একজন তপু খান

একজন তপু খান

 

আপনার চোখে ভাস্কর্য শিল্প কী ও কেন?

ভাস্কর্য শিল্প হলো এর অধিক ডাইমেনশনের কাজ। ভাস্কর্য শুধু প্রাণী বা মানুষের দেহ গড়ে তোলা নয়, ইমারতও এক ভাস্কর্য শিল্প। এই শিল্প যে কোনো মাধ্যমে হতে পারে। আগে শিল্পীরা মাটি, পাথর, কাঠÑ এগুলো ব্যবহার করতেন। এখন ইচ্ছামতো মাধ্যম ব্যবহার করা যায়। এই শিল্প ইতিহাসের ধারক ও বাহক।

ভাস্কর্য শিল্পের প্রতি আপনার আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?

ছোটবেলা থেকেই ভাস্কর্য শিল্পের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। বাসায় কোনো শোপিস আনলে তা ভালো করে খুঁটিয়ে দেখতাম। মাটি দিয়ে তা বানানোর চেষ্টাও করতাম। ভারতে প্রথম ভাস্কর্য দেখার সুযোগ হয়। পরে অনেক দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। বিভিন্ন জাদুঘর ভিজিট করেছি। ওইসব কাজ দেখে খুবই অভিভূত হই। কীভাবে একটি জাতির কৃষ্টি-সংস্কৃতি, সমাজ ব্যবস্থা ও ঐতিহ্য ভাস্কর্য শিল্পে তুলে আনা যায় তা না দেখলে বোঝা যাবে না। এ জন্যই আমার আগ্রহ সৃষ্টি হয় ভাস্কর্য শিল্পে।

এ শিল্পটি সঙ্গে নিয়ে আপনার পথচলার অভিজ্ঞতা আমাদের বলুন।

মূলত টেরাকোটা স্কাল্পচার করি। আমার স্টুডিওতে দেশি-বিদেশি ভিজিটর সব সময় আসা-যাওয়া করেন। তাদের মধ্যে টেরাকোটা ভাস্কর্য সংগ্রহের আগ্রহ দেখেছি। অনেকেই এ মাধ্যমে ভাস্কর্য তৈরির প্রশিক্ষণ নিতেও আগ্রহী। প্রথম টেরাকোটা স্কাল্পচার ওয়ার্কশপ করাই। পরে ওইসব কাজ দিয়ে প্রদর্শনী করি। তা প্রচুর সাড়া জাগায়।

ভাস্কর্য শিল্প নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

বাংলাদেশ থেকে প্রথম টেরাকোটা মিনিয়েচার স্কাল্পচার এক্সিবিশন করি আমেরিকার মেরিল্যান্ড-এ। এ দেশে প্রথম টেরাকোটা স্কাল্পচার ওয়ার্কশপ করাই। আগামীতে আরো টেরাকোটা স্কাল্পচার ওয়ার্কশপ করাবো এবং এ শিল্পটি সবার কাছে জনপ্রিয় করে তুলবো।

অন্য শিল্পকলা যেমনÑ চিত্রকলা, ছাপচিত্র, প্রাচ্যকলা বা বুনন শিল্পের মধ্যে ভাস্কর্য শিল্পের শক্তিশালী দিক কোনটি বলে মনে করেন?

আমার কাছে ভাস্কর্য শিল্পই সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম মনে হয়। কারণ এই শিল্প দুয়ের অধিক ডাইমেনশন হওয়ায় বক্তব্য ফুটিয়ে তোলা যায় বেশি এবং অনেক সহজে।

 

এটি ওই জায়গায় স্থাপন করা যায় এবং সহজ বোধগম্য।

ভাস্কর্য শিল্পের সঙ্গে আপনার পথচলা কতটুকু সার্থক হয়েছে?

সার্থকতা এখনো বুঝতে পারছি না। কাজ করছি ভাস্কর্য শিল্প নিয়ে। আগ্রহীদের মধ্যে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। অনেক প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এই পথ অনেক দুর্গম। তবু জানি, এগোতে হবে অনেক দূর।

ভাস্কর্য শিল্পে অবদান রাখার জন্য আপনাকে আপনার পরিবার কোন চোখে দেখে বা তাদের অভিব্যক্তি কী?

পরিবারের সব সদস্য আমাকে আমার কাজে প্রেরণা দেন ও সহযোগিতা করেন। আমার বাসা ও স্টুডিও একই বিল্ডিংয়ে হওয়ায় সবার সহযোগিতা সব সময়ই পাই।

ভাস্কর্য শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়? বিভিন্ন দেশে আপনার ভ্রমণ ও অভিজ্ঞতার কথা বলুন।

বাংলাদেশে ভাস্কর্য শিল্পের অবস্থানের কথা জানাতে গেলে বলতে হয়, উল্লেখযোগ্য কোনো অবস্থান তৈরি হয়নি।

 

সারা দেশে একই শিল্পীর ভাস্কর্য স্থাপন করা হচ্ছে। এতে মনে হয়, এ দেশে আর কোনো ভাস্কর্য শিল্পী নেই। পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছি। এই শিল্প দেখার তৃষ্ণা মেটাতে চেষ্টা করেছি। ওয়াশিংটন ডিসি-র স্কাল্পচার গার্ডেন-এ বিভিন্ন শিল্পীর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। মাঝে মধ্যে তা পরিবর্তন করে অন্য শিল্পীদেরও সুযোগ দেয়া হয়। আমার ইচ্ছা এ দেশেও ওই রকম একটা গার্ডেন স্থাপন করা।

আপনি বিশেষ কোনো শিল্পীকে অনুসরণ করেন কী?

কোনো বিশেষ শিল্পীকে অনুসরণ করি কি না তা জানি না। আমার নিজস্ব চিন্তা ও ধ্যান-ধারণা দিয়ে শিল্পকর্ম করি। তবে আমার ভালো লাগা শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম হলেন হেনরি মুর, মাইরন, লরেঞ্জ বারতোলিনি ও পিকাসো। অনেকেই বলেন, মুরের প্রভাব আছে আমার কাজে। থাকতেও পারে নিজ অজান্তেই।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত আপনার প্রদর্শনীর কথা বলুন।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত অনেক প্রদর্শনী করেছি। ভাস্কর্য প্রদর্শনী দেশে এখনো এককভাবে করা হয়নি। গ্রুপের সঙ্গে করেছি। এ বছর একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী করার ইচ্ছা আছে। গত জুনে আমেরিকার মেরিল্যান্ডে একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী করেছি। বিপুল সংখ্যক ভিজিটর ছিলেন।

দেশ-বিদেশে আপনার করা ভাস্কর্য কী কী ও গ্রাহক কারা?

আমার ভাস্কর্য সব পোড়া মাটির আকারে। খুব বড় হয় না। দেশ-বিদেশে অনেকের ব্যক্তিগত সংগ্রহে আছে। দেশে এমপি রীমা (তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে), অভিনেতা তারিক আনামসহ অনেকের। দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া-য় অনেকের সংগ্রহেই আছে আমার ভাস্কর্য।

বর্তমানে আপনি কী করছেন?

এ শিল্প নিয়েই কাজ করছি আমার স্টুডিওতে। এ ছাড়া উড কারভিং, মেটাল ওয়ার্ক, টেরাকোটা টাইলস নিয়েও কাজ করি ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি।

এই পথে চলতে আপনার কোনো বাধা আছে কি?

খুব বড় ধরনের বাধা আছে বলে আমার মনে হয় না। মুসলিমপ্রধান দেশ বলে ইচ্ছামতো কাজ করা যায় না। আমি নারী নিয়ে বেশি কাজ করি। তবে কাজের ধরন কিছুটা বদলাতে হয়েছে। নুডি নিয়ে খুব একটা কাজ করা যায় না। তাই বিমূর্ত বা আধা বিমূর্ত কাজ করি।

তরুণ ভাস্কর্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে বলুন।

তরুণদের বলি, ভাস্কর্য শিল্প অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। এই শিল্প নিয়ে চর্চা করো। এই শিল্পের মাধ্যমে নিজ দেশের ইতিহাস, শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ ব্যবস্থা নিজেদের ও বিশ্বের কাছে তুলে ধরো। সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখো। সব খারাপ কাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও এই শিল্পকর্মের মাধ্যমে।

মাধ্যমগতভাবে আপনি কোন উপকরণে ভাস্কর্য গড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন (পোড়ামাটি, কাঠ, ধাতব, বালি-সিমেন্ট ইত্যাদি)?

আমি যেহেতু মৃৎ শিল্পী সেহেতু পোড়ামাটিই আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মাধ্যম।

Read 276 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…