Page 4 of 4

বসার ঘরের কাব্য

 

মানুষ প্রকৃতির সেরা সৃষ্টি। প্রকৃতির নিয়মে অনেক

বিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানব সভ্যতা বর্তমান অবস্থায় রূপ নিয়েছে। প্রকৃতির দান নিয়ে মানুষ বেঁচে আছে। প্রকৃতির ওপর এখনো মানুষ প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। প্রকৃতির নির্মল বাতাস এখনো মানুষকে অফুরন্ত প্রাণশক্তি জোগায়।

আপনার বাড়িটি এমনভাবে সাজান যেন দেখে একটা আরাম ও প্রশান্তির ভাব মনে তৈরি হয়। বেডরুমের জন্য বেছে নিন হালকা ও উষ্ণ রঙ। গাঢ় রঙ মনে উত্তেজনা তৈরি করে। এতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। যারা নতুন করে নিজের বাড়ি সাজাতে চান তারা আগে থেকেই একটি পরিকল্পনা তৈরি করে নিন। ঘরের ফেব্রিক্স কী হবে তা আগে ঠিক করে এর সঙ্গে মিল রেখে দেয়ালের রঙ করলে ভালো লাগবে। এছাড়া রাখতে হবে মানানসই আসবাব।

ঘরের বেডকভার, জানালার পর্দা, ডেকোরেশন ও ডিজাইনে সুন্দর কম্পোজিশন তৈরি করুন। সব মিলিয়ে ঘরে একটি গোছানো ছবির রূপ ফুটে উঠবে। ঘরের ভেতর পারলে একটি ওয়াল ক্যাবিনেট বানিয়ে নিন। এতে বাড়তি সব জিনিস ঢুকিয়ে রাখতে পারবেন। ফলে ঘরে সাজানো-গোছানো ভাব থাকবে। ছোট ঘরের বড় ইমেজ তৈরি করতে দেয়ালে বড় আয়না লাগাতে পারেন। এ কারণে ঘরের স্পেস বড় মনে হবে। শোয়ার ঘরের মেঝে কাঠ এবং এর সঙ্গে বেড সাইড কার্পেট বা শতরঞ্জি রাখতে পারেন। দেয়ালে ছবি রাখতে চাইলে দুই বা তিন দেয়ালে না ঝুলিয়ে একটি দেয়াল বেছে নিন। সেখানে সুন্দর কম্পোজিশন করে ছবি রাখুন। দেখতে ভালো লাগবে। ঘরের লাইটিংয়ে আনতে পারেন পারেন ভিন্নতা। লাইটিং দিয়ে ঘরে একটা মুড তৈরি করা যায়। ঘরের ধরন বুঝে ল্যাম্পশেড, আপ লাইট, ফ্লোর ল্যাম্প, স্পট লাইট ব্যবহার করুন।

বসার ঘরটি একভাবে শুধু সোফা দিয়ে না সাজিয়ে বসার জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা করতে পারেন। একপাশে যদি ফরমাল বসার ব্যবস্থা থাকে তাহলে সেখানে রাখুন সোফা বা উঁচু কোনো আসন। আরেকটু ঘরোয়া আমেজে বসতে চাইলে ফ্লোর সিটিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন ঘরের অন্য এক কোণে। ডাইনিং স্পেস অনুযায়ী ডাইনিং টেবিলের মাপ স্থির করে নিন। ছোট স্পেসে বড় টেবিল না রেখে ওভাল বা রাউন্ড শেপের টেবিল রাখলে তা বেশি কার্যকর হবে। বড় ঘরে বড় টেবিল রাখায় কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু ছোট মাপের জায়গায় এমন টেবিল রাখতে হবে যাতে চলতে-ফিরতে অসুবিধা না হয়।

ডাইনিং স্পেসের জানালা দিয়ে বাগান, পার্ক বা চলমান শহর দেখা গেলে পাশেই রাখুন টেবিলটি। খুবই ভালো হয় যদি ঘরের একটি আকর্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা যায়। দুরন্ত দেখতে কোনো ফার্নিচার টেবিলের উল্টোদিকে রাখলে দেখাবে বেশ চমৎকার।

ঘর সাজান অ্যান্টিকে

ঘর সাজাতে কম-বেশি আমরা সবাই পছন্দ করি। ঘর দেখে মানুষের আভিজাত্য আর রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। ঘর সাজাতে সাধারণত আমরা কাঠের রকমারি আসবাব, ওয়ালম্যাট, পেইন্টিং, মাটির পুতুল প্রভৃতি ব্যবহার করি। তবে যারা একটু উচ্চাভিলাষী কিংবা বেশি মাত্রায় শৌখিন তারা চান ভিন্ন কিছু। ঘরের কোণ, বসার ঘর কিংবা ব্যালকনিতে তাদের রুচি খেলা করে ভিন্ন মাত্রা নিয়ে। এমন লোকজনের তালিকায় থাকে নানান অ্যান্টিক পণ্য বা পুরনো নিদর্শন। তাই ঘরের সাজে আসে নতুনত্ব। এসব পণ্য দেখতেও আকর্ষণীয়। অ্যান্টিকের বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে লণ্ঠনবাতি, নারীমূর্তি, জাহাজের ঘড়ি, বিদেশি মুদ্রা, ব্রোঞ্জের তৈরি আসবাবপত্র, সিরামিকের পুতুল ও খেলনা, মুক্তার দামি পাথরের গহনা, লেদারের জিনিসপত্র, জীবজন্তুর মূর্তি, ঘণ্টা প্রভৃতি পাওয়া যায়। এগুলো কিনে ঘরের সৌন্দর্যের মাত্রায় নতুনত্ব সংযোজন করতে পারেন।

 

পরিপাটি আড্ডার ঘর

‘সুন্দর গৃহকোণ একান্ত আপন সুখের ভুবন।’

স্থান সংকটের এই যুগে নান্দনিকতা বজায় রেখে সামান্য জায়গাটুকুও কতো যে বেশি কাজে লাগানো যায় সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বল্প জায়গায় মানানসই জিনিস দিয়ে নিখুঁত সুন্দর করে সাজানোর মধ্যেই রয়েছে গৃহিণীর আসল সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। লিভিং রুম, বসার ঘর বা আড্ডার ঘরÑ যাই বলি না কেন, এটি আসলে আমাদের অলস দুপুরে শান্তির আমেজে গড়াগড়ি দেয়ার উপযুক্ত স্থান। ড্রয়িং রুমটায় একটু ফরমাল ভাব চলে আসে সাধারণত বাইরের    

 

মানুষের সঙ্গে লৌকিকতা করার জন্য বেশ পরিপাটি কেতাদুরস্ত আয়োজনে। লিভিং রুমে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেয়ার মজাই আলাদা। বাড়ি যতোই ছোট হোক না কেন, বসার ঘর আলাদা আমেজে তৈরি করা জটিল ব্যপার নয়। লিভিং রুম না থাকলে ডাইনিং রুমে পার্টিশন ব্যবহার করেও এটি করা যায়। ইচ্ছা করলে দু’মুখী ক্যাবিনেট তৈরি করে জিনিসপত্র রাখতে সুবিধা হয় আবার ফ্ল্যাটটিও খোলামেলা থাকে। আড্ডার ঘরে সোফা তো লাগবেই, একই সঙ্গে প্রয়োজন দেয়াল ঘেঁষে নিচু ডিভান। তবে ডিভান ও সোফায় অবশ্যই সুতি কাপড়ের ব্যবহার করা উচিত। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা যায় ছোট-বড় নানান রঙের কুশন। দেয়ালের রঙ সাদা হওয়াটাই ভালো। এতে ছোট ঘর হলেও বেশ ভালো লাগবে। ঘর বড় হলে গৃহিণীর পছন্দমতো রঙ ব্যবহার করতে পারেন। পর্দার ক্ষেত্রে সোফা ও কুশনের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। পর্দা না দিতে চাইলে চিকও ব্যবহার যায়। তাহলে ঘরে বেশ আলো-আঁধারির খেলা করবে এবং জানালার ধার, ঘরের কোণায় ইনডোর প্লান্ট শীতলতার ছোঁয়া আনবে। অনেকে লিভিং রুমে টিভি মিউজিক সিস্টেম ইত্যাদি রাখেন। এগুলো ঘরের প্রান্ত ঘেঁষে রাখা উচিত যাতে ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা থাকে।

 

ল্যাম্পের জাদুকরী আলো-ছায়া ঘরের আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। এ জন্য বিভিন্ন ল্যাম্প, ল্যাম্পশেড, বা স্ট্যান্ড ল্যাম্প ব্যবহার করা যায়। ইচ্ছা করলে নিজে বুদ্ধি খাটিয়ে অভিনব ল্যাম্পও তৈরি করে নেয়া সম্ভব। বেত বা কাঠÑ যে উপাদানের তৈরি আসবাবই হোক না কেন, এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্যান্য উপাদানের আয়োজন করা একটি বিশেষ গুণ। ছোটখাটো ক্রিস্টাল, পোরসেলিন, কাচের টেবিল ল্যাম্প, শ্বেতপাথরের ছোট টেবিল, পিতল বা সিরামিকের টুকিটাকিÑ সব মিলিয়ে এক অন্যভাবের আয়োজন করা গৃহিণীর নিপুণতার পরিচয়। সবাই বসে স্বস্তি পাওয়ার মধ্যেই ঘর সাজানোর সার্থকতা নির্ভর করে।

সানগ্লাসের সময়ফের

- নবাব আমিন 

 

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চাল-চলনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশনেও প্রতিনিয়তই পরিবর্তন ঘটছে। এই যেমন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন রঙের রোদচশমা (সানগ্লাস) পরা চলতি সময়ের জনপ্রিয় ফ্যাশন। নানান ডিজাইন ও রঙের রোদচশমা এখন বাজারে পাওয়া যায়। নিজের আউটলুকে খানিকটা পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে রোদচশমার কারিশমা অনস্বীকার্য। সাদামাটা একটি পোশাকের সঙ্গে রোদচশমা সহজেই এনে দেয় চমৎকার ফ্যাশনেবল লুক। এর ভক্ত কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে মধ্য বয়সী ও বুড়োরাও। তবে অনেকেই জানেন না এই রোদচশমা আবিষ্কারের ইতিকথা। চলুন জেনে নিই প্রিয় ওই রোদচশমা আবিষ্কারের গল্প।

প্রাচীনকালে কাচ রঙিন করে কিংবা স্ফটিক পাথর ব্যবহার করে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে আকাশ অথবা সূর্যের দিকে তাকাতো সাধারণ মানুষ। তবে এভাবে সূর্যালোকটি জয় করার ব্যাপারটি খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ শতকের আগ পর্যন্ত কারো মাথাতেই আসেনি।

প্রাচীন চীনে নাকি আজকের দিনের চশমার মতো এক ফ্রেম বানিয়ে এতে দুই চোখের ওপর রঙিন কাচ লাগিয়ে রোদের হাত থেকে চোখ দুটি রক্ষা করার কৌশলের উদ্ভব হয়েছিল। তাই ইতিহাসের পাতায় প্রথম রোদচশমার উৎসস্থল বলা হয়েছে চীন দেশকেই। চীনে নাকি রঙিন চশমা ব্যবহৃত হতো আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে। কোনো অপরাধের বিচারকাজ চলার সময় বিচারকরা সাধারণত এমন রঙিন চশমা ব্যবহার করতেন। রঙিন চশমা পরে থাকলে কোনো অভিযুক্ত কিংবা সাক্ষী তার চোখের অভিব্যক্তি বুঝতে পারতো না। বিচার কাজের স্বচ্ছতার জন্যই সাধারণত প্রাচীন চীনের বিচারালয়গুলোয় বিচারকদের এই রঙিন চশমা পরার ব্যাপারটি প্রচলিত ছিল।

১৩০০ সালের দিকে চীনের বিচারকরা বিচার কাজ চালানোর সময় চোখ ‘কোয়ার্টজ’-এর কাচে ঢেকে রাখতেন যাতে তারা কী দেখছেন তা কেউ বুঝতে না পারে। মূলত তাদের চোখের দৃষ্টি আড়াল করতে ওই চশমা ব্যবহার করা হয়। এরপর ১০০ বছর ধরে রোদচশমার ব্যবহার শুধু বিচারালয়ে হতে থাকলো।

১৪৩০ সালের দিকে রোদচশমা চীন থেকে ইটালিতে পাড়ি জমায়। তারাও বিচারিক কাজে রোদচশমা ব্যবহার করতেন।

১৮০০ সালে তৈরি হয় গগলস্। এর কাজ ছিল ভ্রমণকারীদের চোখ বাতাস, ধুলো ও রোদের আলোর হাত থেকে রক্ষা করা।

আঠারো শতকের মধ্যভাগে চশমার অস্বচ্ছ লেন্স নিয়ে জেমস আয়ুসকফ গবেষণা শুরু করলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, নীল অথবা সবুজ অস্বচ্ছ কাচ নির্দিষ্ট দৃষ্টির ত্রুটি নিরাময় করতে সক্ষম হবে। সূর্যালোক প্রতিহত করার কোনো চিন্তা-ভাবনা তার মাথায় ছিল না।

১৯০০ সালের দিকে বিমান আবিষ্কারের ফলে মাটির অনেক উপরে উজ্জ্বল আলো সমস্যা হয়ে ওঠে। তাই বাউস অ্যান্ড লম্ব কোম্পানিকে এয়ার কর্পস সমাধানের জন্য খবর দেন আমেরিকান আর্মি। তখন তারা সবুজ রেব্যান এভিয়েটর রোদচশমা তৈরি করেন।

 

১৯২৯ সালে আধুনিক রোদচশমা আসে। ১৯৩০ সালে আটলান্টিক সিটিতে ফস্টার-গ্রান্ট-সানগ্লাসের প্রথম জোড়া বিক্রি করেন ফস্টার গ্রান্ট কম্পানির প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ফস্টার।

১৯৩৭ সালে প্রায় ২০ মিলিয়ন রোদচশমা আমেরিকায় বিক্রি হয়। জানা গেছে, ছেলেদের থেকে মেয়েরাই রোদচশমা ফ্যাশন হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। তখন শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ মানুষ রোদচশমা শুধু রোদ থেকে চোখ রক্ষা করতেই ব্যবহার করতো।

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে টিনটেড রোদচশমার প্রচলন শুরু হয় ইউরোপে। তখন হলিউডের তারকারা ব্যাপকভাবে এটি পরা শুরু করেন।

১৯৬৫ সালে রোদচশমার আকার ও রঙ বদলাতে শুরু করে। রোদচশমার জন্য ফটোক্রমিক লেন্স আবিষ্কার হয়। তা সূর্যের আলোটি মৃদু করে।

সত্তরের দশকে হলিউড তারকারা রোদচশমা ব্যবহারের জন্য রীতিমতো বিখ্যাত ছিলেন।

১৯৮০ সালে আরো উন্নত লেন্স আবিষ্কার হতে থাকে।

বিংশ শতাব্দীতে এসে রোদচশমা প্রাণ পায়। রোদচশমা টেকনোলজির উন্নয়নে আমেরিকার মিলিটারি ব্যাপক ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে মূলত আশির দশকের পর কিংবা এরও পর থেকে রোদচশমার ব্যবহার শুরু হয়। অবশ্য ওই সময় এতো ডিজাইনের রোদচশমা ছিল না। নব্বইয়ের দশকের পর এর আবেদন আস্তে আস্তে আরো বাড়তে থাকে।

বিংশ শতাব্দীর পর রোদচশমা অন্যান্য অনুষঙ্গের মতো একটি হয়ে ওঠে। কালের বিবর্তনে এটি এখন ঘুরে-ফিরে ওই পুরনো ডিজাইনের দিকেই যাচ্ছে। এখন অনেক ব্যবহারকারীই ওই সময় ব্যবহৃত রোদচশমার খোঁজ ও নিয়মিত ব্যবহার করছেন।

এরপর ইতিহাস ছেড়ে বর্তমানে এলে দেখা যায়, এখন সবার চোখেই রোদচশমা। সময়ের পরিক্রমায় এখন ঘর থেকে বের হলে রোদ ও ধুলাবালি থেকে চোখটি রক্ষা করার জন্য এর কোনো তুলনা হয় না। বর্তমানে এটি যেমন রোদ ও ধুলাবালি থেকে চোখটি রক্ষা করছে তেমনি ফ্যাশনেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে হ্যাঁ, ফ্যাশন আর পোশাকের ভিন্নতার ওপর নির্ভর করে এখন এর রঙ ও ধরন পালটাচ্ছে। মুখের আকৃতি ও নিজস্ব রুচির ওপর নির্ভর করে রোদচশমা পড়ছে সবাই। তরুণদের এখনকার অন্যতম অনুসঙ্গ এটি। এর আধুনিকতা থেকে বর্তমানে কেউই আর পিছিয়ে নেই।

অতীত-বর্তমান পর্যন্ত তারকা থেকে শুরু করে ক্রিকেটার, ফুটবলার, কবি, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের স্টাইলের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বস্তু হলো রোদচশমা।

 

প্রি-ব্রাইডাল

 

প্রিব্রাইডেল

বিয়ের আগে ও পরে থাকে কনের যতœ আত্তির ব্যাপার। বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে তাই পরিচর্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন ত্বক অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পরিচর্যা ও খুটিনাটি বিষয়ে বললেন, হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা রীতাÑ

 

বিয়ের আগে যতœ

ব্রাইডাল প্রস্তুতি ৬ মাস আগে থেকে শুরু করলে ভালো হয়। যদি ৬ মাস হাতে সময় না থাকে তাহলে ৩ মাস। যদি ৩ মাসও সময় না থাকে তাহলে এক মাসের সময় হাতে নিয়ে পরিচর্যা করতে হবে। এ জন্য দরকার একটা রুটিন জীবন। তা হলো, প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসম¥ত খাবার খেতে হবে নিয়ম করে। যেমনÑ

এক. প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস খুব উপকার করে।

দুই. সবুজ আপেল, লাল আঙুর, বিচিসহ পেয়ারা, কলা আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে প্রতিদিন অন্তত একটি খাওয়া উচিত।

তিন. সবুজ শাকসবজিÑ ব্রকলি, ঢেঁড়শ, পুঁইশাক, লালশাক, গাজর, টমেটো ইত্যাদি।

চার. ভিটামিন ‘এ’, ‘ই’, ‘ডি’ ও ‘সি’যুক্ত খাবার খেতে হবে।

পাঁচ. মাছের তেল (ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড)।

 

নিয়ম করে ত্বকের যতœ নিতে হবে

* যাদের ত্বক তৈলাক্ত তাদের জন্য লেবুর রস দুই টেবিল চামচ, গ্লিসারিন ১ চা-চামচ ও গোলাপের পানি ৩ টেবিল চামচ একত্রে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

* যাদের ত্বক বেশি শুষ্ক তাদের জন্য ডিম ১টি, মধু ২ চামচ, গুঁড়া দুধ ১ চামচ, কাঁচাহলুদ ১ টেবিল চামচ, লেবুর রস আধা চামচ একত্রে পেস্ট করে ত্বকে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

* সাধারণ ত্বকের জন্য তৈরি প্যাকÑ শসার কুচি ২ টেবিল চামচ, গোলাপের পানি ৬ টেবিল চামচ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, গ্লিসারিন ২ টেবিল চামচ, মধু ১ চামচ একত্রে ব্লেন্ড করে ত্বকে লাগানোর ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

বিয়ের আগে চুলের যতœ

চুল সুন্দর রাখতে সব সময় এটি পরিষ্কার রাখতে হবে। অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল হালকা গরম করে চুলে মাসাজ করতে হবে। খুশকি থাকলে একটু লেবুর রস মেশাতে হবে। এছাড়াÑ

* ১ চামচ মধু, ডিম ১টি, মেথির গুঁড়া ৩ চামচ, নিমপাতা বাটা ২ চামচ, ২ চামচ লেবুর রস, মেহেদিপাতা বাটা একত্রে মিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে।

 

বিয়ের আগে হাত-পায়ের যতœ

এক. আঙুল নরম ও মসৃণ রাখতে সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে হাতের আঙুলে লাগান।

দুই. হাতের ত্বক খসখসে হলে লেবুর রসে ১ চামচ মধু বা চিনি দিয়ে হাতে ঘষুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

তিন. কনুইয়ে কালো দাগ দেখা দিলে চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে ৫-৭ মিনিট মতো মাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

চার. রাতে শোয়ার আগে পানিতে ১ চামচ লবণ, ১ চামচ শ্যাম্পু, ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখতে হবে এবং পরে ধুয়ে ফেলতে হবে। পা ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে হবে।

পাঁচ. ২ চামচ চালের গুঁড়া, ১ চামচ কমলার খোসা বাটা, ১ চামচ হলুদ, ১ চামচ মধু মিশিয়ে পায়ে লাগানোর ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবুর রস ৪ চা-চামচ, মধু ১ চা-চামচ, অলিভ অয়েল ১ চা-চামচ একত্রে মিশিয়ে পায়ে মাসাজ করতে হবে।

 

বিয়ের মেকআপ

মেকআপের আগে যতœ

মেকআপ করার আগে কিছু বিশেষ টিপস মেনে চলা উচিত। মেকআপের আগে আলু, শসার রস একসঙ্গে মুখে মাখুন। ফলে ত্বকে তরতাজা ভাব আসবে। ময়েশ্চরাইজার অবশ্যই লাগাতে হবে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে এবং ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে প্রতিরোধ করবে।

হলুদের মেকআপ

হলুদের মেকআপে সাধারণত একটু সফট লুক রাখা হয়। হলুদে হলুদ শাড়ি, লাল টিপ, আলপনা, আলতা, ফুলের গয়না ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আজকাল অনেক সুন্দর হলুদের গয়না পাওয়া যায়। এগুলো শুধু ড্রাই ফ্লাওয়ার দিয়ে তৈরি করা হয় এবং শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে পরলে ভালো লাগে। হলুদের মেকআপে ফেসের কালার, টোন ও শেইপ ঠিক রেখে মেকআপ করলে প্রপার লুক চলে আসবে। যাদের কপাল ছোট তারা উল্টে চুল আচড়ালে ভালো লাগবে। যাদের কপাল বড় তাদের মাঝে সিঁথি করে চুল আঁচড়ালে ভালো লাগবে। হেয়ারস্টাইলিংয়ের জন্য এখন খোঁপা ও বেণীÑ দুটিই ভালো লাগবে।

 

বিয়ের মেকআপ

বিয়ের মেকআপ অবশ্যই ফেসের ধরন অনুযায়ী হতে হবে। ফেসের ধরন অনুযায়ী মেকআপ সিলেক্ট করা খুব জরুরি। বিয়ের মেকআপের আগে ফেসিয়াল, অয়েল মাসাজ, ময়েশ্চারাইজার ও মেকআপ প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত। বিয়ের দিন সাধারণত একটু ব্রাইট সাজ ভালো লাগে। শাড়ির রঙের সঙ্গে চোখের শ্যাড মিলিয়ে লাগালে ভালো লাগবে। বিয়ের মেকআপ একটু শাইনি হতে হয়। কারণ কনেকে সবাই অনেক দূর থেকে দেখবেন। চোখের জন্য চোখের গড়ন অনুযায়ী ডায়মেনশন ক্রিয়েট করতে হয়। ব্রাইডাল মেকআপের জন্য আলাদা একটা স্পেস থাকা উচিত।

 

বৌভাতের মেকআপ

বিয়ের পর বৌভাতের আগে যদি হাতে সময় থাকে তাহলে একটি বডি সার্ভিস ও ফেসিয়াল নিলে ভালো হবে। বিয়ে যদি ট্রাডিশনাল সাজে হয়ে থাকে তাহলে বৌভাতের সাজটা মর্ডান লুকে ভালো লাগবে। এ জন্য লালের পরিবর্তে অন্যান্য রঙ পড়লেও ভালো লাগবে। চুলে হাফ স্পাইরালের সঙ্গে খোঁপা করলে ভালো লাগবে। তবে খোঁপায় থাকা চাই ফুল সাজের সঙ্গে মিল রেখে।

 

বিয়ের পর ত্বকের যতœ

বিয়ের দিনসহ হলুদ ও বৌভাতের অনুষ্ঠানে অনেক ভারী মেকআপ করা হয় টানা কয়েকদিন ধরে। তাই সবার আগে মেকআপ খুব ভালোভাবে তুলে ফেলে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ত্বক পরিষ্কার করার আগেই লোশন এবং আই মেকআপ রিমোভার দিয়ে আপনার মুখ ও চোখের মেকআপ তুলে ফেলতে হবে। আপনার ত্বকের ধরন যাই হোক না কেন, মেকআপ তোলার জন্য মুখ ধোয়ার আগে কোনো তেলযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করুন যাতে মেকআপ ক্রিমের সঙ্গে সহজেই মিশে যায়। তবে যাদের ত্বক খুব সেনসেটিভ তাদের জন্য গন্ধযুক্ত যে কোনো প্রডাক্ট এড়িয়ে চলতে হবে।

 

মেডিটেশন

- শায়মা হক 

 

‘সন্ন্যাসী উপগুপ্ত

মথুরাপুরীর প্রাচীরের তলে

একদা ছিলেন সুপ্ত--’

 

রবি ঠাকুরের ‘অভিসার’ কবিতাটি পড়ার কারণে আমার চোখে সেই কিশোরীকাল থেকেই মুনি, ঋষি বা সন্ন্যাসী মানেই ওই সন্ন্যাসী উপগুপ্ত। মুদ্রিত নয়ন, মুষ্টিবদ্ধ দুই হাত, কোনো এক প্রাচীন মথুরাপুরি নগরীর প্রায় ধসে যাওয়া প্রাচীরের পাশে ধ্যানরত যোগী সন্ন্যাসী। মুনি-ঋষিরা ধ্যানের মাধ্যমেই নানান অভীষ্ট লাভ করে থাকেনÑ এমনটাই শুনেছিলাম। আরও পরে জেনেছি, ধ্যান শুধু তাদেরই একচ্ছত্র অধিকার নয়। ওই ধ্যান এখন পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তেই বসে থাকা যে কোনো মানুষেরই প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হতে পারে। এ জন্য বনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সংসার, সমাজ ত্যাগ করে নির্জন-বিরল কোনো স্থানে চলে যাওয়ার দরকার নেই। এমনকি গৃহে থেকে সব থেকে আলাদা হয়ে গৃহী সন্ন্যাসী হওয়ারও কোনো কারণ নেই। দরকার শুধু নিজের জন্য কিছু সময় ও নিজের ভেতরে ডুবে যাওয়া। আজ ওই ধ্যানের কথাই লিখবো যা বড় উপযোগী এবং প্রয়োজন আমাদের আজকের এই প্রাত্যহিক জীবনের নানানরূপ মানসিক শোক, তাপ ও চাপ ডিঙিয়ে প্রশান্তিময় জীবন যাপনের জন্য।

 

আধুনিক জীবনের নানান জটিলতায় প্রায়ই অস্থির হয়ে ওঠে আমাদের দেহ ও মন। হতাশা, ক্ষোভ, কাছের মানুষের প্রতারণা, সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিক অবক্ষয়Ñ এসব নিয়ে কূল-কিনারা এবং সমাধান খুঁজে পায় না যখন মন তখনই আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। ওই মানসিক চাপ আমাদের শারীরিকভাবেও অসুস্থ করে তোলে। কাজে মন বসে না, জগৎ-সংসারের সবকিছু হয়ে ওঠে রঙহীন ও বিবর্ণ। এক্ষেত্রে মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনার এক অনন্য উপায় হতে পারে মেডিটেশন বা ধ্যান।

আসলে আমাদের আকাক্সক্ষার সঙ্গে যখন বাস্তবতার সংঘাত ঘটে তখনই আমরা ভেঙে পড়ি। ঠিক তখনই প্রয়োজন আমাদের মানসিক শক্তি বা মনের জোর। ওই মনের জোর বাড়াতে সবচেয়ে বেশি উপকারী মেডিটেশন। মেডিটেশন বা ধ্যান মূলত এক ধরনের সাধনা। এর মাধ্যমে মানুষ নিজেকে উপলব্ধি করে। ধ্যান আসলে

মনঃসংযোগের এক সুসংবদ্ধ রূপ। ওই ধ্যানের মাধ্যমেই মন নিয়ে যাওয়া যায় গভীর প্রশান্তির রাজ্যে। ওই রাজ্য পার্থিব সব কাম, ক্রোধ, লোভ, লালসার ঊর্ধ্বে। সেখানে নেই কোনো দুঃখ, বেদনা, জ্বালা বা যন্ত্রণা।

ধ্যান বা মেডিটেশনের মূল ব্যাপারই হলো মন একাগ্রতার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট স্থান, বস্তু বা যে কোনো কিছুর প্রতি নিবদ্ধ করা। তা হতে পারে কোনো ব্যক্তি অথবা কোনো ইমেজ, কাল্পনিক চরিত্র কিংবা আলোর বিন্দু বা কোনো শব্দ কিংবা যে কোনো বস্তুর প্রতি। মন স্থিরভাবে কোনো কিছুর প্রতি নিবদ্ধ রেখে কিছুক্ষণ বসে ধ্যান করে ধ্যানকারী তার আকাক্সক্ষার প্রশান্তিময় কল্পরাজ্যে হারিয়ে যেতে পারেন। এটি তাকে মানসিক প্রশান্তির পরশে অস্থিরতা থেকে অনায়াসেই মুক্তি দিতে পারে। আমাদের মনের প্রতিনিয়ত যন্ত্রণাবিদ্ধ ও ক্ষতবিক্ষত করে তোলে ষড়রিপু। মেডিটেশনের মাধ্যমে তা দমন করতে পারলেই মন এক অনির্বাচনীয় প্রশান্তিতে ভরে উঠবে। খুঁজে পাওয়া যাবে সুন্দর, সহজ, ক্লেদহীন জীবন যাপনের সত্যিকারের উপকরণ। যুগে যুগে মহাপুরুষরা ধ্যানের মাধ্যমে যেমন ইন্দ্রিয় জয় করেছেন তেমনি সন্ধান পেয়েছেন সত্য উপলব্ধির।

স্বল্প সময়ে অল্প একটু মেডিটেশন বা ধ্যান এবং সারা দিনের মানসিক প্রশান্তির জন্য কী প্রয়োজন

আগেই বলেছি, মেডিটেশনের জন্য ওই প্রাচীন সন্ন্যাসী বা মুনি-ঋষিদের মতো গৃহত্যাগের প্রয়োজন নেই। শুধু প্রয়োজন একটু খোলা জায়গা। তা হতে পারে বাড়ির সামনের এক টুকরো বাগান, বারান্দা বা খোলা ছাদ। বড় জানালা দেয়া বড় ঘরেও মেডিটেশন করা যেতে পারে।

 

আরো কিছু

  একটা ছোট কার্পেট, মাদুর বা বিছানা    সুগন্ধি মোমবাতি বা ধূপধুনো    আরামদায়ক ঢিলেঢালা জামা    হাতে অন্তত আধা ঘণ্টা সময়

  টিভি, সেলফোন, রেডিও, কলিংবেল থেকে যতোটা দূরে থাকা যায় তা খেয়াল রাখা।

 

কী করতে হবে

  সুগন্ধি মোমবাতি বা ধূপ জ্বালিয়ে বিছানা, কার্পেট বা মাদুরে আসন গ্রহণ। এক্ষেত্রে যেভাবে বসতে আরাম বোধ হয় সেভাবেই বসা উচিত। হাঁটু মুড়ে বা পদ্মাসনেও বসা যায়।

  শিরদাঁড়া সোজা রেখে কোলের ওপর হাত দুটি রাখতে হবে।

  লম্বা শ্বাস নিতে হবে। তবে শ্বাসের গতি বাড়ানো যাবে না।

  চোখ বন্ধ করে মনঃসংযোগ করতে হবে। এ সময় সাংসারিক বা জাগতিক সব চিন্তা মুক্তি দিয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য বা আকাক্সিক্ষত কোনো দৃশ্য ভাবা যেতে পারে।

  ২০-২৫ মিনিন এভাবেই কাটাতে হবে।

 

শরীরের জন্য মেডিটেশন বা ধ্যানের উপকারিতা

  ব্লাড সার্কুলেশন ইমপ্রুভ করে।

  ব্লাড প্রেশার নরমাল রাখতে সাহায্য করে।

  মাসল রিলাক্স করে এবং মাথা ধরা কমিয়ে দেয়।

  ব্লাড ল্যাক্টেট লেভেল কমায় এবং আংজাইটি অ্যাটাক কমে যায়।

  মস্তিষ্কে সেরোটনিন উৎপাদনে বৃদ্ধি ঘটায়। এটি মানুষকে ডিপ্রেশন, ইনসমনিয়াÑ এসব সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

 

মেডিটেশন বা ধ্যানের সূচনা যদিও অতি প্রাচীনকাল থেকেই এ উপমহাদেশে প্রচলিত বলে জানা গেছে তবুও ষাটের দশকে প্রাচ্যে বিভিন্ন ধ্যান পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করার কয়েক বছরের মধ্যে পাশ্চাত্যেও এর প্রভাব পড়ে। ১৯৬৮ সালে ই এম টি সহ মেডিটেশনের প্রায় অর্ধশত পদ্ধতি চালু হয়। এর মধ্যে সিলভা মেথড সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ ছাড়া ধ্যান বা সাফল্যময় মেডিটেশনের আরো নাম বা পদ্ধতি রয়েছে।

 

সিলভা মেথড

এই মেথড বর্তমানে বিশ্বের ১৩১টি দেশে ৩০টি ভাষায় শিক্ষা দেয়া হয়। এর পুরো নাম সিলভা মাইন্ড কন্ট্রোল মেথড অ্যান্ড স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট।

 

কোয়ান্টাম মেথড

এটিকে বলা হয় জীবন বদলে দেয়া ও জীবনে ভালো থাকার বিজ্ঞান। এটি শুরু হয় জীবন দৃষ্টি বদলের মধ্য দিয়ে। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি মস্তিষ্কের নিউরোনে নতুন ডেনড্রাইট সৃষ্টি করে এবং সূচিত হয় নিউরোনে নতুন সংযোগায়ন প্রক্রিয়া। ফলে মস্তিষ্কের কর্মকাঠামোয় সৃষ্টি হয় ইতিবাচক কর্মচাঞ্চল্য। এর প্রভাব পড়ে ব্যক্তির আচরণ ও দৈনন্দিন প্রতিটি কাজে। অশান্তি পরিণত হয় প্রশান্তিতে।

 

জেন মেডিটেশন

স্টিভ জবস-এর বয়স তখন মাত্র ১৯ বছর। রিড কলেজ থেকে ড্রপ আউট ওই কিশোর চলে গেলেন ভারতে। তবে ভারত থেকে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলেন তখন তাকে দেখে সবাই চমকে গেল। সান ফ্রান্সিসকো বিমানবন্দরে অবতরণের পর তার মা-বাবা তাকে দেখে চিনতে পারলেন না। ভারতে তিনি এসেছিলেন মূলত আধ্যাত্মিক জীবনের খোঁজে। ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ধর্মগুরু কিংবা বৌদ্ধ ধর্মের আধ্যাত্মিক সাধকদের কথা তিনি আগেই শুনেছিলেন। তবে নিজেও হয়তো কখনো চিন্তা করতে পারেননি তার ওই ভারত সফরই পুরো জীবন পাল্টে দেবে। শুধু তার জীবনই নয়, পাল্টে দেবে প্রযুক্তি বিশ্বটিও। জবসের কর্মজীবনের দিকে তাকালে খুব সহজেই ‘জেন মেডিটেশন’-এর প্রভাব বোঝা যায়। ১ হাজার ৩০০ বছর ধরে জেন মেডিটেশন মানুষকে শিখিয়েছে কীভাবে সাহস করে কোনো কাজ করতে এবং কোনো কাজে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও কঠোর হতে হয়। এর সঙ্গে এটিও শিখিয়েছে, কীভাবে সাধারণ জীবন যাপন করতে হয়।

 

ধ্যান বা মেডিটেশন ও মেডিটেশনকারীদের সাফল্যময় জীবন নিয়ে রয়েছে নানান ইতিহাস। এসবের জন্য রয়েছে কঠোর সাধনার ইতিকথাও। তবে আমাদের দৈনন্দিন কর্মক্লান্তি, মানসিক অস্থিরতা, এমনকি অনেক জটিল সমস্যার সমাধান পেতেও ওই ধ্যান বা মেডিটেশন যথেষ্ট কার্যকর। আসলে শুধু অস্থির মনেই সমস্যাগুলো জটিলতার সৃষ্টি করে। তাই সর্বপ্রথম প্রয়োজন মানসিক প্রশান্তি আনয়ন। ধ্যান বা মেডিটেশন মানসিক জোর ও শক্তি বাড়ায়। প্রাত্যহিক জীবনের স্বল্প সময়ের ওই অল্প একটু মেডিটেশন চর্চাই বাড়াতে পারে মনের জোর। ওই চর্চার মাধ্যমেই সব অস্থিরতা কাটিয়ে প্রশান্তিতে ভরিয়ে উঠতে পারে এই দেহ-মন। পরিশেষে বলা যায়, সুন্দর ও সুস্থ জীবন চর্চায় দিনের ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মেডিটেশন হতে পারে এক অনন্য মাধ্যম।

দর্জিবাড়ি যাওয়ার আগে

 

পছন্দের কাপড় কিনে ইচ্ছামতো নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন উৎসবের পোশাক বানাতে চাইলে দর্জিবাড়িতে ঢুঁ মারতেই হয়। দর্জিবাড়ি যাওয়ার আগে জেনে নিন গজকাপড়ের খোঁজখবর।

  গজকাপড়

বৈচিত্র্যময় গজকাপড় পেয়ে যাবেন চাঁদনী চক, প্রিয়াঙ্গন মার্কেট, আনারকলি মার্কেট ও গাউসিয়ায়। গজকাপড়ের বাজারে রয়েছে সামু সিল্কের আধিপত্য। ফ্লোরাল প্রিন্টের পাশাপাশি চমৎকার সব রঙ ও ডিজাইনের সামু সিল্ক ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, জ্যামিতিক নকশা ও ফুলের প্রিন্টের সামু সিল্ক কিনেন অনেক ক্রেতা। নরম এই সিল্ক পরতে বেশ আরামদায়ক। এর পাশাপাশি কাপড়ের চাকচিক্যও চোখে পড়ার মতো। সামু সিল্কের গজ ধরণভেদে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

  পছন্দের শীর্ষে সুতিকাপড়

পোশাকের কাপড় হিসেবে সবার রয়েছে সুতিকাপড় পছন্দের শীর্ষে। সুতির মধ্যে বৈচিত্র্যময় প্রিন্ট, মিষ্টি রঙের ওপরে টাই-ডাই ও চুন্দ্রির কাপড় রয়েছে বাজারে। গজপ্রতি দাম পড়বে ৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। এ সুতি প্রিন্টের কাপড়ে মোটা লেইস বসানো কাপড়ও আছে। গজপ্রতি এর দাম পড়বে ৫০০ টাকা।

  জর্জেট প্রিন্ট

জর্জেট প্রিন্টও পছন্দ করেন অনেকে। জর্জেট প্রিন্টের মধ্যে ছোট-বড় ফুলের প্রিন্টেরই জয়জয়কার। গজপ্রতি এর দাম ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা।

  সুতিকাপড়ে মোটা লেইস

প্রিন্টের ক্রেপ কাপড় পছন্দ করেন অনেক তরুণী। এসব প্রিন্টের মধ্যে পেপার প্রিন্ট, অভিনেত্রীদের মুখ, ব্র্যান্ডের লোগো বেশ জনপ্রিয়। সাদা, কালো, লালÑ এ ৩টি রঙই প্রাধান্য পায় ক্রেপের বড় প্রিন্টের মধ্যে। কটি জামার জন্য অনেকে এই কাপড় কেনেন। এক্ষেত্রে জর্জেট প্রিন্টের লম্বা কটি ও সিল্কের জামা পছন্দ করেন সবাই। ভারী ভেলভেট ও পাথরের কাজ করা কাপড়ও পাওয়া যায় বাজারে।

দর্জিবাড়ি যাওয়ার আগে বেছে নিন আপনার পছন্দের কাপড়। পছন্দের কাপড় কিনে রঙ মিলিয়ে সালোয়ার ও ওড়নাও পেয়ে যাবেন গজকাপড়ের দোকানেই।

Page 4 of 4

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…