বৈঠকখানা ...

বৈঠকখানা ...

হুমায়রা মোস্তফা সোহানী

 

একটি বাসার ইন্টেরিয়র ডিজাইন করার সময় ফয়ারের পরে আসে লিভিংরুম কিংবা ড্রয়িংরুম ডিজাইন প্রসঙ্গ। প্রথমেই আসে রঙের ব্যবহার। লিভিংরুমে যে রঙই ব্যবহার করা হোক না কেন, এর প্রভাব পড়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের ওপর। তাই সচেতনভাবে ড্রয়িংরুমের রঙ নির্ধারণ করা উচিত। কারণ ভুল রঙের ব্যবহার একদিকে যেমন অতিথিদের বিব্রত করে, অন্যদিকে তেমনি সঠিক রঙের ব্যবহার তাদের মন শান্ত বা আরামদায়ক করে তোলে। যেমন হালকা আকাশি ও সাদার ব্যবহার রুমটিকে আরো প্রশস্ত, স্নিগ্ধ এবং আরামদায়ক করে তেমনই লাল ও কমলার ব্যবহার রুমের আবহ অনেকটা উত্তপ্ত করে।
চিরায়তভাবে বিল্ডিংয়ের অন্যান্য রুম থেকে ড্রয়িংরুমের দেয়াল একটু ব্যতিক্রম হয়। লিভিংরুম হচ্ছে সাধারণ খোলা জায়গা। তাই লিভিংরুমটি এমন হওয়া উচিত যাতে এর নিজস্বতা প্রকাশ পায়।
আজকাল বাজারে অনেক সুন্দর ও বিভিন্ন মানের ওয়াল পেপার পাওয়া যায়। তবে অবশ্যই ওয়াল পেপার বাছাইয়ে সচেতন থাকতে হবে। এর বেমানান ডিজাইন প্রয়োগ আপনার ও পরিবারের পুরো রুচিবোধ নষ্ট করে দিতে পারে। ওয়াল পেপার ছাড়াও বাজারে কালার কোম্পানিগুলো টেকচার্ড, মেটালিক ও নন-মেটালিকসহ বিভিন্ন ডিজাইন বাজারজাত করছে। এসব ডিজাইনও আনতে পারে আধুনিকতার ছোঁয়া। এসব ইলিউশন পেইন্ট আজকাল কেবল দেয়ালেই নয়, বরং সিলিংয়েও ব্যবহারে দেয় শৈল্পিক ছোঁয়া। তবে সিলিংয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে হালকা রঙ নির্বাচন করা বাঞ্ছনীয়।
এতোক্ষণ লিভিংরুমের রঙ এবং ওয়াল পেপারের ব্যবহার সম্পর্কে জানলাম। এবার আসা যাক ফার্নিচারে কাঠ ও বোর্ডের ব্যবহারে। লিভিংরুমে হালকা বোর্ডের কাজ তথা ওয়াল পেনেলিং ফলস সিলিং ডিজাইন করা হয়। তবে তা অবশ্যই খুব অল্প পরিসরে ডিজাইন করতে হবে। না হলে পুরো ঘরটিই ঘুমোট মনে হবে।

দুই.
আমাদের দেশে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। তা হচ্ছে, যতো বেশি কাঠ বা বোর্ডের কাজ করা হয় ততো বেশি সুন্দর হয়। বস্তুত সিলিংয়ে সামান্য কিছু ডিজাইন করাই যায়। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে বিল্ডিং প্ল্যান পরিবর্তন করায় কিছু বিম এলোমেলোভাবে বেরিয়ে রুমের সৌন্দর্য ব্যাহত করে। তাই ফলস সিলিংয়ের প্রচলন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলস সিলিংয়ে হালকা লাইটের ব্যবহার লিভিংরুমের আবেদন বাড়ায় ছাড়া কমায় না। তবে খেয়াল রাখা জরুরি যাতে তা কমার্শিয়াল স্পেসগুলোর মতো জাঁকজমক না হয়। হালকা আলোর উৎসেও লিভিংরুমে নান্দনিক আবহ আনা সম্ভব।
এরপরই আসে ফ্লোর বা মেঝের সজ্জা। বাজারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কার্পেট পাওয়া যায়। রুমের আবহ আনুযায়ী কার্পেটের ব্যবহার লিভিংরুমকে আরো জীবন্ত করে তোলে। অনেকে আবার বাহারি টাইলস অথবা মার্বেল দিয়ে লিভিংরুমের মেঝের ডেকোরেশন করে থাকেন। এছাড়া আজকাল উডেন ফ্লোরের এফেক্ট দেয়ার জন্য অনেকে এমডিএফ-এর ওপর ভিনিয়ার্ড উড পেস্ট করা আর্টিফিশিয়াল ফ্লোর ব্যবহার করেন। তবে এমডিএফের ওপর ভিনিয়ার্ড উড পেস্ট করা আর্টিফিশিয়াল ফ্লোরের চেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং উডের ওপর পেস্টিং ভিনিয়ার্ড ফ্লোর বেশি টেকসই হয়।
লিভিংরুমের ফার্নিচার কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে তা যেন রুমের সঙ্গে মানানসই হয়। অনেক সময় আমরা ভালো লাগা থেকে এমন সব ফার্নিচার কিনে আনি যা হয়তো রুমের আকার আনুযায়ী বড় কিংবা তুলনামূলক ছোট হয়ে যায়। এ দুটি ব্যাপারই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আবার হয়তো ঘরের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করা ক্ল্যাসিকাল মুডে। অথচ ফার্নিচার আনা হলো কনটেম্পোরারি। তখন ঘর সাজানোর পুরো কাজটিই ভেস্তে যায়।
সবশেষে যা না বললেই নয় তা হলো, লিভিংরুমে যাতে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস সঞ্চালনের ব্যবস্থা থাকেÑ অবশ্যই এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। বড় একটি খোলা জানালা অনেক দামি আসবাব সাজানোর চেয়ে অনেক সময় বেশি আবেদন সৃষ্টি করতে পারে।

 

ছবি: সোহানী’স ইনটেরিয়র

Read 316 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…