মেঘমল্লার - ফিল্ম রিভিউ

মঘেমল্লার



১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। পুরো বাঙালির জন্য ঐতিহাসিক এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। তা আমাদের সত্তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক চলচ্চিত্র এ দেশে নির্মাণ হয়েছে, হচ্ছে দেশের বাইরেও। সম্প্রতি মুক্তি পায় মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী নিয়ে নতুন চলচ্চিত্র ‘মেঘমল্লার’। এর কাহিনিতে আমরা দেখা গেছে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক অবস্থায় গল্পের মূল চরিত্র নূরুল হুদা (শহীদুজ্জামান সেলিম) বাংলাদেশের একটি মফস্বল শহরের সরকারি কলেজের রসায়ণের শিক্ষক। স্ত্রী আসমা ও পাঁচ বছরের মেয়ে সুধাকে নিয়ে তার সুখ-দুঃখের মধ্যবিত্ত সংসার। তাদের সঙ্গে থাকে নূরুল হুদার শ্যালক মানে আসমার ছোট ভাই মিন্টু। একদিন কাউকে কিছু না জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চলে যায় সে। নূরুল হুদাকে রেখে যায় জীবন-মৃত্যুর কঠিন সংকটের মধ্যে। এরপরও নূরুল হুদা নিয়মিত কলেজে যায় এবং পাকিস্তানপন্থি শিক্ষকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করে। মধ্যবিত্তের শঙ্কা, ভয়, পিছুটান তাকে প্রতিনিয়ত অসহায় করে তোলে।
মুষলধারে বৃষ্টির এক রাতে মুক্তিযোদ্ধারা নুরুল হুদার কলেজ এবং পাশের আর্মি ক্যাম্পে আক্রমণ চালায়। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই পাকিস্তানি আর্মিরা নূরুল হুদা ও তার বন্ধু আবদুস সাত্তারকে ধরে নিয়ে যায়। বৃষ্টির মধ্যে যাওয়ার সময় আসমা তার ভাই মিন্টুর একটা ফেলে যাওয়া রেইনকোট নুরুল হুদাকে পরিয়ে দেয়। পাকিস্তানি আর্মির সামনে নূরুল হুদা প্রথমে ভয় পেয়ে যায়। প্রমাণ করার চেষ্টা করে, সে শিক্ষক মাত্র। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তার সংশ্রব নেই। কিন্তু নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বাড়তে থাকে। আঘাতে নূরুল হুদার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে।

রক্তের দিকে তাকিয়ে হঠাৎই তার মিন্টুর কথা মনে হয় এবং নিজেকেও মুক্তিযোদ্ধা ভাবতে শুরু করে। এ জন্য মৃত্যু বা আত্মদান কোনো ব্যাপারই নয়। সে বলেÑ আমি সবকিছু জানি। কিন্তু কিছুই বলবো না। এরপর পাকিস্তানি আর্মির মেজর তাকে গুলি করে হত্যা করে।
চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে নুরুল হুদার স্ত্রী আসমা ও তার মেয়ে সুধা চরিত্রে অপর্ণা ঘোষ অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি গত ১২ ডিসেম্বর সারা দেশে মুক্তি পায়। পরিচালক জাহিদুর রহিম অঞ্জন দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রের ওপর শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিছুটা দেরিতে এই প্রথম তিনি নির্মাণ করলেন মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে মেঘমল্লার। এটি তার প্রথম ফিচার ফিল্ম। মুক্তিযুদ্ধের গল্প নির্বাচন, সিনেমার মেকিং ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যথেষ্ট সফলতা রেখেছেন তিনি। তার চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশ সরকার ও বেঙ্গল এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড।
কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প ‘রেইনকোট’ অবলম্বনে নির্মিত ওই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা করেছেন জাহিদুর রহিম অঞ্জন। শুরুতে এর নাম রেইনকোট নির্ধারিত হলেও পরে করা হয়েছে ‘মেঘমল্লার’। কারণ ভারতে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘রেইনকোট’ চলচ্চিত্র রয়েছে। তাই নাম পরিবর্তন করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় চলচ্চিত্র অনুদানের সহযোগিতা ও বেঙ্গল এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটি পরিবেশন করেছে বেঙ্গল ক্রিয়েশনস।                                                                                     

 

লেখা : দিগন্ত সৌরভ

Read 272 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…