বাসা সাজবে গৃহ উদ্ভিদে

বাসা সাজবে গৃহ উদ্ভিদে

 

 

দক্ষিণ দুয়ারি যে ঘরটায় থাকি এর বাসিন্দা রয়েছে তিনটি। এগুলোর মধ্যে মানিপ্লান্টের চারাটিই সবচেয়ে সুস্থ্য ও সজীব। এর ধারেকাছেও আমি বা আমার মা নেই। ওইটুকু একটা গাছ আর সবুজ-হলুদ পাতা কয়টায় প্রাণের কী অসম্ভব প্রকাশ! ঘরটায় বিশেষভাবে ঝোলানো ওই গাছটি জীবনের অনিন্দ্যসুন্দর প্রতীক হয়ে আছে। আপনিও ইচ্ছা করলে বারান্দা, ঘরের কোণ, জানালার তাক, বসার ঘর, এমনকি রান্নাঘরেও গৃহ উদ্ভিদ বা ইনডোর প্লান্ট রাখতে পারেন। সামান্য যত্ন ও ভালোবাসায় গৃহে আসবে সবুজের এমন এক আবহ যা আপনার জীবনটি সাজাবে নতুন নান্দনিকতায়। এ ছাড়া সবুজ প্রাণ ফ্ল্যাট বা বাসস্থান সুন্দর করে সাজাতে পারলে প্রকাশ ঘটবে আপনার সুরুচির।

গৃহ সবুজায়ন কীভাবে করবেন
গৃহ সবুজায়নের জন্য প্রথমেই চাই ইচ্ছা এবং তা বাস্তবায়নের আগ্রহ। খুব বেশি খরচের বিষয় নয় এটি। এ বিষয়ে ইতিবাচক হলে আপনার বাসস্থানে যে জায়গাগুলো গাছ রাখার উপযোগী তা প্রথমেই নির্বাচন করতে হবে। কারণ নগর জীবনে জায়গার বড়ই অভাব। নির্বাচিত জায়গার জন্য বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য নার্সারি থেকে আপনার পছন্দ এবং বাজেট অনুযায়ী গাছ নির্বাচন করবেন। একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, ঘরে বেশি গাছ রেখে দিলেই তা দেখতে ভাল হবে না। এক্ষেত্রে গাছ রাখার পাত্র বা টবও গুরুত্বপূর্ণ। এখন বাজারে মাটি, চিনামাটি, লোহা, পিতলসহ সুন্দর সুন্দর টব পাওয়া যায়। তা আপনি ইচ্ছা অনুসারে ব্যবহার করতে পারেন।

গাছ নির্বাচন
আপনার নির্ধারিত জায়গাগুলোয় কতটা সময় রোদ, দিনের আলো, ছায়া, বাতাস ও অন্ধকার থাকে এর ওপর গৃহ উদ্ভিদ নির্বাচন নির্ভর করবেন। ঘরের আলো বা অল্প রোদ কিংবা কৃত্রিম আলোয় ভালো থাকে- এমন অনেক গাছ এখন বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। নানান প্রজাতির ক্যাকটাস, পাতাবাহার, এমনকি ফুল হয়- এমন ইনডোর প্লান্টও হয়। এসবের ভেতর থেকে আপনার পছন্দের গাছগুলো বেছে নিতে পারেন। তবে শুরুতেই খুব দামি বা বেশি বড় গাছ না কেনাই ভাল। এর চেয়ে ছোট গাছগুলো কিনে এনে যত্ন ও ভালোবাসায় বড় করলেই আপনার ভাল লাগবে। প্রথমে মানিপ্লান্ট, স্পাইডার প্লান্ট ও কিছু ক্যাকটাস কেনাই ভালো। 

 

যেভাবে যত্ন নেবেন
গৃহ উদ্ভিদ বা ইনডোর প্লান্টের জন্য সারাদিন সরাসরি রোদের প্রয়োজন নেই। সামান্য রোদ আসে এবং দিনের কিছু সময় আলো-বাতাস থাকে- এমন জায়গাতেই গৃহ উদ্ভিদ ভালো হয়। প্রতিদিন পানি দেয়ার দরকার নেই। একদিন পর পর গাছের গোড়ায় অল্প করে পানি ও দু’তিনদিন পর পর পাতা স্প্রে করে দিলেই গাছ ভালো থাকবে। যখন শিকড় টবের পানি নিষ্কাশনের পথে চলে আসবে তখন টব বদলে দিতে হবে। টব পরিবর্তনের সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যাতে শিকড়ের ক্ষতি না হয়।

খুব বেশি বড় হলে ভাল লাগে না। ধারালো কাঁচি দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ডালপালা ছেঁটে রাখবেন। এয়ার কুলার, ওয়াশিং মেশিন, রেফ্রিজারেটরের মতো বড় বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্রের কাছে গাছ রাখবেন না। এসব যন্ত্র থেকে বের হওয়া সার্বক্ষণিক তাপ গাছের জন্য ক্ষতিকর। শোবারঘরের গাছ রাতে বাইরে রাখবেন অথবা জানালা খোলা রাখবেন। আমরা জানি, গাছ রাতে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়ে। শিশুদের নাগালের বাইরে গাছ রাখবেন যাতে নষ্ট করতে না পারে। প্রায় প্রতিটি গাছের জাত, আকার, ধরন ইত্যাদি কারণে এগুলোর যত্নে কিছুটা পার্থক্য থাকে। তা গাছ সংগ্রহের সময় বিক্রেতার কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

সাকলেন্টস
সাধারণত মোটা ও পুরু পাতার উদ্ভিদটিকে সাকলেন্টস (Succlents) বলে। এগুলোর পাতা সাধারণের চেয়ে বেশি তরল ধারণ করে। যেমন- ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা এক ধরনের সাকলেন্ট প্লান্ট। বর্তমানে গৃহসজ্জায় এর রয়েছে শৈল্পিক ভূমিকা। আপনার খাবার বা পড়ার টেবিলে এ রকম দু’একটা চারাগাছ পুরো দৃশ্যপটেই এনে দেবে স্নিগ্ধতা। এখন শহরের বড় বড় নার্সারিতে নানান সাকলেন্টস পাওয়া যায়, বিশেষ করে ঢাকার মিরপুরে।

গৃহ উদ্ভিদ আপনার পরিবারের সদস্য। বাসার অন্যদেরও এগুলোর যত্ন নিতে উৎসাহিত করবেন, বিশেষ করে শিশু-কিশোরকে। ফলে তারা দায়িত্ব নেয়া যেমন শিখবে তেমনি এগুলো নষ্টও করবে না। সবুজের সঙ্গে বন্ধুত্ব তাদের সহনশীলতা বাড়াবে। আপনার আবাস সবুজ, সুন্দর ও নতুনে প্রাণবন্ত হয়ে থাক।

 

______________________

লেখা : কাজী সোহেল
ছবি : শোভন আচার্য্য অম্বু
কৃতজ্ঞতা : মারিয়ান ফয়সাল

Read 327 times

About Us

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipisicing elit, sed do eiusmod tempor incididunt ut labore et dolore magna aliqua.

Duis aute irure dolor in reprehenderit in voluptate velit esse cillum dolore eu fugiat nulla pariatur.

Read More

We use cookies to improve our website. By continuing to use this website, you are giving consent to cookies being used. More details…