Page 2 of 4

চুলের রঙে রঙিন

 




আসছে রোজার ঈদ। বছর ঘুরে আসে বহু প্রত্যাশিত এদিনটি। ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানেই উৎসব। আর এ উৎসব উপলক্ষে প্রত্যেকেরই নিজেকে নিয়ে থাকে নানান প্রস্তুতি। অন্যসব দিনের চেয়ে এদিনটি ব্যতিক্রম হওয়ায় সাজটিও হওয়া চাই আলাদা। ঈদ নিয়ে ফ্যাশনের সব শাখায় চলে অন্তহীন ব্যস্ততা। চাঁদরাত পর্যন্ত চলে অবিরাম প্রস্তুতি।


বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের চুলের ফ্যাশন নিয়ে আগ্রহ অপরিসীম। থাকে চুলের বিভিন্ন স্টাইল বা কাট এবং এর সঙ্গে চুলের বিভিন্ন রঙে রঙিন চমক। ইদানীং চুলের বাহারি রঙ নিয়ে চলছে বেশ মাতামাতি। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত ফ্যাশনে স্থান করে নেয় নানান অনুষঙ্গ। কাল ও যুগের পরিক্রমায় কখনো বা নতুনত্বের পসরা নিয়ে সামনে আসে ফ্যাশনের বৈচিত্র্য, কখনো বা পুরনোকে নতুনের ছাঁচে ঢেলে তৈরি হয় অতীতের ফ্যাশনের সঙ্গে বর্তমান আধুনিকতার অপূর্ব মিশেল। ফ্যাশনের এই হাজারো উপকরণ এবং এর উপযোগিতা খুঁজে নেয় বর্তমানের ফ্যাশন দুরস্ত মন। সারা পৃথিবীতে চলছে চুলের রঙ নিয়ে রঙবেরঙের খেলা। এ খেলায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও। চুলের রঙ কেমন হবে তা প্রত্যেকের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত জাতি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে চুলের রঙ সম্পর্কিত। আমাদের দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষেরই চুলের রঙ কালো। তবে কালো চুলও বিভিন্ন রঙে রাঙিয়ে চেহারায় ফুটিয়ে তোলা যায় অন্য রকমের আবেদন।


সাধারণত দুই ধরনের মেলানিনের কারণে চুলের রঙে পার্থক্য হয়ে থাকে। তা হলো ইউমেলানিন ও ফোমেলানিন। কারো চুলে ইউমেলানিন বেশি থাকলে তার চুলের রঙ গাঢ় হবে এবং পরিমাণ কম হলে হবে হালকা। তবে চুলে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সাহায্যে এখন সহজেই রঙ পরিবর্তন করা যায়।  চুলের রঙ স্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এর ওপর নির্ভর করে খরচ হয়। ক্ষণস্থায়ী বলতে বোঝায়, এর স্থায়িত্ব থাকবে ৩ থেকে ৬ মাস। ছেলেমেয়েদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ ব্লন্ড কালার বা স্বর্ণকেশী রঙ। খুব সহজেই মানিয়ে যায় এ রঙটি। তাই হয়তো এ রঙটি বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

এছাড়া আজকাল টিনএজার মেয়েরা প্রথা ভেঙে চুলের নিচের অংশটুকু নীল বেগুনি ইত্যাদি রঙেও রাঙিয়ে নিচ্ছে। বাজারে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রঙ, যেমন লরিয়েল, রেভলন, গার্নিয়ার, জেস্ট, ডাভ, গোদরেজ ইত্যাদি। এর সাহায্যে আপনার চুল বাড়িতে বসেই অনায়াসে রাঙিয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে প্রথমবার হলে অবশ্যই কোনো ভালো পার্লার বা স্যালন-এ গিয়েই করানো উচিত।  রঙ করার আগে চুলে ব্লিচ করে নিলে রঙ কিছুদিন বেশি স্থায়ী হয়। তবে এতে চুলের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আজকাল অবশ্য অনেকে মেহেদি দিয়েও চুল রঙ করতে আগ্রহী।
 

লক্ষণীয়:


   যে কোনো উৎসবের অন্তত ৫ দিন আগে চুলে রঙ করানো উচিত। এতে চুলে রঙটা ভালোমতো বসে এবং
   চেহারার সঙ্গে মানানসই হয়।
   রঙ করার পর অবশ্য চুলের বাড়তি যতœ নেয়া প্রয়োজন। আজকাল কালার প্রটেক্টেড শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার
   পাওয়া যায় যে কোনো শপিং মল আর প্রসাধনীর দোকানে।
   বাড়তি যত্ন আপনার চুলে এনে দেবে জেল্লা আর ঝলমলে ভাব।

 

 

_____________________________

 লেখা : সোনাম চৌধুরী
 মডেল : ফারিয়া আফরিন
 মেকওভার : ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালন
 ছবি :  শোভন আচার্য্য অম্বু

বাহারি ব্রেসলেট

 



ইংরেজি শব্দ ব্রেসলেট বাংলা ভাষায় এমনভাবে স্থান করে নিয়েছে যে, কেউ আর এর আভিধানিক অর্থ খুঁজতে যান না। আগে শুধু শহরে এর ব্যবহার দেখা যেতো। এখন শহর ও গ্রামÑ উভয়স্থানেই ছেলেরা নিজের ইউনিক লুকের জন্য ব্রেসলেট পরে। মজার বিষয় হচ্ছে, রিস্ট হিসেবে পরার ওই বস্তুটি পুরো গেটআপেই ফোকাস করতে সক্ষম। এক দশক আগে ব্রেসলেট শুধু ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গেই পরতে দেখা যেতো। অতীতের ওই ধ্যান-ধারণা পাল্টে ফরমাল ও
ক্যাজুয়াল- উভয়ক্ষেত্রেই ব্রেসলেট দারুণভাবে মানিয়ে যায়। অতীতে যেতে হলে একেবারে আদিম যুগের মানুষের কথা বলতে হয়। তখন তারা পশুর হাড়, চামড়া কব্জিতে ব্যবহার করতো। কোনো রিচুয়াল স্থান থেকে এখনো ওই ধারণা পুরোপুরি উঠে যায়নি। পশ্চিমা বিশ্বে কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে হরেক রকমের ব্রেসলেট পরতে দেখা যায়। লেদার ও মেটাল, জুয়েলারি স্টেইনলেস স্টিল, সুতা, রাবার, পুঁথি, প্লাস্টিক উপকরণসহ নানান সামগ্রী ব্রেসলেটে ব্যবহার করা হয়। ছেলেদের ফ্যাশনে নতুন উপাদান ও নকশার ব্রেসলেট এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কিছু ব্রেসলেট সিলিকন অর্থাৎ নরম ধাতু দিয়ে তৈরি হয়। একেকজনের রুচি একেক রকম। তাই একেকজন একেক রকমের ব্রেসলেট পরতে পছন্দ করেন। অকেশনের ভিন্নতার কারণেও ব্রেসলেটের ভিন্নতা দেখা যায়। ব্রেসলেট ফ্যাশনের অন্যতম অংশ হলেও সব সময় গর্জিয়াস ব্রেসলেট পরাটা ঠিক না। পোশাকের সঙ্গে ম্যাচ করেই আপনার ব্রেসলেটটি পছন্দ করতে হবে। টিশার্ট, পোলো শার্ট, ক্যাজুয়াল শার্টের সঙ্গে লেদার অথবা রবারের ব্রেসলেট পরতে পারেন। আনুষ্ঠানিকতায় চেইন ও পিতলের

 তৈরি ব্রেসলেট পরতে পারেন। সেমিফরমাল পোশাকের সঙ্গে চামড়া বা কাঠ দিয়ে তৈরি ব্রেসলেট বেশ মানানসই। কুলবয় লুক পেতে কম-বেশি অনেকেই মেতে উঠছে ব্রেসলেট পরার জন্য। তাই কোন ধরনের ব্রেসলেট আপনি পরতে পারেন তা দেখে নিন-


ব্যাঙ্গেল ব্রেসলেট : ব্যাঙ্গেল স্টাইলের এই ব্রেসলেট বেশ জনপ্রিয়। পুঁথি ও নানান রঙের বালা এক সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাঙ্গেল তৈরি করা হয়। এটি যেমন সুন্দর তেমনি স্মার্ট।
বিডেড ব্রেসলেট : স্টোন, কাঠের টুকরা ও প্লাস্টিক দিয়ে ফুরফুরে মেজাজের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায় এই বিডেড।
কাফ ব্রেসলেট : একদিকে খোলা হয় এই ব্রেসলেটটি পরতে বেশ সুবিধা রয়েছে। এগুলো সাধারণত মেটালের হয়ে থাকে।
লেদার ব্রেসলেট : যারা মেটাল ব্রেসলেট পছন্দ করেন না তারা পরতে পারেন এই লেদার ব্রেসলেট। এটি স্মার্ট লুকের সাথে প্রকাশ করে আভিজাত্য ও ব্যক্তিত্ব।
লিংক ব্রেসলেট : একটার পর একটা স্টোন ও মেটালের কারুকার্য দিয়ে যুক্ত করে এই ব্রেসলেট তৈরি হয়। এই ব্রেসলেট আপনার রুচির পরিচয় দেবে তখনই যখন লিংক ব্রেসলেট নির্বাচনে ভুল করবেন না।
মাল্টিস্ট্রেন্ড ব্রেসলেট : অনেকটি চেইন এক সঙ্গে পেঁচিয়ে তৈরি করা হয় এ ব্রেসলেটটি। একটা সময় মনে করা হতো রঙবেরঙের ব্রেসলেট শুধু মেয়েদের হাতেই মানায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ফ্যাশনে এসেছে পরিবর্তন। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও  ব্রেসলেটকে ফ্যাশন
 

 

________________________


লেখা : শাফিক মালিক
স্টাইলিং: শাফিক মালিক
মডেল : জুবায়ের, শাকিল
ছবি :  শোভন আচার্য্য অম্বু

 হেয়ারকাট

 

কতো শত গান, কবিতা রচিত হয়েছে নারীর চুল ঘিরে। নারীর সৌন্দর্য বর্ণনায় চুলের উপমা থাকবেই। তবে ছেলেদের চুলের সৌন্দর্য অনেকটাই অপ্রকাশিত থেকে গেছে। মজার বিষয় হচ্ছে, সময়ের এমন পরিবর্তন এসেছে যে, নারীর চেয়ে ছেলেরা চুলের স্টাইল নিয়ে বেশি সজাগ এবং বৈচিত্র্যও অনেক।


নারীরা চুলের যত্নে হাতে গোনা কয়েকটা স্টাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। এক্ষেত্রে ছেলেরা চাইলেই তার চুলের স্টাইল চেঞ্জ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লুক নিয়ে আসেন। অতীতের ছেলেদের উড়ন্ত চুল বিপ্লব ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ধরা হতো। শুধু চুলই পারে কারো অবয়বের পুরোপুরি পরিবর্তন করে দিতে। হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে যে কোনো ছেলের কুল লুক, বয় লুক, অ্যারিস্টোক্রেসি, এথলেক, ব্যক্তিত্ববান, রাফ অ্যান্ড টাফ ও জেন্টেল লুক প্রকাশিত হয়। বর্তমান ফ্যাশনে ছেলেরা নিত্যনতুন হেয়ারস্টাইল নিয়ে খুবই সজাগ। তাদের হেয়ার ফ্যাশন দু’ভাবে হতে পারে। তা হলো লম্বা ও ছোট চুলের স্টাইল।


লম্বা চুলের জন্য একটি জনপ্রিয় স্টাইল হচ্ছে মেন বান কার্ট। সহজ কথা হচ্ছে চুলে একটি ঝুঁটি বাঁধা। এটি হতে পারে সব চুল এক সঙ্গে পেছনে বাঁধা আবার শুধু হেড বটম চুলগুলো ছোট করে ঝুঁটি বাঁধা। পেছনের চুল খোলা রাখা যেতে পারে। এটি বিভিন্ন স্টাইলেও করা যায়। আপনার ফেইস অনুযায়ী নিজের কাছে যেটি মানানসই হবে সেটিই করতে পারেন।


কুল লুকের জন্য গ্লোসার কার্ল ফ্যাশনে স্থান করে নিয়েছে। এই স্টাইল চোখে পড়ার মতো ইউনিক লুক এনে দেয়। এক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা আছে। আপনার চুল কার্লি না হলে এই কাট থেকে মন সরিয়ে নিন।
আপনার মাঝারি চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করে ফেলুন। করপোরেটের ক্ষেত্রে এটা এনে দেয় দারুণ লুক। এ স্টাইলটিকে বলা হয় ইজি সুইফট ব্যাক। তবে এটি আপনাকে ম্যাচিউরড লুক পেতে সাহায্য করে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে টিনএজারদের থেকেতুলনামূলকভাবে একটু বেশি বয়সের ছেলেদের এই কাট ভালো মানায়।

এবারের ঈদে তরুণদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের কাট হচ্ছে শর্ট স্টিকিং। দু’দিক থেকে বেশি ছোট করে বটম চুল একটু বড় করে জাম্পিংয়ে রাখা। ফুটবল তারকাদের মধ্যে এ স্টাইল বেশি দেখা যায়।
শর্ট সাইড পার্ট হাল ফ্যাশনের আরেকটি স্মার্ট কাট। বামদিকে ছোট করে একটা লম্বা স্পষ্ট সিঁথি বের করে বাকি চুলগুলো আঁচড়ে নিতে হয়। হাল ফ্যাশন থেকে ছিটকে পড়েছে পাম্প স্টাইল এবং বিভিন্ন স্পাইক। চুল যখন আপনার পুরো গেটআপ পরিবর্তন করতে সক্ষম তখন একবার ভেবে নিন, এবার ঈদে আপনি কোন স্টাইল বেছে নেবেন। সেটি আগে থেকে প্ল্যান করে হেয়ার ড্রেসারের কাছে যান।

 

_______________________________


লেখা : শাফিক মালিক
স্টাইলিং : শাফিক মালিক
মডেল : তুষার, আপেল, তনয়, রাসেল
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

সেকেন্ড ইনিংস

 

সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার। পরিবার আমাদের ব্যক্তি চরিত্র বিনির্মাণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিবার ছাড়া সমাজ, এমনকি রাষ্ট্রও অলীক। তাই মানব সভ্যতার প্রাথমিক ও চূড়ান্ত স্থানটি আজও পরিবারের। দেশে দেশে পরিবার বিভিন্নতর হলেও এর মৌলিক ভিত্তি একই। যৌথ পরিবার ভেঙে ভেঙে পরিবারের বিভিন্ন আদল আমরা দেখতে পাই। এতেও পরিবারের প্রতি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশা কমেনি। আর এই পরিবার টিকে থাকে আস্থা, ভালোবাসা, বিশ্বাস ও নির্ভরতায়। পরিবার তৈরি এবং টিকিয়ে রাখতে বিয়ে অনিবার্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়। এই বিয়ের ভবিষ্যৎ পরিবারের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ জন্য বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ের নানান প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। দেখলাম, ভালো লাগলো, ধুম করে বিয়ে করো- এসবই ভুল চিন্তা ও কাজ। এটি অস্বাস্থ্যকর দাম্পত্য জীবনের সূচনা করে। পশ্চিমা এক সাইকোলজিস্ট ও ম্যারিজ কাউন্সিলরের একটি লেখায় তিনি জোর দিয়েছেন বিয়ের আগে থেকে বিয়ে-পরবর্তী দায়িত্বগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার ব্যাপারে। পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত পারস্পরিক দায়িত্ব গ্রহণ ও পালন এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


বিয়ে হচ্ছে দুটি মন ও মানুষের এমন এক রসায়ন যা মিলে গেলে খুবই ভালো, না মিললেই তা হয়ে ওঠে হৃদয়বিদারক। আবার বিয়েটিকে আধা মিল ও আধা গরমিলের টান টান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করলে অত্যুক্তি হবে না। খেলায় যেমন হার-জিত থাকে তেমনি সামাজিক এ সম্পর্কটিতেও হার-জিত আছে। বিয়েতে সফল হতে না পারলে বা সম্পর্ক রক্ষায় হেরে গেলে সারা জীবন মাথা হেট করে নিজেকে অসফল ভাবার কিছু নেই। জীবন তো বহতা নদী। আর সামাজিক জীব হওয়ার কারণে মানুষের পক্ষে একা থাকা সম্ভব নয়। তাই প্রথম ইনিংসে হেরে যাওয়া খেলোয়াড় অনায়াসে খুঁজে নিতে পারেন দ্বিতীয় আরেক পার্টনার।বিয়ের পর দু’জন নতুন মানুষ এক সঙ্গে থাকতে শুরু করলে সহনশীলতা খুবই দরকার পড়ে। মূলত নিজের ‘প্রাপ্তি’ বা ‘আকাক্সক্ষা’ নিয়ে বেশি বেশি ভাবলে প্রবঞ্চিত অনুভব করার আশঙ্কা থেকেই যায়। যে কোনো শূন্যতাই মানুষকে তা পূরণে তাগিদ দেয়। সেটি মানসিক হলে মানসিক এবং জৈবিক হলে জৈবিক।


অনেকে বিয়ের গাঁটছড়া বেঁধে বেশ কিছুদিন এক সঙ্গে পার করে দেয়ার পর বুঝতে পারেন তারা ভুল মানুষকে বেছে নিয়েছিলেন। অনেক দ্বিধা ও ঝক্কি-ঝামেলা পেরিয়ে আলাদা হওয়ার পর আবার নতুন করে জীবন নিয়ে ভাবতে শুরু করেন অর্থাৎ দ্বিতীয়বার নতুন কারো খোঁজ করেন।
সুন্দর একটি আদর্শ কল্পনার জগতে পুরুষ ও নারীরা বিয়ে করবেন, এক সঙ্গে দীর্ঘ ও সুখের জীবন কাটাবেন এবং প্রায় একই সময়ে এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবেন। এক্ষেত্রে কখনোই দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজন হবে না। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এমনটি হয় না।
আমরা এমন এক জগতে বাস করি যা নিখুঁত কিংবা আদর্শ নয়, বরং নিখুঁত থেকে অনেক দূরে। মানুষ কখনো কখনো অল্প বয়সে মারা যায় তাদের দুঃখী সঙ্গীদের একাকী পেছনে ফেলে। বেশির ভাগ বিয়েই কেবল
তালাকের মাধ্যমেই শেষ হয় না।

 


মজার বিষয় হচ্ছে, দ্বিতীয় বিয়ের মধ্যে তালাকের হার প্রথম বিয়ের তুলনায় বেশি। কেউ হয়তো ভাবতেই পারেন, যার বিয়ে বিচ্ছেদ হয়েছে তার একটা শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাই হয়তো অতীতের ভুলগুলোর আর পুনরাবৃত্তি করবেন না। এক্ষেত্রে প্রায়ই তা হয় না। যারা নির্দিষ্ট চাহিদা পূরণের জন্য বিয়ে করেন কিন্তু এর পরিবর্তে নিজেরা কিছুই করতে প্রস্তুত নন তারা একই অভিপ্রায় নিয়ে সাধারণত দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ে কঠিন ঝুঁঁকিপূর্ণ রাস্তায় ঘোড়া চালানোর মতোই বিপজ্জনক ও নতুন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।একটা সময় ছিল যখন বাঙালি সংস্কৃতির মূল সৌন্দর্য ছিল মূল্যবোধ। ওই সময় ছেলেমেয়েরা মনে করতো, পরিবারের সিদ্ধান্তই তাদের জন্য চূড়ান্ত। নিজের চাহিদা বা ভালো লাগা, মন্দ লাগার চেয়েও পারিবারিক সম্মানই তখন বড় করে দেখা হতো।


সময় পাল্টেছে এর আপন গতিতে। এখন যে কোনো কিছুর চেয়ে মানুষ নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগাটাকে বেশি প্রাধান্য দেয় বা দিতে চায়। আগে যেমন দেখা যেতো সন্তানরা পিতার হেঁটে যাওয়া রাস্তায় হাঁটতো, বেছে নিতো পিতার পেশা। এখন আর তা দেখা যায় না মোটেও। বিয়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। এখন ছেলেমেয়েরা পরিবারের পছন্দের তুলনায় নিজেদের পছন্দেই বিয়ে করে। সমস্যা সেটি নয়, সমস্যা হলো- বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা বিয়ের পর মনে করে, ভুল সঙ্গীকে বেছে নিয়েছে। আর পরবর্তী সমস্যার সূত্রপাত এখন থেকেই। অতঃপর শুরু হয় নতুন সঙ্গী খোঁজার কার্যক্রম। সামাজিকভাবে প্রগতিশীল হলেও এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেয়ার মতো উদারতা আমাদের সংস্কৃতি দেখাতে পারেনি। যেখানে আগে মনে করা হতো বেশি বয়সে ভীমরতির কারণেই মানুষ দ্বিতীয় বিয়েতে ঝুঁকে পড়ে সেখানে বর্তমানে অল্পবয়সীদের দ্বিতীয় বিয়েও হচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। মিড লাইফ ক্রাইসিসের কারণে সৃষ্ট জটিলতাই মানুষকে পরিণত বয়সে অন্য রকম ভাবতে বা সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে বলে মনে করা হয়। জীবনের এই দ্বিতীয় ইনিংসে যাওয়ার প্রাক্কালে অনেকেরই চোখে ঝলমলে রঙিন চশমা থাকে। তারা সামনে যা কিছু দেখেন তা সবই রঙিন। অনেকে আবার পুরনো সব ভুল শুধরে নতুন করে জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেন। অনেক বিখ্যাত মানুষই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। অনেকে এর চেয়েও বেশি। এতে তাদের ভেতরকার শূন্যতা কতোটা কমেছে তা বোঝার চেষ্টা হয়তো কেউ করেননি কখনো।

তামাম দুনিয়ায় ভূরি ভূরি নমুনা আছে যেখানে কম বয়সী মেয়েকেই বেশি বয়সের পুরুষ পছন্দ করে বিয়ে করেছেন। উডি অ্যালেন ৫৬ বছর বয়সে ১৯ বছর বয়সের পারভিনের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন। ৩১ বছর বয়সে পা দিয়ে ক্যাথরিন জিটা জোনস ৫৬ বছর বয়সের মাইকেল ডগলাসের প্রেমে পড়েন। রুশদির সঙ্গে বিয়ের পর পদ্মালক্ষ্মীকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় ২৩ বছরের বড় একজনকে তিনি কেন বিয়ে করছেন? তখন পদ্মালক্ষ্মী সহাস্যে জানান, রুশদির মতো অমন বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লার্ট করতে আর কোনো পুরুষকে তিনি দেখেননি। বিয়ে না টিকলেও রুশদির সঙ্গে কাটানো প্রেমের মুহূর্তগুলোই পদ্মালক্ষ্মীর দাম্পত্যের শেষ কথা ছিল।
৪০ বছর বয়সে জীবন শুরু করা যায় অনায়াসে- এমন কথা ইদানীং মনোবিজ্ঞানীরা বেশ জোর দিয়ে বলে থাকেন। তাই দ্বিতীয় বিয়ের জন্য চল্লিশ-ঊর্ধ্ব বয়স কোনো বাধা নয় বলেই মনে করেন তারা। পরিণত বয়সে বিয়ের সম্পর্ক যৌনতাড়নার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্টি হয় না বলেই তাদের ধারণা।

নামকরা একটি প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মী কামাল আহমেদ (৫৭) সম্প্রতি বিয়ে করেছেন ৩৫ বছর বয়সের নাসরিন সুলতানাকে। কামাল জানান,
পরিবারসহ আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব- কারোরই সমর্থন ছিল না ওই বিয়েতে। খুব কাছের বন্ধুরাও ভীমরতির অভিযোগ তুলে দূরে সরে গিয়েছিল। জগিংয়ের সময় নববিবাহিত স্ত্রী নাসরিনের মুখটি মনে করতেই যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায় এবং জগিংয়ের স্পিডটিও যায় বেড়ে- হাসিমুখে এ কথা জানান তিনি।

রাফিয়া চৌধুরীর বয়স এখন ৪০ বছর । একা থাকার পরিকল্পনা করে হঠাৎই সরকারি রিটায়ার কর্মকর্তা মোস্তফা মাহমুদের প্রেমে পড়ে যান তিনি। যখন তাদের বিয়ে হয় তখন রাফিয়ার বয়স ৩৭ ও মোস্তফা মাহমুদের ৬৩ বছর। রাফিয়ার মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই নিষেধ করেছিলেন। বন্ধুরাও বুঝিয়েছিলেন, ওই বিয়েতে তার খুব শিগগিরই বিধবা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু রাফিয়া এসব কথা উড়িয়ে দিয়েছেন এই বলে, মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। তাছাড়া তিনি সকাল-বিকাল আড্ডায় মাহমুদের সঙ্গে যে উষ্ণতা অনুভব করতেন ওই টান উপেক্ষা করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। আবেগী কণ্ঠে তিনি এটিও বলেন, মাহমুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো পোশাকি যৌনতার চেয়ে ঢের ভালো।

অল্প পরিচয়ে আজকাল হুটহাট লং ড্রাইভে বেরিয়ে পড়েন অনেকেই কিংবা স্বল্প আলোয় কাটিয়ে দেন ওয়াইন চুমুকের সন্ধ্যা। এছাড়া যদি থাকে চনমনে সুন্দরী কিংবা আকর্ষণীয় সুপুরুষের সঙ্গ তাহলে আর কী চাই!

ফেরদৌসী সাবাহ পরিণত বয়সের বিয়ে নিয়ে অতি উৎসাহী। গল্পে গল্পে তিনি বললেন, নারীদের জন্য বিয়ের নির্দিষ্ট বয়স আছে। কারণ তাদের সঙ্গে মাতৃত্বের বিষয়টি জড়িত। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এসব ঝামেলা নেই। তাই তারা ৬০ বছর বয়স পার করেও অনায়াসে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দ্বিতীয় বিয়েতে প্রেম ও যৌনতা দৈনন্দিন জীবনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে এবং আটপৌরে জীবনে যোগ করে অন্য রকম মাত্রা। এখন মানুষের আয়ুর সঙ্গে বাড়ছে জীবন তৃষ্ণাও।
ফেরদৌসী সাবাহ এমন এক সময়ের অপেক্ষা করছেন যখন দ্বিতীয় বিয়ে, অসম বিয়ে, যে কোনো বয়সে বিয়ে- এসব নিয়ে কেউ আর কোনো প্রশ্ন তুলবেন না। কেউ বাঁকা চোখে তাকাবেন না কিংবা দ্বিতীয় বিয়ের পর সবার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য চারপাশের মানুষকে অনবরত যুদ্ধ করতে হবে না। সেটিই হবে জীবনের সহজ ধারা...। দিন গুনছেন ফেদৌসী সাবাহ।

 

_______________________________

লেখা : এনায়েত কবির
মডেল : আমানুল্লাহ হারুন ও নাহিদ
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : রেফায়েত উল্লাহ

স্ট্রেস...

 

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বা মানসিক চাপ কীভাবে কমাবেন, কী করবেন...
‘ক্লান্তি আমায় ক্ষমা করো প্রভু, পথে যদি পিছিয়ে পড়ি কভু!- এ গানের কথাগুলোয় হতাশা, ভীতি, এংজাইটি ও স্ট্রেসের ছায়া কি পাওয়া যায়? নাগরিক ব্যস্ততার এই দৈনন্দিন জীবনে ওই গানের লাইনগুলো প্রায়ই কি আমাদের মনে পড়ে না কারো কারো? হ্যাঁ হতাশা, আক্ষেপ ও ক্লান্ত-শ্রান্ত হৃদয়ের থেকে বেরিয়ে আসা দীর্ঘশ্বাসটি আসলে আমাদের মধ্যে মানসিক চাপ বা স্ট্রেসেরই সৃষ্টি করে।
স্ট্রেস শব্দটি যেন আমাদের দৈনন্দিন কর্মকা-ের সঙ্গে আজ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিদিনের প্রতিযোগিতামূলক জীবন ভূমিকায় আমরা প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছি, হয়ে পড়ছি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, প্যানিকড। তবে দুশ্চিন্তা, এংজাইটি- এসব স্ট্রেস নয়। স্ট্রেস হচ্ছে, আমাদের পারিপার্শ্বিক যে কোনো পরিবর্তন যা নিজের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। এটিই হলো ‘স্ট্রেস’। আর ওই স্ট্রেস মোকাবেলা করেই যিনি যতো বেশি চলতে জানেন তিনিই হন ততো সফল। তবে কে কীভাবে স্ট্রেস মোকাবেলা করবেন তা অনেকটাই নির্ভর করে তার বংশগত জিনের ওপর। এর সঙ্গে রয়েছে মানুষের স্বীয় ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী লড়াই করে চলার স্বভাবটিও।
ল্যাটিন শব্দ ‘স্ট্রিং’ মানে ‘টু ড্র টুগেদার’। এখান থেকেই ‘স্ট্রেস’ শব্দটি এসেছে। আরেকটি ল্যাটিন শব্দ ‘টেনসিও’ থেকে টেনশনের উৎপত্তি। শব্দটি পাশ্চাত্যের হলেও এই সমস্যায় ভুগছেন বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষ। সাধারণত মানুষের মনের দুটি অবস্থা আছে। এক. স্বাভাবিক বা নরমাল এবং দুই, অস্বাভাবিক বা অ্যাবনরমাল। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ আমাদের নিয়ে যায় ওই দু’য়ের মাঝামাঝি। আসলে শারীরিক, মানসিক কিংবা ইমোশনাল- যে কোনো বিষয় নিয়ে বাড়তি চিন্তাটিই আমাদের মনে ‘স্ট্রেস’-এর সৃষ্টি করে।

স্ট্রেসের কিছু ক্ষতিকর দিক আছে। তা হলো-

স্ট্রেসের কারণে দ্রুত রক্তচাপ বেড়ে যায়, হার্টবিট
দ্রুততর হয়।
ওজন বেড়ে যায়। কারণ তখন খাওয়াও বাড়ে।
হরমোন ডিসব্যালান্স হয়ে যায়।
মানসিক চাপে ত্বক কালো, শুষ্ক হয় ও ব্রণ জন্ম নেয়।
সোরাইসিস, রোসিয়া, অ্যাগজিমা, অ্যালার্জি বেড়ে যায়।
ত্বক প্রাণহীন ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে।

স্ট্রেসের কারণ
ঘড়ি কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার তাড়া, অফিসে কাজের চাপ, সংসার জীবনে ক্রমাগত কাজের ভারে হাঁপিয়ে ওঠা কিংবা সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো যে কোনো কিছুই হতে পারে কারো জন্য মেন্টাল স্ট্রেস বা মানসিক চাপের কারণ। পরীক্ষাভীতি, বেকার জীবন- এসবও স্ট্রেসের খুব সাধারণ কারণ হতে পারে। তবে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলার ক্ষমতা ও টাইম ম্যানেজমেন্টে যিনি যতো বেশি দক্ষ, তিনি ততো বেশি স্ট্রেস ম্যানেজ করে চলতে পারেন।
যাহোক, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের কিছু অতি সাধারণ অভ্যাস এই মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থেকে অনায়াসেই আমাদের মুক্তি দিতে পারে। এটি নিয়ন্ত্রণে যা করতে হবে তা হলো-
সকালে নির্দিষ্ট সময়ের ১৫ মিনিট আগেই ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে অলসতা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
মর্নিং ওয়াক করতে হবে। তা পার্ক বা উদ্যানে না হলেও নিজের বাগান, বারান্দা বা ছাদে হাঁটা যেতে পারে। সকালের বিশুদ্ধ বাতাসে হাঁটাহাঁটির অভ্যাস সারা দিনের জন্য বাড়তি মানসিক শক্তি জোগায়।
সকালের নাশতা সময় নিয়ে খেতে হবে। তাড়াহুড়ায় অনেকেই নাশতা না করে বের হয়ে যান বা অফিসেই খেয়ে নেন কিছু একটা। এটি অনেক বড় ভুল চর্চা। বরং সকালের সময়টুকু এমনভাবেই ম্যানেজ করতে হবে যাতে বেশখানিকটা সময় নিয়ে ব্রেকফাস্ট করা যায়। এতে সারা দিনের কাজে এনার্জি লেভেল দিনের শুরুতেই অর্জন করা যায়।
কর্মজীবী বা গৃহে যারা কাজ করেন তাদের জন্যই সকালে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে কী কী কাজ করতে হবে এর তালিকা তৈরি করে ফেলা একটি ভালো উপায়।
কাজের মধ্যে বিরতি দিতে হবে। টানা কাজ মেন্টাল স্ট্রেস বাড়ায়। প্রতি এক ঘণ্টায় কাজের পর অন্তত ১০ মিনিট সিট থেকে উঠে হাঁটা উচিত।
অনুরোধে ঢেঁকি গেলার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। অকারণে অন্যকে খুশি করা কিংবা অযাচিত ভয়ে সব কাজ মাথা পেতে নেবেন না।
স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের একটি ভালো উপায় হলো যোগ ব্যায়াম। যেমন- দুপুরে লাঞ্চের পর যে সময় একটু ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে, ওই সময় গভীর একটা শ্বাস নিয়ে তিন সেকেন্ড ধরে রাখুন। এভাবে পর পর পাঁচবার শ্বাস নেয়া আর ছেড়ে দেয়ার ব্যায়াম করলে শরীর বেশ চাঙ্গা হয়ে ওঠে।


অনেকে আছেন, অফিস থেকে ফিরেই সংসারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এটি কখনোই করা যাবে না। বরং পারলে আরামদায়ক গোসল আর চা পর্ব সেরেই বাড়ির কাজে মাথা ঘামানো যেতে পারে।
নিজের জন্য আলাদা একটু সময় বের করা আমাদের মানসিক শান্তির জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। এটি হতে পারে টিভি দেখা, বই বা পত্রিকা পড়া অথবা অন্য কোনো কিছু।
অনেকেই বলেন, রাতে ঘুম হয় না। নানান চিন্তা আসে। অনেকের কাছেই ওই রাত হলো আগামীকাল নিয়ে ভেবে ভেবে ঘুম হারামের কারণ। এ দলটিই হচ্ছে ভয়ঙ্কর মানসিক চাপের রোগী। কাজেই মানসিক চাপ তথা স্ট্রেস থেকে বাঁচতে হলে অহেতুক ভাবনা-চিন্তা মাথা থেকে বের করে ফেলতে হবে। মৃদু শান্ত সঙ্গীত কিংবা মেডিটেশনও ভালো ঘুম আনতে সহায়ক হতে পারে।
মানসিক চাপ কমাবার জন্য একটি অনন্য মাধ্যম হলো হাসি। প্রাত্যহিক জীবনে হাসির উপাদান রাখতে হবে। হাসতে পারেন এমন বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেয়া উচিত। অযথা নেতিবাচক কথাবার্তা বলা বা দূরভিসন্ধিমূলক আচরণের সঙ্গ পরিত্যগ করাই ভালো। হাসি আমাদের জীবনীশক্তি। হাসির মুভি, কমিকস- এসব উপাদানও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো অভ্যাসটিও মানসিক চাপ কমায়। শিশুদের সঙ্গে খেলা, হাসা, ছেলেমানুষি কিছুক্ষণের জন্য হলেও আমাদের স্ট্রেসমুক্ত করে তোলে।
প্রতিটি পরিস্থিতির ভালো ও খারাপ- দুটি দিকই আছে বা থাকতে পারে। পজিটিভ দিকটি দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আমাদের অবচেতন মনের সার্বক্ষণিক চিন্তাই আমাদের চেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওইদিকেই জীবন ধাবিত হয়। তাই পজিটিভ দিক দেখার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
‘না’ বলতে শিখুন। মাঝে মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে না বলার অভ্যাসটাও করুন। অবশ্য বিনয়ের সঙ্গে এবং কেন না বলতে বাধ্য হচ্ছেন ওই কারণটি সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করুন। ফলে স্ট্রেস তৈরি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে গোড়াতেই দূর করা যাবে।

স্ট্রেসে করণীয়
স্ট্রেস ও টেনশন হলে মাথায় খুশকি হয়। চুল পড়ে যায়। এ জন্য রোজ ড্যানড্রাফযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। চুল পড়া কমে যাবে।
স্ট্রেস হলে হরমোন ডিসব্যালান্স হয়। ফলে মুখে ব্রণ হয়। রোজ ভালো করে হারবাল ফেসিয়াল ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত। লবঙ্গযুক্ত ক্রিম লাগালে ব্রণ কম হবে।
টেনশন বা স্ট্রেসের কারলে মুখে পিগমেন্টেশন হয়। এতে কালো হয়ে যায় মুখ। রোজ দুধ দিয়ে মুখ ধুলে মুখ পরিষ্কার থাকবে।
স্ট্রেস বা টেনশন হলে সোরাসিস বা রোসিয়া হলে ময়শ্চারাইজার লাগাতে হবে। এ জন্য চিকিৎসককেও দেখানো উচিত।
পরিশেষে বলা যায়, দৃঢ় মানসিকতা গড়ে তুলতে হলে এবং আনন্দময় নির্মল জীবন যাপনের হাতিয়ারই হলো কিছু সুঅভ্যাস ও আত্মসচেতনতা। একটু সচেতনতার সঙ্গে প্রাত্যহিক জীবনের কর্মকা- পরিচালনা করলেই জীবন হয়ে উঠবে অনাবিল সুন্দর। সবার স্ট্রেস বা মানসিক চাপবিহীন সুন্দর জীবন কামনা করছি।

 

__________________

লেখা : শায়মা হক
মডেল : মোউশান
ছবি : স্বাক্ষর

গ্রীষ্মে সাজ ও ত্বকের যত্ন

 


‘উৎসব মানেই রঙ বাহারি পোশাক। আর উৎসবটি যদি হয় র্বষবরণ তাহলে তো কথাই নেই। লাল, সাদা, হলুদ, বেগুনি, সবুজ কিংবা নীল- কোনো রঙেই নেই মানা। কারণ সময়বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে ফ্যাশন ট্রেন্ডও। পহেলা বৈশাখে এখন আর কেউ শুধু লাল-সাদা পোশাকই পরেন না, লাল-সাদার সঙ্গে অন্য রঙগুলোও জড়াজড়ি করে জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশন ডিজাইনারের ক্যানভাসে। আর এতো কালারফুল পোশাকের সঙ্গে সাজটি সাদামাটা হলে তো আর হবে না! এদিকে গ্রীষ্মের খরতাপও সঙ্গেই থাকবে। তাই মেকআপ করতে হবে এসব কিছু মাথায় রেখেই’- বললেন হারমনি স্পা ও ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতানা রীতা।

তিনি বলেন, এখন তো গরম, ঘাম, ধুলাবালি। তাই দিনের মেকআপ একটু হালকা হওয়াই ভালো। প্রথমে মেকআপ কিটসগুলো একটু গুছিয়ে নিন। এরপর মুখে কিছুক্ষণ বরফ ঘষে নিন। এবার লাগিয়ে নিন সানস্ক্রিন। কারণ রোদে ঘোরাঘুরি করতে হবে। আর গরমে লিকুইড, না হয় ম্যাট ফাউন্ডেশন লাগান। এর ওপর লাগিয়ে নিন কম্প্যাক্ট পাউডার। স্কিন টোনের কাছাকাছি হওয়াই ভালো ব্লাশন। পিংক কিংবা ব্রাউন হতে পারে। চোখের সাজে এবার নতুনত্ব এসেছে। দিনের সাজে স্মোকি লুক এখন অচল। গাঢ় কাজলও এখন চলছে না। হালকা কাজলের রেখা টেনে দু’তিন রঙের শ্যাডো পেন্সিল দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন চোখ। তবে চোখের পাপড়িতে মাশকারা লাগাতে ভুলবেন না। সেটি হতে হবে অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ। না হলে গরমে ঘামে গলে যেতে পারে। আর লিপস্টিকে এখন ম্যাটের ট্রেন্ড চলছে। গরমে এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং গাঢ় উজ্জ্বল রঙগুলো উৎসবের সঙ্গেও বেশ মানানসই। লাল, গোলাপি কিংবা কমলা লাগাতে পারেন অনায়াসে। টিপের জন্য তো কোনো চিন্তা নেই। এই উৎসবে সবচেয়ে বেশি যায় বড় একটি লাল টিপ। দুই রঙের কম্বিনেশন করতে চাইলে প্রথমে একটি বড় টিপ পরুন। এরপর ওই টিপের ওপর বসিয়ে দিন অন্য রঙের এক সাইজ ছোট টিপ।
মেকআপ তো হলো। কিন্তু চুল বাঁধবেন কীভাবে? আর গহনাই বা কী পরবেন? পহেলা বৈশাখের সাজে ট্রাডিশনাল খোঁপাই যেন বেশি মানিয়ে যায়। তবে এখন আবার বেণীর চলটিও ফিরে এসেছে। ট্রাডিশনাল খোঁপা হলেও এর ধরনে পরির্বতন এসেছে। সবচেয়ে সহজ বুদ্ধি হচ্ছে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে উঁচু করে চুলগুলো আটকে নেয়া। অর্ধেক ছাড়া আর অর্ধেক আটকানো থাকলে দেখতে যেমন ভালো লাগবে তেমনি গরমে আরামও পাওয়া যাবে। বাজারে এখন সুুন্দর সুন্দর পাঞ্চ ক্লিপ পাওয়া যায়। যাদের ছোট চুল তাদের জন্যও সুন্দর পাঞ্চ ক্লিপ পাওয়া যায়। গরমে ছোট চুলও না ছেড়ে ক্লিপ দিয়ে উঁচু করে আটকে নিলেই ভালো হয়। তবে অবশ্যই চুলে গুঁজে নেবেন একটি তাজা ফুল। বেণী হলে একগুচ্ছ ফুল অথবা মালা জড়াতে পারেন। কিন্তু খোঁপা অথবা ঝুঁটি হলে একটি ফুল হলেই সুন্দর দেখায়। আর অলঙ্কার ছাড়া নারীর সাজে যেন র্পূণতা আসে না। তাই বলে এই গরমে একগাঁদা উল্টা-পাল্টা অলঙ্কার পরলেই তো আর হলো না! গহনাও পরতে হবে উৎসবের মেজাজ ও গরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখেই।
রাহিমা সুলতানা বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির উৎসব। এ উৎসবে আমাদের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা উচিত। এই গরমে ইমিটেশন কিংবা কোনো ধরনের মেটালই এখন পরা উচিত নয়। বরং মাটির পুঁতি, কাঠ, সুতার তৈরি অলঙ্কার এই উৎসব ও আবহাওয়ার সঙ্গে বেশি মানানসই।
সাজ পোশাক যাই করুন না কেন, প্রচ- এই গরমে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। খুব ভালো হয় মৌসুমি তাজা ফলের শরবত খেতে পারলে। এতে পানি যেমন পাওয়া যাবে তেমনি পাবেন ফলের পুষ্টিও। এটি আপনার ক্লান্তি দূর করবে। এছাড়া উৎসবে আপনি থাকবেন প্রাণবন্ত।

ত্বকের যত্ন
ত্বক সব সময় ঠা-া ও পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ঠা-া পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। সম্ভব হলে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই। দিনে তিন-চার লিটার পানি আধা গ্লাস করে একটু পর পর পান করতে হবে। এছাড়া যে কোনো ফলের রস পান করাও উপকারী।

রোদে যাওয়ার আগে
ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শুধু সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই হবে না, গোসল করে নেয়া ভালো। পানিতে কয়েক ফোঁটা বেনজয়েন অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে গোসল করলে ঘামে দুর্গন্ধ ও রোদে ত্বক কালচে হবে না। ওষুধের দোকান বা সুপারশপে ওই অয়েল পাবেন। চার ঘণ্টা পর পর ল্যাভেন্ডার অয়েল সমৃদ্ধ ওয়েট টিস্যু দিয়ে ত্বক মুছে দিতে হবে।

রোদে পোড়া ভাব দূর করতে করণীয়
যে কোনো ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা পেস্ট উপকারী। রাতে টক দই, ডিমের সাদা অংশ মিশ্রণ প্যাক হিসেবে ত্বকে লাগানো যেতে পারে। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এছাড়া সুজি হালকা ভেজে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এটি স্ক্রাবের কাজও করবে। স্ট্রবেরি, টক দই ও ময়দার মিশ্রণ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো। আর শুষ্ক ত্বকের জন্য ব্যবহার করা যাবে দুধের সর, যে কোনো বাদাম, মধু ও সামান্য চিনির মিশ্রণ।
যাদের ত্বক পাতলা তাদের নিতে হবে বাড়তি যত্ন। এ ধরনের ত্বকের চামড়া ভেদ করে শিরার রেখা চোখে পড়ে। অনেকের পাতলা ত্বক রোদে গেলে অল্পতেই লাল হয়ে যায়। ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া হয়। যাদের ত্বক পাতলা তাদের বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত রোদ এড়িয়ে চলা উচিত। আর রোদে বের হলে অবশ্যই ত্বক বুঝে সানব্লক ব্যবহার করতে হবে এবং সঙ্গে রাখতে হবে ছাতা। বাইরে থাকলে দুই ঘণ্টা পর পর নতুন করে ত্বকে সানব্লক লাগতে হবে। কিছু ফেস পাউডারও সানব্লকের কাজ করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা এমন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। রোদচশমা ও হ্যাট জাতীয় বড় টুপি ব্যবহার করতে হবে যেন মুখের চোয়াল ও এর আশপাশের স্থানে রোদ না লাগে। এরপরও যদি ত্বক লাল হয়ে জ্বালা করে তাহলে বরফ ঘষতে হবে অথবা ঠা-া পানির ঝাপটা দিতে হবে।

 

_____________________________

মডেল : নদী
মেকওভার : ক্লিউপেট্রা বিউটি স্যালন
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু

Page 2 of 4

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…