Page 8 of 8

নজরুলের গান ও আমি

 

বয়স তখন পাঁচ কী ছয় বছর। আমরা থাকি জলপাইগুড়িতে। আমার আব্বার ব্যবসার সুবাদে সেখানে ছোটবেলাটা কেটেছে। ওই সময়ই আমার আম্মা এক ওস্তাদের হাতে আমাকে তুলে দেন গান শেখানোর জন্য। বলা যায়, তখনই আমার গানের হাতেখড়ি। এরপর আমরা রংপুরে চলে আসি। রংপুরে এসে ওস্তাদ রামগোপাল-এর কাছে আবার শেখা শুরু করি। আসলে মা-বাবা দু’জনেরই প্রবল আগ্রহ ছিল আমার গানের ব্যাপারে। রংপুরে গার্লস স্কুলে পড়ার সময় একটি প্রতিযোগিতায় বেশ মনে আছে ফার্স্ট

হয়েছিলাম। তখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি।

এরপর আমরা ঢাকায় চলে আসি। ঢাকায় এসে আমাদের বাসা নেয়া হয় লালবাগে। আমরা ছিলাম ৩ ভাই ও ৩ বোন। ঢাকার বাসায় উঠেই মা-বাবা আমাদের সব ভাইবোনের জন্য আবার গানের ওস্তাদ দিলেন। তৎকালীন শাস্ত্রীয় সংগীতের বিখ্যাত ওস্তাদ ফজলুল হক-ই আমাদের শিক্ষক। ওস্তাদজী বাসায় এসে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শেখাতেন। ১৯৬৬ সালে ছায়ানটে ভর্তি হই। ছায়ানটে ওই সময় ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ ছিলেন। পর্যায়ক্রমে মরহুম ওস্তাদ সোহরাব হোসেন, মরহুম শেখ মনসুর রহমান, অঞ্জলি রায়-কে শিক্ষাগুরু হিসেবে পাই। পরে রবীন্দ্রভারতী থেকে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে এলেন আজাদ রহমান। তার কাছ থেকেও তালিম নিলাম।

গানের ভুবনে নজরুল সংগীত বেছে নিলাম কেনÑ অনেকেই এ প্রশ্ন করেন। আসলে ওই সময় টেলিভিশন বলতে একমাত্র বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) আর একমাত্র রেডিও বাংলাদেশ বেতার। তখনকার দিনে অনুরোধের আসরগুলোয় নজরুলের গান শুনতাম। ওই সময় সুপারস্টার ছিলেন সোহরাব হোসেন, লায়লা আরজুামান বানু, ফিরোজা বেগম, শেখ লুৎফর রহমান, ফেরদৌসী রহমান প্রমুখ। তখন আমি যদিও ছোট তবুও খুব সহজেই সুরগুলো বুঝতে পারতাম। তখনই নজরুলের গানের প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ পেতে থাকে। কারণ নজরুলের গানের যে বৈচিত্র্যময়তা তা আমাকে মুগ্ধ করতো। কোনো কবি যে তার জীবদ্দশায় তারই গানে-সুরে কতো রকম স্টাইল ব্যবহার করতে পারেন অতোটা না বুঝলেও একটা ভালোবাসার জায়গা তৈরি হয়ে যায়। পরে নজরুলের গানেই মনোনিবেশ করি। যেহেতু শাস্ত্রীয় সংগীতের ধারায় আমার গানের ভুবন সেহেতু নজরুলের গানের মধ্যে ছোট ছোট কাজ, বোল, তান আমার জন্য সহজ হয়ে ওঠে। সর্বোপরি ছায়ানটের মধ্য দিয়ে গানের ভুবনে আমার আসা।

আমার বড় বোন বাংলায়, ছোট বোন সাইকোলজিতে, বড় ভাই ইকোনমিকসে মেজভাই ইংলিশে, ছোট ভাই জুওলজিতে মাস্টার্স করেছে। আমি অনার্স শেষ করে চলে যাই দেশের বাইরে।

আমার ছোট ভাই ছায়ানটে গান শিখতো। বড় বোনও শিখতো। ছোট বোন শিখতো নাচ। অবাক করা ব্যাপার হলো, তখন একমাত্র মুসলিম মেয়ে হয়ে আমার বোন পুরো ইন্ডিয়ায় প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট হতো। পরে যখন আমরা ঢাকায় চলে এলাম তখন আব্বা তাকে ‘জাগুয়া সেন্টার’-এ ভর্তি করিয়ে দিলেন। তার নাচ দেখে শিক্ষকরা বললেন, ‘ওকে আর কী শেখাবো। ও তো সবই ভালো পারে।’ তবে তার বিয়ের পর নাচ আর কন্টিনিউ করেনি। আমার বড় বোনও ভালো গান গাইতেন। কিন্তু তিনিও বিয়ের পর আর গান করেননি। বড় ভাই পেইন্টিং করতেন। ফটোগ্রাফিতে খুব ভালো ছিলেন। ছোট ভাই নিয়মিত গান করতো। অবশ্য সে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকে চাকরি করতো। আমাদের পরিবার ছিল সাংস্কৃতিক পরিবার। মা-বাবা চাইতেন আমরা যেন নাচ-গানে মুখরিত থাকি। বড় বড় শিল্পীরা বাসায় নিয়মিত যাতায়ত করতেন। আমার ছোট ভাই ফিরোজা আপার ছেলে শাফিনের সঙ্গে মাইলস ব্যান্ডের ড্রামার ছিল।

গান গাওয়ার পাশাপাশি টেলিভিশনে নাটক করেছি। আমি রেডিওর খেলাঘরের সদস্য ছিলাম। যখন বড়দের আসরে গেলাম তখন রীতিমতো অডিশন দিয়ে তারপর স্থান পেয়েছি। পরিবারের সবার এতো সহযোগিতা পেয়েছি, আমার মনে হয় অন্য কেউ এতোটা পাননি। বিশেষ করে বিয়ের পর স্বামীর অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ আমাকে ত্বরান্বিত করেছে। ছায়ানটে ওই যে ১৯৬৬ সালে ঢুকেছি, এখনো সেখানেই আছি। ছায়ানটের একটি সিস্টেম আছে। যারা ফার্স্ট হয়, তারা নিচের ক্লাসের শিক্ষক হয়। আমি ফিফথ ইয়ার ও সমাপনী ক্লাস নিই। অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেন, আলাদা স্কুল করলাম না কেন? আমি বলতে চাই, ছায়ানট আমাকে যেভাবে শিখিয়েছে, ছায়ানটেই ঠিক সেভাবেই শেখাচ্ছি। অবাক করা ব্যাপার হলো, মিডিয়ায় যারা স্বনামে উজ্জ্বল, তাদের অধিকাংশ ছায়ানটের। তাদের ছেড়ে আলাদা কিছু করার ইচ্ছা আমার কখনোই জাগেনি।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ যখন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির মনে স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দেয় তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, আমিও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবো। রাইফেল-বন্দুক নয়, আমার অস্ত্র আমার গলা। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ মার্চ কালরাতে যে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হলো তা আমার মনে আরো গভীরভাবে দাগ কাটলো। আগেই বলেছি, ওই সময় আমরা থাকি পলাশী ব্যারাক সংলগ্ন বাসায়। ২৬ মার্চ সকালে আশপাশের মৃত্যুপুরীর দৃশ্য বর্ণনা শুনেই সিদ্ধান্ত নিই, আর বসে থাকলে চলবে না। পরে ১৭ এপ্রিল বাসার কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে যাই। ওই রাতেই আমার বিয়ে হয় মগবাজারের কাজি বাড়িতে। কারণ আমি মেয়ে মানুষ হয়ে কীভাবে শরণার্থীদের দলে ঠাঁই পাবো! তাই শুধু যাওয়ার বাসনায় আমি যে কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হইনি।

যুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে চলে যায়। তাদের তিনবেলা খাবার দেয়া, বাসস্থান, চিকিৎসা সহয়তা করে পার্শ্ববর্তী দেশটি। প্রায় ২৬ হাজার সেনা নিহত হন তাদের। অথচ দেখুন, তাদের স্মৃতির উদ্দেশে কোনো ম্যুরাল বা স্ট্যাচু নেই। পরবর্তী প্রজন্ম আমার মনে হয়, এসবের কিছুই জানে না।

যা হোক, আগরতলা হয়ে আমরা দিল্লিতে যাই। সেখানে গিয়ে ১৪৪ নম্বর লেনে লেখক ও সাহিত্যিক দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসায় উঠি। অবাক হয়ে যাই সেখানে বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ দেখে! আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, শারমিন মোরশেদ, জলিয়া আপু, বিপুল ভট্টাচার্য, নওসাদ আলী, গোবিন্দ কলরেডি, স্বপন চৌধুরী, এনামুল হকসহ অনেকেই। ওনারা অনেকেই

পরিবারসহ গিয়েছেন। কিন্তু আমি শুধু পরিবার ছাড়া, মা-বাবা ছাড়া। যদিও বার বার পরিবারের কথা মনে পড়ছিল তবুও ততো দিনে বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করার প্রত্যয়ে নিজেকে তৈরি করে নিচ্ছিলাম। তখন সেখানে একটি সংগঠন তৈরি হয়েছিল ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সহায়ক সমতি’। পরবর্তীকালে ওই নাম বদলে করা হয় ‘বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী পরিষদ’।

১৯৭৪ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছিলাম লন্ডনে। সেখানে থেকেও এ দেশের সব উৎসব-আয়োজন পালন করেছি। নজরুলের গান গেয়ে ওই দেশেও বেশ জনপ্রিয় ছিলাম। বিভিন্ন দেশের অনুষ্ঠান-শোতে অন্যান্য দেশের বাঙালিরাও চলে আসতেন।

নজরুলের গানে বৈচিত্র্যময় একটা বিষয় ছিল, এখনো আছে এবং থাকবেও অনেক দিন। বাংলা গানে যতো ধরণ আছে, আমার মনে হয় এর সবই নজরুলের গানে আছে। খুব ছোটবেলায় সংকল্প করেছিলাম, আমি সংগীতশিল্পীই হবো। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছি। কিন্তু কখনো শিক্ষা গ্রহণকালে ফাঁকি দিইনি।

জন্ম : ১৯৫২ সালের ২৭ ডিসেম্বর

পিতা : মরহুম শামসুল হুদা

মা : মরহুম শামসুন্নাহার রহিমা খাতুন

স্বামী : হাবিবুস সামাদ

সন্তান : বড় মেয়ে নাহিন আলীম টুম্পা। স্বামীর সঙ্গে মেরিল্যান্ডে থাকে। ছোট মেয়ে উজমা সামাদ। সদ্য লন্ডন থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরেছে।

সম্মাননা : ২০০৯ সালে নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে আজীবন সম্মাননা। ২০১৪ সালে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা। ২০১৬ সালে একুশে পদক।

নজরুল সংগীতশিল্পী পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট।

প্রকাশিত অ্যালবাম : ‘অভিসার’, ‘সন্ধ্যা মালতী’, ‘রূপান্তরের গান’, ‘নহে নহে প্রিয়’, ‘নিশিরাত’। এ বছর চারটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে লেজার ভিশন থেকে। এ দেশের প্রথম সিডি শাহীন সামাদের উর্দু গানের অ্যালবাম ‘মহব্বত এ ক্যায়া’।

SUN OF SAUL

 

‘সান অফ সোল’ চলচ্চিত্রটি শুরু হয় ‘সোলজার কমান্ডো’র সংজ্ঞা দিয়ে। সোলজার কমান্ডো হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি সেসব ইহুদী বন্দি যারা নাৎসি বাহিনীকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে নিজেদের মৃত্যুদ-ের দিনক্ষণ পেছানোর জন্য। ওই ছবির নায়ক সোল আউসল্যান্ডার ১৯৪৪ সালের আউশউইৎস ক্যাম্পের সোলজার কমান্ডো। চলচ্চিত্রটি শুরু হয় একটি লম্বা টানা ক্যামেরা শট দিয়ে যেখানে দেখতে পাই, একদল বন্দি ইহুদির নগ্ন করে গ্যাস চেম্বারে ঢোকানোর কাজে অন্যান্য সোলজার কমান্ডোদের সাহায্য করছে প্রধান চরিত্র সোল। সোল বা অন্যান্য সোলজার কমান্ডোদের চেহারা ভাবলেশহীন। বোঝাই যায়, তারা নিয়মিত এ কাজ করে অভ্যস্ত। এদিকে অ্যাড্রেসিং সিস্টেমে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে। এ সময় বন্দিদের নগ্ন করা হচ্ছে মেডিকেল পরীক্ষা ও গোসলের জন্য। পরে তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। এ রকম নির্জলা মিথ্যা শুনেও সোল নির্বিকার। একই দৃশ্য দেখতে দেখতে তার অনুভূতি পাথর হয়ে গেছে। সে নির্বিকারভাবে ফেলে যাওয়া জামাকাপড় হাতড়ে মূল্যবান কিছু খোঁজে। গ্যাস চেম্বারের দরজা বন্ধ হয়। কিছুক্ষণ ভেতরে চেঁচামেচি। তারপর সব নিশ্চুপ। দরজা খুলে যায়। সোলজার কমান্ডোরা একে একে লাশ বের করতে থাকে। ওই সময়ে দেখা যায়, ১১-১২ বছরের এক কিশোর বেঁচে আছে কোনো রকমে। নাৎসি ডাক্তারকে একজন ডেকে আনে। ডাক্তার কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে নির্বিকারভাবে ছেলেটিরে

শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সোল-কে সে নির্দেশ দেয়

পোস্টমর্টেমের জন্য লাশটা যেন ল্যাবে পৌছে দেয়। ঠিক তখনই কোনো এক অজানা কারণে সোল-এর মনে হয় টেবিলের ওই প্রাণহীন কিশোর তার সন্তান। তাকে অন্যান্য বন্দির মতো গণচুল্লিতে পোড়ালে হবে না, যথাযোগ্য ইহুদি ধর্মরীতিতে কবর দিতে হবে। এখান থেকেই শুরু হয় চলচ্চিত্রের কাহিনী।

পরিচালক লাজলো নেমেস রুপালি পর্দার কাজে একেবারেই নবীন। কিন্তু তার চিত্রায়ণ ও দৃশ্যকল্পগুলো দেখে তা একবারের জন্যও মনে হবে না কারো। পুরো ছবিটি দেখানো হয়েছে প্রধান চরিত্র সোলের দুষ্টিকোণ থেকে। ক্যামেরার অবস্থান সোলের এক-দেড় হাত পেছনে এবং বেশির ভাগই টানা ও লম্বা ক্যামেরার শট। পুরো চলচ্চিত্রে সংলাপের সংখ্যা ও ব্যাপ্তি খুবই কম। পরিচালক পুরো ঘটনাটির ভয়াবহতা কেবল তার ক্যামেরার কাজেই অত্যন্ত চমৎকারভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। চাপাকণ্ঠের সংলাপ, ত্রস্ত এদিক-সেদিক চাউনিÑ সব মিলিয়ে সরাসরি কোনো নাৎসি সৈনিকের চরিত্র বড় আকারে দেখানো হয়নি। চিরাচরিত কোনো খলনায়কী উপেক্ষা করে তিনি ওই ছবিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধবন্দি ও কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের যে ভয়াবহতার চিত্র তৈরি করেছেন তা সত্যিই অসামান্য।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের ভয়াবহতা নিয়ে গত ৬০ বছরে অগণিত চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু হলিউড এ ধরনের চলচ্চিত্রে মানবিকতা ও নাৎসি বাহিনীর নৃশংসতা মুখ্য উপাদান করে তুলেছে সব সময়ই। লাজলো নেমেস তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেই সব ট্রাডিশনের ঊর্ধ্বে গিয়ে তৈরি করলেন ‘সান অফ সোল’। এখানে কিছুক্ষণের মধ্যে দর্শকও সোলের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান। সোলের মতো দর্শকেরও মনে হয়, এই ভয়ানক দৈনন্দিন জীবনের মধ্যে সোলের মানসিক বিচ্যুতি মোটেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। সোলও সবার মতো সব অস্বাভাবিকতার ভিড়ে বিন্দু পরিমাণ স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্যই লড়ছে। একটি অজানা কিশোরের লাশটি যথাযথভাবে দাফন করলে হয়তো তার পুরনো জীবনের স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে বলে সে মনে করে তার আশপাশের অন্যান্য বন্দি বিভিন্ন পরিকল্পনা করে। তারা বিদ্রোহ করবে, ক্যাম্প থেকে পালাবে। কিন্তু কোনো কিছুই কেন যেন সোল-কে স্পর্শ করে না, করে না দর্শকেরও। বন্দিরা ক্যাম্প থেকে পালানোর পরিকল্পনা করছেÑ এটি যে কোনো চলচ্চিত্রেরই সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। তবে সোলের কাহিনী শেষ দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন সবাই। সোল পালাতে পারবে কিনা তা নিয়ে দর্শক বা

সোলÑ কারোই মাথা ব্যথা থাকে না। সোল তার ছেলেকে কবর দিতে পারবে কিনা এ আশঙ্কা বুকে নিয়ে সবাই দেখতে থাকে লাজলো নেমেসের ওই অপূর্ব সৃষ্টি।

 

প্রথম ছবিতেই কান চলচ্চিত্র উৎসবে মাতিয়ে পরবর্তীকালে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের অস্কার জিতে সাড়া ফেলে দিয়েছেন লাজলো নেমেস। বিখ্যাত হাঙ্গেরিয়ান পরিচালক বেলা টার-এর সহকারী হিসেবে কাজ করা লাজলো-কে এখনই সবাই এ যুগের হিচকক বা পন্টেকর্ভো-র সঙ্গে তুলনা করা শুরু করেছেন। প্রশংসার দাবি রাখেন মূল চরিত্রে অভিনয় করা হাঙ্গেরিয়ান অভিনেতা গেজা ররিগও। ওই দুই হাঙ্গেরিয়ানের আরো কাজ দেখার জন্য সিনেমাপ্রেমী সব দর্শক উন্মুখ হয়ে থাকবে এতে সন্দেহ নেই।

নাইট কুইনঃ সুমন কল্যাণপুর

 

গানের প্রতি ভালোবাসা, শ্রোতার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে যিনি গানের সম্রাজ্যে মুম্বাইয়ের সিনেমায় সঙ্গীত জগৎ প্লাবিত করেছিলেন মায়াবী কণ্ঠের জাদুতে বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ‘নাইট কুইনÑ সুমন কল্যাণ’।

শিশির ধোয়া মাঠ পেরিয়ে সকাল আসে দোয়েল পাখির গানে, ওইসময় আমাদের হৃদয় একটি সময় আটকেছিল সুমন কল্যাণের গানে। পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে আশির দশক পর্যন্ত তিনি ছিলেন ভারতীয় সঙ্গীতের অন্যতম সঙ্গীত শিল্পী।

সুমন কল্যাণের জন্ম ১৯৩৭ সালের ২৬ জানুয়ারি। ঢাকায় তৎকালীন সুপ্রতিষ্ঠিত ‘হেমাদি’ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তার নাম রাখা হয় সুমন হেমাদী। তার বাবা শঙ্কর রাও হেমাদী ও মা সীতা হেমাদীর গর্ভাাকাশে উদিত হয় তাদের দ্বিতীয় কন্যা সুমন হেমাদী। তারা ছিলেন ৫ বোন। ঊষা, সুমন, মুক্তা ও নীলা হেমাদী। বাবা শঙ্কর রাও সে সময় সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ায় চাকরি করতেন। ওই সুবাদেই ঢাকায় পোস্টিং।

১৯৪৩ সাল। বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা তখন বঙ্গ প্রদেশের অর্ন্তগত। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ডামাডোল তখন চারদিকে। দুর্ভিক্ষ ওই সময় তেড়ে এলে সুমন পরিবারসহ ঢাকা ছেড়ে পাড়ি জমায় মুম্বাইয়ে। বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়া মেয়েটির রক্তে ছিল সঙ্গীতের পিপাশা। কলম্বিয়া হাই স্কুলে ভর্তি হয়ে পাশাপাশি উচ্চাঙ্গ ও লঘু সঙ্গীতের শিখতে শুরু করেন। ওখানেই মূলত তার উচ্চাঙ্গ ও লঘু সঙ্গীত শিক্ষার সূচনা হয়। ১৯৫২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান স্যার জে জে স্কুল অফ ফাইন আর্টসে পেন্টিং নিয়ে পড়া লেখা শুরু করেন তিনি। কিন্তু রঙে অ্যালার্জি থাকায় তা আর শেষ করতে পারেননি।

ছোটবেলায় বাংলাদেশে থাকা অবস্থাতেই কেএল সায়গল ও কানন দেবীর গানে প্রভাবিত হন সুমন। শচীন দেব বর্মণও তার হৃদয়ে একটা বিশেষ জায়গা করে নেয়। শচীনের পরিচালনায় গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি।

সুমন স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ‘পুনে প্রভাত ফিল্মস’-এর মিউজিক ডিরেক্টরের কাছে ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীতের তালিম নেয়া শুরু করেন। পরে পারিবারিক বন্ধু প-িত কেশব রাও বোলের কাছেও তালিম নেন। ১৯৫২ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে সুযোগ আসে গান গাওয়ার জন্য। অত্যন্ত সুরেলা ও সুমিষ্ট কণ্ঠের জন্য ১৭ বছর বয়স থেকেই তার নাম পরিচিত হয়ে ওঠে। ওই সূত্র ধরেই মারাঠি ছবি ‘সুক্রচি চাঁদনী’ ছবিতে গান গাওয়ার সুযোগ আসে। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৫৩ সালে।

সঙ্গীত পরিচালক মোহাম্মদ সাফি ‘সুক্রাচী চাঁদনী’ সিনেমার গান শুনেই মুগ্ধ হয়ে ‘মাঙ্গু’ ছবিতে সুমনকে তিনটি গানের জন্য অনুরোধ করেন। আর মাঙ্গুতেই তার রেকর্ডিং ও প্লেব্যাক দিয়েই ক্যারিয়ার সুচনা। অতি দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি।

১৯৫৪ সালে সুমনকে ‘দারওয়াজা’ ছবিতে পাঁচটি গান গাওয়ালেন আরেক সঙ্গীত পরিচালক নাসাদ। ওই পাঁচটি গানের মধ্য দিয়েই হিন্দি ছবির জগতে পা রাখেন তিনি। মোহাম্মদ রফি, তালাত মাহমুদ, মান্না দে, মুকেশের সঙ্গে তার বেশকিছু দ্বৈতগান জনমনে জায়গা করে নেয়। পূর্ববঙ্গ থেকে যাওয়া সুমন কল্যাণ মুম্বাইয়ে ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠা পেয়ে যান অতি অল্প সময়ের মধ্যেই। ওই বছরই ‘আরপার’ ছবিতে ওপি নায়ার সিদ্ধান্ত নেন তাকে দিয়ে গান গাওয়ানোর। ওই সময়ই নিজের গাওয়া একটি গান সিনেমায় নতুন করে কম্পোজ করেন সুমনের কথা মাথায় রেখে।

১৯৫৮ সালের ১৩ এপ্রিল সুমন পুনের বিশিষ্ট শিল্পপতি রমানন্দ এস কল্যাণকে বিয়ে করেন। ঢাকার প্রসিদ্ধ হেমাদী পরিবারে বাংলাদেশের সুমন হেমাদী হয়ে গেলেন সুমন কল্যাণ।

১৯৬৬ সালে সলিল সেন পরিচালনা করলেন ‘মনিহার’ ছবিটি। এর গানে মুকুল দত্ত ও পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় সুর দেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। সুমন গাইলেন ‘দূরে থেকো না/আরো কাছে এসো।’ তবে এরই মধ্যে রেকর্ড করলেন কিছু অবিস্মরণীয় ও দুঃখজাগানিয়া গান

নিজের জাদুকরী কণ্ঠের মাধ্যমে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে ১৯৫২ সাল থেকে বিশ্বের শ্রোতাকে মুগ্ধ করে আসছেন সুমন। এক হাজারেরও বেশি হিন্দি ছবির গানসহ ৩৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি যা একটি বিস্ময়কর ব্যাপার।

সুমনের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সময় পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে আশির দশক পর্যন্ত। দুঃখ যতো বাড়ে ততোই উজ্বলতর হয়ে ওঠে শিল্প। কৃষ্ণ প্রেমে সমর্পিত সুমন বিশ্বাস করেন, ভালোবাসা পাওয়াটাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তার মতো আর কে-ই বা এতো সিক্ত হতে পেরেছে! ২৮ বছরের সঙ্গীত জীবনে তিনি শুধু জনপ্রিয়তাই অর্জন করেননি। একই সঙ্গে অর্জন করেছেন তার মখমলি কণ্ঠের স্বীকৃতি।

সুমন ১৯৬১ সালে পালকী, নাসিক ছবির জন্য রং সরং পুরস্কার পান। ১৯৬৫ ও ১৯৭০ সালে সুর সিঙ্গার সংসদ মিয়ান তানসেন পুরস্কার পান দু’বার এবং ১৯৬৫ ও ১৯৭৩ সালে গুজরাট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পান।

সুমন কল্যাণের গানে আর্তির মধ্যেও ধ্রুপদ সঙ্গীতের অনায়াস নৈপুণ্য, কণ্ঠে জুঁই ফুলের সৌরভের সঙ্গে সূক্ষ্ম অলঙ্করণÑ এসবই আমাদের সঙ্গীত জগতের পরম ঐশ্বর্য হয়ে আছে। ১৯৮১ সালে ‘লাভ ৮৬’ ছবিতে শেষ কণ্ঠ দেন তিনি।

এক সময় বাংলাদেশের থেকে চলে যাওয়া সুচিত্রা সেনের মতোই সুমন কল্যাণও গানের সুখ পাখিটি হয়ে অন্তরালে চলে গেলেন।

২০০৯ সালে মহারাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে পুরস্কার নেয়ার সময় সুমনকে শেষবারের মতো দেখা যায়। তিনি শুধু সঙ্গীতেই পারদর্শী ছিলেন নাÑ পেইন্টিং, সেলাই, বাগান পরিচর্চায়ও ছিলেন প্রগতিশীল।

পূজার গানের যুগটি ধাবমানকালে জড়িয়ে ধরে নিয়ে চলে গেছে অনেক দূরে। আকাশপারে ইথার তরঙ্গে কিছু গান আজও জড়িয়ে আছে। কিছু গান পেয়েছে অমরত্বের শিরোপা। কিছু স্থান পেয়েছে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে। কিছু গান হয়তো বা নীল কাগজে লেখা কাঁপা কাঁপা হাতে লেখা প্রেমপত্রের মতো, টেলিগ্রাফের তারে বসা লেজ ঝোলা পাখির মতো। সদ্য যুবতীর পীড়িত চোখের চাউনির মতো সুমন হারিয়ে গেছেন আধুনিক অতি উজ্বলতার অন্ধকারে।

বাঙালির স্বভাব যেমন পাল্টে গেছে তেমনি গানেরও স্বভাব-চরিত্র অনেকটাই পাল্টেছে। সুমন তার কণ্ঠের মন্ত্রমুগ্ধতা ছড়িয়ে রেখেছেন সংগীত জগতে। সুরের ছন্দে মুখর কণ্ঠ আজও সবার হৃদয়ে ভালো লাগার দোলা দিয়ে যায়। এ কারণেই ভারতীয় সংগীতে তিনি এখন আর শুধু কণ্ঠশিল্পী নন, একটি প্রতিষ্ঠানও বটে। সুদীর্ঘ ধারাবাহিকতা, শিল্পের প্রতি নিষ্ঠার কারণে তিনি শুধু উঠতি শিল্পীদের কাছেও অনুপ্রেরণা। আমাদের গর্ব যে, তার জন্ম এই বাংলাদেশে। আমাদের প্রজন্মের কাছেই তিনি নয়, আগামী প্রজন্মেরও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।

থার্ড আই পারস্পেক্টিভ - আব্বাস কিয়ারোস্তমি

 

দুনিয়ার সোনালি পর্দা ছেড়ে গত ৪ জুলাই আব্বাস কিয়ারোস্তামি চলে গেলেন অন্য জগতে। ‘ইরানিয়ান নিউ ওয়েভ অফ সিনেমা’র জনক কিয়ারোস্তামি ষাটের দশকে যে কাজ করে গেছেন তা আরো হয়তো এক শতাব্দী ধরে শুধু ইরান নয়, গোটা বিশ্বের চলচ্চিত্রকারদেরই অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে। ব্যক্তিগত জীবনে কবি ও শিল্পী কিয়ারোস্তামির প্রতিটি কাজই কবিতার মতো ছন্দবদ্ধ, বিমূর্ত শিল্পের মতো বহুমুখী। এ কারণে রুপালি পর্দায় তার প্রতিটি কাজেই বিভিন্ন চলচ্চিত্র সমালোচকের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার দেখা পেয়েছে। কিন্তু কালের অবগাহনে তার সৃষ্টিগুলোই টিকে গেছে। তার এ রকমই একটা অনন্যসাধারণ সৃষ্টি ১৯৯৭ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপাম বিজয়ী  ‘টেস্ট অফ চেরি’।

ঘণ্টাব্যাপী টেস্ট অফ চেরি ছবির মূল কাহিনী একদমই সোজাসাপ্টা আপাতদৃষ্টিতে। একজন তার গাড়ি নিয়ে তেহরানের রাস্তায় চক্কর দিচ্ছে। সে একটা কাজ করাবে। এ জন্য লোক খুঁজছে। কিন্তু কাজটির কথা সরাসরি বলতেও পারছে না। রাস্তার মানুষকে ডেকে বলছে অনেক টাকার কাজ। তবে কেউ তেমন একটা আগ্রহ দেখাচ্ছে না আবার কেউ সরাসরি গালাগালিও করছে। কাজটা কী? বদি আত্মহত্যা করতে চায়। সে ঘুমের ওষুধ খাবেন রাতে। তার কবর খোঁড়াই আছে। সেখানে রাতেই ওষুধ খেয়ে শুয়ে থাকবে সে। কাজটি হলো সকালে কবরের সামনে গিয়ে বদির নাম ধরে ডাকতে হবে। সে যদি সাড়া দেয় তাহলে ভালো। আর সাড়া না দিলে কবরে মাটি দিয়ে চলে আসতে হবে। খুবই সহজ কাজ! এ কাজের জন্য সে প্রথম পাকড়াও করে এক কিশোর বয়সী আর্মির ক্যাডেটকে। তারপর এক যুবক বয়সী ইসলামি স্কলারকে। সবশেষে এক বৃদ্ধ ট্যাক্সি ডার্মিস্টকে। কাজের কথা শুনে প্রত্যেকের রি-অ্যাকশন এবং তাদের চিন্তাভাবনা নিয়েই এ ছবির কাহিনী।

টেস্ট অফ চেরি চলচ্চিত্রটির সংলাপ অনেক ক্ষেত্রেই বেশ খাপছাড়া। যেন আনাড়ি কোনো পরিচালক আনাড়ি অভিনেতাদের দিয়ে কোনোমতে কাজটি সেরেছেন। কিন্তু কিয়ারোস্তামি এখানে বদির মনস্তত্ত্ব ও তার আজব ওই অনুরোধের পর ভিন্ন বয়সী তিন আগন্তুকের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করেছেন বলেই এমনভাবে ব্যাপারটি চিত্রায়িত করেছেন। বদির মনস্তত্ত্ব¡ বুঝতে খেয়াল রাখতে হবে কিয়ারোস্তামির ক্যামেরার কাজের দিকে। প্রথম আগন্তুককে গাড়িতে ওঠানোর আগ পর্যন্ত ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ছিল বদির চোখ থেকে। প্রথমজনের সঙ্গে কথাবার্তার সময় ক্যামেরা ছিল ড্রাইভিং সিটের আশপাশে। দ্বিতীয়জনের সময় গাড়ির বাইরে এবং সর্বশেষ জনের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ক্যামেরা ছিল এরিয়াল শটে। আত্মহত্যার পরিকল্পনা মাথায় আসা মাত্রই কেউ আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা করতে থাকে। এরপর বিভিন্ন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর সে আসলে আরেকটু দূর থেকে থার্ড আই পারস্পেক্টিভে নিজেকে এবং নিজের জীবন যাচাই করা শুরু করে। এ ব্যাপারটিই সুচারু শিল্পীর মতো করেই পরিচালক সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তুলেছেন। আবহ সঙ্গীতের বালাই নেই বলে শুরুর দিকে চলচ্চিত্রটি সবার কাছে বদির ইতস্তত রাস্তায় ঘোরাঘুরির মতোই উদ্দেশ্যহীন মনে হতে পারে। অজানা মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা যতোই এগোতে থাকে, ক্যামেরার কাজ ও সংলাপ ততোই স্থিতিশীলতার দিকে এগোয়। বদি চরিত্রে রূপদানকারী হুমায়ুন এরশাদি চমৎকারভাবে পুরো ব্যাপারটি শুধু কণ্ঠস্বর ও বাচনভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন যাতে করে ফার্সি জানা না থাকলেও দর্শক তার মনোজগৎ পরিবর্তনের পয়েন্টগুলো সহজেই ধরতে পারে।

দর্শক হিসেবে সবার জানতে ইচ্ছা করবে বদির সম্পর্কে। কেন সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিল? তার জীবনে কী হয়েছে? কীভাবে সে শহরের বাইরে কারো সাহায্য ছাড়া কবর খুঁড়ে ফেললো? এসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা কিয়ারোস্তামি করেননি।

 

ধীরগতির ওই চলচ্চিত্র নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে, আছে অনেক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। সাধারণ চলচ্চিত্রের দর্শক হিসেবে আমার মতামতটুকু সবার কাছে পৌঁছে দিলাম। কবিসত্তার কারণে কখনোই কিয়ারোস্তামির ছবির আসল ব্যাখ্যা প্রকাশ করেননি। দর্শকের কাছে যা ভালো মনে হবে সেটিই চলচ্চিত্রের আসল ব্যাখ্যাÑ এমনটিই তার দর্শন।

Page 8 of 8

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…