বিয়ে

 

 

বিয়ে, সাদী, বিবাহ, নিকাহ্ এই চারটি শব্দের সাথে বাঙালি বাংলা ভাষাভাষি সকলেই পরিচিত। বিয়ে সব নারী পুরুষের জীবনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা অধ্যায়। পৃথিবীর সকল ধর্মেই বিবাহকে উৎসাহীত করা হয়েছে। এটি একটি প্রাচীন প্রথা, প্রাচীন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। অবাধ যৌনাচার শুধু সামাজিক অনাচার তৈরী করে না উৎপাদন ঘটায় এমন কতগুলো রোগ শোক যা সকল অর্থেই ঝুকিপূর্ন এবং অসম্মানজনক। সামাজিক শৃংখলা বংশ ধারা রক্ষায় বিয়ের প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করার কোনো পথ নেই। বিয়ের আয়োজন সকল ধর্ম জাতি গোষ্ঠির মধ্যেই আনন্দের এক সাজ সাজ রব। বিয়েকে কেন্দ্র করে বর কনে উভয় পক্ষের মধ্যে আনন্দ বেদনা আর নতুন সম্পর্কের সেতু বন্ধন এ এক স্বর্গীয় সুষমা। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করেছে যে শুধু মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রেম ভালোবাসার সৃষ্টি হয় এমন নয়, মানুষ ছাড়াও অন্যান্য পশু পাখির মধ্যেও প্রেম ভালোবাসার নিদর্শন প্রত্যক্ষ করা যায়। পশু পাখিদের মধ্যে প্রথাগত মন্ত্র উচ্চারণ করে বিয়ে হয় না কিন্তু বিপরীত লিঙ্গের নর ও নারী তারা একত্রে র্দীর্ঘদিন বসবাস করে সুখের সংসার রচনা করে। বিয়ে নিয়ে সারা পৃথিবীজোড়া প্রবাদ প্রবচন সহ অনেক উন্নত মানের সাহিত্য রচনার ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়।

বিয়ের আয়োজনে প্রত্যেক ধর্ম জাতি গোষ্ঠির মধ্যে নিজ নিজ রীতি নীতি আচার অনুষ্ঠান বিদ্যমান। আজকাল মানুষের জীবন যাত্রার নাগরিক যে তাড়া বেড়েছে তার কোনো বাহানার শেষ নেই ফলে সকল আয়োজনেই তার প্রভাব পড়ছে। এক সময় লক্ষ্য করা যেত যে বিবাহের আয়োজন নিয়ে দু’টি পরিবার শুধু নয় একটি মহল্লা কিংবা একটি পুরো গ্রাম আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। বেশ দুরে থেকে মাইকে, কলের গান, বিয়ের গান বিয়ের গীত কখনো রেকর্ড, ক্যাসেট কিংবা সমবেতভাবে নানা বয়সী নারী পুরুষে কণ্ঠে শোনা যেতো। আজ আর সেই ধরনের আয়োজন খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। নানা বর্ণের কাগজ কেটে ত্রিকোণ নিশান, ঝালর কেটে পুরো বাড়ি সাজিয়ে তোলা এ কাজগুলো চলতো দিনের পর দিন অংশ নিতো পাড়া প্রতিবেশী, তরুণী-তরুণ তখনো চলতো নাচ, গান, ছড়াকাটা, ধাঁধাঁ বলা, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি। আজ আর মানুষের অত সময় নেই তাই খবর দেয়া হচ্ছে ডেকোরেশন কোম্পানীগুলোকে, যে আমাদের বাড়ীতে বিয়ে সাজিয়ে দিয়ে যাও আর অমনি হাজির হয়ে গেলো লাল, নীল, হলুদ বাতি আরো কত কী সাজানোর সরঞ্জাম। আর এখন হাল ফ্যাশনের অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে বিবাহের আনন্দ আয়োজনকে কত আধুনিক আরো কত আনন্দঘন করা যায় সেই বিবেচনা মাথায় রেখে।
এমন অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যে আপনাকে কোনো ঝামেলেই আর যেতে হবে না। আপনি শুধু অর্থের যোগন দেবেন আর কী চাইছেন তাই জানিয়ে দিন, সেই সেই মতো সকল কিছু হাজির হয়ে যাবে আপনার সামনে। ব্রাইডাল ম্যানেজমেন্ট, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীর কোনো কমতি নেই আপনার হাতের কাছে। 
বিয়ের রীতিনীতি জাতি ধর্ম ভেদে বিবাহের রীতিনীতি বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের বিয়ের আয়োজন প্রায়ই আমাদের চোখে পড়ে এবং আমরা নানা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে সামাজিক দায়িত্ব পালন ও আনন্দ অনুভব করে থাকি। এই ভারতীয় উপমহাদেশে বিবাহের বহু মাত্রিক আয়োজন বিভিন্ন ধর্মের আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে পরষ্পর প্রবেশ করেছে স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দে। কন্যা দর্শন, কন্যা পছন্দ, বর পছন্দ এর সাথে যে সামাজিক আচার অনুষ্ঠানগুলো আমরা লক্ষ্য করি তা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু খুব ভিতর গত পার্থক্য ছাড়া প্রায় সব একই রকম। আর এটি সংক্রমিত হয়েছে র্দীর্ঘ দিনের সৌহার্দপূর্ণ সহবস্থানের মধ্যে দিয়ে সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও এটি। মুসলিম বিবাহের প্রাথমিক পর্যায়ে কন্যার বাড়িতে যে প্রস্তাব নিয়ে মুরুব্বীগণ উপস্থিত হন একে প্রস্তাব বা পায়গাম বলা হয়ে থাকে। তারপর কন্যা দর্শনের দিনক্ষন ঠিক করা, ঠিক একই পদ্ধতিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে কন্যা দর্শনের রীতি রয়েছে। কন্যা দর্শনের পরে খ্রিষ্ট সম্পদায়ের বিবাহের প্রস্তাবটি কিছুটা ভিন্ন, বর কণে পক্ষ উভয়ে সম্মত হলে পরে বর এবং কণের নাম গির্জায় প্রধান ধর্ম যাযক এর কাছে লিপিবদ্ধ করতে হয় । ফাদার পরপর তিন রোববার তাদের বিস্তারিত পরিচয়সহ বিবাহের প্রস্তবটি তুলে ধরবেন এতে কারো কোনো প্রকার আপত্তি না থাকলে প্রস্তাবটি গৃহীত হবে। পরবর্তী কোনো শুভ দিনক্ষণ দেখে র্গিজায় বিবাহ সম্পন্ন হবে তবে রেওয়াজ আছে যে রবিবার এবং যিশু খ্রিষ্টের জন্মের মাসে কোনো বিবাহ সম্পন্ন হবে না। গির্জায় এই পদ্ধতিতে নাম লেখানোকে বন্দ বা বন্ধন বলা হয়ে থাকে।
হিন্দু বা সনাতন ধর্মের প্রাচীন রীতির মধ্যে ছিল বিবাহ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পাত্র-পাত্রী কোনো আহারই গ্রহণ করতে না। গায়ে হলুদে ব্যবহৃত হলুদ ছেলের গায়ের স্পর্শ করে কনের বাড়িতে পাঠানো হতো। সেই হলুদ কনের গায়ে লাগানো হতো। নিয়ম ছিল গায়ে হলুদের সময় বর সেলাই করা কোনো কাপড় পরিধান করতো না। পাত্র পাত্রীকে বরণ করতে কালো কাজললতা, দেশলাই, সুতো, হলুদবাটা, চন্দন, পঞ্চ শষ্যসহ আরো নানা বিধ উপকরণ দিয়ে বরণ ডালা সাজানো হতো। (এখানে উল্লেখ্য যে ঠিক একই আয়োজনে মুসলিম, খ্রিষ্ট এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে হলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।)
সম্প্রতিক সময়ে মানুষের জীবনযাত্রায় গতির সঞ্চার বৃদ্ধি পেয়েছে সাথে নানাবিধ কুসংস্কার মুক্ত হয়ে মানুষ নিজেকে আবিষ্কার করেছে আলোর দিকে ফলে অনেক পুরোনো রীতিনীতি এখন আর গ্রাহ্য করা হচ্ছে না। ১৯৬১ সালে জারিকৃত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে সকল ধর্ম বর্ণ গোষ্টির বিবাহ অবশ্যই স্থানীয় সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি করাতে হবে।

 

বিয়ে, সাদী, বিবাহ, নিকাহ্ এই চারটি শব্দের সাথে বাঙালি বাংলা ভাষাভাষি সকলেই পরিচিত। বিয়ে সব নারী পুরুষের জীবনেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা অধ্যায়। পৃথিবীর সকল ধর্মেই বিবাহকে উৎসাহীত করা হয়েছে। এটি একটি প্রাচীন প্রথা, প্রাচীন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। অবাধ যৌনাচার শুধু সামাজিক অনাচার তৈরী করে না উৎপাদন ঘটায় এমন কতগুলো রোগ শোক যা সকল অর্থেই ঝুকিপূর্ন এবং অসম্মানজনক। সামাজিক শৃংখলা বংশ ধারা রক্ষায় বিয়ের প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করার কোনো পথ নেই। বিয়ের আয়োজন সকল ধর্ম জাতি গোষ্ঠির মধ্যেই আনন্দের এক সাজ সাজ রব। বিয়েকে কেন্দ্র করে বর কনে উভয় পক্ষের মধ্যে আনন্দ বেদনা আর নতুন সম্পর্কের সেতু বন্ধন এ এক স্বর্গীয় সুষমা। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করেছে যে শুধু মানব সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রেম ভালোবাসার সৃষ্টি হয় এমন নয়, মানুষ ছাড়াও অন্যান্য পশু পাখির মধ্যেও প্রেম ভালোবাসার নিদর্শন প্রত্যক্ষ করা যায়। পশু পাখিদের মধ্যে প্রথাগত মন্ত্র উচ্চারণ করে বিয়ে হয় না কিন্তু বিপরীত লিঙ্গের নর ও নারী তারা একত্রে র্দীর্ঘদিন বসবাস করে সুখের সংসার রচনা করে। বিয়ে নিয়ে সারা পৃথিবীজোড়া প্রবাদ প্রবচন সহ অনেক উন্নত মানের সাহিত্য রচনার ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যায়।

বিয়ের আয়োজনে প্রত্যেক ধর্ম জাতি গোষ্ঠির মধ্যে নিজ নিজ রীতি নীতি আচার অনুষ্ঠান বিদ্যমান। আজকাল মানুষের জীবন যাত্রার নাগরিক যে তাড়া বেড়েছে তার কোনো বাহানার শেষ নেই ফলে সকল আয়োজনেই তার প্রভাব পড়ছে। এক সময় লক্ষ্য করা যেত যে বিবাহের আয়োজন নিয়ে দু’টি পরিবার শুধু নয় একটি মহল্লা কিংবা একটি পুরো গ্রাম আনন্দের জোয়ারে ভাসছে। বেশ দুরে থেকে মাইকে, কলের গান, বিয়ের গান বিয়ের গীত কখনো রেকর্ড, ক্যাসেট কিংবা সমবেতভাবে নানা বয়সী নারী পুরুষে কণ্ঠে শোনা যেতো। আজ আর সেই ধরনের আয়োজন খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। নানা বর্ণের কাগজ কেটে ত্রিকোণ নিশান, ঝালর কেটে পুরো বাড়ি সাজিয়ে তোলা এ কাজগুলো চলতো দিনের পর দিন অংশ নিতো পাড়া প্রতিবেশী, তরুণী-তরুণ তখনো চলতো নাচ, গান, ছড়াকাটা, ধাঁধাঁ বলা, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি। আজ আর মানুষের অত সময় নেই তাই খবর দেয়া হচ্ছে ডেকোরেশন কোম্পানীগুলোকে, যে আমাদের বাড়ীতে বিয়ে সাজিয়ে দিয়ে যাও আর অমনি হাজির হয়ে গেলো লাল, নীল, হলুদ বাতি আরো কত কী সাজানোর সরঞ্জাম। আর এখন হাল ফ্যাশনের অনেক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে বিবাহের আনন্দ আয়োজনকে কত আধুনিক আরো কত আনন্দঘন করা যায় সেই বিবেচনা মাথায় রেখে।
এমন অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যে আপনাকে কোনো ঝামেলেই আর যেতে হবে না। আপনি শুধু অর্থের যোগন দেবেন আর কী চাইছেন তাই জানিয়ে দিন, সেই সেই মতো সকল কিছু হাজির হয়ে যাবে আপনার সামনে। ব্রাইডাল ম্যানেজমেন্ট, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীর কোনো কমতি নেই আপনার হাতের কাছে।
বিয়ের রীতিনীতি
জাতি ধর্ম ভেদে বিবাহের রীতিনীতি বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের বিয়ের আয়োজন প্রায়ই আমাদের চোখে পড়ে এবং আমরা নানা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে সামাজিক দায়িত্ব পালন ও আনন্দ অনুভব করে থাকি। এই ভারতীয় উপমহাদেশে বিবাহের বহু মাত্রিক আয়োজন বিভিন্ন ধর্মের আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে পরষ্পর প্রবেশ করেছে স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দে। কন্যা দর্শন, কন্যা পছন্দ, বর পছন্দ এর সাথে যে সামাজিক আচার অনুষ্ঠানগুলো আমরা লক্ষ্য করি তা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু খুব ভিতর গত পার্থক্য ছাড়া প্রায় সব একই রকম। আর এটি সংক্রমিত হয়েছে র্দীর্ঘ দিনের সৌহার্দপূর্ণ সহবস্থানের মধ্যে দিয়ে সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও এটি। মুসলিম বিবাহের প্রাথমিক পর্যায়ে কন্যার বাড়িতে যে প্রস্তাব নিয়ে মুরুব্বীগণ উপস্থিত হন একে প্রস্তাব বা পায়গাম বলা হয়ে থাকে। তারপর কন্যা দর্শনের দিনক্ষন ঠিক করা, ঠিক একই পদ্ধতিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে কন্যা দর্শনের রীতি রয়েছে। কন্যা দর্শনের পরে খ্রিষ্ট সম্পদায়ের বিবাহের প্রস্তাবটি কিছুটা ভিন্ন, বর কণে পক্ষ উভয়ে সম্মত হলে পরে বর এবং কণের নাম গির্জায় প্রধান ধর্ম যাযক এর কাছে লিপিবদ্ধ করতে হয় । ফাদার পরপর তিন রোববার তাদের বিস্তারিত পরিচয়সহ বিবাহের প্রস্তবটি তুলে ধরবেন এতে কারো কোনো প্রকার আপত্তি না থাকলে প্রস্তাবটি গৃহীত হবে। পরবর্তী কোনো শুভ দিনক্ষণ দেখে র্গিজায় বিবাহ সম্পন্ন হবে তবে রেওয়াজ আছে যে রবিবার এবং যিশু খ্রিষ্টের জন্মের মাসে কোনো বিবাহ সম্পন্ন হবে না। গির্জায় এই পদ্ধতিতে নাম লেখানোকে বন্দ বা বন্ধন বলা হয়ে থাকে।
হিন্দু বা সনাতন ধর্মের প্রাচীন রীতির মধ্যে ছিল বিবাহ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পাত্র-পাত্রী কোনো আহারই গ্রহণ করতে না। গায়ে হলুদে ব্যবহৃত হলুদ ছেলের গায়ের স্পর্শ করে কনের বাড়িতে পাঠানো হতো। সেই হলুদ কনের গায়ে লাগানো হতো। নিয়ম ছিল গায়ে হলুদের সময় বর সেলাই করা কোনো কাপড় পরিধান করতো না। পাত্র পাত্রীকে বরণ করতে কালো কাজললতা, দেশলাই, সুতো, হলুদবাটা, চন্দন, পঞ্চ শষ্যসহ আরো নানা বিধ উপকরণ দিয়ে বরণ ডালা সাজানো হতো। (এখানে উল্লেখ্য যে ঠিক একই আয়োজনে মুসলিম, খ্রিষ্ট এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে হলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।)
সম্প্রতিক সময়ে মানুষের জীবনযাত্রায় গতির সঞ্চার বৃদ্ধি পেয়েছে সাথে নানাবিধ কুসংস্কার মুক্ত হয়ে মানুষ নিজেকে আবিষ্কার করেছে আলোর দিকে ফলে অনেক পুরোনো রীতিনীতি এখন আর গ্রাহ্য করা হচ্ছে না। ১৯৬১ সালে জারিকৃত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে সকল ধর্ম বর্ণ গোষ্টির বিবাহ অবশ্যই স্থানীয় সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে রেজিষ্ট্রি করাতে হবে।

বরযাত্রা
বরযাত্রা বিবাহ অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষনীয় একটি পর্ব। অল্প কিছুদিন আগেও বরযাত্রায় পালকি ঘোড়ার গাড়ি জল পথে বাহারী বাহারী নৌযান ব্যবহার করা হতো। বরযাত্রা সাজানো নিয়েও মানুষের সার্মথ অনুযায়ী আয়োজনের শেষ নেই। একটি বিশেষ দিনকে আরো প্রাণবন্ত স্মরণীয় করে রাখতে, পোশাক থেকে শুরু করে গাড়ীর বহর, আতশবাজী পোড়ানো সব কিছুতেই আনন্দকে ধরে রাখতে প্রাণান্ত চেষ্টা।
বরযাত্রা কণের বাড়ীতে উপস্থিত হওয়ার ক্ষণযেন আরো এক আনন্দের হিলোøাল। সদর দরজা থেকে অন্দরমহল পর্যন্ত এক কলকাকলী গুঞ্জরণ, বর এসেছে বর এসেছে। কণের নিকট আত্মীয় ভাই বোনেরা গেট আগলে ধরে নতুন বরের কাছ থেকে বক্শীস আদায় করা তখন উভয় পক্ষে মিঠে কড়া নানা কথা পরিবেশকে করে তোলে যেন আরো অম্ল-মধুর।
বর বিয়ের গেট থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়ে বসলো তো বরের স্টেজে আর অমনি লুকানো হয়ে গেল বরের নতুন নাগরা জুতো। আর এ নিয়ে নানা হাস্যরস , এমনি করেই যেন নতুন সম্পর্ককে আরো নিবীর করে তোলা।
হাল ফ্যাশানেও বরযাত্রার আয়োজনে নানা বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। মটর শোভাযাত্র ছাড়াও এখন প্রায়ই দেখা যায় ঘোড়ার গাড়ীতে বরযাত্রার আয়োজন। প্রতীকি পালকির ব্যবহারও শহরে-নগরে চোখে পড়ে আজকাল।

কন্যা দান
বিবাহের যাবতীয় আপ্যায়ন অনুষ্ঠানিকতা শেষে আসে কন্যা দান পর্বটি। এটি একটি বেদনা ভারাক্রান্ত মুহূর্ত এই বিদায় ক্ষণটিতে নিকট আত্মীয় সকলেই অশ্রু সজল হয়ে ওঠে। জীবনের দীর্ঘ সময় পিতা-মাতার অকৃত্রিম ¯েœহে ভালোবাসায় লালিত পালিত হয়ে স্বামীর ঘরে চলে যাবার বিদায় লগ্নটি যেন হৃদয়ের অতলে গিয়ে স্পর্শ করে। পরিবারের মুরুব্বীগণ কন্যাকে স্বামীর হাতে তুলে দেন তাদের ভালোবাসার ধন তখন নানা আবেগঘণ কথা শোনা যায় উভয় পক্ষে। বর পক্ষ থেকে দেয়া হয় নানা প্রবোধ বাণী। মায়ার জাল ছিন্ন করে অশ্রুভরা নয়নে কন্যাকে বিদায় নিতে হয় জীবনের নতুন এক দীর্ঘ
যাত্রাপথের সূচনায়।


চাঁদ দেখা
বিবাহ অনুষ্ঠানের মধ্যে এ পর্বটি বেশ আমোদঘন একটি সময় আপ্যায়নের কিছু পরে এই সুন্দর মুহূর্তটি আসে, বরকে নিয়ে আসা হয় কণের কাছে, তখন কণের হাতে বর গ্রহণ করেন শরবত ও মিষ্টান্ন। মালাবদলও চলে পরস্পর বর কনের মধ্যে। এ সময় উপস্থিত থাকেন সাধারণত আনন্দমহলের নারীগণ মা, খালা, দাদী, মামী, ফুফু, বোন, সই পাড়া-প্রতিবেশি সকলে। তারপর ওড়না কিংবা লাল বেনারসি কাতানে বর ও কণে মাথা ঢেকে আড়াআড়িভাবে নিচে রাখা হয়, আয়নায় তখন এক সাথে বর কণের সুন্দর অবয়ব ভেসে ওঠে। পরস্পর দৃষ্টি বিনিময় হয় একে শাহ্্-নজর Ÿলা হয়ে থাকে।

বৌভাত
এই পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে বরের বাড়িতে। বউ ঘরে তোলার পর বর পক্ষের সকল আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশি বন্ধু-বান্ধবদের নিমন্ত্রন করা হয়। বৌভাতের অনুষ্ঠানে নতুন দম্পতি সকলকে স্বাগত জানান আপ্যায়ণ পর্বে। এই অনুষ্ঠাটিতে আর কোন ঝামেলা থাকে না। আপ্যায়ণ তদারকি করা আর উপহার সামগ্রী গুছিয়ে রাখা


বরযাত্রা বিবাহ অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষনীয় একটি পর্ব। অল্প কিছুদিন আগেও বরযাত্রায় পালকি ঘোড়ার গাড়ি জল পথে বাহারী বাহারী নৌযান ব্যবহার করা হতো। বরযাত্রা সাজানো নিয়েও মানুষের সার্মথ অনুযায়ী আয়োজনের শেষ নেই। একটি বিশেষ দিনকে আরো প্রাণবন্ত স্মরণীয় করে রাখতে, পোশাক থেকে শুরু করে গাড়ীর বহর, আতশবাজী পোড়ানো সব কিছুতেই আনন্দকে ধরে রাখতে প্রাণান্ত চেষ্টা।
বরযাত্রা কণের বাড়ীতে উপস্থিত হওয়ার ক্ষণযেন আরো এক আনন্দের হিলোøাল। সদর দরজা থেকে অন্দরমহল পর্যন্ত এক কলকাকলী গুঞ্জরণ, বর এসেছে বর এসেছে। কণের নিকট আত্মীয় ভাই বোনেরা গেট আগলে ধরে নতুন বরের কাছ থেকে বক্শীস আদায় করা তখন উভয় পক্ষে মিঠে কড়া নানা কথা পরিবেশকে করে তোলে যেন আরো অম্ল-মধুর।
বর বিয়ের গেট থেকে ছাড়া পেয়ে গিয়ে বসলো তো বরের স্টেজে আর অমনি লুকানো হয়ে গেল বরের নতুন নাগরা জুতো। আর এ নিয়ে নানা হাস্যরস , এমনি করেই যেন নতুন সম্পর্ককে আরো নিবীর করে তোলা।
হাল ফ্যাশানেও বরযাত্রার আয়োজনে নানা বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। মটর শোভাযাত্র ছাড়াও এখন প্রায়ই দেখা যায় ঘোড়ার গাড়ীতে বরযাত্রার আয়োজন। প্রতীকি পালকির ব্যবহারও শহরে-নগরে চোখে পড়ে আজকাল।

কন্যা দান
বিবাহের যাবতীয় আপ্যায়ন অনুষ্ঠানিকতা শেষে আসে কন্যা দান পর্বটি। এটি একটি বেদনা ভারাক্রান্ত মুহূর্ত এই বিদায় ক্ষণটিতে নিকট আত্মীয় সকলেই অশ্রু সজল হয়ে ওঠে। জীবনের দীর্ঘ সময় পিতা-মাতার অকৃত্রিম ¯েœহে ভালোবাসায় লালিত পালিত হয়ে স্বামীর ঘরে চলে যাবার বিদায় লগ্নটি যেন হৃদয়ের অতলে গিয়ে স্পর্শ করে। পরিবারের মুরুব্বীগণ কন্যাকে স্বামীর হাতে তুলে দেন তাদের ভালোবাসার ধন তখন নানা আবেগঘণ কথা শোনা যায় উভয় পক্ষে। বর পক্ষ থেকে দেয়া হয় নানা প্রবোধ বাণী। মায়ার জাল ছিন্ন করে অশ্রুভরা নয়নে কন্যাকে বিদায় নিতে হয় জীবনের নতুন এক দীর্ঘ
যাত্রাপথের সূচনায়।
চাঁদ দেখা
বিবাহ অনুষ্ঠানের মধ্যে এ পর্বটি বেশ আমোদঘন একটি সময় আপ্যায়নের কিছু পরে এই সুন্দর মুহূর্তটি আসে, বরকে নিয়ে আসা হয় কণের কাছে, তখন কণের হাতে বর গ্রহণ করেন শরবত ও মিষ্টান্ন। মালাবদলও চলে পরস্পর বর কনের মধ্যে। এ সময় উপস্থিত থাকেন সাধারণত আনন্দমহলের নারীগণ মা, খালা, দাদী, মামী, ফুফু, বোন, সই পাড়া-প্রতিবেশি সকলে। তারপর ওড়না কিংবা লাল বেনারসি কাতানে বর ও কণে মাথা ঢেকে আড়াআড়িভাবে নিচে রাখা হয়, আয়নায় তখন এক সাথে বর কণের সুন্দর অবয়ব ভেসে ওঠে। পরস্পর দৃষ্টি বিনিময় হয় একে শাহ্্-নজর Ÿলা হয়ে থাকে।

বৌভাত
এই পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে বরের বাড়িতে। বউ ঘরে তোলার পর বর পক্ষের সকল আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশি বন্ধু-বান্ধবদের নিমন্ত্রন করা হয়। বৌভাতের অনুষ্ঠানে নতুন দম্পতি সকলকে স্বাগত জানান আপ্যায়ণ পর্বে। এই অনুষ্ঠাটিতে আর কোন ঝামেলা থাকে না। আপ্যায়ণ তদারকি করা আর উপহার সামগ্রী গুছিয়ে রাখা

Read 687 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…