শৈশব স্মৃতি

শৈশব স্মৃতি

হাসান আজিজুল হক

 

রবীন্দ্রনাথের কথায় বলতে হয়, ‘আমি কেবলি স্বপন করেছি বপন আকাশে।’ মাটি ছাড়া কোনো বীজ বপন করা কি যায়? কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত স্বপ্ন-আকাক্সক্ষার বীজ বুনে থাকি। তা না হলে বেঁচে থাকাটা অসম্ভব কষ্টকর হয়।

আমরা বর্তমানে বাঁচি, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি, কল্পনা করি। পেছনে যেটি ফেলে আসি সেটি অতীত। তা নিয়ে যখন কথা বলি তখন সেটি হয়ে যায় স্মৃতিচারণ। মানুষের জীবনে কোনটা গুরুত্বপূর্ণÑ অতীত, বর্তমান, না ভবিষ্যৎ? নিশ্চয় বর্তমানটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তা সরাসরি এই মুহূর্তে বেঁচে থাকার সঙ্গে যুক্ত। তাহলে ভবিষ্যৎ কতোটা গুরুত্বপূর্ণ? কিছুটা বটে। কিন্তু বর্তমানের সঙ্গে তুল্য নয়। ভবিষ্যতের একটা বিরাট অংশ স্বপ্ন আর কল্পনা। রবীন্দ্রনাথের কথায় বলতে হয়, ‘আমি কেবলি স্বপন করেছি বপন আকাশে।’ মাটি ছাড়া কোনো বীজ বপন করা কি যায়? কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত স্বপ্ন-আকাক্সক্ষার বীজ বুনে থাকি। তা না হলে বেঁচে থাকাটা অসম্ভব কষ্টকর হয়। এতো যন্ত্রণা? প্রতিনিয়ত ক্ষয়, প্রতিনিয়ত মৃত্যু। আমরা মৃত্যু বলি একটি বিশেষ সময়ে যখন সব স্থির, নিথর হয়ে আসে। এটি তো একদিনে ঘটে না। তা শুরু হয় জন্মের পর থেকেই। মুহূর্ত থেকে মুহূর্তে। এক মুহূর্ত মৃত্যু হলে পরের মুহূর্তের জন্ম হয়। এ মুহূর্তটির মৃত্যু হলে নতুন আরেকটি মুহূর্তের জন্ম হয়। তবু আমি জীবনটাকে আগ্রাসী হয়েই গ্রহণ করি। আমার হিসাব খুব সহজ। জন্মের আগের কোনো স্মৃতি আমার কাছে নেই। মৃত্যুর পরে আলো, না অন্ধকারÑ তা জানি না। যা জানি তা ভুল জানি। তবু জীবনটাকে আমরা মূল্য দিই। প্রতিমুহূর্তে মরি আর প্রতিমুহূর্তে বাঁচি। ওই মৃত মুহূর্তগুলো একত্রে করলে এরই নাম হয়ে যায় স্মৃতি।
আমার অনেকটা বয়স হলো। এর অর্থ হলো, স্মৃতিচারণের জন্য অনেকটাই অতীত আমার রয়েছে। স্মৃতিচারণ করতে তাকেই বলা হয় যে বর্তমানের সমস্যা সমাধান করতে অপারগ, অক্ষম। এক কথায় যে বাতিল মানুষ। কাজেই স্মৃতিচারণটা এক অর্থে বর্তমানে যে মৃত বা প্রায় মৃত অথবা মুমূর্ষু তাকেই তার জীবনটা পর্যালোচনা করে দেখতে বলা হয়। আমি স্মৃতিচারণ করি সুখে। এ কারণে নয়, মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে আর বেশি কথা বলার সময় নেই। কেননা প্রতিমুহূর্তে শুধু জীবিত থাকা নয়, প্রবলভাবে জীবিত থাকতে চেষ্টা করি। মৃত্যুর মুহূর্তে কী ঘটবে জানি না। কিন্তু যতোক্ষণ পর্যন্ত আমার চেতন মন কাজ করছে ততোক্ষণ যুক্তি দিয়ে, প্রবৃত্তি দিয়ে সবদিক থেকে প্রবলভাবে বেঁচে থাকা বলতে যা বোঝায় ওই বেঁচে থাকাটায় সম্মান করি। তবে আমি চাইলে কী হবে! জীবনে একটা জিনিস না চাইলেও ঘটে, নিষেধ করলেও শোনে না। তা হচ্ছে বয়সের বৃদ্ধি ঘটা। এ জন্য পরিচর্যা করতে হয় না, আকাক্সক্ষা করতে হয় না, সার দিতে হয় না। আমারও বেড়েছে। আর বেড়েছে বলেই অতীত প্রচুর লম্বা হয়ে গেছে।
আমার ঝুলিটা এখন পরিপূর্ণই বলা যায়। দুর্ভাগ্যক্রমে অনেক কিছুই ভুলি না। একদিক থেকে অনেক জিনিস ভুলে যাওয়া ভালো। কষ্ট দিয়েছ, দুঃখ দিয়েছ, শোক-তাপ দিয়েছÑ এসব ভুলে যাওয়া ভালো।
স্মৃতি সততই মধুরÑ এই কথা ঠিক নয়। তবে এখন আর আমার ওই কষ্ট বর্তমানের নয়। তাই কষ্টগুলো এখন আনন্দের মনে হয়। জীবনে যে সংগ্রাম করতে হয়েছেÑ সংগ্রাম বলতে একেবারে যাকে বলা যায় খাওয়া-পরার জন্য সংগ্রাম, একটা দেশ থেকে আরেকটা দেশে বিরাট একটা পরিবার নিয়ে গিয়ে তারপর সেটি চালানো এটি যে কতােটা কষ্টকর ছিল একটা সময়! সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি। এখন ভালো লাগে, এতো কষ্ট সার্থক হয়েছে।
আমি কথা বলতে ভালোবাসি। এটি প্রমাণ করেছি আমার লেখায়। চার খ-ে আমার শৈশব-কৈশোর ধরেছি। স্মৃতির কাছে ফিরে গেলেই পরিষ্কার দেখতে পাই রাঢ়ের ওই বিশাল প্রান্তর শেষে চলিয়াছে বায়ু অকূল উদ্দেশে। রাঢ়ের মাঠগুলো দেখতে পাই, প্রান্তরগুলো দেখতে পাই। কতো দূরে যে দিগন্ত মাটি ছুঁয়েছে তা হিসাব করতে পারি না। একটা কল্পনাপ্রবণ বালক মাঠের ধারে এসে বসে থাকে। ঠাকুরমার ঝুলির ওই গল্পের কথা মনে পড়ে যায়। সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে তেপান্তরের মাঠ। সেখানে শূন্য একটি রাজপ্রসাদ। রাজপ্রসাদের চারপাশ জঙ্গলাকীর্ণ। ওই রাজপ্রসাদের ভেতরে চিরঘুমে ঘুমিয়ে আছে রাজকুমারী। মাথার কাছে সোনার কাঠি, পায়ের কাছে রুপার কাঠি। বদলাবদলি করে দিলেই সে চোখ মেলবে। তাকে কোনোদিনই জাগাতে চায় না রাক্ষসগুলো। রাক্ষসগুলোর প্রাণ ভ্রমরা আছে। রাজকুমার সেটি তুলে যখন পিষছে তখন হাহাকার করতে করতে ছুটে আসে ডাইনি, রাক্ষসী, পিশাচি। চারদিক থেকে ছুটতে ছুটতে আসে। কিন্তু বাড়ির দরজা পর্যন্ত পৌঁছার আগেই সবাই মারা গেল।
ছোটবেলায় গ্রামে ছিলাম। এখন যেখানে থাকি এর আশপাশের গ্রামগুলোয় যাই। না, রাঢ়ের গ্রাম তো এমন ছিল না। কেমন ছন্নছাড়া গ্রাম। গ্রামে শহর ঢুকেছে। কিন্তু ভালোভাবে ঢুকতে পারেনি। খড়ের ছাউনি দেয়া বাড়ি থাকলেও বেশির ভাগই ভেঙে গেছে কিংবা খড় বাদ দিয়ে টিন দিয়েছে অথবা দাঁত-মুখ বের করে আছে এমন ইট দিয়ে তৈরি বাড়ি। ছন্নছাড়া জীবন। এটিকে গুছিয়ে সুন্দর করে যাপন করার কথা যেন তারা ভাবতেই পারে না। আমাদের রাঢ়ের গ্রামের এমন বাড়ি ছিল না যেটি পরিপাটি ছিল না। এমন সংসার ছিল না যার উঠান ছিল না। উঠান প্রতিদিনই হিন্দুরা গোবর পানি দিয়ে ধুতো, মুসলিমরাও গোবর পানি দিয়ে ধুতো কোনো কোনো সময়। বাড়িতে ঢুকলেই একটা শান্তি। ঢুকতেই সন্ধ্যামালতী ফুলের গাছ।
আমি ছোটবেলা প্রায় উন্মাদ বালকের মতো দিগ-দিগন্তে ছোটাছুটি করেছি। বিরাট বিরাট মাঠে ঘুরে বেড়িয়েছি। মাঠের একেবারে শেষে পর্যন্ত গিয়েছি। মনে পড়ে খলখলির মাঠের কথা। সেখানে গেলে বড় বড় বিষধর সাপের খোলস দেখা যেতো। ঘন তাল গাছের সারি। ওই তাল গাছের তলায় কাঁটা জঙ্গল। এর ভেতর নানান সাপ- খোপের বাসা। একালের ছেলেরা ভাবতেও পারবে না! ভেবেও লাভ হবে না। কেন যেতাম? একেকটা বিশাল দুপুর কেন পার করতাম? গ্রামে থেকে এক মাইল দূরে দুটি অশ্বত্থ গাছ ছিল দূরের খলখলির মাঠে। দুটি অশ্বত্থ গাছকে মনে হতো যমজ ভাই। কী বলিষ্ঠ দুই ভাই!
এরপর মনে পড়ে কালাগড়ের মাঠের কথা। সেখানে একটা জমি ছিল আমাদের। একটা জমিই সাত বিঘা। সাত বিঘার বাকুড়ি বলা হতো। কালাগড়ের ওখানে ওই শ্যাওড়া শিউলি গাছটা। সবাই বলতো ভূত-প্রেত, দানব আছে ওখানে। খবরদার! ওখানে যাস না, বিরাট একটা সাপ আছে। যে যাবে তাকে সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে-পেঁচিয়ে মেরে ফেলবে। গা ছমছম করছে। তবু গিয়েছি। কিছু নেই। ভীষণ নির্জন। নির্জনতার একটি শব্দ আছে।
রাঢ়ের দুপুরের একটা শব্দ আছে। অনেক দূরে দেখা যাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় উঠেছে। অল্প একটু জায়গা পাক দিয়ে উপরে উঠছে। লোকজন বিশ্বাস করতো। তারা বলতো, ওগুলো ঘূর্ণিঝড় নয়, মানুষের প্রেতাত্মা। এসব দেখা। তারপর কী কী খাওয়া যায় তা চেখে দেখার শখ। তেতো, মিষ্টি, কষাÑ সবকিছু খেয়ে দেখেছি। বইচি ফল খেতে ভালো। কিন্তু এর ভেতরে বড় বড় বিচি পট পট করে দাঁতে বাধে। বনকুল আছে। কাঁটা জঙ্গলে ভরা। এর মধ্যে মাটি বা ইট দিয়ে ধাপ তৈরি করে সেখানে গিয়ে ভেতরের বনকুলগুলো সংগ্রহ করেছি। সেখানে চন্দ্রবোড়া সাপের মুখোমুখি হওয়া।
মনে পড়ে, একদিন ফুটবল খেলার মাঠ থেকে ফিরে আসছি। ঝোপের ভেতর থেকে হিস শব্দ শুনলাম। এরপরই দেখলাম একটা কালো রঙের সাপ আমার পায়ের ওপর ছোবল মারলো। আমার পায়ের বাম অঙ্গুলির এক ইঞ্চি দূরে পড়লো সে ছোবল। সন্ধ্যার অন্ধকারে মাথা দোলাতে দোলাতে একটা কালকেউটে সাপ বের হয়ে এলো। সাহসী সাপ তো! সেটি ঝোপ থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সামনে ফণা দোলাচ্ছে। একজনের হাতের নিশানা কী! এমনভাবে একটি ঢিল মারল যে, মাজাটা গেল ভেঙে। আরেকবার এ রকম একটি সাপের লেজ ধরতে গিয়েছিলাম। গর্তের ভেতরে শুয়ে আছে কালো রঙের একটি সাপ। ফোঁস করে উঠলো। পুকুরে স্নান করতে যেতাম। বিরাট একটি দীঘি। লোকে বলে, পুকুরের মধ্যে বিরাট একটা কু-লী আছে। টেনে নিয়ে যাবে। যতো এগিয়ে যাচ্ছি ততোই ঠা-া জল। যতো নামছি ততো হিম ঠা-া জল। একবার তলায় পৌঁছে সেখান থেকে কাদা তোলা। তাল গাছের ওপর বাজ পড়ে মাথাটা গেছে উড়ে। ওই মাথার ওপর দাঁড়িয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়েছি। আমাদের স্কুল ছিল পাকা। ওখানেই গাছটা ছিল। এগুলো খুব বাল্যবয়েসের স্মৃতি। আমি দুর্দান্ত ছিলাম। কিন্তু কারো ক্ষতি করিনি। মানুষের খুব পছন্দের বালক ছিলাম। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে আমাকে সবাই ভালোবাসতো। মহরমে আছি, কলেরা লেগেছে গান গেয়ে বেড়াচ্ছি। বাবা বলতেন, কিছু করতে হবে না। পানিটা ফুটিয়ে খা। কোনো খাবার এক মুহূর্তের জন্য খোলা রাখবি না। বাবার ওই ছোট্ট আদেশে আমাদের বাড়িতে কোনো কলেরা হয়নি। লাঠি খেলেছি, মাদার খেলেছি। অদ্ভুত অদ্ভুত খেলা ছিল। মাদার মেয়ে মাঝে মধ্যে ক্ষেপতো। বহুদূর থেকে পতাকা ওড়াচ্ছে দেখে বুঝতাম মেয়ে মাদার ক্ষেপেছে। এরপর একটি বাড়িতে গিয়ে নাক ঘষতো। মুরগিটা না দিলে মাদার বাড়ি থেকে নড়বে না।
এভাবে যার জীবন কেটেছে তার কি খারাপ কেটেছে? একই সঙ্গে আমার পড়ার ঝোঁক। কতো ছোটবেলা থেকে পড়ছি। কতো বই পড়েছি! আমার বয়স কতো কম। তখন কতো ভারী ভারী বই পড়েছি। টলস্টয়, রোমা রঁলা, ডিকেন্সÑ এসব পড়েছি। ভাঙা আলমারিতে প্রচুর বই জোগাড় করেছি। ডিটেক্টিভ ভালো লাগতো। হেমন্দ্র কুমার রায়ের বই দিয়ে ভরে ফেলেছি। একটি সিরিজ ছিল। কাজেই খুব ছেলেবেলা থেকেই মনটা খালি আর ফাঁকা যায়ািন।
দশ বছর বয়সে স্কুলে ক্লাস ফাইভে ভর্তি হয়েছি। স্কুলের সংখ্যা তখন অনেক কম ছিল। মাটির দেয়াল, খড়ের ছাউনি, ছোট ছোট গোটা দুয়েক ঘরÑ এই হলো স্কুল। চার-পাঁচটি গ্রামের জন্য একটি করে স্কুল। আশপাশের অনেক গ্রামই আমাদের গ্রামের চেয়ে উন্নত। কিন্তু স্কুল আছে শুধু আমাদের গাঁয়ে। আর ওই স্কুল হচ্ছে পাকা দালান বাড়িতে। কারণ একটাই। কাশিমবাজারের মহারাজা মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দীর বিয়ে হয়েছিল আমাদের গাঁয়ের মেয়ের সঙ্গে। এ কারণেই তিনি এ গ্রামে পাকা দালানের হাই স্কুল তৈরি করে দিয়েছিলেন। তার স্ত্রীর নামে আমাদের গ্রামের স্কুলের নাম যবগ্রাম মহারানী কাশীশ্বরী উচ্চ ইংরেজি ইনস্টিটিউট। এ ছাড়া স্কুলের কাছে বিরাট একটি দীঘি কাটিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এটির কাকচক্ষু কালো জল। উত্তর-দক্ষিণ দু’পাড়ে তাল আর অশ্বত্থ গাছ। মাছে ভরা ছিল দীঘি। বড়ো জাল দিয়ে ধরা হতো ২০-৩০ সের ওজনের রুই-কাতলা। গাঁয়ে আরো ছিল বিশাল একটি খেলার মাঠ। গাঁয়ের ভেতরে ছিল পাকা শিবমন্দির, প্রচুর ধানের জমি। ওই স্কুলের কারণেই আশপাশের পাঁচ-সাতটি গ্রামের ছেলেরা যবগ্রামে পড়তে আসতো।
ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত টানা ছয় বছর ওই স্কুলে পড়েছি। ছাত্রী একজনও ছিল না। হিন্দু-মুসলমান কেউই তাদের মেয়েদের স্কুলে পাঠাতো না। সময়টা তখন দুঃস্বপ্নে ভরা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে। ১৯৩৫ সালের আইন প্রচলনের ফলে নির্বাচন হয়েছে বাংলাদেশে, সাম্প্রদায়িকতা বাড়লো। কংগ্রেস ও মুসলিম লীগকে ব্রিটিশ সরকারের উসকানি ও ভেদমূলক নীতির ফলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এক রকম করতে হচ্ছে। ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের ভয়ঙ্কর, দুঃসহ, সরকারের ইচ্ছাকৃত দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু, পাকিস্তান আন্দোলনÑ একের পর এক আঘাত আসছে তখন। দূর নিভৃত গ্রামে বসে আমরা এসব তেমন টের পাই না বটে তবে ঢেউ হলেও কিনারা পর্যন্ত আসে। কিন্তু বালকের কোনো কিছুতেই ঘাটতি পড়ে না।
স্কুলটাতেই সব পেয়েছি। মাস্টার মশাইÑ সবাই ভীষণ ভালো। তাদের সবাই ছিলেন পাশের গ্রামের মানুষ। হেঁটেই তারা স্কুলে আসতেন। শুধু সংস্কৃতের প-িত মশাই আসতেন তিন মাইল দূরের একটি গ্রাম থেকে লাল রঙের মাদি ঘোড়া চড়ে। ঘোড়াটা ছেড়ে দেয়াই থাকতো। স্কুলের মাঠে ঘাস খেয়ে পেট ভরিয়ে ফেলতো। দড়ি দিয়ে সামনের পা দুটি বাঁধা থাকতো। লাফিয়ে লাফিয়ে চলতো। খুব ভালো মানুষ ছিলেন প-িত মশাই। একটুও ইংরেজি জানতেন না। এসব নিয়ে বললে অনেক কথাই বলার আছে। কতো স্মৃতি যে মনে পড়ছে!

Read 21503 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…