব ভালোভাবে তুলতে এবং ত্বক পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
ত্বক পরিষ্কার করার আগেই লোশন এবং আই মেকআপ রিমুভার দিয়ে আপনার মুখ ও চোখের মেকআপ তুলে ফেলতে হবে। আপনার ত্বকের ধরন যাই হোক না কেন, মেকআপ তোলার জন্য মুখ ধোয়ার আগে কোনো তেলযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করুনÑ যাতে ক্রিমের সঙ্গে আপনার মেকআপ সহজেই মিশে যায়। তবে যাদের ত্বক খুব সেনসেটিভ তাদের জন্য গন্ধযুক্ত যে কোনো পণ্য এড়িয়ে চলতে হবে। বাজারে এখন অনেক মেকআপ রিমুভার লোশন পাওয়া যায়। তবে যে কোনো  ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করেও এ কাজটি যথেষ্ট কার্যকরভাবে করা যায়। মেকআপ না তুলে ঘুমাতে যাবেন না। যদি মেকআপ না তুলে ঘুমাতে যান তাহলে লোমের গোড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে, মাশকারা চোখের পাঁপড়ি ফেলে দিতে পারে বা ভেঙে ফেলতে পারে।
কোনো ভালো পার্লারে গিয়ে ফেসিয়াল করাতে পারেন। চুলের ওপর একম কিছু করা হয় না। তাই চুলের জন্যও চাই আলাদা যত্ন। এ জন্য অয়েল মাসাজ

 

মডেলঃ রাহি

ছবিঃ তানভীর মাহমুদ শোভন

সুচিত্রা সেন

আলমগীর রেজা চৌধুরী

 

 

সুচিত্রা সেনের প্রেমে পড়েছিলেন আমার বাবা, আমি পড়িনি। না হলে আমাদের শহরের ‘রওশন টকিজ’ হলে সুচিত্রা ছবি এলেই মাকে নতুন কাপড় পরিয়ে রিকশায় বসে বাবা হুড তুলে ভাইবোনদের সার সার (যার যার) দাঁড়নো রিকশা ভরে নিয়ে যেতেন সুচিত্রা র্দশনে। আমি তখন সিনেমা বোঝার বয়সে পড়িনি। কিন্তু সিনেমা হলে বাবার দেয়া চানাচুর ভাজা, দুধ মালাই তো নিশ্চিত। আসি এতেই সন্তুষ্ট।
রিকশার টুনটুন বাজিয়ে মধ্যরাতে যখন ঘরে ফেরা হতো তখন বড় চাচা গলা খাকারি দিয়ে বলতেন, ‘কি রে, বই দেখে ফিরলি?’
বাবা বলতেন, ‘জি মিয়া ভাই। সুচিত্রা সেনের ছবি।’ ওই পর্যন্তই। পরে সুচিত্র সেনে প্রেমে পড়েন বড় ভাই। কলেজে ওঠার পর পর তার মাথার ভেতর রমা ঢুকে যায়। আর যাবে কোথায়? বাবার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সুচিত্রার বই দেখে দেখে বড় ভাই ঈষৎ রোমান্টিক, ঈষৎ বিরহ লালন করতে করতে যৌবনে অতিক্রম করেন। বাবা ও বড় ভাইয়ের আবদ্ধ নারীর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ হয় আরো পরে। যখন স্কুল শেষ করে কলেজে উঠেছি। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ভারতীয় ছবি ‘চ্যারিটি শো’ হিসেবে প্রদর্শিত হতে থাকে সিনেমা হলগুলোয়। ঠিক তখনই সুচিত্র সেনের সঙ্গে আমার পরিচয়। ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ছবিতে বসন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সুচিত্রা সেন। বসন্ত চৌধুরীর সেবার দায়িত্বে নার্স সুচিত্রা সেন। সহশিল্পী পাহাড়ি সান্যাল। অসাধারণ এক নারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যৌবনে পা দেয়া এক যুবক। অনুরণন তুলতে থাকে- ‘এই রাত তোমার আমার।’ চোখের তারায় তার ব্যাকুল নিমন্ত্রণ! সে কোনো সাধারণ নারী নয়। যুবকের ভূভাগে নারীর বাঁকা অক্ষির মোহনা চতুরতা। তা কেবল গহিন সাগরে হাবুডুবু খাওয়া কাতর ডলফিন। কণ্ঠের মদুরিমায় যে প্রকাশ এর নাম মমতাময়ী প্রেমিকা। আমি তো তার জন্যই অপেক্ষা করছি।


বাবা ও বড় ভাইয়ের ভালোবাসায় প্রান্তি ছিল। তাদের সঙ্গে সুচিত্রা সেনকে মানায়নি। আমি তার যথার্থ প্রেমিক। আকণ্ঠ তৃষ্ণা নিয়ে হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছি।
না, ওই মুখ দেখে তৃষ্ণা মেটেনি আমার। এরপর শুধু সুচিত্রা সেনকে অবিষ্কার করা। বাংলা-হিন্দি ছবি মিলিয়ে সুচিত্রা সেন অভিনয় করেছে ৬০টি ছবিতে। ৫৩টি বাংলা, বাকি ৭টি হিন্দি ছবি। প্রথম বাংলা ছবি, ‘সাত নম্বর কয়েদি’ মুক্তি পায় ১৯৫৩ সালে। শেষ ছবি ‘প্রণয়পাশা’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। হিন্দি ছবি ‘দেবদাস’ মুক্তি ১৯৫৫ সালে। শেষ হিন্দি ছবি ‘আঁধি’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে।
সুচিত্রা সেন অভিনীত ছবির নায়করা (বাংলা)- সমর রায়, উত্তম কুমার, রবীন মজুমদার, বিকাশ রায়, অশোক কুমার, অসিত বরন, শৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ মুখোপাধ্যায়, প্রদীপ কুমার, নির্মল কুমার, উৎপল দত্ত, সমিত ভ- ও রঞ্জিত মল্লিক।
হিন্দি ছবির নায়করা- দিলীপ কুমার, শেখর, ভারত ভূষণ, দেব আনন্দ, ধর্মেন্দ্র ও সঞ্জীব কুমার। সুচিত্রা সেন অভিনীত সর্বাবাধিক জুটির যুক্তিপ্রাপ্ত ছবির নায়ক উত্তম কুমার। উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ছবি ৩০টি। সুচিত্রা সেনের ৩৫ বছর অভিনয় জীবনে উত্তম-সুচিত্র সফল ও চিরায়ত জুটি হিসিবে চিহ্নিত। কেন ও কী কারণে সফল এবং চিরায়ত ওই ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন নেই। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, তার সময়ে বাংলা ও হিন্দি চলচিত্রের সফল তারকাদের সঙ্গে সুচিত্রা সেন অভিনয় করেছেন। বলা যায়, ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে সফল ও দর্শক নন্দিত নায়িকা হিসেবে সুদীর্ঘ সময় দীপ্যমান। ২০১৪ সালে দাঁড়িয়ে যে কাউতে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার প্রিয় নায়িকা কে? অন্তত ৬০ শতাংশ দর্শক জবাব দেবেন সুচিত্রা সেন। কেন ও কী কারণে সুচিত্রার এ সফল অভিনয়শৈলী এর একটু ঠিকুজি থাকা দরকার।


সুচিত্রা সেনের জন্ম ১৯২৯ সালের ৬ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচিতে তার মামাবাড়িতে। পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার একতলা পাকা পৈতৃক বাড়িতে শিশুকাল, শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। স্কুলে ভর্তি করার সময় তার নাম রাখা হয় কৃষ্ণা দাসগুপ্ত। ডাকনাম রমা। বাবা করুণাময় দাসগুপ্ত ছিলেন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ভাইবোনদের মধ্যে সুচিত্রা পঞ্চম। ১৯৮৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর পাবনা ছেড়ে বাবার সঙ্গে তিনি চলে যান কলকাতায়। ওই বছর তার বিয়ে হয় আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে। রমা সেন ভালোবেসেই দিবানাথ সেনকে বিয়ে করেছিলেন ১৯৪৮ সালে। স্বামীর সম্মতিতেই ১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে চিত্রজগতে আত্মপ্রকাশ তার। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি।
সুচিত্রা সেন সম্পর্কে চিত্র পরিচালক সুকুমার দাসগুপ্ত বলেছেন, “১৯৫১ সালে ‘সাত নম্বর কয়েদি’ ছবির জন্য নতুন মুখ খুঁজছি। এমন সময় অমিত চৌধুরী বললেন, একটি ভালো ও শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে আছে। মনে হয় সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে নাম করবে। তার কথায় মেয়েটি কে পাঠিয়ে দিতে বললাম। প্রথম দিন তার স্বামী দিবানাথ সেনের সঙ্গে এলেছিলেন দেখা করতে আরোরা স্টুডিওতে। ছিপছিপে চেহারা, ডাগর ধরনের চোখ। চোখ দুটি ভারী সুন্দর এবং খুব এক্সপ্রেসিভ। চাহনিতে স্বচ্ছ গভীরতা। মিষ্টি হাসিতে মুখখানা যেন উচ্ছলতায় ভরে যায়। একনজরে পছন্দ হয়ে গেল। কণ্ঠস্বরও বেশ মিষ্টি। কথার মধ্যে বাঙাল টোন আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিতে রাজি হয়ে গেলাম।’
ওই সাত নম্বর কয়েদি দিয়ে শুরু। তখনো রমা সেন নামেই পরিচিত।


১৯৫২ সালে রমা সেন পাল্টিয়ে সুচিত্রা সেন নামে আত্মপ্রকাশ নীরেন লাহিড়ীর ‘কাজরী’ ছবিতে। ৫ ফিট সাড়ে ৪ ইঞ্চির মতো সুচিত্রা হয়তো আজকের সুস্মিতা ও ঐশ্বর্যদের মতো দীর্ঘাঙ্গী নন। ফিতান মাপে তিনি সিøম নন, নন আন্তর্জাতিক রূপসী। তার সুগঠিত নাক, লম্বাটে ভরাট মুখম-ল, ছোট কপাল, একঢাল কালো চুল, শ্যামবরন ত্বক। নারায়ণ গঙ্গেপাধ্যায় লিখেছেন, ‘কালো মেয়ের প্রেমে পড়লে ওঠা যায় না।’ সুচিত্রা সেনের সৌর্ন্দয অনেকটা ওই ঘরনার আকৃষ্ট করে। একই সঙ্গে দূরত্বও রচনা করে- রোমান্টিক ও বিরহী।
আমার মতো লাখো প্রেমিক আছে সুচিত্রা সেনের। যে কোনো বয়সের প্রেমিক। সিনেমা জগতে এতো দীর্ঘকাল প্রেমিকা থাকা খুব কঠিন। সুচিত্রা সেন ছিলেন এবং আছেন। মনময়ূরী স্বপ্নের দেবী। কী চমৎকার রূপ, কী তার চাহনি, কী অভিনয়! যেন বার বার হৃদয় পোড়ে। সুচিত্রা সেন মানেই স্বতন্ত্র স্টাইল। বলা যায়, স্টার ইমেজ কারো ছিল না। দর্শককুল তাকে গভীর ভালোবাসে। এতে কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব নেই। কাম ও ক্রোধহীন নিষ্পাপ প্রেম। সে প্রেম কোনো পুরুষকে জীবন ভালোবাসতে শেখায়। বিরহের অনল হৃদয়ে উত্তাপ ছড়ায়, এর মধ্যে সহস্র রেণু ঝরে পড়ে। তা মানুষকে অনন্ত এক সহযাত্রীর সন্ধান দেয়।
বাংলা ছবির গ্ল্যামার কুইন সুচিত্রা। রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে তার খ্যাতি চিরায়ত। তার দীর্ঘ রোমান্সের সমকক্ষ অভিনেত্রী সে যুগে কেউ ছিল না, এ যুগেও কেউ নেই।
তো কলেজে পড়া ঝুল বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করে যে নারী, তিনি প্রণয় আরসে জায়িত সুন্দরী। এক রকম গহিন রহস্যের অনঙ্গ পরী, সৌন্দর্যের অনন্য উপমা- ‘দীপ জ্বেলে যাই’ দিয়ে এ নারীকে আবিষ্কার করা। সাধারণ নার্স শুভ্র বসনা। চোখের অনন্য চাহনিতে উল্টে দিয়েছিল পৃথিবীর দেয়াল। প্রেমান্ধ পরিব্রাজক আস্তে আস্তে খুঁজে পায় ‘পথে হলো দেরি’র মল্লিকা, ‘উত্তর ফাল্গুনী’র ব্যথিত মা ও কন্যা। অপূর্ব অভিনয়শৈলী হৃদয়িক মহিমায় তাকে কেবলই উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছে।
বলা যায় উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ৩০টি ছবি বাংলা সিনেমায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যখন পর্দায় দু’জনকে দেখা যেতো তখন তা আর অভিনয় থাকেনি, হয়ে উঠেছে বাঙালির জীবন কাহিনীর দৃশ্যমান সহজ চলচ্চিত্র। অসধারণ ব্যক্তিত্বে দু’জনই কিংবদন্তি- কী চলনে, কী বলনে। এখনো সুচিত্রা উত্তমের ছবি চ্যানেলগুলোয় প্রদর্শনের সময় বাংলা সিনেমার দর্শককুল দয়িতা অথবা প্রেমিক হয়ে ওঠে।


আমি যখন সুচিত্র সেনকে খুঁজে পাই তখন তিনি প্রায় অভিনয় ছেড়ে দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ সত্তর দশকের প্রথম দিকে। ১৯৭৮ সালে তার অভিনীত শেষ বাংলা ছবি ‘প্রণয়পাশা’ মুক্তি পায়। এরপর রুপালি পর্দা থেকে অবসর নিয়ে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান তিনি। ধর্মের প্রতি গভীর অভিনিবেশ তাকে জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়। শেষ দিকে বলতেন, ‘এক সময় বাসনার রূপ ছিলাম। তাই এখন সরিয়ে নিয়েছি নিজেকে ওই চোখগুলো থেকে অনেক দূরে।’
প্রায় ৩৫ বছরের আলো ঝলমল জীবন তাকে ধরে রাখতে পারেনি। গৃহকোণে নিভৃতে ঈশ্বরের খোঁজে বসবাস করে সাধারণ হয়ে বাঁচতে চেয়েছেন। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর তার গলায় মালা রেখে গিয়েছিলেন। এরপর মিড়িয়ার সঙ্গে কথা বলেনি। একাকী নিসঙ্গ জীবন যাপন।
হলিউডের গ্রেটা গার্বো, টালিউডের সুচিত্রা সেন খ্যাতির তুঙ্গে থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন। গ্রেটা গার্বো ১৯৪১ ও সুচিত্রা ১৯৮০ সালে। প্রচারের হ্যালোজেন থেকে স্বেচ্ছায় নিবার্সিত দুই কিংবদন্তি ফিরে আসেননি রুপালি পর্দায়। তারা অধরা মাধুরী। দুই নারী ঢেকে রেখেছেন তাদের গভীর গোপন সেই অন্ধকার, পিচ্ছিল গহ্বর, ব্যক্তিগত জীবন।
২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার এক হালপাতালে ৮৪ বছর বয়সে শেষ হয় তার বর্ণাঢ্য জীবনচরিত। রেখে যান এক মাত্র কন্যা মুনমুন সেন এবং নাতনি রিয়া সেন ও রাইমা সেন। তারা হিন্দি ছবিতে উত্তরাধিকারের উজ্জ্বল উপস্থিতি রেখেছেন।
আর আমি নামক মানুষ যে নারীর ঊর্ণনাভে জড়িয়ে মধ্যাহ্নে পৌঁছে গেছি, আজও তার প্রতি অণুরাগের এতোটুকু কমতি নেই। তাকে সন্ধান করতে করতে এক সময় মনে হয়েছে, আমার কিছুই হারায়নি। এমন মগ্নতায় কি ছল থাকে? সুচিত্রা সেন অভিনীত চরিত্রগুলো হেঁটে আসে- কখনো রমা, কখনো মল্লিকা। মল্লিকা বলছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাদের ভালোবাসা দেখার জন্য ওই কাঞ্চনজংঘার নিচে এতো সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছে...। ভাটার ফুল ঝরে যাবে, চাঁদ ডুবে যাবে। কিন্তু আজকের লগন কোনো দিন শেষ হয়ে যাবে না।’
প্রিয় সুচিত্রা সেন, আপনার চোখের মায়াময় দ্যুাতি, হৃদয়কাড়া হাসি, অব্যক্ত ক্রন্দনের দৃশ্যকল্প খুঁজে খুঁজে এতো দিন-রাতের মুগ্ধতা তা কি বিস্মরণের অকূলে হারিয়ে যেতে পারে? আপনাতে চোখের তারায় ক্রুশবিদ্ধ করেছি। বর দিন, তিন পুরুষের প্রণয়পাশার খেলোয়াড় কেমন কাঙাল হয়ে আছে।

 

 

জাদুর ঘর



বসার ঘরের অন্দরসাজ কেমন হবে, তা নির্ভর করবে ঘরের আয়তন, লাইফস্টাইল ও বাজেটের ওপর। ঘর বড় হলে ফর্মাল সোফা, সেন্টার ও কর্নার টেবিল, ল্যাম্প, ঝাড়বাতি, কার্পেট দিয়ে ঘর সাজাতে পারেন। ঘর ছোট হলে আয়তন অনুযায়ী  সাজানোর প্যাটার্ন ও আসবাবপত্র নির্বাচন করুন।
দিনে শেষে প্রত্যেকের ঠিকানা নিজের ঘর, সারাদিন কাজের পর নিশ্চিন্ত আশ্রয়। কিন্তু শুধু চাইলেই হবে না, কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। একটু কৌশলী হতে হবে। আর তা হলেই নিজের ঘরটি করে তোলা যায় অনন্য।
যার যার পছন্দ এবং চাহিদা অনুযায়ী সেই ঘর গোছানো হয়। প্রতিটি মানুষ চায় তার ঘরটি হবে সুন্দর। কিন্তু শুধু চাইলেই হবে না। গৃহকোণ গড়ে ওঠে গৃহকর্তার রুচির উপর ভিত্তি করে। গুলশান-২ এ মাঈন চৌধুরীর বাসা তার সংগৃহীত এন্টিক এবং পেইন্টিংস এ সাজানো। অসাধারণ আর বৈচিত্র্যময় সব পেন্টিংসগুলো গৃহকর্তার শিল্পমানের সুরুচির বাহক। আরও আছো দুর্লভ কিছু পাথরের মূর্তি।
যুগের পরিবর্তনে ফ্যাশনে যেমন পরিবর্তন এসেছে, পরিবর্তন এসেছে গৃহসজ্জায়ও। ম্যাচিং আর কনট্রাস্টের সামঞ্জস্যপূর্ণ সাজের যুগ এখন।
বসার ঘরের মূল আকর্ষণ সোফা। রুচি অনুযায়ী বেত, কাঠ বা রট আয়রনের সোফা বেছে নিন। সোফার ডিজাইন অনুযায়ী বসার ঘরের অন্য ফার্নিচার কেবিনেট, শেলফের ডিজাইন নির্বাচন করুন।
বসার ঘরের আয়তন অনুযায়ী দেয়ালের রং ঠিক করুন। উজ্জ্বল এবং হালকা রঙে ঘর বড় দেখায়। ঘরে সূর্যের আলো না ঢুকলে কোনোভাবেই দেয়ালে গাঢ় রং ব্যবহার করা যাবে না। গাঢ় রং চাইলে একটা দেয়ালে কমলা, লাল, হালকা নীল রং দিয়ে অন্য দেয়ালগুলোয় নিউট্রাল রং দিন।
বসার ঘরে রঙিন এবং উজ্জ্বল ভাব আনার জন্য বিপরীত রঙের সোফার কভার ও কুশন কভার বেছে নিন। সোফার কভার কালারফুল হলে একরঙা কুশন কভার নিন। আবার কুশন কালারফুল সোফার কভার একরঙা হলে ভালো। কুশন ও সোফার কভারের সঙ্গে মিলিয়ে ঘরের পর্দা নির্বাচন করুন। বসার ঘরে রিচ ফেব্রিকের পর্দা লাগালে ঘরে একটি আলাদা আমেজ আসে।
দেয়ালে পেইন্টিং ঝোলাতে চাইলে ভিন্ন রঙের দেয়ালটি বেছে নিন। অনেকেই বসার ঘরে একটা দেয়ালে বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট করেন। সে ক্ষেত্রে গাঢ় রঙের বদলে দেয়ালে মার্বেল পাথর, টেরাকোটা, স্টোন বা রাস্টিক টাইলস দিয়ে ডিজাইন করতে পারেন।
বসার ঘরের ইন্টেরিয়র প্ল্যান করার আগে লাইটিংয়ের দিকে নজর দিন। আলো-ছায়ার আবহ তৈরি করতে চাইলে সাদা, লাল, কমলা, গোলাপি বিভিন্ন ধরনের লাইট ব্যবহার করুন। আর বিশেষ অংশ হাইলাইট করতে স্পটলাইট লাগান।
বসার ঘরের মেঝেতে সোফার কভার, কুশন ও পর্দার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্পেট বা শতরঞ্জি ব্যবহার করুন। ফার্নিচার ও সাজ মডার্ন হলে কার্পেট আর দেশীয় সাজের সঙ্গে শতরঞ্জি ভালো মানায়।

কৃতজ্ঞতা : মাঈন চৌধুরী
লেখা    : সহজ ডেক্স
ছবি      : শোভন আচার্য্য অম্বু

আসন্ন গরমে ত্বকের যত্ন


আসন্ন গরমে আমাদের দেহের তাপমাত্রা ও বাইরের আবহওয়ার তাপমাত্রার সমন্বয় ঘটানো খুবই জরুরি। ত্বক সব সময় ঠা-া ও পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানির বিকল্প নেই। দিনে তিন-চার লিটার পানি আধা গ্লাস করে একটু পর পর পান করতে হবে। এছাড়া যে কোনো ফলের রস পান করা উপকারী। রোজ দুধ, কাঁচা হলুদ ও আমলকী খাওয়া উচিত। এতে ত্বক উজ্জ্বল ও ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।
আসন্ন গরমে আনেকের ত্বকের ধরণ পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই সঠিক সমাধানের জন্য হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স¦ত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা অনুযায়ী ঘরোয়াভাবে কীভাবে নারী দেখতে নিখুঁত হবেন তা তুলে ধরেছেনÑ

শুষ্ক ত্বক: গরমে শুষ্ক ত্বক আরো যেন খসখসে ও প্রাণহীন হয়ে যাচ্ছে। এর থেকে বাঁচার জন্য যা করতে হবে তা হলো তরমুজ, টক দই, চন্দন ও ঘৃতকুমারী এক সঙ্গে প্যাক করে লাগাতে পারেন। এত ত্বক মসৃণ ও নরম থাকবে। এছাড়া আইস বা বরফ, ঘৃতকুমারী, নিমের তেল ও চন্দন এক সঙ্গে লাগালেও ত্বক উজ্জ্বল হয়।

তৈলাক্ত ত্বক: গরমে তৈলাক্ত ত্বক থেকে প্রচুর তেল বের হয়। ফলে ত্বক আরো গরম হয়ে যায় এবং ব্রণ দেখা দেয়। এই ত্বকের জন্য যা করতে হবে তা হলো টমেটো, মধু, নিমপাতা ও মসুরের ডাল এক সঙ্গে লাগাতে হবে। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে যাবে এবং ব্রণ দূর হবে। এছাড়া শসার রস, সয়াবিন, মধু ও আঙুরের রস এক সঙ্গে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয় ও তৈলাক্ত ভাব কমে।

মিশ্র ত্বক: মিশ্র ত্বক গরমে তৈলাক্ত হয়ে ওঠে। ফলে মুখের চামড়া উঠতে থাকে। এ জন্য যা করতে হবে তা হলো কচি ডাবের শ্বাস, কমলার রস, বেসন ও কালিজিরার তেল প্যাক করে লাগাতে হবে। এতে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হবে। এছাড়া পাকা পেঁপে, চকলেট, চন্দন ও হলুদের প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ ও টানটান হবে।

হাত ও পায়ের যত্ন

হাতের যত্ন
বেসন ২ চামচ, টক দই ২ চামচ, চিনি ১ চামচ ও পাতিলেবুর রস ১-২ চামচ একত্রে মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পাকা কলা ১টির সঙ্গে চিনি মিশিয়ে হাতে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পেস্তা বাটা ২ চামচ, গুঁড়া দুধ ১ চামচ, মধু ২ চামচ ও গোলাপ জল ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে ২ হাতে সুন্দর করে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পাকা কলার সঙ্গে তেঁতুলের ক্বাথ মিশিয়ে কনুইয়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
চালের গুঁড়া ২ চামচ, টক দই ২ চামচ, মুলতানি মাটি ২ চামচ, কমলার খোসা গুঁড়া ১ চামচ ও অলিভ অয়েল ১ চামচ একত্রে মিশিয়ে হাতে লাগানোর পর ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
বেসন ২ চামচ, সামান্য কাঁচা দুধ ও এপ্রিকট স্ক্রাবার ২ চামচ মিশিয়ে সম্পূর্ণ হাতে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

পায়ের যত্ন - 
মুলতানি মাটি ২ চামচ, মধু ২ চামচ, তরমুজের রস ২ চামচ ও ডাবের পানি ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
শসার রস ২ চামচ, আলুর রস ২ চামচ ও মধু ১ চামচ পায়ে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে।
টক দই ২ চামচ, অলিভ অয়েল ১ চামচ, চিনি ১ চামচ ও লবণ ১-২ চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর আলতোভাবে ঘষে তুলে ধুয়ে ফেলতে হবে।
কুসুম গরম পানি ১ বোলে লবণ ১ চিমটি, ১ চা-চামচ শ্যাম্পু ও ১ চা-চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ওই পানিতে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে রেখে পরে ঝামা দিয়ে ভালো করে পায়ের গোড়ালি ঘষতে হবে। এতে মরা কোষ উঠে যাবে।
নারিকেল তেল ২ চামচ, পাতিলেবুর রস ১-২ চা-চামচ, বাঁধাকপির রস ২ চামচ মিশিয়ে পায়ে ভালো করে মাসাজ করতে হবে।
গাজরের রস ২ চামচ, তিলের তেল ১ চামচ, শসার রস ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে ভালো করে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ত্বকের যতেœ যখনই কোনো প্যাক ব্যবহার করা হোক না কেন, অবশ্যই তা তুলে সুন্দর করে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে।

ত্বকের যত্ন 

চলমান আবহাওয়ায় আমাদের শরীরের চামড়ার ধরণ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই বুঝতে পারছেন না, এর সঠিক সমাধান কোথা থেকে পাবেন। তাই ঘরোয়াভাবে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা অনুযায়ী কীভাবে কোনো নারী নিখুঁত চেহারা পাবেন তা তুলে ধরেছেন রূপ বিশেষজ্ঞ

রহিমা সুলতানা

 

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতুর বৈচিত্র্যের সঙ্গে সঙ্গে এ দেশে আবহওয়া এবং মানুষের দেহ ও মনের পরিবর্তন দেখা দেয়। প্রতিটি ঋতু পরিবর্তনের সময় আমাদের দেহের ও বাইরের আবহাওয়ার তাপমাত্রার সমন্বয় ঘটানো খুবই জরুরি। কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে প্রচুর ঘাম বের হয়ে শরীর ডিহাইড্রেটেড হতে পারে।
ত্বক সব সময় শীতল ও পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। সম্ভব হলে শীততাপ নিয়ন্ত্রণযুক্ত কক্ষে থাকতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানির বিকল্প নেই। দিনে তিন-চার লিটার পানি আধা গ্লাস করে একটু পর পর পান করতে হবে। এছাড়া যে কোনো ফলের রস পান খুবই উপকারী।
প্রতিদিন দুধ, কাঁচাহলুদ ও আমলকী খাওয়া উচিত। এতে স্কিন উজ্জ্বল ও ব্যাকটেরিয়া দূর হবে।
রোদে যাওয়ার আগে
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শুধু সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই হবে না, গোসল করে নেয়া ভালো। পানিতে কয়েক ফোঁটা বেনজয়েন অ্যাসেনসিয়াল অয়েল মিশিয়ে গোসল করলে ঘামে দুর্গন্ধ ও রোদে ত্বক কালচে হবে না। ওষুধের দোকান বা সুপারশপে এই অয়েল পাবেন। চার ঘণ্টা পর পর ল্যাভেন্ডার অয়েল সমৃদ্ধ ওয়েট টিস্যু দিয়ে ত্বক মুছে দিতে হবে।
রোদে পোড়া ভাব দূর করতে
যে কোনো ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা পেস্ট উপকারী। রাতে টক দই, ডিমের সাদা অংশ মিশ্রণ প্যাক হিসেবে ত্বকে লাগানো যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এছাড়া সুজি হালকা করে ভেজে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এটি স্ক্রাবের কাজও করবে। স্ট্রবেরি, টক দই ও ময়দার মিশ্রণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো। শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করা যাবে দুধের সর, যে কোনো বাদাম, মধু ও সামান্য চিনির মিশ্রণ।
যাদের ত্বক পাতলা তাদের নিতে হবে বাড়তি যতœ। এ ধরনের ত্বকের চামড়া ভেদ করে শিরার রেখা চোখে পড়ে। অনেকের পাতলা ত্বক রোদে গেলে অল্পতেই লাল হয়ে যায়। ফলে ত্বকে জ¦ালাপোড়া হয়। যাদের ত্বক পাতলা তারা যেন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলেন। রোদে বের হলে অবশ্যই ত্বক বুঝে সানব্লক ব্যবহার করতে এবং সঙ্গে রাখতে হবে ছাতা। বাইরে থাকলে দুই ঘণ্টা পর পর নতুন করে ত্বকে সানব্লক লাগতে হবে। কিছু ফেস পাউডারও সানব্লকের কাজ করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা এমন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। রোদচশমা ও হ্যাট জাতীয় বড় টুপি ব্যবহার করতে হবে যেন চোয়াল ও এর আশপাশে রোদ না লাগে। এরপরও যদি ত্বক লাল হয়ে জ্বালা করে তাহলে বরফ ঘষতে হবে অথবা ঠা-া পানির ঝাপটা দিতে হবে।
শুষ্ক ত্বক : গরমে শুষ্ক ত্বক আরো যেন খসখসে, শুষ্ক, প্রাণহীন হয়ে যাচ্ছে। এ থেকে বাঁচার জন্য যা করতে হবে- 
তরমুজ, টক দই, চন্দন ও ঘৃতকুমারী এক সঙ্গে প্যাক করে লাগালে ত্বক মসৃণ ও নরম থাকবে।
আইস বা বরফ, ঘৃতকুমারী, নিম তেল ও চন্দন লাগালে ত্বকের হয়।
তৈলাক্ত ত্বক : গরমে তৈলাক্ত ত্বক থেকে প্রচুর তেল বের হয়। ফলে ত্বক আরো গরম হয়ে যায়। এছাড়া দেখা দেয় ব্রণ। এ জন্য যা করতে হবে-
টমাটো, মধু, নিমপাতা ও মসুরের ডাল লাগাতে হবে। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমে যাবে এবং ব্রণ দূর হবে।
শসার রস, সয়াবিন, মধু ও আঙুরের রস লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং তৈলাক্ত ভাব কমে যায়।
মিশ্র ত্বক : মিশ্র ত্বক গরমে তৈলাক্ত হয়ে ওঠে এবং মুখের চামড়া উঠতে থাকে। এ জন্য যা করতে হবে-
কচি ডাবের শাঁস, কমলার রস, বেসন ও কালোজিরার তেল প্যাক করে লাগাতে হবে। এতে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হবে।
পাকা পেঁপে, চকলেট, চন্দন ও হলুদ প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক সতেজ এবং টানটান হবে।

চুলের পরিচর্যা
লেবুর রসের সঙ্গে ত্রিফলা চূর্ণ মিশিয়ে সপ্তাহে ২ দিন চুলে ব্যবহার করলে চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং দ্রুত বাড়ে।
লেবুর রসের সঙ্গে টক দই অথব নারিকেল তেলের সঙ্গে কর্পূর মিশিয়ে চুলের গোড়ায় মাসাজ ব্যবহার করলে খুশকি দূর হয়।
পেঁয়াজের রসের সঙ্গে জবা ফুল পেস্ট করে লাগালে চুল গজাতে সাহায্য করে।
লেবুর রসের সঙ্গে চায়ের লিকার মিশিয়ে শ্যাম্পু শেষে ব্যবহার করলে চুল ঝলমলে ও সুন্দর হয়।
শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনিংয়ের জন্য ১ চামচ মেথি ১ লিটার পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে ওই পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

হাতের যত্ন
বেসন ২ চামচ, টক দই ২ চামচ, চিনি ১ চামচ ও পাতিলেবুর রস আধা চামচ একত্রে মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
একটি পাকা কলার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে হাতে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পোস্তাবাটা ২ চামচ, গুঁড়া দুধ ১ চামচ, মধু ২ চামচ ও গোলাপ জল ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে ২ হাতে সুন্দর করে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
পাকা কলার সঙ্গে তেঁতুলের ক্বাথ মিশিয়ে কনুইয়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
চালের গুঁড়া ২ চামচ, টক দই ২ চামচ, মুলতানি মাটি ২ চামচ, কমলার খোসার গুঁড়া ১ চামচ ও অলিভ অয়েল ১ চামচ একত্রে মিশিয়ে হাতে লাগানোর পর ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
বেসন ২ চামচ, সামান্য কাঁচা দুধ ও এপ্রিকট স্ক্রাবার ২ চামচ মিশিয়ে পুরো হাতে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।

পায়ের যত্ন 
মুলতানি মাটি ২ চামচ, মধু ২ চামচ, তরমুজের রস ২ চামচ ও ডাবের পানি ২ চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
শসার রস ২ চামচ, আলুর রস ২ চামচ ও মধু ১ চামচ পায়ে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

মডেলঃ ফাহমি এশা

ছবিঃ সুমন হোসাইন

মেকওভারঃ ক্লিও প্রেট্রো বিউটি স্যালন

Page 3 of 4

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…