অনন্য রনবী

অনন্য রনবী

 

ছাত্র জীবনে শুধু সমুদ্র নিয়েই বহু কাজ করেছেন জলরঙে। সমুদ্রও আলাদা রঙে ধরা দিয়েছে তাঁর অঙ্কনে। কাজ করেছেন কক্সবাজার থেকে টেকনাফের সমুদ্রপাড়ে। পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্রের চরে ডাইয়ের কাজ করেছেন অসংখ্য। এঁকেছেন ধূসর পদ্মা, পানি আর চিক চিক করা চর, কালো কালো নৌকার পাল। জলরঙ ছাড়াও অন্যসব মাধ্যমেও সমান বিচরণ তাঁর। প্রকৃতি ও মানুষের পাশাপাশি এঁকেছেন উড়ালডানার পাখি, নিশ্চুপ পাখি, মোরগ, মহিষ, ষাঁড়, বাউল, বানরওয়ালা কতো কী!
আর্ট কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালেই তাঁর আঁকা ছবি স্থান করে নেয় ঢাকার বিভিন্ন প্রদর্শনীতে। দেশে-বিদেশে ওই পঞ্চাশের দশক থেকে এখন পর্যন্ত বহু প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে নিজেকে চিনিয়েছেন এক ভিন্ন দর্পণে। বহুবিধ শিল্পবোধ শুধু রঙ-তুলিতে সীমাবদ্ধ করেননি। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তার কর্মে ছিল তীক্ষè ও বুদ্ধিদীপ্ত যা দশকের পর দশক মানুষকে ভাবিয়েছে, জুগিয়েছে চিন্তার খোরাক। পথশিশুর মুখে তুলে দিয়েছেন সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাষা যা তৎকালীন আর্থসমাজ ব্যবস্থায় নাড়া দিয়েছিল প্রবল। মাসিক ‘সহজ’-এর পক্ষ থেকে এক শুক্রবার গিয়েছিলাম ওই গুণী শিল্পীর নিজ বাসভবনে। কথা প্রসঙ্গে শিল্পীজীবনের আদ্যপান্ত জানালেন চিত্রশিল্পী ও টোকাই চরিত্রের জনক প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট রফিকুন নবী বা রনবী।

প্রথমেই শিল্পীজীবনের অর্জনের প্রসঙ্গ তুলতেই তিনি হেসে বললেন, ‘এই যে আমার কাছে ছুটে এসেছ এটিই তো বড় অর্জন। তারপরও বলি, একুশে পদক (১৯৯৩), চারুকলায় জাতীয় সম্মাননা শিল্পকলা একাডেমি অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৯), শিশুদের বই ডিজাইনের জন্য অগ্রণী ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড (১৯৯২ ও ১৯৯৫), ১৯৬৮ সাল থেকে ১৩ বার ন্যাশনাল বুক সেন্টার পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, বুক কভার ডিজাইনের জন্য ১৩ বার ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছি। বার্জার থেকে আমাকে দেয়া হয়েছে আজীবন শিল্পীখ্যাতি।’

মানুষের জীবনে প্রেম অলৌকিক ছোঁয়া। এই স্পর্শের বাইরে কেউ নয়। শিল্পী ও কবির প্রতিটি দিন-ক্ষণ প্রেমে রঙিন কিংবা বেদনায় মলিন। এই বেদনার মালিন্য কিংবা রঙ কতোটা রঙিন তা অন্তরালেই রয়ে গেল তাঁর কথায়, ‘আমাদের সময়ে মেয়েরা কঠিনভাবে গৃহে অন্তরীণই থাকতো। তারপরও যে কেউ প্রেম করিনি তা নয়। প্রেম তো চিরন্তন। তবে আমার ওই সময়ের জীবনপ্রবাহ এতো ব্যস্ততা, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গেছে যে, সেভাবে প্রেম করা হয়ে ওঠেনি। তবে শিল্পী, লেখক, সৃজনশীল সব মানুষের জীবনে রোমান্টিক কিছু বিষয় অর্র্থাৎ ভালো লাগা, না বলা কথা এসব তো থাকেই। ওইসব গোপন জিনিস আড়ালেই থাক।’

লেখালেখির সঙ্গে রনবীর নিবিড় সম্পর্কের কথা আমাদের অনেকেরই জানা। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন লিখেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘লেখালেখি আমার স্কুল জীবনের সঙ্গি।
ছোটবেলায় পত্রিকায় ছোটদের পাতায় লেখা ছাপা হতো। তা দেখে খুব মজা পেতাম। আমার এই লেখালেখি তো আর লেখক বা সাহিত্যিক হওয়ার জন্য নয়, হঠাৎ মনে হয় আর লিখে ফেলি। আবার ছবি আঁকার মুড না থাকলে লিখি। পাবলিশাররা বলে, একটা বই দেন; পত্রিকা বলে, লেখা দেন; কখনো বলে ছড়া দেন, উপন্যাস দেন, রম্য রচনা দেন, ছোটদের গল্প দেন। মন ভালো থাকলে স্টুডিওর মধ্যেই বসে যাই মনে যা আসে তা-ই লিখি। আমার টুকটাক লেখালেখির শুরু ওই স্কুল জীবনেই। আমার প্রথম লেখাটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭-৫৮ সালের মাঝামাঝি ইত্তেফাকের ‘কচিকাঁচার আসর’-এ। নিয়মিত পত্রিকায় কলাম লিখতাম। এখনো মাঝে মধ্যে লিখি। শিশুদের জন্য লেখা আমার প্রথম বইটি প্রকাশ হয় ১৯৯১ সালে। বছর দুয়েক সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’য় টিভি রিভিউ লিখতাম।’ গান সম্পর্কেও বলতে গিয়ে বললেন, ‘গান শুনি। গান আমার প্রাণ, আমার উত্তেজনা। আগে আমাদের বাড়িতে গান-বাজনা কেউ করেনি, কেউ সঙ্গীতজ্ঞ নয়। কিন্তু গান ভালোবাসে সবাই। এখন অবশ্য আমার ছোট ছেলে রাতুল ভালোই গান করে। মা-বাবা থেকে শুরু করে মামা-মামি,

আমার ছোট ভাইবোন সবাই গান পছন্দ করে। বাড়িতে তখনকার সময়ে কলের গান ছিল। আমাদের গান শোনার চর্চা ছিল’। চিত্রকলা, কবিতা ও সঙ্গীত এ তিনটি বিষয় আপনি কীভাবে দেখেন প্রশ্নের উত্তরে রনবী সরাসরি বললেন, ‘চিত্রকলা, কবিতা আর গান তিন ভাইবোন। এগুলো যখন এক সঙ্গে থাকে তখন নানান খুনসুটিতে সংসার মেতে ওঠে। একটি ছাড়া আরেকটি সম্পূরক হয় না। কে কী রকম, কোন মাধ্যমটিতে কাজ করবে সেটিই হলো আসল কথা। যিনি লিখছেন তার যে রস, যিনি আঁকেন তারও একই রস। ভাব প্রকাশের মাধ্যমগত দিকটি শুধু ভিন্ন। এভাবে যদি বলি তো ঘটনা একই। যিনি কবিতা লেখেন তার যে রস, অনুভূতিগত চেতনা আবার লেখার ঢঙ, লেখার ধরন, লেখার টেকনিক এসবই যেমন তাদের আছে তেমনি আমাদেরও আছে। তারাও যেমন বলেন গানটা বেশ ভালো হয়েছে তেমনি আমরাও আমাদের ছবির কম্পোজিশন ভালো বলি। সব দিক থেকে ঘটনা একই। সমাজে কবি, শিল্পী, গায়ক খুবই গুরুত্ব বহন করে।’
ক্যানভাসে মূর্ত হয়ে ওঠা ছবিগুলো বোধগম্য হয়ে ওঠে দর্শকের কাছে আর বিমূর্ত ছবিগুলোয় চেয়ে থাকে শত প্রশ্নের চোখ। এক্ষেত্রে ছবিটি বোধগম্য করার জন্য আপনি কী ধরনের কাজ করেন প্রশ্নের উত্তরে রনবী বলেন, ‘আমার কাজে পারস্পেক্টিভ রাখি না। ছবি আঁকতে গেলে বিষয়ের সঙ্গে প্রকৃতি আলাদা করে ফেলি। যেটা করি তা হলো কোথাও পারস্পেক্টিভ অর্ধেক রাখবো, কোথাও রাখবো না; কোথাও বার্ডস ভিউ থেকে, কোথাও বা নিচে বসে দেখছি এই রকম ভাব আনি। তারপর যেটা করি তা হলো ভিউয়ার্সটি মনোযোগী করানো। পরিচিত দৃশ্য হলে সেগুলো আমার মতো করে সাজাই। আমার পছন্দসই দিকগুলো রাখি। আবার আলো কোথায় ফেলবো, আলোর আদৌ দরকার আছে কি না এগুলো নিয়ে ভাবি। এসব বিষয় কখনো হয়তো খুব সফল হয়, কখনো হয়ও না’।

দীর্ঘদিন সাপ্তাহিক বিচিত্রার ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন। ফ্যাশন সচেতন না হলে তা কী করে সম্ভব এ প্রশ্নের জবাবে, ‘হ্যাঁ ছিলাম। অনেক কাজ করেছি। ওই কাজে যে শিল্পবোধের প্রয়োজন তা হয়তো আমার ভেতরেই ছিল। তাছাড়া যুবক বয়সে আমিও কম ফ্যাশন সচেতন ছিলাম না। বিচিত্রার এ কাজের জন্য এ দেশের ফ্যাশনে এক প্রকার জোয়ার এসেছে বলা যায়। বিচিত্রার দেখাদেখি অনেক পত্রিকাও এগিয়ে এসেছে।’

আপনি কীভাবে পেয়েছিলেন টোকাইকে ‘টোকাই আমার ভাবশিশু। সে পথশিশু, অনাথ হলেও কিছুর তোয়াক্কা করে না, বেয়াদবি করে না, মজার মজার কথা বলে। এই যে টোকাই, সে শুধু সামাজিক কথাই বলে। এতে সরাসরি রাজনীতি না থাকলেও সামাজিক বাস্তবতার একটা রাজনীতির দিক থাকে। আট-নয় বছরের একটা ছেলে। পরনে চেক লুঙ্গি মোটা পেটটায় কষে বাঁধা। মাথায় ছোট করে ছাঁটা খাড়া চুল। সময় নেই, অসময় নেই চিৎকার করে গান গায়। রাস্তায় পথচারীকে কখনো অহেতুক কিছু প্রশ্ন করা আর ঘড়ি হাতে লোক দেখলেই সময় জানতে চাওয়াটা ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। রাস্তার ছিন্নমূল অন্য কয়েক শিশুর মতোই ছেলেটি টোকাই। ওই দেখা থেকেই জন্ম নিল টোকাই।’

আপনি তো শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসানদের সরাসরি ছাত্র ছিলেন। তাদের কতোটা কাছ থেকে দেখেছেন ‘শুধু জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান নন, শফিউদ্দীন আহমেদ, মোস্তফা মনোয়ার, রশিদ চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাকসহ
বাংলাদেশের আরো যারা খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী আছেন তাদের সরাসরি ছাত্র আমি। আমার সৌভাগ্য যে, তাদের প্রত্যেকের নৈকট্য আর সাহচর্যে আসতে পেয়েছি। আর্ট কলেজে ভর্তির আগে ভাবতাম, ওখানে গেলে মনে হয় শুধু ছবি আঁকা হবে। পরে দেখি অত্যন্ত কঠিন একটা লেখাপড়ার সেশন রয়েছে। সেটি ছিল ভিন্ন এক জগৎ। শিক্ষকরা আমাদের তো শেখাতেন, একই সঙ্গে নিজেদের কাজ নিয়েও ব্যস্ত থাকতেন। তারা একেকজন একেক স্টাইলে কাজ করতেন, একেকজন একেকভাবে পড়াতেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এক রকম, কামরুল হাসান আরেক রকম। আমরা প্রত্যেকের স্টাইল অনুসরণের চেষ্টা করতাম। এভাবে সবার কাজ দেখতে দেখতে কিংবা শুনতে শুনতে নিজের একটা স্টাইল তৈরি হতো।


শিল্পীদের আঁকা ছবি এখনো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে বলে মনে করি না। শিল্পের সঙ্গে সমাজের এই দূরত্ব কীভাবে কমানো যায় ‘শিল্প সমাজে একটা স্ট্যাটাসের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা ছবি কেনে বা সংগ্রহ করে ইন্টেরিয়র সাজায়। অনেকে শখ করে বিশ্বের বিখ্যাত সব শিল্পীর ছবি সংগ্রহ করে। কিন্তু শিল্পরস কতোজন আহরণ করে এ বিষয়ে সন্দেহ আছে। আসলে শিল্প অনুধাবনে সমাজটিকে আরো শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে আমাদের।
দেশের তরুণ সমাজের প্রতি আপনার ভাবনা কেমন ‘অবাক আর মন খারাপ লাগে এটা ভেবে যে, কী এমন ঘটে, কী এমন তাদের চোখের সামনে দেখানো হয়, কেমন করে কী তাদের মাথায় ঢোকানো হয় এতো ভালো ভালো পরিবারের, লেখাপড়া জানা ছেলেরা আত্মঘাতী কাজে জড়িয়ে পড়ছে! তারা তো ধ্বংস হচ্ছেই, একই সঙ্গে নিরস্ত্র-বিপন্ন মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে দিচ্ছে। এভাবে নিজের জীবন শেষ করে দেয়ার তাদের কোনো অধিকার নেই। তাই তরুণ প্রজন্মকে বলছি তোমরা দেশটিকে ভালোবাসো, দেশের মানুষকে ভালোবাসো। তোমাদের শিক্ষা-দীক্ষা দেশের মানুষের স্বার্থে ব্যবহার করো। জীবন তো একটা... নাকি?’
প্রিয় চিত্রকর্ম কোনটি প্রশ্নের উত্তরে রনবী বললেন, আমার প্রিয় চিত্রকর্ম বলতে গেলে অগণিত। কতো শতো ছবি আর শিল্পী এসে ভিড় করে মনের মধ্যে! এর মধ্যে অন্যতম প্রিয় ছবির কথা বলতে পারি। সেটি পাবলো পিকাসোর ‘গুয়ের্নিকা’। তিনি ছবিটি আঁকেন ১৯৩৭ সালে। এর পটভূমি স্পেনের গুয়ের্নিকা শহরের গৃহযুদ্ধ। আমার প্রিয় চিত্রকর্ম পিকাসোর গুয়ের্নিকা-র ক্যানভাসে তেলরঙ। ছবিটি আছে মুসেও রেনে সোফিয়া, মাদ্রিদ, স্পেনে। চিত্রটিতে রঙ আছে তিনটি সাদা, কালো ও ধূসর। এই তিন রঙ ব্যবহার করার কারণ হলো ছবিতে বিবর্ণতা-বিষাদ ফুটিয়ে তোলা। তেলরঙের ওই ছবিতে দেখা যায়, একটি ঘর যার বাঁ পাশে উন্মুক্ত অংশে একটি ষাঁড়, তার সামনে মৃত শিশু নিয়ে কান্নারত মা, মাঝখানে প্রচ- উন্মত্ত একটি ঘোড়া আঘাতপ্রাপ্ত। ঘোড়ার শরীরের নিচে এক সৈনিক। অশুভ চোখের আকৃতির একটি বাল্ব জ্বলছে ঘোড়ার মাথার ওপর। এছাড়া যুদ্ধের বীভৎসতা ও ধ্বংসলীলা মনে গেঁথে গেছে। মাইকেলেঞ্জেলো আর লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ছবি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সুযোগ হয়েছে
‘মোনালিসা’ দেখার। দেখেছি রেমব্রান্ট, রেনোয়া, ভ্যান গগ, গগার ছবি। মাইকেলেঞ্জেলোর ‘মোজেস’ ভাস্কর্যটি অন্য রকম এক শিল্পকর্ম মনে হয়েছে। ভাস্কর্যটির একটি রেপ্লিকা রোম থেকে সংগ্রহ করেছি।

নিজের পরিবার সম্পর্কে রনবীর বললেন, ‘আমি ১১ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। আমাদের বিয়েটা হয় পারিবারিক পছন্দে। আমার স্ত্রী নাজমা বেগম। আমাদের দুই ছেলে আর এক মেয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেয়ার পর এখন পুরোদস্তুর পারিবারিক মানুষ। আমার বড় ছেলে রাহিলুন নবী। সে এখন লন্ডনে। মেয়ে নাজিয়া তাসমেনিয়া। ছোট ছেলে রকিবুন নবী। সে এখন নেমেসিস ব্যান্ডের ভোকালিস্ট। গায়ক রাতুল নামে পরিচিত। আমি অতীতের কিছু ভুলি না। ওই শৈশবের দিনগুলো থেকে আজকের দিনটির সকাল পর্যন্ত সবই মনে আছে। ওই স্মৃতি সম্ভার চয়ন করেই বৃদ্ধ জীবন পার করছি।’


সাক্ষাৎকার : শাকিল সারোয়ার
অনুলিখন : রাশেদ মামুন
ছবি : শোভন আচার্য্য (অম্বু)

 

Read 112 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…