ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প

ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প

ফয়সাল শাহ

 

 

যা কিছু মানুষের প্রাণের রূপ, মনের সৃষ্টি চিত্র, মূর্তি, কবিতা, থালা-বাটি, হাঁড়ি-কলসি, আসপিঁড়ি, পুতুল, খেলনা, হাত, পা, কান, কণ্ঠ, সিঁথি ও শিরের ভূষণ সোনা, রুপা, তামা, পিতল, মণি-মাণিক্য, মুক্তা, শঙ্খ ও পুঁতিতে। জড় যদিও এর উপাদান তবুও চিন্ময় এর ছটা। বস্তুতে বস্তুতে এর নির্মাণ স্বপ্ন সত্যে, আরো সত্য এর স্থিতি ও গতি। সব শিল্প চেষ্টা ও সৃষ্টি অখ- মানব জীবনে অঙ্গীভূত। হৃদয় যদি দেহ, মন, হৃদয়, বৃত্তি বা চেতনায় কোনো একটি ভূমিতে আবদ্ধ না হয়, মানুষের শিল্প চেষ্টা ও সৃষ্টিও তাহলে সর্বতোমুখ। অখ- জীবন উপলব্ধি এবং সেটিকে সুষমাদানের প্রয়াস থেকে আসে যে শিল্প ও সাহিত্য সৃষ্টির প্রেরণা এর মূল সুর এক হলেও বিভিন্ন শাখার আঙ্গিক এবং আবেদনের তারতম্য আছে। নান্দনিক চেতনায় চালিত দৃশ্য, শ্রাব্য বা উচ্চারিত কোনো রূপকল্প ও প্রতীক নিয়ে শিল্পের জগৎ। দর্শন ও শ্রবণেন্দ্রিয় নির্ভর সব সৃষ্টিকর্মের মধ্যে দর্শনেন্দ্রিয়গ্রাহ্য শিল্পের একটি জগৎ। দর্শন ও শ্রবণেন্দ্রিয় শিরোনামে আলোচ্য। এখানে হাত ও হাতিয়ারের সাহায্যে তৈরি কয়েক পর্যায়ের যে শিল্প কর্ম আছে, যথেচ্ছভাবে সেগুলোকে আমরা লোক, কারু, হস্ত, কুটির ও ক্ষুদ্রশিল্প নামে অভিহিত করি। লোকশিল্প প্রাচীন সমাজের যে জাদু ও লৌকিক বিশ^াসের ছাপ বহন করে এর থেকে উদবর্তবাদের জন্ম। প্রাগৈতিহাসিক ও আদিম মানব সমাজের ধ্যান-ধারণা লোকজীবনে আচ্ছন্ন করে আছে। এর অভিব্যক্তি কখনো প্রচ্ছন্নভাবে, কখনো প্রকাশ্যে। লোকবিশ^াসের বৈশিষ্ট্য নিঃসন্দেহে লোকায়ত শিল্পকে করেছে অনন্য, দিয়েছে তাকে নিগূঢ় অর্থ। এ আদিমতার নির্যাস যে আজও লোকশিল্পে বর্তমান এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। তাই বলে এ শিল্পের স্বতন্ত্র সত্তা অস্বীকার করা যায় না। ব্যবহারিক ঐন্দ্রজালিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্য ছাড়াও লোকশিল্পটি দেখতে হবে নিছক নান্দনিক দৃষ্টিকোণ থেকে। তাছাড়া প্রাগৈতিহাসিক ও প্রাচীন শিল্পের প্রসার হয়েছিল সমাজের প্রাকস্বাক্ষরতা স্তরে।


বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যই গড়ে উঠেছে লোকসমাজের অবস্থান, ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, জীবন যাপন প্রণালি, আচার-আচরণ, বিশ^াস-সংস্কার ও মূল্যবোধ কেন্দ্র করে। লোকসমাজ দেশের জনগোষ্ঠীর প্রধান অংশ। তারাই পুরনো ঐতিহ্যের ধারক। তাদের জীবনধারা গড়ে উঠেছে নানান বৃত্তি-পেশা, ধর্ম ও রক্তধারার ভিত্তিতে। তবে এই লোকসমাজের বসবাস যে কেবল গ্রামে তা নয়, অনেকে শহরেরও বাসিন্দা। এই লোকসমাজের শিল্পচর্চার প্রমাণ মেলে বস্তগত উপাদানের মধ্যে। সাধারণ অর্থে এগুলোকে আমরা লোকশিল্প বলতে পারি। অত্যন্ত সহজ, সরলভাবে এসব শিল্পকর্ম তৈরি। এই শিল্পীরা তো সমাজের সাধারণ স্তরের মানুষ।
বাংলাদেশের লোকশিল্পের বিকাশ ও বিবর্তনে তিনটি ধারা দেখা যায়, ধর্মীয় (জরঃঁধষ), আলঙ্করিক (উবপড়ৎধঃরাব) ও ব্যবহারিক (টঃরষরঃধৎরধহ)। লোকশিল্পের উপাদানগুলো শ্রেণীবিন্যস্ত করতে গেলে এই ধারাগুলোর বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমাদের লোকশিল্পের মূল উপাদান মাটি, বাঁশ, বেত, সুতা, কাপড়, কাঠ। মাটি দিয়ে তৈরি তৈজসপত্র, খেলনা, পুতুল, পিঠার ছাঁচ। কাপড়, সুতা, পাট দিয়ে তৈরি নকশি কাঁথা, নকশি শিকা, নকশি পাখা। কাঠ দিয়ে তৈরি পুতুল, বাদ্যযন্ত্র ও পটচিত্র, পুঁথির পাটাচিত্র। বাঁশ ও বেতের তৈরি ঝুড়ি বোনা শিল্প এক সময় নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল। এ দেশের মানুষের এসব লোকশিল্পের ক্ষেত্র বড় বিস্তৃত।
আমাদের লোকশিল্পের সবচেয়ে প্রাচীন নিদর্শন মেলে মৃৎশিল্পে। এই শিল্পের প্রাচীনতম ঐতিহ্য খুঁজে পাওয়া গেছে চৎড়ঃড় ওহফরধহ ঈঁষঃঁৎব-এ সিন্ধু সভ্যতার প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে। আনুমানিক পাঁচ হাজার বছর আগে সিন্ধু সভ্যতার ওই পোড়ামাটির পুতুলে যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে বাংলাদেশের পাহাড়পুর ও ময়নামতি বৌদ্ধবিহারে প্রাপ্ত পোড়ামাটির ফলক ও পুতুলের সঙ্গে। তারা ওই সাদৃশ্যের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, পোড়ামাটির শিল্পের কাল উত্তীর্ণ (ঞরসবষবংং) যে ধারাটির সূত্রপাত ঘটেছিল সিন্ধু অঞ্চলে তা আমাদের এই গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল পর্যন্ত পরবর্তীকালে ছড়িয়ে পড়েছিল। পোড়ামাটির শিল্প তৈরির উপকরণগুলো এবং এ প্রযুক্তি (ঞবপযহরয়ঁব) বিশ্লেষণ করলে সব অনুসন্ধ্যিৎসু ব্যক্তির কাছেই বিষয়টি অবশ্য পরিষ্কার হবে।


সূচি শিল্পের কথাও যদি বলি তাহলে সেখানেও দেখবো ওই সিন্ধু সভ্যতায় আবিষ্কৃৃত মূর্তিতে সূচি শিল্পের নকশা করা পোশাকের নিদর্শন। ১৯২৯ সালে পর্তুগিজ মিশনারি সেবাস্তিয়ান ম্যানরিক উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব জিনিস তারা নিয়ে যেতেন এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণীয় ছিল লোকশিল্পজাত সূচি শিল্প। এই সোনারগাঁওয়ের সঙ্গে প্রায় পরিপূরক একটি শব্দ মসলিন কাপড়। সোনারগাঁওয়ে তৈরি এই মসলিন কাপড় দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছিল। এটি বিদেশে রফতানি হয়। এই শিল্পকর্ম নিয়ে কিংবদন্তিরও অন্ত নেই। তাই যুগে যুগে বাংলার লোকজশিল্প সব সময় সব শিল্পের অফুরন্ত আধার ও উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। ভবিষ্যতের শিল্পীদেরও এই উৎসের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।
লোকশিল্প ঐতিহ্যবাহী এ কারণে যে, তা মোটিফ, প্রতীক ও অলঙ্করণের ধাঁচ পুরুষানুক্রমে ধরে রাখতে সক্ষম। এ শিল্প সদ্য সব ঐতিহ্যের সৃষ্টি করে। মৌলিক পরিচয় হারিয়ে নিছক অলঙ্করণে রূপান্তরিত হয়েছে এমন সব রূপকল্পে নতুন মর্ম আরোপ করে এর পুনঃপ্রবর্তনে লোকায়ত এ শিল্প। কারণ কোনো গোঁড়া মতবাদ দ্বারা তা শৃঙ্খলিত নয়। লোকশিল্পে শিল্পীর অবস্থান ততোটা উদগত নয়। কেননা এ শিল্পটি নিছক ব্যক্তি বিশেষের সৃজনশীলতা না বলে বলা যায়, একটি সঞ্চিত মৌলিকত্ব। এর আত্মপ্রকাশের স্বীকৃতির পাশাপাশি আছে সম্প্রদায়ের যৌথ অভিব্যক্তি।
একাডেমিক আর্ট বা আধুনিক চিত্রকলার সঙ্গে লোকশিল্পের তফাত হলো, চারুশিল্পী উপযুক্ত শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে তার শিল্পকর্মে হাত দেন। তার সৃষ্টিতে স্বীয় ‘কপিরাইট’ স্বীকৃত। তার অনুকারী চৌর্যবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত হতে পারেন। তিনি পরিশীলিত ব্যক্তি এবং পরিশীলিতজনের উদ্দেশ্যে তার সৃষ্টি! লোকশিল্পের মালিকানা গোটা গ্রামীণ সমাজের। তার অনুকরণ দোষণীয় নয়। তার কদর সরল-সহজ সমাজে। তবে পরিশীলিতজনের কাছেও তার আবেদন ব্যর্থ নয়। দরবারি অথবা বিদগ্ধ শিল্পের সঙ্গে সঙ্গে লোকশিল্পের আরেকটি পার্থক্য হচ্ছে, প্রথমোক্ত শিল্পের পরস্পরের সম্পর্ক শিথিল। স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রশিল্পÑ প্রতিটির ক্ষেত্র আলাদা এবং একের আঙিনায় অপরের প্রবেশ বড় একটা দেখা যায় না। লোকশিল্পের বিভিন্ন মাধ্যম অন্যান্য নির্ভর পরস্পর প্রবিষ্ট। ওই সূত্র তৈরি করে উদ্দেশ্যের ঐক্য, শ্রম ব্যবস্থা বিন্যাস, সামাজিক পারঙ্গমতা, নির্ভরশীলতা। একই ব্যক্তি বিভিন্ন মাধ্যমের শিল্পী। একই শিল্পী খেলনা পুতুল তৈরি করছেন, অন্য সময় ঘরবাড়ি, কোনো সময় প্রতিমা। এ যোগসূত্রের ফলে গড়ে ওঠে সর্বাশ্রয়ী ডিজাইন। প্রাত্যহিক জীবন সম্পৃক্ত বলে লোকশিল্পের সংক্ষিপ্ত সংযমী গড়ন। বাহুল্যবিহীন বলে, ফর্ম ও ডিজাইন যথাযথ। অধুনা পরিশীলিত পরিবেশে লোকশিল্পের অবস্থান চিহ্নিত করে এর পরিচয় দেয়া হয়।


আবহমান বাংলার লোকজশিল্প গভীর জীবনভেদী একটি চলমান স্রোত। তা নীরবে-নিভৃতে কারোর প্রতি দৃষ্টি বা মুখাপেক্ষী না হয়ে একমনে অন্তস্থিত একটি নদীর ফল্গুধারার মতো স্রোতোস্বিনী হয়ে বয়ে যায় কালে কালে। এটি ওই দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি ঋদ্ধিমান অবস্থানের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। বাংলাদেশের লোকঐতিহ্যময় কারুকাজ মৃৎশিল্প, বস্ত্রশিল্পের তাঁত ও তস্তুজাত সৃষ্টিশীলতা, বাঁশের কাজ, লোহা ও পিতলের কাজ, দারুশিল্প, দড়ি ও বেতের কাজ, পাটজাত দ্রব্যের বহুবিধ ব্যবহারিক কাজের জন্য শিল্প, নকশি কাঁথা শিল্প, লোকজস্থাপত্য, রন্ধন শিল্প, নৃত্যসঙ্গীত, চিত্রশিল্প, সাহিত্য, কাব্য। মোট কথা, জীবন যাপনের জন্য সাধারণ মানুষের আবেগ, নান্দনিকতা, ব্যবহারিকতা, উপযোগিতা ও উপস্থাপনাসহ একটি সম্পূর্ণ এবং যথার্থ চলমান শিল্প স্রোত আধুনিক শিল্প বহুলাংশে প্রাগুক্তধারা থেকে নিজের জন্য অনায়াসে হাত বাড়িয়ে সাহায্য গ্রহণ করে একটি নতুন উপস্থাপনায় হাজির হয়ে ওই শিল্পের একটি নান্দনিক মাত্রা অর্জনে সহায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আধুনিকধারার শিল্পটি গ্রহণ করে বা না করে সাধারণ কিংবা অসাধারণ মানুষ অনায়াসে জীবন যাপন করতে পারে। কিন্তু লোকজধারার বেলায় অন্য চিত্র। লোকজশিল্প সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটিকে বাদ দিয়ে তাদের জীবন চলে না। তাই বাংলাদেশের লোকশিল্প খুবই শক্তিশালী ও ঐতিহ্যময় এবং গৌরবের। যেহেতু এটি মৌলিক, আদি ও স্বয়ম্ভূ সেহেতু বহুমাত্রিক। আধুনিক শিল্পের বিকাশ লোকজধারা থেকে আস্তে আস্তে পরিবর্তিত, পরিমার্জিত, বিবর্তিত, উন্মেষিত ও পরিশীলিত হয়ে হয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।
প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনে নতুনের আবির্ভাব ঘটেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারণে মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক হচ্ছে। এতে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে চাহিদা ও রুচির ক্ষেত্রে। বিশ^জুড়ে এই যে আবহ তৈরি হয়েছে এর ছোঁয়া আমাদের দেশেও এসে পৌঁছেছে। গ্রামগুলো দ্রুত যেন শহুরে রূপ লাভ করেছে। নিদেনপক্ষে শহরের প্রভাব সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে। বাংলাদেশে লোকশিল্পের ইতিহাস পর্যলোচনা করলে দেখা যায়, এর বিকাশ প্রায় রুদ্ধই। এর পেছনে কারণ অনেক। প্রধান কারণ মুক্তবাজার অর্থনীতির ভোগবাদপ্রবণ প্রভাব। ওই প্রভাবই অক্টোপাসের মতো হাত-পা বিস্তার করে অতি দ্রুতই শাখা বেড়ে দীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা আমাদের পুরনো সমাজ কাঠামো ভেঙে তছনছ করে দিচ্ছে। আত্মকেন্দ্রিকতা, ব্যক্তিস্বার্থপরতা দীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক বন্ধনে চিড় ধরাচ্ছে। প্রযুক্তি ও মিডিয়ার কল্যাণে এর ফল রাতারাতি ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামগঞ্জেও। যৌথ পরিবার ছেড়ে অনেকেই এখন আলদা হয়ে ছোট পরিবারে জীবন যাপন করতে আগ্রহী হচ্ছেন।


আমাদের আবহমানকাল ধরে গড়ে ওঠা একটি গৌরবময় ও সমৃদ্ধ অতীত রয়েছে, আছে একটি সুদৃঢ় অর্থনৈতিক পরিকাঠামো। আহার-বিহার, পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-বিশ^াসে তো কোনো কৃত্রিমতা নেই। এ জন্যই তো লড়াই করে ভূখ- জয়ের আকাক্সক্ষা জেগেছিল এ দেশের মানুষের। প্রত্যাশা ছিল জনগোষ্ঠীর জীবনের নিজস্ব ‘প্যাটার্ন অফ লাইফ’ সংরক্ষণ করা। আধুনিকতা ও বিশ^ায়নের জোয়ারে তা কি হারিয়ে যাবে?
আমাদের দেশে তো ভৌগোলিক পরিবর্তন হয়েছে। মেঠোপথ দ্রুতই রাজপথ হয়ে যাচ্ছে। লোকযানের পরিবর্তে চলছে যান্ত্রিক যানবাহন। নদীগুলো ক্রমান্বয়ে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নাব্য নদীগুলোয় চলে যান্ত্রিক যানবাহন। এ জন্য সময়ের চাহিদা ও রুচির পরিবর্তনেই হারিয়ে যাচ্ছে জনপ্রিয় লোকশিল্প ও কারুশিল্পের বিভিন্ন নিদর্শনÑ যশোর, ফরিদপুর, রাজশাহীর নকশি কাঁথা, কাগমারী-ধামরাইয়ের পিতল-কাঁসা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাঁড়ি, সিলেটের শীতলপাটি, চট্টগ্রামের ঝুড়ি বোনা শিল্প, সোনারগাঁওয়ের দারু ও ঝিনুক শিল্প ও অন্যান্য। এসব পণ্যের বাজার না থাকা এবং নৃতত্ত্বের ভাষায় উপযোগিতা ও ফ্যাশনহীনতার জন্য অধিকাংশ বনেদি লোকশিল্পী পরিবারই পেশা বদল করেছে। জীবিকার জন্য যে পথ তাদের বেছে নিতে হয়েছে এর সঙ্গে পূর্ব পুরুষের পেশার সম্পর্কই নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ, নগরায়নের দ্রুত বিস্তার সময়ের বিষয়। পরিবর্তনের এই জোয়ার তো অপ্রতিরোধ্য। এ পরিবর্তন চলতেই থাকবে। এক্ষেত্রে আমাদের কাজ হবে একটিই। তা হলো, আমরা যেন নিজেদের ইচ্ছা ও পছন্দমতো ওই পরিবর্তনটি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমাদের লোকশিল্পের উপাদানটি রূপান্তরের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, রূপান্তর ততোটুকুই হবে যতোটুকুতে দেশের মাটির স্পর্শ ও ঘ্রাণ থাকবে। শিল্পের উপাদান ঠিক রেখে নকশায় একটু রূপান্তর আনাই যেতে পারে কিংবা নকশার মোটিফ ঠিক রেখে উপাদানে একটু পরিবর্তন আনাই যেতে পারে।
বাংলাদেশের লোকশিল্পের ঐতিহ্য রক্ষা করতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অপরিহার্য বলে আমি মনে করিÑ
 

- লোকশিল্পসহ লোকসংস্কৃতির সব বিষয় চর্চা ও গবেষণার জন্য দেশে জাতীয় লোকশিল্প ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা।
- লোকশিল্প অঞ্চল সনাক্তকরণ।
- লোকশিল্পের প্রদর্শন, ডকুমেন্টেশন ও প্রচারের ব্যবস্থা করা।
- পুনরুজ্জীবিত করার জন্য লোকশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান।
- লোকশিল্পের দিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করা।
- লোকশিল্প বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।
 পাঠ্যবইয়ে লোকশিল্পের বিষয়ে প্রবন্ধ ও নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তকরণ।

Read 1325 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…