সেই সবও তুমি

সেই সবও তুমি 

- শিখা রহমান

 

এক.

‘এই-ই যে সরতো! গরম লাগছে...।’

আশফাক ডান হাতে অরনীর কোমর জড়িয়ে ধরেছেÑ ‘একটু ধরি না! এসি বাড়িয়ে দিই?’

‘উহু... শেভ করোনি তো... ব্যথা লাগছে।’

আশফাক হেসে উঠলোÑ ‘না ছাড়বো না...। এটা আমার ঘুমানোর জায়গা তো।’

 

অরনী চমকে উঠলো। অনেক দিন পর মনে পড়লো রঞ্জনের কথাÑ

রঞ্জন! তুমি কোনদিকে তাকিয়ে আছ বলো তো?

Ñতোমার গ্রীবা শেষে বুকের পাহাড়ের যেখানে শুরু সে জায়গাটা খুব সুন্দর! চোখ ফেরানো কঠিন!

লজ্জায় লাল হয়ে অরনী বলেছিল, তুমি না খুব অসভ্যতা করছ!

 

বাহ! ওটা তো আমার ঘুমানোর জায়গা। আর অসভ্যতা ভালোবাসার সমানুপাতিক। ভালোবাসা বাড়লে অসভ্যতাও বাড়ে।

 

যদিও গলায় আশফাকের নিঃশ্বাসে গরম লাগছিল তবুও অরনী আর মানা করে না। সে এখন ভাবছে রঞ্জনের কথা। শরীরে একটু শিহরণ, একটু নিষিদ্ধ ভালো লাগা নিয়ে আশফাকের মাথা বুকে জড়িয়ে ধরলো সে।

 

দুই.

অরনী ছলো ছলো চোখে ড্রইংরুমের সোফায় বসে আছে। পাশে আশফাক উদ্বিগ্ন হয়ে তার হাত ধরে আছে। আজ লিমাকে স্কুলে দিয়ে ফেরার সময় তার গলার সোনার চেইন হ্যাঁচকা টানে কারা জানি নিয়ে গেছে।

Ñমন খারাপ করো না! ভারী তো একটা চেইন...। তোমাকে এর চেয়ে ভালো একটা কিনে দেবো।

অরণী চেইনের জন্য মন খারাপ করেনি। তার খুব ভয় লাগছে, নিজেকে খুব অসহায় আর অনিরাপদ মনে হচ্ছে। সে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলোÑ ‘আমি ভাবিনি কেউ এভাবে গলা থেকে ছিনিয়ে নিতে পারে...! এত্ত চমকে গিয়েছিলাম... আর দেখো, গলায় দাগ হয়ে গেছে।’

অরনীর মাথায় হাত বুলিয়ে আশফাক বললো, আমার লক্ষ্মী বউটা... কাঁদে না প্লিজ... আমি আছি না... সব ঠিক হয়ে যাবে।

অরনীর হঠাৎই মনে পড়লো হারিয়ে যাওয়া বাবার কথা। যখনই মন খারাপ করতো, বাবা তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলতেন, ‘মন খারাপ করিস না মামণি.... আমি আছি না... সব ঠিক হয়ে যাবে।

‘ আশফাককে সে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রাখলো।

 

তিন.

Ñঅরু... আমাকে এক নলা দাও না।

উহু... তুমি না একটু আগেই খেলে... আমি খেতে বসলেই যত্ত ঝামেলা!

Ñদাও না প্লিজ! প্লিজ... তোমার ভাতমাখা খেতে খুব মজা হয়।

দিতে পারি... আঙুলে কামড় দেবে না কিন্তু।

Ñআচ্ছা বাবা... দেবো না।

 

আশফাক হাঁ করে আছে। অরনী জানে ভাত দিতে গেলেই সে কামড় দেবে। তারপরও বার বার এ খেলাটা খেলতে তার খারাপ লাগে না। এ সময়টায় পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই ভারিক্কি মানুষটাকে তার একটা ছোট্ট ছেলে মনে হয়Ñ অনেকটাই তাদের ছেলে সৌমিকের মতো।

 

চার.

ভোররাতে ঘুম ভাঙতেই শীত শীত লাগছে। আশফাকের বুকের কাছে গুটিসুটি হয়ে অরনী সরে এলো। আশফাক দু’হাতে তাকে জড়িয়ে ধরলো।

Ñএই-ই-ই যে, কী হচ্ছে?’

আশফাক ঘুম জড়ানো গলায় বললো, ওমচোর ধরেছি... ‘পালাবে কোথায়?’

Ñইস রে... তুমি চোর ধরার কে?

বাহ! আমি ওম পুলিশ না... আমার ওম চুরি করে আবার গলাবাজি!

চুরি হবে কেন? তোমার ওই ভাল্লুক বুকের সব ওম আমার তো...। অরনী আল্লাদী গলায় বললো।

 

অরনীর মধ্যে আশফাক ডুবে যেতে যেতে ফিসফিস করে বললো, ‘অরু... আমাকে ভালোবাসো তো?’

Ñহু-উ-উ-উ... অনেক অনেক ভালোবাসি... তোমার মধ্যে যে তুমি ছাড়াও আমার ভালোবাসার সব মানুষ আছে।

আশফাক শরীরের ভাঁজে সুখ খুঁজতে ব্যস্ত। তাই কথাটা ঠিক শুনতে পেল না।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য : গল্পের নাম পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতার নামে। কারণ ‘তোমাকেই দৃশ্য মনে হয়/তোমার ভিতরে সব দৃশ্য ঢুকে গেছে।’

ঞযব ংঃড়ৎু রং ফবফরপধঃবফ ঃড় ধষষ ঃযব ৎবসধৎশধনষব সবহ রহ ড়ঁৎ ষরাবং.

Read 221 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…